মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস, ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ব্লাডার ক্যান্সার যোদ্ধাদের একত্রিত করল |
  • May 24, 2026


কলকাতা, ২৩শে মে ২০২৬:
ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের কালজয়ী করিডোরের নিচে, ভয়ের চেয়েও সাহসের গল্প জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যখন ব্লাডার ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা মানুষ, তাদের পরিচর্যাকারী এবং চিকিৎসকেরা আশা, আরোগ্য এবং সহনশীলতার এক আবেগঘন সন্ধ্যায় একত্রিত হয়েছিলেন। ব্লাডার ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস একটি আন্তরিক ‘ব্লাডার ক্যান্সার চ্যাম্পিয়নস মিট’-এর আয়োজন করে, যা কেবল বেঁচে থাকাকেই নয়, বরং সেইসব ব্যক্তিদের অসাধারণ শক্তিকেও উদযাপন করে, যারা সবচেয়ে কম স্বীকৃত ক্যান্সারগুলোর একটির বিরুদ্ধে দৃঢ়সংকল্প এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে লড়াই করেছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. অভয় কুমার, ডিরেক্টর – ইউরোলজি অ্যান্ড ইউরো-অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস; ডা. সায়ন ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা (সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার); এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে, এই সমাবেশটি ঐতিহাসিক স্থানটিকে পারস্পরিক আবেগ, অনুপ্রেরণামূলক আরোগ্য লাভের যাত্রা এবং মূত্রাশয়ের ক্যান্সার ও সময়মতো রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরির এক পরিসরে রূপান্তরিত করেছিল।
ভারতে মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই অনুষ্ঠানটি বৃহত্তর সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপরও আলোকপাত করেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ, ভারতে বার্ষিক প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ নতুন মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের ঘটনা ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং কিছু চিকিৎসাগত অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ দেশজুড়ে ক্যান্সার সংক্রান্ত তথ্য জানানোর ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। ভারতে পুরুষদের সমস্ত ক্যান্সারের মধ্যে প্রায় ৩% থেকে ৪% হলো মূত্রাশয়ের ক্যান্সার এবং এটি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে প্রায় চারগুণ বেশি দেখা যায়। ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সত্ত্বেও, এই রোগ, এর প্রাথমিক লক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা সীমিতই রয়ে গেছে, যা প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, খোলামেলা আলোচনা এবং রোগীদের জন্য শক্তিশালী সহায়তাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সারভাইভারদের মিলনমেলার মতো উদ্যোগগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তাঁর বক্তব্যে ডঃ অভয় কুমার বলেন, “মূত্রাশয়ের ক্যান্সার প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং চিকিৎসার জন্য জটিল পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে রোগী-কেন্দ্রিক সেবার সমন্বয় ঘটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। রোবোটিক-সহায়তায় করা অস্ত্রোপচার আমাদের রোগীদের জন্য নির্ভুলতা এবং আরোগ্য লাভের সময়কে ব্যাপকভাবে উন্নত করেছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করতে চাই। আমাদের একটি ব্লাডার ক্যান্সার সাপোর্ট গ্রুপও রয়েছে, যা আমরা ২০২৩ সালে চালু করেছি। তখন থেকে আমাদের রোগী এবং আরোগ্য লাভকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং আরোগ্য লাভের যাত্রাপথে একে অপরকে সমর্থন জানাতে নিয়মিত মিলিত হচ্ছেন।”

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য বলেন: “আজ জাদুঘরের ভূমিকা ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এগুলি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিসরে রূপান্তরিত হচ্ছে যা সামাজিক সংলাপকে উৎসাহিত ও লালন করে এবং মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে। ‘বিকাশও, বিরসতও’—এই জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, দুইশত বারো বছরের ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে, ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান যা স্বীকৃতি এবং সহানুভূতির দাবি রাখে; সময়মতো যত্ন এবং আশা ও শক্তি নিয়ে তাঁদের এগিয়ে আসতে দেখাটা গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। এই ধরনের উদ্যোগগুলি একটি আরও সচেতন, সহানুভূতিশীল এবং মানবিক সমাজ গঠনে সহায়তা করে, যেখানে স্বাস্থ্য, আরোগ্য এবং মানসিক সুস্থতা সম্পর্কিত আলোচনা সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ করা হয়।”

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে, ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ ও মূত্রথলির ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা তাপস কর্মকার বলেন, “২০২৪ সালের অক্টোবরে যখন আমার মাসল-ইনভেসিভ ব্লাডার ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল। কেমোথেরাপি এবং বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ছিল, কিন্তু আমার ডাক্তার, পরিবার এবং পরিচর্যাকারীদের অবিরাম সমর্থন আমাকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ডাক্তার অভয় কুমার এবং তাঁর দলের বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে, ক্যান্সার-আক্রান্ত মূত্রথলি অপসারণ করতে এবং প্রস্রাব জমা ও নিষ্কাশনের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করতে আমি চার দফা কেমোথেরাপি গ্রহণ করি। এই ধরনের সাক্ষাৎগুলো ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা মানুষদের আশা, আত্মবিশ্বাস এবং দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। এই যাত্রায় তারা একা নন।”

৬২ বছর বয়সী নারী ও মূত্রথলির ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা সোমা দাস (নাম পরিবর্তিত) বলেন, “যখন আমার মূত্রথলিতে টিউমার ধরা পড়ে, তখন আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং অনিশ্চিত ছিলাম যে ভবিষ্যতে কী হবে, বিশেষ করে যখন আমি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েড-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা সামলাচ্ছিলাম। তবে, যে সমর্থন এবং আত্মবিশ্বাস আমি পেয়েছি, তা আমাকে এই পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”

Continue reading
মণিপাল হসপিটালস কলকাতার উদ্যোগে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে শিল্প, সংগীত ও কবিতার মেলবন্ধনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন |
  • May 10, 2026

কলকাতা, ৯ মে ২০২৬: স্টেথোস্কোপের জায়গা নিল গান, প্রেসক্রিপশনের পরিবর্তে শোনা গেল কবিতা, আর হাসপাতালের করিডোর যেন এক সন্ধ্যার জন্য শিল্প ও সংস্কৃতির বিস্তারে রূপ নিল ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার চিকিৎসকেরা যখন সাংস্কৃতিক মঞ্চে উঠে এলেন, তখন এক অনন্য আবহে ধরা পড়ল কিভাবে কবিগুরুর চিরন্তন শব্দ, সংগীত ও দর্শন প্রজন্ম, পেশা ও সীমারেখা ছাড়িয়ে আজও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মণিপাল হসপিটালস কলকাতার ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, ঢাকুরিয়া, সল্টলেক ও ব্রডওয়ে ইউনিটের চিকিৎসকেরা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সন্ধ্যা হয়ে ওঠে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক উদযাপন।

ভারতের প্রাচীনতম ও অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা, মানবিকতা ও সংস্কৃতির এক বিরল মেলবন্ধনের সাক্ষী হয়ে ওঠে। অসাধারণ ঐক্য ও শিল্পীসুলভ প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের ১৯ জন চিকিৎসক একসঙ্গে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তি। চিকিৎসার ব্যস্ত দায়িত্বের বাইরে এসে তাঁরা একত্রিত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরন্তন সৃষ্টিকে সম্মান জানাতে। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় “জাগরণে যায় বিভাবরী”, “প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে”, “আমি চিনি গো চিনি”, “মনে মোর মেঘের সঙ্গী” এবং “পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে”-র মতো জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত। পাশাপাশি আবৃত্তি করা হয় “বাঁশি”, “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ” এবং “শেষের কবিতা”-র অংশবিশেষ। এই পরিবেশনাগুলি রোগী, পরিজন, হাসপাতালের কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এক আবেগঘন ও নস্টালজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা আবারও মনে করিয়ে দেয়—সুস্থতা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

WhatsApp Image 2026 05 09 at 13.32.18

এই প্রসঙ্গে ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা (সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার), বলেন, “রবীন্দ্রজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি আবেগ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর হিসেবে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামও দেশের বৌদ্ধিক, শিল্প ও সামাজিক জাগরণের সঙ্গে পথ চলেছে, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন কবিগুরু স্বয়ং। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যা জ্ঞান, মানবতা ও অন্তর্ভুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আজ যখন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের কাছাকাছি হয়ে উঠছে, তখন রবীন্দ্রনাথের দর্শন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি কল্পনা করেছিলেন এমন এক সমাজের, যা শ্রেণি, ভাষা ও ভৌগোলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে। স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এই উদযাপনে অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে এসে তাঁদের সৃজনশীল সত্তাকে তুলে ধরেছেন। এটি ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’-র ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেয়, যেখানে উন্নয়ন ও ঐতিহ্য একসঙ্গে এগিয়ে চলে।”

কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারী মণিপাল হসপিটালস ইস্ট রিজিয়নের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের ডঃ সুকল্যাণ পুরকায়স্থ বলেন, “এই ঐতিহাসিক পরিবেশে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করা সত্যিই এক হৃদয়ছোঁয়া ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিদিন মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু সংগীত ও সংস্কৃতি আমাদের মানুষের আবেগ ও আত্মার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে তার গভীরতা, সংবেদনশীলতা ও মানবিকতার মাধ্যমে। সহকর্মী চিকিৎসকদের সঙ্গে এই বিশেষ উদযাপনের অংশ হতে পেরে সন্ধ্যাটি আমার কাছে আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।”

মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক-এর কনসালট্যান্ট – এমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগের ডঃ পরমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী বলেন, “ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মতো ঐতিহাসিক স্থানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করা সত্যিই এক আবেগঘন ও পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু শিল্প ও সাহিত্য আমাদের অনুভূতির সঙ্গে এক ভিন্ন স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় যে চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধ রয়েছে, তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সহকর্মী, রোগী ও বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।”

মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর-এর ক্লিনিক্যাল লিড – পেডিয়াট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি বিভাগের ডঃ শুভাশিস সাহা বলেন, “রবীন্দ্রসংগীতের এক চিরন্তন প্রশান্তিদায়ক শক্তি রয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে, কারণ এটি চিকিৎসক হিসেবে আমাদের আরেকটি দিককে তুলে ধরেছে—যেখানে শিল্প, সহমর্মিতা ও আবেগের গভীর সংযোগ রয়েছে। এমন সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন সন্ধ্যাটিকে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।”

এই ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও প্রমাণ করল যে, স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংস্কৃতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংযোগের মধ্য দিয়েও সুস্থতার এক সামগ্রিক পরিসর গড়ে তোলা সম্ভব। এই সন্ধ্যা তাই শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারকেই উদযাপন করেনি, উদযাপন করেছে মানবিকতার সেই দিকটিকেও, যা প্রকৃত আরোগ্যের ভিত্তি।

Continue reading
থ্যালাসেমিয়ারোগীদেরজন্যসমন্বিতপরিষেবারলক্ষ্যেমণিপালহসপিটালসমুকুন্দপুরক্লাস্টারেচালুহলোবিশেষথ্যালাসেমিয়াক্লিনিকওডেকেয়ারওয়ার্ড |
  • May 10, 2026

কলকাতা, ৭ মে ২০২৬: থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মানুষের জীবনে ঘন ঘন হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এক কঠিন বাস্তবতা। তাঁদের জন্য আশার নতুন দিশা নিয়ে মণিপাল হসপিটালস আজ তাদের মুকুন্দপুর ইউনিটে উদ্বোধন করল একটি বিশেষ ‘থ্যালাসেমিয়াপ্রিভিলেজক্লিনিক’ এবং‘ডেকেয়ারওয়ার্ড’। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন প্রফেসর(ড.) রাজীবদে, হেড – ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অঙ্কোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড. সৌমেনমেউর, এইচওডি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক্স, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর; ড. অতনুকুমারজানা, এইচওডি – নিওনেটাল ইউনিট, পেডিয়াট্রিশিয়ান ও নিওনেটোলজিস্ট, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর; শ্রীমতী জয়ন্তীচ্যাটার্জী, হসপিটাল ডিরেক্টর – মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর এবং শ্রীকোমলদাশোরা, ক্লাস্টার ডিরেক্টর – মণিপাল হসপিটালস (মুকুন্দপুর ক্লাস্টার)। এই উদ্যোগ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য আরও উন্নত, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নতুন এই ক্লিনিকটি এক ছাদের নিচে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। মূলত ১৮ বছর পর্যন্ত শিশু ও কিশোর রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা এখানে দেওয়া হবে। এই পরিষেবার মধ্যে রয়েছে থ্যালাসেমিয়া ও ক্যারিয়ার শনাক্তকরণের ডায়াগনস্টিক পরিষেবা, ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন, বিশেষ ডে কেয়ার ওয়ার্ডের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন সহায়তা, প্রি-নাটাল ডায়াগনোসিস, জেনেটিক কাউন্সেলিং, মানসিক সহায়তা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি কেয়ার এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা। এর ফলে রোগীরা পাবেন সম্পূর্ণ সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবা। প্রফেসর (ড.) রাজীব দে সপ্তাহে একদিন এই ক্লিনিকে রোগী দেখবেন, যাতে রোগীরা নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পান। পাশাপাশি রোগীদের দেওয়া হবে একটি ‘থ্যালাসেমিয়া প্রিভিলেজ কার্ড’, যার মাধ্যমে তাঁরা সাশ্রয়ী খরচে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

WhatsApp Image 2026 05 07 at 22.11.59 (1)

এই প্রসঙ্গে প্রফেসর (ড.) রাজীব দে বলেন, “ভারতে থ্যালাসেমিয়া এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশে প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ শিশু থ্যালাসেমিয়া মেজর নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ভারতে প্রতি ১০০০ জীবিত জন্মের মধ্যে প্রায় ১.২ জন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এখানে ১০ শতাংশেরও বেশি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক এবং ২০,০০০-এরও বেশি রোগীর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে আজীবন রক্ত সঞ্চালন ও আয়রন কিলেশনই মূল চিকিৎসা পদ্ধতি। থ্যালাসেমিয়ার নিরাময়ের একমাত্র উপায় হল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুকুন্দপুর ক্লাস্টারে একটি বিশেষ বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটও রয়েছে, যা উপযুক্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসা পেতে সহায়তা করবে।”

ক্লিনিক উদ্বোধন প্রসঙ্গে ড. অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল ডিরেক্টর – মণিপাল হসপিটালস ইস্ট বলেন, “পূর্ব ভারতে থ্যালাসেমিয়ার প্রকোপ যথেষ্ট বেশি। পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চলে থ্যালাসেমিয়ার বাহকের হার ৮–১০ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৩–৪ শতাংশ। মণিপাল হসপিটালসের এই থ্যালাসেমিয়া প্রিভিলেজ ক্লিনিক আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন, যেখানে আমরা সাশ্রয়ী ও সমন্বিত চিকিৎসা পরিষেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার শনাক্তকরণ ও জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম প্রতিরোধ করা থেকে শুরু করে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো উন্নত চিকিৎসা প্রদান—আমাদের লক্ষ্য ধীরে ধীরে একটি থ্যালাসেমিয়া-মুক্ত সমাজ গড়ে তোলা।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস আরও একবার প্রমাণ করল যে তারা সহজলভ্য, সমন্বিত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষ চিকিৎসক দল, আধুনিক পরিকাঠামো এবং রোগীকেন্দ্রিক পরিষেবার মাধ্যমে হাসপাতালটি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

Continue reading
মণিপাল হসপিটালস সল্টলেক ক্লাস্টারের ‘ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড’সেশন এবং পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সমন্বিত গ্রন্থও প্রকাশ |
  • March 26, 2026


কলকাতা, ২৪ মার্চ ২০২৬: মণিপাল হসপিটালস সল্টলেক ক্লাস্টার আজ সল্টলেকের ব্রডওয়ে ইউনিটে “ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড” শীর্ষক একটি তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় সেশনের সফল আয়োজন করেছে। এই উপলক্ষে পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি সমন্বিত গ্রন্থও প্রকাশ করা হয়, যা মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে ও সল্টলেকের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
এই গ্রন্থটি পাচনতন্ত্র সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলির উপর একটি ব্যবহারিক ও বিস্তৃত নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, প্রতিরোধমূলক উপায়, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রা-ভিত্তিক সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপের বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই সেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি দল, যার মধ্যে ছিলেন ডা. সুজিত চৌধুরী (হেড, মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. সুদীপ্ত ঘোষ (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. সুজয় মৈত্র (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. দেবকুমার রায় (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. সঞ্জয় মণ্ডল (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. অরিজিৎ সিংহ মহাপাত্র (কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. কিংশুক ধর (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডা. কুশান সেনগুপ্ত (কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি) এবং ডা. অভিষেক ব্যানার্জি (কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)।

WhatsApp Image 2026 03 24 at 21.01.55 (1)

বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে পাচনতন্ত্রের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং প্রসেসড খাবারের ব্যবহার – এসবই এর প্রধান কারণ। অ্যাসিডিটি, ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS), ফ্যাটি লিভার, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ এবং কোলোরেক্টাল সমস্যার মতো রোগ ক্রমেই বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে ধরা পড়ে।
সেশনে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ ও জটিল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিতরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে পাচনতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখার বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ পান।
এই প্রসঙ্গে ডা. সুজিত চৌধুরী বলেন, “বর্তমান জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সচেতনতার অভাবে পাচনতন্ত্রের রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় প্রতি ৫ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন কোনো না কোনো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া, শহুরে জনসংখ্যার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। অনেকেই অ্যাসিডিটি, ফাঁপা ভাব বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করেন, যা কখনও গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। ‘ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড’ উদ্যোগ এবং এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জ্ঞান সহজভাবে পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা প্রতিরোধ ও উন্নত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।”

Continue reading
বিশ্ব কিডনি দিবস উদযাপন কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউটের।
  • March 13, 2026

DSC

কলকাতা, ১২ মার্চ ২০২৬:বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে, কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট সম্প্রদায়ের প্রতি কিডনি রোগকে একটি গুরুতর এবং দ্রুত বর্ধনশীল জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যা প্রায়শই নীরবে বিকশিত হয় এবং কেবলমাত্র উন্নত পর্যায়ে সনাক্ত করা যায়।বিশ্বজুড়ে, প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রায় ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে (CKD) আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের প্রকল্প যে CKD ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জীবনের হারানোর পঞ্চম প্রধান কারণ হয়ে উঠতে পারে, সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।ভারতেও পরিস্থিতি একই রকম উদ্বেগজনক। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সিকেডির প্রাদুর্ভাব ৮% থেকে ১৭% এর মধ্যে বলে অনুমান করা হয়, যার প্রধান কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাসের ক্রমবর্ধমান বোঝা। অনুমান করা হয় যে প্রতি বছর ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগীর শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ হয়, যাদের অনেকের বেঁচে থাকার জন্য ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়।

DSC

কলকাতা এবং পূর্ব ভারতে, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, বসে থাকা জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাব কিডনি রোগের সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করছে। এই অঞ্চল জুড়ে হাসপাতাল এবং ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলিতে দীর্ঘমেয়াদী কিডনি যত্নের প্রয়োজন এমন রোগীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং সীমিত সচেতনতা এখনও প্রধান চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে সম্প্রদায় এবং আধা-শহুরে জনসংখ্যার ক্ষেত্রে।”কিডনির রোগ কেবল একজন ব্যক্তিকেই প্রভাবিত করে না, বরং পুরো পরিবারকে মানসিক, সামাজিক এবং আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে। অনেক রোগী এমন এক পর্যায়ে আমাদের কাছে পৌঁছায় যখন প্রতিরোধ আর সম্ভব হয় না, এবং আজীবন ডায়ালাইসিসই একমাত্র বিকল্প হয়ে ওঠে। এই কারণেই সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় কেবল চিকিৎসা অগ্রাধিকার নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব।”এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ মোকাবেলায়, কলকাতা কিডনি ইনস্টিটিউট কিডনি স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করছে যার মধ্যে রয়েছে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি এবং নিকটবর্তী আবাসিক কমপ্লেক্স, কমিউনিটি লোকেশন, স্থানীয় কর্পোরেশন অফিস এবং পুলিশ স্টেশনে বিনামূল্যে কিডনি চেক-আপ ক্যাম্প। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা, পর্যাপ্ত জলীয়তা বজায় রাখা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা এবং স্ব-ঔষধ এড়ানো।

এই বিশ্ব কিডনি দিবসে, ইনস্টিটিউট নাগরিকদের কিডনি স্বাস্থ্যের প্রতি সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

Continue reading
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা |
  • March 7, 2026

কলকাতা, ৭ মার্চ ২০২৬: নেতৃত্ব, সাহস এবং সংগ্রামজয়ের অনুপ্রেরণাদায়ী নানা গল্পকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী নেতৃত্ব, চিকিৎসক এবং গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা রোগীরা। তাঁদের সাফল্য, জীবনসংগ্রাম এবং অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও তুলে ধরা হয়।এই উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট নারীকে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন জেসিকা গোমেস সুরানা, প্রিন্সিপাল, বিড়লা হাই স্কুল মুকুন্দপুর; নেহা সিংহ এবং রুহি সিংহ, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (ডা.); স্মিতা রায় চৌধুরী, একটি খ্যাতনামা সংবাদপত্রের জনপ্রিয় বিনোদন সংযোজনের সম্পাদক; এবং ডা. অঞ্জনা মালহোত্রা, প্রিন্সিপাল চিফ মেডিক্যাল ডিরেক্টর, সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে, কলকাতা।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে উপস্থিত নারী নেতৃবৃন্দ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনে নারীদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত ভাগ করে নেন। আলোচনায় উঠে আসে কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চাপের মতো বিষয়গুলি।
শহরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মণিপাল হসপিটালস-এর চিকিৎসকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সমাজে নারীদের অবদানের জন্য তাঁদের সম্মান জানান। ব্রডওয়ে, ঢাকুরিয়া, ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং সল্টলেক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অর্থোপেডিক্স, অনকোলজি, নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, নিউরোসার্জারি, কার্ডিওলজি এবং প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. অরিন্দম মন্ডল, কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল অনকোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস (যিনি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন), বলেন, “বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেকটাই উন্নত হয়েছে, কিন্তু সফল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় নারীরা প্রথম উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা রোগীদের আত্মবিশ্বাস ও আশার সঙ্গে রোগের মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।”
পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর বলেন, “অনেক সময় পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন নীরবে এগিয়ে যায় এবং পরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীরা নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হজমজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।”

IMG 20260307 WA0006.jpg

নারীদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. পলি চট্টোপাধ্যায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক বলেন, “নারীদের স্বাস্থ্য শুধুমাত্র গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত গাইনোকলজিক্যাল পরীক্ষা, হরমোনজনিত স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা এবং সময়মতো স্ক্রিনিং অনেক গুরুতর সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে। যখন নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন এবং সময়মতো চিকিৎসা পরামর্শ নেন, তখন তা শুধু তাঁদের জন্যই নয়, পুরো পরিবারের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ী মুহূর্ত তৈরি হয় যখন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাকে সাহসের সঙ্গে জয় করা কয়েকজন নারী রোগীকেও সম্মান জানানো হয়। তাঁরা তাঁদের সংগ্রাম, সাহস এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে প্রফেসর দেবশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসে ডা. অরিন্দম মন্ডলের তত্ত্বাবধানে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “ক্যান্সার ধরা পড়ার মুহূর্তটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাকে সাহস এবং মানসিক দৃঢ়তার মূল্য বুঝিয়েছে। চিকিৎসক এবং পরিবারের সমর্থনে আমি দৃঢ় মনোবল নিয়ে চিকিৎসার পথ পার করতে পেরেছি। আজ আমি আগের থেকে অনেক বেশি শক্ত এবং আশা করি আমার এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও কঠিন সময়ে আশাবাদী থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।”নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অরুণিমা চক্রবর্তী, যিনি মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুরে ডা. সঞ্জয় বসুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “হঠাৎ করে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হওয়া প্রথমে খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু চিকিৎসকের যত্ন, সঠিক পরামর্শ এবং আশ্বাস পুরো সময়টায় আমাকে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সঠিক চিকিৎসা সহায়তা এবং ইতিবাচক মনোভাব থাকলে সবচেয়ে কঠিন স্বাস্থ্য সমস্যাও জয় করা সম্ভব।”এই আয়োজনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও সমাজকে অনুপ্রাণিত করা নারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি নারীদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল।

Continue reading
মুখ ও গলার ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস-এ ক্যান্সার সার্ভাইভার মিট
  • November 30, 2025

কলকাতা, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫: মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা চেইন মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি অংশ, মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ ক্যানসার সারভাইভার মিটের আয়োজন করে। ভারতে মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার প্রধান কারণ তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার। পাশাপাশি, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরে নারীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে এই রোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র অনকোলজিস্টরা। ক্যানসার সারভাইভাররা এদিন তাঁদের লড়াইয়ের গল্প, ভয়কে জয় করার মুহূর্ত এবং নবউদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।মুখের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা সার্জারি। প্রাথমিক স্তরে (Early Oral Cancer) অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্টেজ ৩ ও ৪ এর রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রেডিয়েশন থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।

Whatsapp image 2025 11 29 at 20.40.39 (1)

ড. সৌরভ দত্ত, , ডিরেক্টর – মণিপাল অঙ্কোলজি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অনকোলজি , মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং ব্রডওয়ে বলেন, “ভারতে এখনও মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের বোঝা অত্যন্ত বেশি, প্রতি বছরই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। এদের প্রায় ৬৫–৭০%-ই তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারী। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে মুখের ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য—এই পর্যায়ে সাফল্যের হার ৭৫–৮০%-এরও বেশি। তাই উপসর্গের প্রতি সময়মতো নজর দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।“পুনর্গঠন সার্জারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রোগীই দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এখন মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য পুনর্গঠন পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং রক্তনালীর সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে শুধু মুখমণ্ডলের গঠনই পুনরুদ্ধার হয় না, রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, চিবোনো ও গিলতে পারার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতাও ফিরে পান। সফল পুনর্গঠন ক্যান্সারজয়ীর চিকিৎসা-পরবর্তী জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।”সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইভেন্টে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞ ড. কিংশুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন,“যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সার্জারির মাধ্যমেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়। রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এর ফলে রোগীর পরবর্তী জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভালো থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।”

প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির গুরুত্ব নিয়ে ড. সিঞ্জিনি দাস, কনসালট্যান্ট – প্লাস্টিক, রিকনস্ট্রাকটিভ & কসমেটিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস,, বলেন, “মুখের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে অনেক সময় গাল, জিহ্বা বা চোয়ালের কিছু অংশ অপসারণ করতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের মনে আবার আগের মতো কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে কি না—এই নিয়ে ভয় তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক পুনর্গঠন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই অংশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্গঠন করতে পারি, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, খাবার গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। আজকের দিনে পুনর্গঠনমূলক সার্জারি মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। গত চার বছরে আমাদের বিভাগে ৮০০-রও বেশি ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫০টি ছিল মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য।”এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যার নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কণ্ঠ–তে একজন ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সার্ভাইভারের সংগ্রাম, তাঁর কণ্ঠনালী অপসারণের পর নতুনভাবে কথা বলতে শেখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই চরিত্রায়ণ কেবল দর্শকদের অনুপ্রাণিতই করেনি, বরং মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বহমান ভয়, অস্বস্তি ও ভুল ধারণা দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই এই ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি ছিল গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইভেন্টে উপস্থিত সকল ক্যান্সার সার্ভাইভাররা তাঁদের ভয়কে জয় করার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও পরিবারের সহায়তা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁরা আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন—এই সবকিছু বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন।একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, এস. কে. আমিন আলি (বয়স ৪৭), যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন, “আমি সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী জীবন যাপন করেছি। দীর্ঘ কর্মসময় সামলে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ট্রেকিংয়ের আগ্রহ, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তখন এক মুহূর্ত দেরি করিনি। অনলাইনে খুঁজে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করি এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য এখানে আসি। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসকেরা আমাকে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য,আবার শক্তি ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়ানো।”আরেকজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, শাশ্বতী বিশ্বাস (বয়স ৪৫), নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যখন আমার রোগ নির্ণয় হলো, আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম, কি করব? কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মণিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সবকিছু বদলে গেল। ডাক্তার, নার্স এবং পুরো টিম আমাকে আন্তরিক যত্নে আগলে রাখলেন। তাঁরা আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন যা আমি খুঁজছিলাম। আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছি এবং অসংখ্য ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা না পাওয়ায় ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। কিন্তু এখানে আমি সময়মতো রোগ নির্ণয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ—সবই পেয়েছি। আজ আমার অস্ত্রোপচারের পর আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের প্রতি প্রেরণা ও আশা নিয়ে।

Continue reading
ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতাল অর্টনার সিনড্রোমে আক্রান্ত বিরল মহাধমনী অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে জটিল TEVAR সার্জারি।
  • June 4, 2025

Whatsapp image 2025 06 05 at 00.54.10


কলকাতা, ৪ জুন ২০২৫ – পূর্ব ভারতের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক মণিপাল হাসপাতাল, ৭২ বছর বয়সী ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগী শ্রী রবীন্দ্র কুমার সরকারের উপর -থোরাসিক এন্ডোভাসকুলার অ্যানিউরিজম রিপেয়ার (TEVAR) সার্জারি করেছে। কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারি (CTVS) প্রধান ডাঃ কৌশিক মুখার্জি এবং কনসালট্যান্ট ভাস্কুলার সার্জন ডাঃ শুভব্রত ব্যানার্জীর তত্ত্বাবধানে। সিটি টোটাল অ্যাওর্টোগ্রাফির মাধ্যমে জানা গেছে যে বুকের ভিতরের প্রধান রক্তনালীতে (অর্টা) একটি বিরল স্ফীতি মস্তিষ্ক এবং বাহুতে রক্ত ​​সরবরাহকারী মূল ধমনীর কাছে বিপজ্জনকভাবে অবস্থিত, যা এই অবস্থাকে সম্ভাব্য জীবন-হুমকি এবং চিকিৎসাকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। অ্যানিউরিজম নামে পরিচিত এই স্ফীতিটি একটি স্নায়ুর উপর চাপ দিচ্ছিল যা ভয়েস বক্স নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে তার ক্রমাগত কর্কশতা দেখা দিচ্ছিল। অর্টনার সিনড্রোম বা কার্ডিও-ভোকাল সিনড্রোম নামে পরিচিত এই অস্বাভাবিক অবস্থাটি ভারতে মাত্র ১% থেকে ৩% ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়, যা এটিকে বিরল ক্ষেত্রে পরিণত করে।
থোরাসিক এন্ডোভাসকুলার অ্যানিউরিজম মেরামত (TEVAR) হল একটি পদ্ধতি যা সাধারণত মহাধমনীর অস্বাভাবিক স্ফীতির চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। মিঃ সরকারের ক্ষেত্রে এটি কঠিন ছিল কারণ অ্যানিউরিজমটি খুব জটিল স্থানে পাওয়া গিয়েছিল, বাম সাবক্ল্যাভিয়ান ধমনীর (উপরের অঙ্গগুলিতে (বাহুতে) রক্ত ​​সরবরাহকারী প্রধান রক্তনালী, সেইসাথে ঘাড় এবং মাথার কিছু অংশ) পরে অবতরণকারী থোরাসিক অ্যাওর্টায়, যা একটি সংবেদনশীল অঞ্চল, মস্তিষ্ক এবং বাহুতে রক্ত ​​সরবরাহকারী প্রধান ধমনীর কাছাকাছি। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান সত্ত্বেও, চিকিত্সকরা ওপেন-হার্ট সার্জারি বা অতিরিক্ত বাইপাস ছাড়াই স্টেন্ট গ্রাফ্ট সফলভাবে স্থাপন করেছিলেন, যা ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালের চিকিত্সকদের দলের অস্ত্রোপচার পরিকল্পনা এবং উন্নত ক্ষমতার প্রমাণ। অ্যানিউরিজমটি সিল করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ ধমনীগুলি অক্ষত ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোগীর ২৬শে মে ২০২৫ তারিখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং ২ দিনের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

এই বিরল কেসটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে, ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতাল কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারির (সিটিভিএস) প্রধান ডাঃ কৌশিক মুখার্জি বলেছেন, “মিঃ সরকার আমাদের কাছে কণ্ঠস্বরের কর্কশতা নিয়ে এসেছিলেন, যা অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমের একটি অস্বাভাবিক লক্ষণ, যা বিরলতম ক্ষেত্রে। প্রকৃতপক্ষে, তার বয়স এবং ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অন্তর্নিহিত অবস্থার কারণে, থোরাকোটমির মাধ্যমে অ্যানিউরিজমের ওপেন সার্জারি মেরামতের জন্য তিনি ভালো প্রার্থী ছিলেন না। সেই কারণেই আমরা একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক TEVAR পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলাম। অ্যানিউরিজমের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে এটি প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন ছিল, তবে আমরা গুরুত্বপূর্ণ রক্ত ​​প্রবাহকে প্রভাবিত না করেই এটি সফলভাবে সিল করতে সক্ষম হয়েছি, একই সাথে ওপেন সার্জারির ঝুঁকি এড়িয়ে। তার মসৃণ পুনরুদ্ধার আমাদের দলের পরিকল্পনার প্রমাণ। তার কণ্ঠস্বর ইতিমধ্যেই উন্নত হতে শুরু করেছে এবং তিনি এখন সম্পূর্ণরূপে আরোগ্যের পথে রয়েছেন।”
মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার কনসালট্যান্ট ভাস্কুলার সার্জন ডাঃ শুভব্রত ব্যানার্জি বলেন, “এই ধরণের ঘটনাগুলি ভারতে ভাস্কুলার কেয়ার কতটা এগিয়েছে তা তুলে ধরে। একসময় জটিল ওপেন-চেস্ট সার্জারির প্রয়োজন ছিল যা এখন একটি ছোট ছেদনের মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে, মণিপাল হাসপাতালগুলিতে উপলব্ধ উন্নত এন্ডোভাসকুলার কৌশলগুলির জন্য ধন্যবাদ। এই পদ্ধতিটি কেবল অ্যানিউরিজমের চিকিৎসার জন্য ছিল না, এটি ন্যূনতম ঝুঁকির সাথে জীবনের মান রক্ষা করার এবং তার ভয়েস বক্স সংরক্ষণ করার জন্যও ছিল। আমাদের সম্মিলিত দক্ষতার ফলে আমরা এমন একটি সমাধান প্রদান করতে পেরেছি যা একজন রোগীর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর উভয়ই ছিল যারা অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রোপচারের জন্য দুর্বল প্রার্থী হতেন।”
রোগী, শ্রী রবীন্দ্র কুমার সরকার, বলেন, “ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালে আসার আগে, আমি বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করেছিলাম, যার মধ্যে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞও ছিলেন, কিন্তু কেউই আমার কণ্ঠস্বরের কর্কশতার কারণ বলতে পারেননি। অবশেষে যখন আমি মণিপাল হাসপাতালে আসি, তখন আমি কেবল উত্তরই খুঁজে পাইনি, বরং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাও পেয়েছি। আমাকে বলা হয়েছিল যে আমার হৃদপিণ্ডের কাছে একটি গুরুতর রোগ রয়েছে এবং ৭২ বছর বয়সে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সাথে, আমি জানতাম অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কিন্তু এখানকার ডাক্তাররা আমাকে এমন একটি পদ্ধতির মাধ্যমে জীবনের নতুন দিশা দিয়েছেন যা অলৌকিক বলে মনে হয়নি। আমি সন্দেহ নিয়ে এসেছিলাম এবং আশা নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।”
মণিপাল হাসপাতালকে যা আলাদা করে তোলে তা কেবল স্কেল নয়, বরং রিয়েল টাইমে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। স্টেন্টিং পদ্ধতির সময় ধসে পড়া হোক বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা, হাসপাতালগুলি ৫০০+ ক্রিটিক্যাল কেয়ার শয্যা, ৭৫ জন বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট, ১৫ জন অত্যন্ত দক্ষ কার্ডিওথোরাসিক এবং ভাস্কুলার সার্জন (সিটিভিএস) এবং কলকাতার সমস্ত ইউনিটে সাতটি উন্নত ক্যাথ ল্যাব দিয়ে সজ্জিত। ২৪x৭ জরুরি দল এবং অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞরা জীবন রক্ষাকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও বিলম্ব না করে তা নিশ্চিত করে। প্রতি বছর এটি ৩০,০০০ এরও বেশি হৃদরোগের চিকিৎসা এবং ৩,০০০ এরও বেশি হৃদরোগের অস্ত্রোপচার করে।

Continue reading
মণিপাল হাসপাতাল বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলার শিকারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফার্স্ট এইড ও সিপিআর সচেতনতা ছড়াতে উদ্যোগী হয়েছে
  • June 2, 2025



কলকাতা, ২৭ মে ২০২৫: পূর্ব ভারতের বৃহত্তম হাসপাতাল চেইন, মণিপাল হাসপাতাল, আজ বিশ্ব জরুরি দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলার শিকারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, এই প্রথমবারের মতো এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই শহরব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে, মণিপাল হাসপাতাল জগার্স পার্ক, রেলস্টেশন, কর্পোরেট অফিস, আইটি পার্ক এবং Rapido রাইডারদের মধ্যে সিপিআর সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এরপর, মুকুন্দপুর থেকে ঢাকুরিয়া, ব্রডওয়ে ও সল্টলেক হয়ে ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সারাদিনব্যাপী এই ইভেন্টগুলির লক্ষ্য ছিল একটি সুস্থ ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত সমাজ গড়ে তোলা। বিশ্বাস থেকে যে প্রতিটি ব্যক্তি, তাদের পটভূমি বা সক্ষমতা নির্বিশেষে, সংকটের সময় প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হওয়া উচিত, আজ শহরের ১৫০০-এরও বেশি মানুষ এই দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা তাদের বাস্তব জীবনের সিপিআর হিরোতে রূপান্তরিত করার একটি পদক্ষেপ।

Whatsapp image 2025 05 28 at 18.03.48

এই জীবন রক্ষাকারী হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মিশন চালিয়ে যেতে, মণিপাল হাসপাতাল বেঙ্গালুরু ইতিমধ্যেই সিপিআর প্রশিক্ষণ ও জরুরি প্রস্তুতির জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান অর্জন করেছে। আজকের ইভেন্টগুলি সকাল ৬:০০ টায় জগারস পার্ক থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬:৩০ টায় বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসে শেষ হয়। আজকের সিপিআর প্রশিক্ষণ সেশনগুলি পরিচালনা করেন ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস, মেডিকা সুপারস্পেশালটি হাসপাতাল (মণিপাল হাসপাতাল গ্রুপের একটি ইউনিট) জরুরি বিভাগের প্রধান; ডাঃ সুজয় দাস ঠাকুর, পরামর্শদাতা ও ইন-চার্জ – জরুরি চিকিৎসা, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর; এবং ডাঃ কিশান গোয়েল, পরামর্শদাতা ও জরুরি বিভাগের প্রধান, মণিপাল হাসপাতাল – ব্রডওয়ে।

ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “জরুরি পরিস্থিতি যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে—বাড়িতে, অফিসে, রাস্তায় বা সকালে হাঁটার সময়। তাই আমরা হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পার্ক, অফিস এবং কমিউনিটি এলাকায় যাচ্ছি, যাতে যতটা সম্ভব মানুষকে সিপিআর হিরো বানানো যায়। সন্তোষপুর পার্ক, আরবান সবুজায়ন, সেন্ট্রাল পার্ক, অ্যাক্সিস মল এবং রবীন্দ্র সরোবরের মতো জায়গাগুলি আমাদের জীবন রক্ষাকারী জ্ঞানকে সকালের হাঁটার মতো সাধারণ করে তুলতে সাহায্য করেছে। যখন মৌলিক জরুরি প্রতিক্রিয়া জনসচেতনতায় পরিণত হয়, তখন আমরা শহরজুড়ে বেঁচে থাকার শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করি।”

ইভেন্ট চলাকালীন, ডাঃ সুজয় দাস ঠাকুর বলেন, “জীবন রক্ষা করা শুধুমাত্র একজন ডাক্তারের দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক বাধ্যবাধকতাও। আমরা Rapido রাইডার, এনজিও থেকে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জেলার অ্যাসিড হামলার শিকারদের সিপিআর ও ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিদিনের হিরোদের জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করছি। আমাদের অ্যাম্বুলেন্স র‍্যালি আমাদের প্রতিরোধমূলক যত্নের প্রতিশ্রুতির আরেকটি শক্তিশালী প্রতীক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রশিক্ষণটি প্রয়োজনীয় সচেতনতা বাড়াবে এবং সবাইকে মনে করিয়ে দেবে যে প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ।”

উদ্যোগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে, ডাঃ কিশান গোয়েল বলেন, “একটি জরুরি পরিস্থিতি যা পথচারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে, শুধুমাত্র সচেতনতার উপর নির্ভর করতে পারে না; প্রাথমিক যত্নের জন্য সাহায্য করার ইচ্ছা এবং প্রস্তুতি উভয়ই থাকতে হবে। আমরা ডিএলএফের মতো আইটি হাব, সাউথ সিটি মলের মতো পাবলিক স্পেস এবং মিডিয়া হাউসগুলিতে সিপিআর প্রশিক্ষণ সেশন সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী জ্ঞানের একটি তরঙ্গ তৈরি করছি। মণিপাল হাসপাতাল, আমরা বিশ্বাস করি যে পেশাদার থেকে সাংবাদিক পর্যন্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে ক্ষমতায়ন করা পথচারীদের প্রথম প্রতিক্রিয়াকারীতে পরিণত করতে পারে।”

ডাঃ পারমিতা কঞ্জিলাল বলেন, “মণিপাল হাসপাতাল দৃঢ়ভাবে ফার্স্ট এইড এবং সিপিআর সম্পর্কে সচেতনতা ছড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে মানুষ সংকটের সময় সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে। আমরা সারা বছর ধরে এমন গণসচেতনতামূলক উদ্যোগ চালিয়ে যাব, যাতে বৃহত্তর সম্প্রদায় উপকৃত হয়।”

Continue reading

মিস করে যাওয়া

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |
ডানকুনিতে ওয়্যারহাউস প্রকল্পে ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা অলকার্গো লজিস্টিক্সের |
নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |
ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কালিকাপুর আগুয়ান সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে সঙ্ঘের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বৃক্ষ রোপণ উৎসব ও সিপিআর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের সম্মান জানাতে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসে আয়োজিত ‘দ্য কারেজ ওয়াক’|
ন্যূনতম আক্রমণাত্মক স্পাইন সার্জারির অগ্রগতি সাধনে বিশ্বজুড়ে স্পাইন বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করল এশিয়ান ইউবিই মিট ২০২৬ |