কলকাতা, ২৮ জুলাই: দেশের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করল আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়। সেইসঙ্গে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স (জেসিবিএস সিওই) প্রতিষ্ঠা এবং ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পাঠক্রম চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এই শিল্পমুখী স্নাতক পাঠক্রমের লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের চিপ ডিজাইনার ও সেমিকন্ডাক্টর প্রকৌশলী তৈরি করা।শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এর আচার্য অধ্যাপক (ড.) সমিত রায়, উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস, ভিএলএসআই সোসাইটি অব ইন্ডিয়া-র সভাপতি ড. সত্য গুপ্ত, এইচসিএলটেক-এর এভিপি (ইঞ্জিনিয়ারিং আরঅ্যান্ডডি সার্ভিসেস) বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় এবং এম৩১ টেকনোলজি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট (টেকনিক্যাল মার্কেটিং) জয়ন্ত লাহিড়ী।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স উন্নত সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-সহযোগিতার এক সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে শিক্ষার্থীরা বিশেষায়িত গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক মানের ইডিএ সফটওয়্যার, এফপিজিএ প্রোটোটাইপিং পরিকাঠামো, ইন্টার্নশিপ, বাস্তব শিল্প-প্রকল্প এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

চার বছরের ১৬২ ক্রেডিটের ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পাঠক্রমটি শিল্পমহলের পরামর্শে তৈরি হয়েছে। এতে ভিএলএসআই ডিজাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক হার্ডওয়্যার অ্যাক্সিলারেটর, এফপিজিএ সিস্টেম, সিস্টেমভেরিলগ/ইউভিএম ভেরিফিকেশন, ফিজিক্যাল ডিজাইন, আইসি ফ্যাব্রিকেশন, স্ট্যাটিক টাইমিং অ্যানালিসিস, সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং এবং এমবেডেড সিস্টেমসহ গোটা সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ল্যাবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শিল্প-প্রকল্প এবং ক্যাপস্টোন প্রকল্প।ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (আইএসএম) ২.০-এর আওতায় দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও চিপ ডিজাইনে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, ফ্যাব্রিকেশন, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাদারের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এর আচার্য অধ্যাপক (ড.) সমিত রায় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী স্নাতক তৈরি করা নয়। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পক্ষেত্রকে একত্রিত করে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ তৈরি হবে। আগামী দিনের গবেষক, উদ্যোগপতি এবং প্রযুক্তি-নেতৃত্ব গড়ে তুলেই ভারতকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে চাই।”উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস বলেন, “আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স শিল্প-চাহিদাভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে। শিল্পক্ষেত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণে পাঠক্রমটি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের চাহিদা পূরণে সক্ষম হন।”

ভিএলএসআই সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. সত্য গুপ্ত বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর বিজ্ঞানের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনন্য। ১৮৯৮ সালে কলকাতাতেই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্বের প্রথম সলিড-স্টেট সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক এবং আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স চালু করা হচ্ছে। ড. সমিত রায়ের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা ভারতের আত্মনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”তিনি জানান, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ‘চিপস টু স্টার্টআপ (সি২এস)’ কর্মসূচি এবং ‘চিপইন সেন্টার’-এর সহায়তায় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের ইডিএ সফটওয়্যার, এফপিজিএ প্রোটোটাইপিং ল্যাব এবং আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষণ পরিকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার শিল্প-প্রস্তুত শিক্ষার্থী গড়ে তোলা, একশো পেশাদারকে দক্ষ করে তোলা এবং ১০টি পূর্ণাঙ্গ ‘সিস্টেম-অন-চিপ (এসওসি)’ ছাত্র-টেপ-আউট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সেমিকন্ডাক্টর ক্লাব হাতে-কলমে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি এই সেন্টার ফ্যাবলেস স্টার্ট-আপ, দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর পণ্য এবং মেধাস্বত্ব তৈরির ইনকিউবেশন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। বাংলার বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ভিএলএসআই শিক্ষার সেতুবন্ধন ঘটিয়ে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে দেশের সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”
এইচসিএলটেক-এর এভিপি (ইঞ্জিনিয়ারিং আরঅ্যান্ডডি সার্ভিসেস) বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই পাঠক্রমে শিক্ষার্থীরা শিল্প বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে গোটা সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রক্রিয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে। সম্পূর্ণ ভিএলএসআই-কেন্দ্রিক এমন স্নাতক পাঠক্রম দেশে খুবই বিরল। শিল্পে ব্যবহৃত আধুনিক ডিজাইন টুল ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।”এম৩১ টেকনোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট (টেকনিক্যাল মার্কেটিং) জয়ন্ত লাহিড়ী বলেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স পূর্ব ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স এবং ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক চালুর মাধ্যমে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।








