সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |


কলকাতা, ২৫ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হাজার হাজার মানুষকে আজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, রোগীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা এক ছাদের নিচে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি-র উদ্যোগে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া আয়োজন করেছিল ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’। রোগী-কেন্দ্রিক এই অনন্য আয়োজনে ৫০ জনেরও বেশি ডায়ালাইসিস রোগী, ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা একত্রিত হয়েছিলেন; যা শেখা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সামিটটি সঞ্চালনা করেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিভাগের উপদেষ্টা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অর্ঘ্য মজুমদার এবং একই বিভাগের ডিরেক্টর ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা. উপল সেনগুপ্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. বাস্তব ঘোষ।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘কিডনি স্বাস্থ্য’ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিকিৎসকরা কিডনি রোগ সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলোকে এই সেশনে মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

WhatsApp Image 2026 07 25 at 17.36.51

রোগীরা যাতে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও নির্দেশনা পান, তা নিশ্চিত করতে ডায়েটেটিক্স, ফিজিওথেরাপি, সাইকোলজি, ডায়ালাইসিস পরিষেবা এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ ‘ইন্টারঅ্যাকশন কিওস্ক’ বা পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সামগ্রিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, যেখানে রোগীরা তাঁদের চিকিৎসার যাত্রাপথে অদম্য মনোবল, আশা ও সংকল্পের অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি তুলে ধরেন। সাহস ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, পরস শর্মা, প্রজেশ কুমার ঘোষ, মালয়া তালপাত্র, সার্থক দাস এবং ডা. কাবেরী চৌধুরীকে উপস্থিত চিকিৎসকদের দ্বারা সংবর্ধিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. অর্ঘ্য মজুমদার বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। রোগীরা যখন কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ) পৌঁছান, তখন তাঁদের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ ও তাঁরা কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন। ডায়ালাইসিস বা রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জীবন-পরিবর্তনকারী একটি প্রক্রিয়া যা রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত করে এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে রোগীরা সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, দ্বিধাহীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং চিকিৎসক ও একে অপরের কাছ থেকে নানা বিষয় জানতে পারেন। এর পাশাপাশি তাঁরা যেন বুঝতে পারেন যে, সময়মতো ও নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে তাঁরা একটি পরিপূর্ণ ও অর্থবহ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন।”
ডা. উপল সেনগুপ্ত বলেন, “ভারতে প্রতি বছর ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ কিডনি ডিজিজ) আক্রান্ত হচ্ছেন; তাই সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, আজীবন ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার সুযোগ দেয়। তবে, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়শই সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা রোগীদের শিক্ষিত করা, ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং প্রতিস্থাপন বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি; পাশাপাশি আমরা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত কিডনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দিচ্ছি।” সম্মেলন চলাকালীন নিজের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার কথা তুলে ধরার সময় ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৫২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী এবং কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা শ্রী অরূপ কুমার দাস বলেন, “২০০৭ সালে যখন আমার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে, তখন আমার জীবন রাতারাতি বদলে যায়। আমি ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেছে এবং আমি আর কাজ করতে পারব না। এরপর আমার ডায়ালিসিস শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে ডায়ালিসিস চলার পর, ২০০৮ সালের জুন মাসে আমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ১৮ বছর ধরে আমি একটি সুস্থ ও কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করছি; আমি এখনও পুরোদমে কাজ করছি, চাকরির প্রয়োজনে প্রচুর ভ্রমণ করছি এবং পরিবারের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। কয়েক বছর আগে আমি এক সন্তানের গর্বিত পিতা হয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জেনেছি যে, চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চললে এবং প্রিয়জনদের সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেলে, কিডনি প্রতিস্থাপন সত্যিই পরিপূর্ণ জীবনযাপনের দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিতে পারে। আমার এই যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য এবং আমাকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগটি দেওয়ার জন্য আমি ডা. অর্ঘ্য মজুমদার-এর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

Related Posts

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।
  • October 11, 2026

কলকাতা, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬: টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল, ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অ্যাকাডেমির সহযোগিতায়, পেশী ও অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং সুস্থ হাঁটু ও মেরুদণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা প্রচারের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর হাঁটু ও মেরুদণ্ড বিষয়ে সচেতনতা’ শীর্ষক একটি বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করেছে।এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা একত্রিত হয়েছিলেন, যাঁরা হাঁটু ও মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য, সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব এবং সচলতা ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেন।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন আইওআরএআর দিবসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডঃ পি. এস. সরকার, উত্তর কলকাতা অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব ডঃ কিংসুক মণ্ডল, জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান এবং এসএসকেএম হাসপাতালের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আনন্দ কিশোর পাল, আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার, পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক কিরণ কুমার মুখোপাধ্যায়, টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডঃ সৌরভ ঘোষ এবং টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের সিইও শ্রীমতি মোনা সরকার।

DSC

গতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য হাঁটু ও মেরুদণ্ড সুস্থ রাখা অপরিহার্য। অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবসের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মাস্কুলোস্কেলিটাল স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে উৎসাহিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই। টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালে আমরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে এবং মানুষ যাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও উন্নতমানের অর্থোপেডিক সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলেন টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. সৌরভ ঘোষ।

এই উদ্যোগটি অস্থিসন্ধি ও মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নয়নে জনসচেতনতা এবং বিশেষজ্ঞ নির্দেশনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস পালনের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি স্বাস্থ্যসেবা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নততর পেশী ও অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের জন্য মানুষকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতাল একটি অগ্রণী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সহানুভূতি ও সততার সাথে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোগী-কেন্দ্রিক পরিষেবার উপর দৃঢ় মনোযোগ রেখে, হাসপাতালটি মানসম্মত চিকিৎসা, উদ্ভাবন এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মাধ্যমে সমাজের সেবা করে চলেছে।

Continue reading
নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |
  • October 8, 2026


কলকাতা, ৬ই অক্টোবর ২০২৬: স্তন ক্যান্সার একজন নারীর জন্য অন্যতম কঠিন স্বাস্থ্য সংগ্রাম হতে পারে, কিন্তু সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা এই যাত্রার গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে। এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে (অক্টোবর), মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস “দুর্গাতিনাশিনী – আপনিই আপনার” এই থিমের উপর একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের তাদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগটি স্তন স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো যত্ন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য গণমাধ্যমকে একত্রিত করবে এবং একই সাথে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সক্রিয় হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে।

উৎসবের মরসুমে নারীশক্তির অদম্য চেতনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই প্রচারাভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রে কাজের জন্য পরিচিত প্রশংসিত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার নন্দিতা রায় এবং ভারতীয় মডেল রিচা শর্মা, যিনি ২০১১ সালে মিসেস ইন্ডিয়া খেতাব অর্জন করেন এবং আঞ্চলিক ও হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি এই প্রচারাভিযানে নারীর শক্তি ও সহনশীলতার উদযাপনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এই বার্তাকে শক্তিশালী করেছে যে, শক্তি কেবল রোগ নির্ণয়ের পর তার বিরুদ্ধে লড়াই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে রোগের লক্ষণগুলো আগেভাগে চেনা, নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
স্তন ক্যান্সার নারীদের মধ্যে একটি প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, যার ফলে উন্নত ফলাফলের জন্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, এই যাত্রা কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসার মাধ্যমেই শুরু হয় না। এটি শুরু হয় আরও অনেক আগে, যখন একজন নারী নিজের শরীরকে চেনেন, পরিবর্তনগুলো চিনতে পারেন এবং পেশাদার পরামর্শ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন।

WhatsApp Image 2026 10 06 at 18.12.19 (1)

সভায় বক্তব্য রাখার সময়, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নেহা চৌধুরী বলেন, “‘দুর্গাতিশিনী’-র বার্তা স্তন ক্যান্সারের গতানুগতিক ধারণার ঊর্ধ্বে। এটি নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে এবং এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। ক্যান্সারের এই যাত্রাপথে মানসিক ও সামাজিক সমর্থনের গুরুত্বও অবিচ্ছেদ্য। স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের অভিজ্ঞতা বারবার প্রমাণ করেছে যে, যদিও চিকিৎসাগত দক্ষতা এবং যথাযথ চিকিৎসা অপরিহার্য, পরিবার, বন্ধু এবং পরিচর্যাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ রোগীদের রোগ নির্ণয় ও আরোগ্যের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলা করার জন্য মানসিক শক্তি জোগাতে পারে।”

অনুষ্ঠানে, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ পূজা আগরওয়াল বলেন, “প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ই মূল চাবিকাঠি, এবং আমরা পরামর্শ দিই যে ৪০ বছরের বেশি বয়সী সকল মহিলার প্রতি বছর ম্যামোগ্রাম করানো উচিত এবং তরুণীদের নিয়মিত স্ব-স্তন পরীক্ষা করা উচিত। এটি বেশ উদ্বেগজনক যে ভারতে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬১% উন্নত পর্যায়ে আসেন এবং খুব কম সংখ্যক রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের কাছে আসেন। এই প্রবণতার পিছনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারণ এবং কম সচেতনতা অন্যতম প্রধান কারণ।” তিনি আরও বলেন, “স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা দক্ষতার সাথে স্ব-যত্নের প্রতি অঙ্গীকারের সমন্বয় প্রয়োজন। তাই, আমরা ব্যক্তিগতকৃত যত্ন এবং একটি সঠিক রোগ নির্ণয়, পর্যায় নির্ধারণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য সচেষ্ট থাকি। প্রতিটি পদক্ষেপ, তা সার্জারি হোক বা থেরাপি, সর্বোত্তম ফলাফল আনার জন্য একটি বহু-বিভাগীয় দল দ্বারা সমন্বিত হয়। একটি উন্নত জীবনের পথ প্রশস্ত করার জন্য রোগীর অংশগ্রহণ, স্ব-যত্ন, সঠিক পুষ্টি এবং মানসিক সমর্থন সমান গুরুত্ব বহন করে।” এই যাত্রাপথে পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের সমর্থন রোগীদের এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিক শক্তি জোগায়।”
এই উদ্যোগটির তাৎপর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে কলকাতার ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডঃ সৌরভ দত্ত বলেন, “স্তন ক্যান্সার সচেতনতাকে অবশ্যই এক মাসব্যাপী আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে বুঝতে, পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় চিকিৎসার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের ‘দুর্গাতিশিনী’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা এই বার্তাটি আরও জোরদার করতে চাই যে, প্রত্যেক নারীরই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।”
এই প্রচারণার আরেকটি লক্ষ্য হলো স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে ভয় থেকে ক্ষমতায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই রোগ মোকাবিলায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা এবং রোগীরা প্রায়শই আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা এবং একটি শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা বলেন। এর আগে স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের এক সমাবেশে রোগীরা বলেছিলেন, কীভাবে সঠিক চিকিৎসা, আশ্বাস এবং সমর্থন তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছিল।

তবে, এই ‘রোগের রাজা’র বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদিও স্তন ক্যান্সার প্রধানত নারীদের সঙ্গেই সম্পর্কিত, পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও তা বিরল। কলকাতার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী অশোক চক্রবর্তীর জন্য এই যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র

দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র

পন্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো এক ইতিহাস বহন করে চলেছে।

পন্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো এক ইতিহাস বহন করে চলেছে।

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |