দুর্গাপুজোর নেপথ্যের শিল্পীদের সম্মান জানাল মণিপাল হসপিটাল কলকাতা‘পুজোর রূপকার ২.০’-এর মাধ্যমে |
  • September 12, 2026

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তোলার নেপথ্যে থাকা শিল্পী ও কারিগরদের সম্মান জানাতে মণিপাল হসপিটাল কলকাতা আয়োজন করল ‘পুজোর রূপকার ২.০’। এই উদ্যোগে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী, চন্দননগরের আলোকশিল্পী, ঢাকি এবং পুজো কমিটির সম্পাদকদের সম্মান জানানো হয়।বাংলার সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত এই মানুষগুলির গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সম্মান জানানোই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলার কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। হাজার হাজার পুজোমণ্ডপ, সুন্দর প্রতিমা, চোখ ধাঁধানো আলো এবং ঢাকের শব্দের পিছনে রয়েছেন বহু প্রজন্ম ধরে কাজ করে আসা শিল্পীরা। তাঁদের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতাই দুর্গাপুজোকে আরও সুন্দর করে তোলে।অনুষ্ঠানের শুরু হয় প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল কলকাতার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা, কুমোরটুলি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং কলকাতার মণিপাল হসপিটাল গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর নার্সিং টিমের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দেবী বরণ অনুষ্ঠান করা হয়।এরপর মণিপাল হসপিটাল ইস্ট-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তুলতে শিল্পী ও অন্যান্য কারিগরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন।

এরপর কুমোরটুলির শিল্পী, ঢাকি এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমোরটুলি সর্বজনীনের সেক্রেটারি শ্রী সমর মিত্র এবং ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শ্রী দেবাশিস ভট্টাচার্য; কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির মৃৎশিল্পী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শ্রী বাবু পাল; জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী শ্রীমতী মালা পাল শ্রীমতী ঝুলন পাল; প্রবীণ মৃৎশিল্পী শ্রী নিমাই পাল; এশিয়ান পেইন্টস পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী শ্রী নব পাল, শ্রী সৌমেন পাল এবং শ্রী সনাতন পাল। এছাড়াও সম্মানিত করা হয় শ্রীমতী কাকলি পাল, শ্রী অরূপ পাল, শ্রী পশুপতি রুদ্র পাল, শ্রী সঞ্জয় পাল, শ্রী রামিত পাল, শ্রী ইন্দ্রজিৎ পাল, শ্রী রঞ্জিত সরকার, শ্রী বঙ্কিম পাল, শ্রী দীপঙ্কর পাল, শ্রী ভানু রুদ্র পাল, শ্রী সুজিত পাল, শ্রী প্রদীপ দে, শ্রী রুদ্রজিৎ পাল, শ্রী সুভাষ পাল এবং শ্রী সমীর পালকে।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সেক্রেটারি শ্রী চন্দ্রনাথ দে এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী সানু বিশ্বাস এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পী শ্রী তপন ঘোষ, শ্রী তাপস ঘোষ, শ্রী আশিস দে, শ্রী দিব্যেন্দু বিশ্বাস এবং শ্রী অমিয় দাসকেও তাঁদের কাজ পরিশ্রমের জন্য সম্মান জানানো হয়।

WhatsApp Image 2026 09 10 at 18.39.44

অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের কনসালট্যান্ট, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. পারিজাত দেব চৌধুরী বলেন,“উৎসবের আগে শিল্পীদের অনেকক্ষণ ধরে কাজ করতে হয় এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপও থাকে। তাই এই সময় হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। বেশি পরিশ্রম, মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শরীরে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উৎসবের সময় কাজের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা দরকার।”মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিকস ডা. সুতনু হাজরা বলেন,“প্রতিমা তৈরির সময় একই ধরনের কাজ বারবার করা, অনেকক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে পেশি, হাড়, জয়েন্ট এবং মেরুদণ্ডে চাপ পড়তে পারে। কাজের সময় সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান বদলানো, ঠিকমতো কাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী। দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যথা থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের কনসালট্যান্ট গাইনোকলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকস ডা. শিলপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহিলা শিল্পীদের অনেক সময় কঠিন শারীরিক কাজের পাশাপাশি বাড়ির দায়িত্বও সামলাতে হয়। ফলে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় কমে যায়। মাসিকের অনিয়ম, রক্তশূন্যতা, শরীরে পুষ্টির অভাব এবং অন্যান্য মহিলাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এতে তাঁরা আরও ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।”মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং এইচওডি অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার ডা. ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। অনেক সময় বেশি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি গরম, ধুলো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসের সংস্পর্শেও আসতে হয়। তাই এই সময় কাজের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং কোনও চোট বা হঠাৎ কোনও শারীরিক সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গুরুতর চোট বা হঠাৎ শরীরের কোনও অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কুমোরটুলির শিল্পীদের তাঁদের কাজ এবং বাংলার সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। চন্দননগরের আলোকশিল্পী এবং ঢাকিদের উপস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্গাপুজোর এই বিশাল আয়োজনের পিছনে রয়েছেন বহু মানুষ, যাঁরা নেপথ্যে থেকে উৎসবকে সুন্দর করে তোলেন।

Continue reading
  • September 12, 2026

কলকাতা জেলাজুড়ে VBYLD 2027-এর প্রচার ও সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে সাংবাদিক সম্মেলন |

কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডারস ডায়ালগ (VBYLD) ২০২৭’-এর প্রচার এবং এই উদ্যোগে তরুণদের সর্বাধিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আজ শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এই সাংবাদিক সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল VBYLD ২০২৭ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও মতামত তুলে ধরতে পারে। এই উদ্যোগটি তরুণ নাগরিকদের তাদের মতামত প্রকাশ, অভিনব ধারণা ভাগ করে নেওয়া এবং জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য একটি উপযুক্ত মঞ্চ প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. অমিত মজুমদার; দক্ষিণ কলকাতার ‘মাই ভারত’ (MY Bharat)-এর উপ-অধিকর্তা শ্রীমতি কাঞ্চন কুমারী; উত্তর কলকাতার জেলা যুব আধিকারিক (DYO) শ্রীমতি খুশবু গুপ্তা এবং এনসিসি (NCC)-র ক্যাপ্টেন ড. প্রেম বাহাদুর মাঝি।উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তারা ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং VBYLD ২০২৭-এ সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য তরুণদের আহ্বান জানান। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তরুণদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।কলকাতা জেলাজুড়ে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছাতে এবং VBYLD ২০২৭-এ তাদের অংশগ্রহণ সহজতর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাও ছিল এই সাংবাদিক সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

WhatsApp Image 2026 09 12 at 23.05.01

বক্তারা ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নাগরিকদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুযোগগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার এবং একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে ভারতের অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। এই আলোচনার প্রথম ধাপ হলো “বিকশিত ভারত কুইজ” (Viksit Bharat Quiz) প্রতিযোগিতা, যা ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) পোর্টালে (www.mybharat.gov.in) আয়োজিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো ১৫-২৯ বছর বয়সী দেশের তরুণদের ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করা, তাদের মধ্যে কৌতূহল ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং একটি জাতীয় মঞ্চে তাদের নিজস্ব ধারণা বা চিন্তাভাবনা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। কুইজটি ভারতের অগ্রগতি, সংস্কৃতি, বিভিন্ন নীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি ২২টি ভাষায় আয়োজন করা হচ্ছে।

‘বিকশিত ভারত কুইজ’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তী বিভিন্ন ধাপে—যেমন প্রবন্ধ রচনা, জেলা-স্তরের উপস্থাপনা, রাজ্য-স্তরের VBYLD এবং জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা—অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত তরুণরা ‘VBYLD ২০২৭’ জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা ২০২৭ সালের ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন দপ্তরের সচিব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সামনে নিজেদের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র (thematic area) থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনেও তাদের ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।সবশেষে, যোগ্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা উৎসাহের সাথে VBYLD ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করেন এবং একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও উন্নত ভারত গঠনে নিজেদের ধারণা ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে অবদান রাখেন।

Continue reading
ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্বচ্ছতা ও শিল্পখাতের সহযোগিতার ওপর মন্ত্রীর গুরুত্বারোপ |
  • August 6, 2026

কলকাতা | ৫ আগস্ট ২০২৬: ভারতের অটোমোবাইল খুচরা বিক্রয় খাতের প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ সংস্থা ‘ফেডারেশন অফ অটোমোবাইল ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনস’ (FADA) ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কলকাতার আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গলের ‘বেঙ্গল স্টেট রুম’-এ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় পরিবহন মন্ত্রীর সাথে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ‘ফায়ার-সাইড চ্যাট’ (অনানুষ্ঠানিক ও খোলামেলা আলোচনা)-এর আয়োজন ও সফল সমাপ্তি ঘটায়।এই অনুষ্ঠানে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১৫০ জনেরও বেশি অটোমোবাইল ডিলার প্রধান, FADA-র কেন্দ্রীয় দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ডিলার সম্প্রদায় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার জন্য এই অনুষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে শিল্প ও সরকারের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা এবং একটি অধিকতর স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রবৃদ্ধি-সহায়ক অটোমোটিভ খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকার গৃহীত হয়।

সমবেতদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় পরিবহন মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অটোমোবাইল ডিলার সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অবদানের কথা স্বীকার করেন। সড়ক নিরাপত্তা, সহজে যানবাহন নিবন্ধন এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি, মন্ত্রী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-চালিত প্রশাসনের ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করেন।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় পরিবহন মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং বলেন, “একটি স্বচ্ছ, প্রযুক্তি-চালিত এবং নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন পরিষেবা প্রদান এবং অটোমেশনের মাধ্যমে আমরা অদক্ষতা দূর করতে এবং পুরো ব্যবস্থায় অধিকতর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমরা CMVR (সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেল রুলস) বিধিমালা পুরোপুরি কার্যকর করতে এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ ‘মাল্টি-ব্র্যান্ড আউটলেট’ (MBO) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই যাত্রায় FADA-র মতো শিল্প সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; আমরা ডিলার সম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জন্য আরও দক্ষ, সহজলভ্য এবং ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিবহন পরিবেশ গড়ে তোলার অপেক্ষায় রয়েছি।”

WhatsApp Image 2026 08 05 at 20.54.36

আলোচনাকালে FADA শিল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকেল রুলস (CMVR) বাস্তবায়ন, রাজ্যজুড়ে অবৈধ ‘মাল্টি-ব্র্যান্ড আউটলেট’ (MBO)-এর মাধ্যমে যানবাহন কেনাবেচার প্রসার, ব্যবহৃত বা পুরনো গাড়ির (pre-owned vehicle) নিবন্ধনের প্রবর্তন এবং সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক পাঁচ বছর মেয়াদী ট্রেড সার্টিফিকেট কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা। ফাডা (FADA)-র ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব সাই গিরিধর বলেছেন—”পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং-এর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ; তিনি সিএমভিআর (CMVR) বিধিমালা পুরোপুরি কার্যকর করার এবং রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ ‘মাল্টি-ব্র্যান্ড আউটলেট’ (MBO) বা বহু-ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্রের ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। মন্ত্রী আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আমলে নিয়েছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন—এজন্যও আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এছাড়া, আমরা রাজ্যে ব্যবহৃত বা পুরনো গাড়ি নিবন্ধনের ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ অনলাইন-ভিত্তিক পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ট্রেড সার্টিফিকেট’ বা ব্যবসায়িক সনদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছি। এই পদক্ষেপগুলো নিয়মকানুন মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি, গ্রাহকদের সুবিধা বাড়ানো এবং অনুমোদিত ডিলারদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

ফাডা মন্ত্রীর এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছে এবং দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছে যে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো সুষ্ঠু ব্যবসায়িক চর্চাকে উৎসাহিত করবে, বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিকে উন্নত করবে এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অনুমোদিত অটোমোবাইল ডিলারদের জন্য ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলবে।একটি ইতিবাচক আবহে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। এতে ফাডা এবং পরিবহন বিভাগ—উভয় পক্ষই সড়ক নিরাপত্তা, ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা, বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন মেনে চলা এবং রাজ্যের অটোমোটিভ খুচরা বিক্রয় খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

Continue reading
বাঘ-থিমযুক্ত সচেতনতামূলক ট্যাক্সির যাত্রা শুরু, সংরক্ষণ স্টিকার উন্মোচন এবং ভারতের জাতীয় পশুকে রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • August 4, 2026

কলকাতা, ২৮শে জুলাই, ২০২৬:ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক, এনভায়রন-এর সহযোগিতায় বাঘ সংরক্ষণকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে। প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার, সংরক্ষণবিদ এবং রেস্তোরাঁ মালিক শ্রী শিলাদিত্য চৌধুরীর পরিকল্পনায় এই উদ্যোগটি ভারতের জাতীয় পশুকে রক্ষা এবং তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়ার জন্য বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, সংরক্ষণবিদ, নীতি নির্ধারক, কর্পোরেট নেতা এবং বন্যপ্রাণী উৎসাহীদের একটি সাধারণ মঞ্চে একত্রিত করে।অনুষ্ঠানটি অলঙ্কৃত করতে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য; মহারাষ্ট্র সরকারের প্রাক্তন প্রধান বন সংরক্ষক এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির সদস্য শ্রী সুনীল লিমায়ে; বিশিষ্ট অভিনেত্রী শ্রীমতি গার্গী রায় চৌধুরী; প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ শ্রী বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী; মোটোভোল্ট মোবিলিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শ্রী তুষার চৌধুরী; ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল)-এর জেনারেল ম্যানেজার শ্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়; ‘মায়া’ গ্রন্থের লেখিকা শ্রীমতি দেবরতি মুখোপাধ্যায়; এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক, পরিবেশবিদ, সংরক্ষণবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং অন্যান্য গণ্যমান্য অতিথিবৃন্দ।

এই অনুষ্ঠানে দীপ প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত এবং বিশিষ্ট লেখিকা শ্রীমতি দেবরাতি মুখোপাধ্যায় রচিত ‘মায়া’ বইটির উন্মোচন করা হয় এবং শ্রী শিলাদিত্য চৌধুরীর সঙ্গে কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়। বইটি তাডোবা-আন্ধারি টাইগার রিজার্ভের কিংবদন্তি বাঘিনী মায়ার অসাধারণ যাত্রাকে তুলে ধরে, যার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এই রিজার্ভটিকে ভারতের অন্যতম বিখ্যাত বন্যপ্রাণী গন্তব্যে রূপান্তরিত করার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে দেশের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের কদর করতে অনুপ্রাণিত করেছে।সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মহারাষ্ট্র সরকারের প্রাক্তন মুখ্য বন সংরক্ষক এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির সদস্য শ্রী সুনীল লিমায়ের জ্ঞানগর্ভ ভাষণ। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে, তিনি বাঘ সংরক্ষণ, আবাসস্থল পুনরুদ্ধার এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের উপর মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন এবং একই সাথে তাডোবা-আন্ধারি টাইগার রিজার্ভ কীভাবে ভারতের অন্যতম সেরা সংরক্ষণ সাফল্যের গল্পে পরিণত হয়েছে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।

WhatsApp Image 2026 08 04 at 13.56.14

এনভায়রন-এর পরিকল্পনায় একটি বৃহত্তর জনসচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে, ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের প্রধান প্রবেশদ্বার থেকে বাঘের ডোরাকাটা দাগে শৈল্পিকভাবে আঁকা কলকাতার দুটি প্রতীকী হলুদ ট্যাক্সির যাত্রা শুরু করানো হয়। এই টাইগার ট্যাক্সিগুলি আগামী তিন মাস ধরে কলকাতা জুড়ে চলাচল করবে, হাজার হাজার নাগরিকের কাছে সরাসরি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেবে এবং ভারতের জাতীয় পশুটিকে রক্ষা করার কাজে বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করবে।অনুষ্ঠানের বাইরেও প্রচারণাকে আরও প্রসারিত করতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বাঘের পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য একটি ‘বাঘ সংরক্ষণ সচেতনতা স্টিকার’ও চালু করা হয়েছিল।দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এনভায়রন বিশ্বাস করে আসছে যে, সংরক্ষণ শুরু হয় সচেতনতা দিয়ে। বাঘ শুধু ভারতের জাতীয় পশুই নয়—এটি আমাদের বনের রক্ষক এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রতীক।

‘মায়া’ নামক টাইগার ট্যাক্সি চালু এবং এই শহরব্যাপী সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে আমাদের প্রচেষ্টা হলো, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আলোচনাকে বনের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া। বাঘ রক্ষা করা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা, এবং এই সম্মিলিত দায়িত্বে প্রত্যেক নাগরিকেরই একটি ভূমিকা রয়েছে”, বলেন বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফার, প্রকৃতি সংরক্ষণবিদ ও রেস্তোরাঁ মালিক শ্রী শিলাদিত্য চৌধুরী।২১২ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে ভারতীয় জাদুঘর সর্বদা ভারতের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের এই অঙ্গীকার কেবল অমূল্য প্রত্নবস্তু সংরক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতের অসাধারণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তা প্রসারিত। আমাদের জাতীয় পশু বাঘ, আমাদের গ্যালারিতে রক্ষিত অমূল্য সম্পদগুলোর মতোই ভারতের ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে আমরা পুনরায় এই কথাই পুনর্ব্যক্ত করি যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের জাতির ইতিহাসকে টিকিয়ে রাখতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অপরিহার্য। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজীর দূরদর্শী নেতৃত্বে, ‘ভিজিট ভারত’-এর লক্ষ্য ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর আদর্শ দ্বারা পরিচালিত, যেখানে আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত ঐতিহ্য রক্ষার মাধ্যমেই অগ্রগতি সাধিত হয়। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে, ভারতীয় জাদুঘর প্রত্যেক নাগরিককে প্রকৃতির রক্ষক হতে অনুপ্রাণিত করতে চায়, এবং এটি নিশ্চিত করতে চায় যে ভারতের এই মহিমান্বিত বাঘ আমাদের অভিন্ন পরিচয়, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করতে থাকবে। – ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য, পরিচালক, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা।এই কর্মসূচিটি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড এবং মোটোভোল্ট মোবিলিটি দ্বারা সমর্থিত ছিল, যাদের সহযোগিতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং দায়িত্বশীল কর্পোরেট অংশীদারদের মধ্যে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে।

Continue reading
মণিপাল হসপিটালস কলকাতার উদ্যোগে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে শিল্প, সংগীত ও কবিতার মেলবন্ধনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন |
  • May 10, 2026

কলকাতা, ৯ মে ২০২৬: স্টেথোস্কোপের জায়গা নিল গান, প্রেসক্রিপশনের পরিবর্তে শোনা গেল কবিতা, আর হাসপাতালের করিডোর যেন এক সন্ধ্যার জন্য শিল্প ও সংস্কৃতির বিস্তারে রূপ নিল ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার চিকিৎসকেরা যখন সাংস্কৃতিক মঞ্চে উঠে এলেন, তখন এক অনন্য আবহে ধরা পড়ল কিভাবে কবিগুরুর চিরন্তন শব্দ, সংগীত ও দর্শন প্রজন্ম, পেশা ও সীমারেখা ছাড়িয়ে আজও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মণিপাল হসপিটালস কলকাতার ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, ঢাকুরিয়া, সল্টলেক ও ব্রডওয়ে ইউনিটের চিকিৎসকেরা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সন্ধ্যা হয়ে ওঠে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক উদযাপন।

ভারতের প্রাচীনতম ও অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা, মানবিকতা ও সংস্কৃতির এক বিরল মেলবন্ধনের সাক্ষী হয়ে ওঠে। অসাধারণ ঐক্য ও শিল্পীসুলভ প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের ১৯ জন চিকিৎসক একসঙ্গে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তি। চিকিৎসার ব্যস্ত দায়িত্বের বাইরে এসে তাঁরা একত্রিত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরন্তন সৃষ্টিকে সম্মান জানাতে। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় “জাগরণে যায় বিভাবরী”, “প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে”, “আমি চিনি গো চিনি”, “মনে মোর মেঘের সঙ্গী” এবং “পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে”-র মতো জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত। পাশাপাশি আবৃত্তি করা হয় “বাঁশি”, “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ” এবং “শেষের কবিতা”-র অংশবিশেষ। এই পরিবেশনাগুলি রোগী, পরিজন, হাসপাতালের কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এক আবেগঘন ও নস্টালজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা আবারও মনে করিয়ে দেয়—সুস্থতা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

WhatsApp Image 2026 05 09 at 13.32.18

এই প্রসঙ্গে ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা (সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার), বলেন, “রবীন্দ্রজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি আবেগ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর হিসেবে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামও দেশের বৌদ্ধিক, শিল্প ও সামাজিক জাগরণের সঙ্গে পথ চলেছে, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন কবিগুরু স্বয়ং। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যা জ্ঞান, মানবতা ও অন্তর্ভুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আজ যখন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের কাছাকাছি হয়ে উঠছে, তখন রবীন্দ্রনাথের দর্শন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি কল্পনা করেছিলেন এমন এক সমাজের, যা শ্রেণি, ভাষা ও ভৌগোলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে। স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এই উদযাপনে অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে এসে তাঁদের সৃজনশীল সত্তাকে তুলে ধরেছেন। এটি ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’-র ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেয়, যেখানে উন্নয়ন ও ঐতিহ্য একসঙ্গে এগিয়ে চলে।”

কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারী মণিপাল হসপিটালস ইস্ট রিজিয়নের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের ডঃ সুকল্যাণ পুরকায়স্থ বলেন, “এই ঐতিহাসিক পরিবেশে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করা সত্যিই এক হৃদয়ছোঁয়া ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিদিন মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু সংগীত ও সংস্কৃতি আমাদের মানুষের আবেগ ও আত্মার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে তার গভীরতা, সংবেদনশীলতা ও মানবিকতার মাধ্যমে। সহকর্মী চিকিৎসকদের সঙ্গে এই বিশেষ উদযাপনের অংশ হতে পেরে সন্ধ্যাটি আমার কাছে আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।”

মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক-এর কনসালট্যান্ট – এমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগের ডঃ পরমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী বলেন, “ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মতো ঐতিহাসিক স্থানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করা সত্যিই এক আবেগঘন ও পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু শিল্প ও সাহিত্য আমাদের অনুভূতির সঙ্গে এক ভিন্ন স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় যে চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধ রয়েছে, তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সহকর্মী, রোগী ও বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।”

মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর-এর ক্লিনিক্যাল লিড – পেডিয়াট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি বিভাগের ডঃ শুভাশিস সাহা বলেন, “রবীন্দ্রসংগীতের এক চিরন্তন প্রশান্তিদায়ক শক্তি রয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে, কারণ এটি চিকিৎসক হিসেবে আমাদের আরেকটি দিককে তুলে ধরেছে—যেখানে শিল্প, সহমর্মিতা ও আবেগের গভীর সংযোগ রয়েছে। এমন সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন সন্ধ্যাটিকে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।”

এই ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও প্রমাণ করল যে, স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংস্কৃতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংযোগের মধ্য দিয়েও সুস্থতার এক সামগ্রিক পরিসর গড়ে তোলা সম্ভব। এই সন্ধ্যা তাই শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারকেই উদযাপন করেনি, উদযাপন করেছে মানবিকতার সেই দিকটিকেও, যা প্রকৃত আরোগ্যের ভিত্তি।

Continue reading
হুগলী জেলার বৈদ্যবাটীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন|
  • March 1, 2026

কলকাতা,২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ঃ যথাযোগ্য মর্য্যাদার সঙ্গে হুগলী জেলার বৈদ্যবাটীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করল রজত জয়ন্তী বর্ষ অতিক্রান্ত সংগঠন “বঙ্গভাষা ও সংস্কৃতি চেতনা মঞ্চ”। অন্যান্য বৎসরের মতোই এবৎসরও ২১শে ফেব্রুয়ারীর সকালে বৈদ্যবাটী ক্লাব-এর বিপরীতে জি.টি.রোডের পার্শ্বে অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। মঞ্চে’র বর্ত্তমান সভাপতি বর্ষীয়ান ছড়াকার শান্তিপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলা ভাষার জন্য হওয়া শহীদদের স্মারক স্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও নিরবতা পালন করা হয়। এরপর পরিবেশিত হয় “মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা” সঙ্গীত। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মঞ্চে’র বর্ত্তমান কার্য্যকরী সমিতি’র সদস্য অনুপম রায়-অন্যরকম সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক প্রবীর দাস-বৈদ্যবাটী-শেওড়াফুলি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেড-এর পরিচালক মণ্ডলীর সদস্য দেবাশিস চক্রবর্তী,কবিতা পাঠ করেন কাজল গুপ্ত-লায়লি মুখোপাধ্যায়-নিরুত্র সোম-ধনঞ্জয় সিংহ। এই অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মঞ্চে’র রজত জয়ন্তী বর্ষ অতিক্রমণ উপলক্ষ্যে সহযোগী ষোলটি সংগঠনের অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষার হাতে বিশেষ স্মারক সম্মান তুলে দেওয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মঞ্চে’র বর্ত্তমান সাধারণ সম্পাদক পণ্ডিত বিদ্যুৎ বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

WhatsApp Image 2026 02 26 at 03.11.40 (1)

Continue reading
অমিস ত্রিপার্টির উপস্থাপনায় ১৭ তম অ্যাপিজে সাহিত্য উৎসব উদ্বোধন হয়ে গেল অক্সফোর্ড বুক স্টোরে।
  • December 10, 2025

Whatsapp image 2025 12 08 at 18.10.58

কলকাতা, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫: আজ অপিজয় কলকাতা সাহিত্য উৎসবের (একেএলএফ) ১৭তম সংস্করণের উদ্বোধন করা হয়েছে অপিজয় কলকাতা সাহিত্য উৎসবের পরিচালক অঞ্জুম কাটিয়াল; এপিজয় অক্সফোর্ড বুকস্টোরের সিইও স্বাগত সেনগুপ্ত; এবং এপিজয় কলকাতা সাহিত্য উৎসবের প্রোগ্রামিং প্রধান নীতা শ্রীধরনের উপস্থিতিতে। এই ঘোষণা কলকাতার সবচেয়ে প্রিয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি হিসেবে একেএলএফের স্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যা বই, ধারণা এবং অর্থপূর্ণ সংলাপ উদযাপন করে। এই উৎসব ৯-১১ জানুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত ঐতিহাসিক আলিপুর জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমাদের সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং আকর্ষণীয় সাহিত্যিক কণ্ঠস্বর একত্রিত হবে।একেএলএফ ২০২৬ এর পর্দা-উত্থাপনের মূল আকর্ষণ ছিল “দ্য থ্রিল অফ দ্য লেজেন্ড”, যেখানে প্রিয়দর্শিনী গুহের সাথে কথোপকথন করা হবে।AKLF 2026 অক্ষয় জেটলি, অমিত লোধা, আনন্দ নীলাকান্তন, অনিতা অগ্নিহোত্রী, অনিতা নায়ার, অপর্ণা সেন, অরুণাভ সিনহা, বাচি কারকরিয়া, বেনিয়ামিন, বৃন্দা কারাত, ডঃ শশী থাগার, ডঃ শশী থাগার সহ লেখক, চিন্তাবিদ, অভিনয়শিল্পী এবং জনসাধারণের ব্যক্তিত্বদের একটি দুর্দান্ত দল উপস্থাপন করবে। জিৎ থাইল, জেরি পিন্টো, লুক কৌতিনহো, মল্লিকা দুয়া, পামেলা ফিলিপোস, পবন কে. ভার্মা, প্রিয়ম্বদা জয়কুমার, রত্নবলি রায়, রিরি ত্রিবেদী, রুচির জোশী, সত্যার্থ নায়ক, শোভা দে, সুন্দর সারুক্কাই, স্বস্তিকা মুখার্জি এবং উষা উষাউপ্পা উষার মধ্যে আরও অনেকে।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবটি আলিপুর জাদুঘর, অক্সফোর্ড বুকস্টোর এবং দ্য পার্ক, কলকাতা জুড়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবে অপর্ণা সেন আনপ্লাগড, ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট: টেলস অফ দ্য ডার্ক সাইড, টোক ঝাল মিষ্টি: হোয়াট সেটস বেঙ্গলস কুইজিন অ্যাপার্ট, সারভাইভিং দ্য ডার্ক: অ্যাবিউজ অ্যান্ড উইমেনস এক্সপেরিয়েন্স, মাদারলোড: মাইনিং দ্য মিথস, ডিউটি ​​কলস: পুলিশ অ্যান্ড দ্য ক্রাইম থ্রিলার, সেলিব্রেটিং দ্য সিটি: কলকাতা স্টোরিজ এবং অন লিভিং, ডাইং অ্যান্ড এভরিথিং দ্যাট ম্যাটার্স সহ আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই উৎসবে সাহিত্য, সিনেমা, সঙ্গীত, ইতিহাস, সুস্থতা, রাজনীতি, খাদ্য সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক সামাজিক আলোচনার এক প্রাণবন্ত মিশ্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

Whatsapp image 2025 12 08 at 18.10.56

অক্সফোর্ড বুকস্টোরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অক্সফোর্ড জুনিয়র লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল (ওজেএলএফ) তরুণ পাঠকদের সাথে ইন্টারেক্টিভ ‘লেখকের সাথে দেখা করুন’ সেশন, সৃজনশীল কর্মশালা, শব্দের খেলা এবং গল্প বলার মাধ্যমে জড়িত করবে। কৌতূহল জাগিয়ে তুলতে এবং বইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে উৎসাহিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, ওজেএলএফ পরবর্তী প্রজন্মের পাঠক এবং স্রষ্টাদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। এদিকে, আলিপুর জাদুঘরের পোয়েট্রি ক্যাফে প্রতিষ্ঠিত এবং উদীয়মান কবিদের জন্য তাদের কাজ ভাগ করে নেওয়ার জন্য একটি গতিশীল স্থান প্রদান করবে, যা ধারণা এবং শৈল্পিক প্রকাশের সমৃদ্ধ বিনিময়কে উৎসাহিত করবে।পর্দা উত্থাপন অনুষ্ঠানে তার চিন্তাভাবনা ভাগ করে নিয়ে, অপিজয় সুরেন্দ্র গ্রুপের পরিচালক প্রীতি পাল বলেন, “অপিজয় কলকাতা সাহিত্য উৎসবের ১৭তম সংস্করণের পর্দা উত্থাপনের মাধ্যমে, আমরা আবারও সৃজনশীলতা এবং সংলাপের স্থায়ী চেতনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছি যা AKLF কে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংজ্ঞায়িত করে আসছে। এই বছরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ আমরা ঐতিহাসিক আলিপুর জাদুঘরে এই সংস্করণটি আয়োজন করছি – একটি প্রতীকী স্থান যা সমসাময়িক চিন্তাভাবনাকে লালন করার পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। বছরের পর বছর ধরে, AKLF কেবল একটি সাহিত্য উৎসবের চেয়ে অনেক বেশি কিছুতে পরিণত হয়েছে; এটি কলকাতার সাংস্কৃতিক হৃদস্পন্দনের একটি জীবন্ত প্রমাণ হয়ে উঠেছে, একটি মিলনস্থল যেখানে বিভিন্ন কণ্ঠস্বর অর্থপূর্ণ কথোপকথনের স্ফুলিঙ্গ এবং নতুন ধারণা উড়ে যায়। আমরা যত এগিয়ে যাচ্ছি,

Continue reading
মোক্ষদা একাদশীতে গীতা জয়ন্তী পালন
  • December 4, 2025


১ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ছ’টায় শতাব্দি প্রাচীন হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চে গীতা জয়ন্তী পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল দেবলোক সোসিও-কালচারাল ফাউন্ডেশন ও হাওড়া সংস্কৃত সাহিত্য সমাজ। আচার্য অনুভব হাজরার তত্ত্বাবধানে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার সম্পূর্ণ তৃতীয় অধ্যায়ের পাঠ ও অনুপাঠ হয়, একইসঙ্গে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন পেশার মানুষ এই দিন একত্রে গীতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন দুই যোগ ব্যক্তিত্ব ইন্দ্ররূপ রায়চৌধুরী ও কিরণ মন্ডল। গীতা পাঠ ছাড়াও বৈদিক মন্ত্র, সঙ্গীত ও গীতার মাহাত্ম্য কথন অনুষ্ঠিত হয়। মোক্ষদা একাদশীর পুণ্য তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তথা সমগ্র মানব সম্প্রদায়কে গীতার উপদেশ প্রদান করেছিলেন। ঘরে ঘরে গীতা পাঠের প্রচার প্রসার ও গীতাকে অনুসরণ করে জীবনাচরণের বার্তা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের কোনায় কোনায় পৌঁছে দিতে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। কারণ গীতাই পারে মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে এবং মানুষকে শান্তির পথে পরিচালিত করতে।

Whatsapp image 2025 12 04 at 10.21.43

Continue reading
৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা শুরু ২২জানুয়ারি চলবে ৩ফেব্রুয়ারি ২০২৬,পর্যন্ত
  • November 3, 2025

Whatsapp image 2025 11 03 at 18.16.55

কলকাতা ৩ নভেম্বর ২০২৫ – আর্জেন্টিনাকে ফোকাস করে শুরু হতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বই মেলা।পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ উৎসব আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। ৪৯তম বইমেলার উদ্বোধন হবে ২২ জানুয়ারি ২০২৬, চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, স্থান সল্টলেক। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী; উপস্থিত থাকবেন দেশ–বিদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও অতিথিবৃন্দ। গিল্ড কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সহযোগী সংস্থাকে প্রাঙ্গণের উন্নয়ন ও আয়োজনে সমর্থনের জন্য।
২০২৫ সালের মেলায় ২৭ লক্ষ দর্শক এসেছিলেন, বিক্রি হয়েছিল ২৩ কোটি টাকার বই। নতুন প্রকাশকদের আগ্রহ সত্ত্বেও স্থান সংকীর্ণতার কারণে এবার স্টলের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয়।এই প্রথম ফোকাল থিম কান্ট্রি হিসেবে অংশ নিচ্ছে আর্জেন্তিনা, যাদের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। গিল্ড আশা করছে, এই অংশগ্রহণ দুদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। আর্জেন্তিনা দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন।

Whatsapp image 2025 11 03 at 18.16.54

২০২৭ সালের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী—১৯৭৬ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ময়দানে আয়োজিত বইমেলার দুর্লভ ছবিগুলি থেকে সেরা দশটি ছবিকে পুরস্কৃত করা হবে। নির্বাচিত ছবি ২০২৬ সালের প্রেস কর্ণারে প্রদর্শিত হবে। ছবি পাঠানোর শেষ তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫।
২০২৬ সালের মেলায় অংশ নেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, পেরু, কলম্বিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড ও লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রকাশকরাও উপস্থিত থাকবেন। থাকবে লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন, চিলড্রেনস কর্নার ও নানা আকর্ষণ।
কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল (KLF) অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে ও সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কৃষ্ণ চ্যাটার্জী সকল পাঠক, লেখক ওপ্রকাশককে আসন্ন বই উৎসবে আন্তরিক স্বাগত জানিয়েছেন।উপস্থিত ছিলেন গিল্টের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে,মিসেস আনন্দী কুইপো রিয়াভিটজ, কনস্যুলার সেকশনের প্রধান,রাজু বর্মণ, কোষাধ্যক্ষ, গিল্ডসুদীপ্ত দে, নির্বাহী কমিটির সদস্যত্রিদিব কৃষ্ণ চ্যাটার্জী, মাননীয় সাধারণ সম্পাদক, গিল্ডএশা চ্যাটার্জী, নির্বাহী কমিটির সদস্যমিঃ আন্দ্রেস সেবাস্তিয়ান রোজাস, কাউন্সেলর শুভঙ্কর দে, নির্বাহী কমিটির সদস্য।

Continue reading
“মেক ক্যালকাটা রিলিভেন্টের দ্বিতীয় বছরের অন্য পুজোর সূচনা হলো খুঁটি পুজো দিয়ে”
  • August 1, 2025

কলকাতা,৩১ জুলাই, ২০২৫ :– কলকাতা উৎসবের শহর আর কলকাতার প্রধান উৎসব হল দুর্গাপুজো। এই দুর্গাপুজোকে ঘিরেই সারা বছরের অপেক্ষায় থাকে আমোর বাঙালি। পুজো আসার দুমাস আগে থেকেই পুজোর গন্ধ ছড়িয়ে পরে অলিতে গলিতে ঠিক এবারে যেমন পড়লো ক্যালকাটা রেলিভেন্টের অন্য পুজোর দ্বিতীয় বছরের আয়োজনে। হয়ে গেল অন্য পুজোর খুঁটি পুজো। কলকাতার দ্বিতীয় সংস্করণ ঘোষণা করেছে একটি ভিন্ন দুর্গা পুজো, অন্য পুজোকে শিক্ষার্থীদের হয়েছিল যা বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের দায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক চেতনায় মূল্যবোধের সাধে একত্রিত করেছে।
এই অন্য পুজোর প্রতি কি সূচনা হিসেবে অন্য পুজোর খুঁটি পুজো উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এটি এই বছরের থিম নারকোল কথা এবং ম্যাসকট ঘোষণা করা হয় যার নাম দেওয়া হয়েছে নারু দা। যার লক্ষ ছিল পরিবেশগত দায়িত্ব এবং সমসাময়িক দিক থেকে সংস্কৃতি দেখতে যুব সমাজকে অনুপ্রাণিত করা।

Whatsapp image 2025 08 04 at 11.06.27 pm

ই উদ্বোধনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মানসী রায় চৌধুরী,মিস্টার নীল ভট্টাচার্য, এর প্রতিষ্ঠাতা এবং এম ডি সুজাতা চ্যাটার্জি, মিসেস পোলিং লারাভোয়ার,এবং মিক ক্যালকাটা রিলিভেন্টের প্রতিষ্ঠাতা টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রধান উদ্যাপনা কর্মকর্তা দেবদূত রায়চৌধুরী।
এই বছর নারকোল কথা থিমটি প্রতিকি হিসেবে নারকল উপজাত তার মধ্যে রয়েছে নারকেলের দড়ি, সহিং, কাঠ কয়লা ব্যবহার করে প্যান্ডেলটি অনন্য ভাবে তৈরি করা হবে। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় এর দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হবে। টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পালন করবে তাদের সৃজনশীলতা, কারু শিল্প এবং দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে পুনর্গঠন ও উদ্ভাবনের একটি দৃশ্যমান উপস্থাপনা তৈরি করবে।
অন্য পুজো ছিল আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে এমন ভাবে পুরো কল্পনা করার বিষয়ে যা আজকের যুবসমাজ এবং পরিবেশের সাথে অণুরণিত হয়। সময় এসেছে আমাদের সাহিত্যের জরুরি আহবানের সাথে আমাদের ঐতিহ্যকে একত্রিত করার। আমি বিশ্বাস করি এই উদ্যোগ আরো এবং উদ্ভাবনী ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করেছে। মেঘ ক্যালকাটা ইলেভেন্ট এখানের প্রতিষ্ঠাতা মিস্টার মেঘদুত রায়চৌধুরী বলেন এই প্রকল্পটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে দুর্গা পূজার মতো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিতে দায়িত্বকে এর মালিকানা গ্রহণ করেছে। ঐতিহ্য এবং সাহিত্যের মিলন ঘটলে যে উদ্ভাবন হতে পারে তারই এক প্রতিমূর্তি ছিল অন্য পুজো বলেন পুনভারসাম্য ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা মিসেস লারাভোয়র।

Whatsapp image 2025 08 04 at 11.06.45 pm

অন্য পুজোর খুঁটি পুজোতে শ্রদ্ধার সাথে পালন করা হয় সমস্ত আচার অনুষ্ঠান এবং রীতিনীতি সহ সমস্ত তবুও এর ঐতিহ্যবাহী মুলের বাইরে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে অগ্রগতির যা অতীতকে সম্মান করে এবং আরো সবুজ আরো চিন্তাশীল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্থ করবে।

Continue reading

মিস করে যাওয়া

দুর্গাপুজোর নেপথ্যের শিল্পীদের সম্মান জানাল মণিপাল হসপিটাল কলকাতা‘পুজোর রূপকার ২.০’-এর মাধ্যমে |
এনসিএসআই ২০২৬ কলকাতা, নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সপ্তম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো কলকাতায়।
এক নতুন ও বলিষ্ঠ Zee5-এর উপস্থাপনা: ভারতের স্ট্রিমিং অভিজ্ঞতার এক নতুন রূপায়ণ |
নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |
শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |