পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

ভারতের ভূমি-মন্দির সংস্কৃতির ঐতিহ্য” আজকের এই অশান্ত ও অস্থির পৃথিবীতে প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক আনন্দ, পরিতৃপ্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির আলোয়-এই আন্তরিক প্রার্থনাই পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার মূল বার্তা। ইসকন কলকাতার উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মহোৎসবের রথের চাকা এগিয়ে চলেছে সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল, মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি, শান্তি ও আনন্দের প্রার্থনা নিয়ে। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর করুণাময় আশীর্বাদে এই রথযাত্রা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার সকল ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানবতার এক মহামিলনের আহ্বান জানায়।

কলকাতা রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত প্রকাশ, যেখানে মন্দির সংস্কৃতির পবিত্র ধারা রাজপথে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই উৎসব ভক্তি, সেবা, ঐক্য, সহমর্মিতা এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মতো ভারতের শাশ্বত মূল্যবোধকে ধারণ করে বিশ্ববাসীর সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

রথযাত্রা ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদকে মন্দিরের সীমানা অতিক্রম করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং প্রত্যেককে ভারতের জীবন্ত আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও ভক্তিময় জীবনধারার অংশীদার হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। সুসজ্জিত রথ, হরিনাম সংকীর্তন, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে কলকাতা রথযাত্রা বিশ্ববাসীর সামনে ভারতকে মন্দিরের ভূমি, চিরন্তন জ্ঞানের উৎস, সর্বজনীন প্রেম, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।

আজ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আবহ বিরাজ করছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা যেন মানবসভ্যতার মাথার ওপর ভাসমান। এমন এক সময়ে ইস্কন কলকাতা নিয়ে আসছে শান্তি, সম্প্রীতি, আশা ও মানবঐক্যের এক চিরন্তন বার্তা।

ইস্কন কলকাতার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক পঞ্চান্নতম বার্ষিক কলকাতা রথযাত্রা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বিশ্বমানবতার উদ্দেশ্যে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক আন্তরিক আহ্বান। গত বছর কলকাতার রাজপথে আমরা এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী ছিলাম। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথের সামনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভক্তরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৃত্য ও কীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দুই দেশের মানুষের সেই মিলন যেন এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেছিল-বিশ্বের অধিপতি জগন্নাথের সামনে জাতি, দেশ ও সীমান্তের সব বিভেদ মুছে যায়; আমরা সবাই এক বিশ্বপরিবারের সদস্য। গত বছর রথযাত্রার আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল রথের চাকার পরিবর্তন। বহু বছর ধরে ব্যবহৃত, বিখ্যাত বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে রথে সংযোজিত হয় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের চাকা। আকাশে যে
চাকা যুদ্ধের কঠিনতম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নির্মিত, সেই চাকা আজ ভগবান জগন্নাথের রথ বহন করছে-যুদ্ধের শক্তিকে শান্তির সেবায় উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রতীক হিসেবেই আমরা এই বার্তা তুলে ধরেছিলাম।এ বছর আমাদের আহ্বান আরও গভীর। মানুষের মন যতই অশান্ত হোক, যতই হতাশা, বিভেদ ও অনিশ্চয়তা ঘিরে থাকুক না কেন, রথযাত্রার প্রার্থনা, হরিনাম সংকীর্তন এবং ভগবান জগন্নাথের করুণায় প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক শান্তি, প্রশান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দে। কলকাতা রথযাত্রা আজ শুধু কলকাতার নয়, এটি এক বিশ্বউৎসব—যার স্পন্দন কলকাতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে।

বিশেষ আকর্ষণ এ বছরের পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের শুভ উপস্থিতি। তিনি ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের শুভ সূচনা করবেন। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে তিনি ভগবানের রথের সম্মুখভাগে প্রতীকী ‘ছেড়া পাহাড়া’ (Chera Pahara) সেবায় অংশগ্রহণ করে স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে পথ পরিশোধন করবেন। এরপর তাঁর হাতেই রথের প্রথম রশি টানার মাধ্যমে পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার শুভ সূচনা হবে।

এই শুভ অনুষ্ঠানে অসংখ্য ভক্ত, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কলকাতা আবারও ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের করুণা, শান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তায় মুখরিত হয়ে উঠবে।

আজ বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশে, ৪,০০০-এর বেশি স্থানে রথযাত্রা পালিত হচ্ছে, যা সম্ভব হয়েছে ইসকন-এর প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য, কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। তাঁর শৈশবে কলকাতার বড়বাজারে রথযাত্রা দেখেই জন্ম নিয়েছিল এই বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন। ১৯৬৭ সালের ৯ই জুলাই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আন্তর্জাতিক রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর ইচ্ছা ছিল, বিশ্বের প্রতিটি শহরে জগন্নাথের রথ পরিভ্রমণ করুক, আর মানুষ একত্রিত হোক ভক্তি ও শান্তির বন্ধনে। কলকাতার রথযাত্রা, যা পুরীর পরেই সবচেয়ে বড়, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষকে আকৃষ্ট করে, এবং গোটা শহর রঙ্গীন হয়ে ওঠে ভক্তি, আনন্দ আর উৎসবের রঙে।

ইসকন কলকাতা ৫৫তম রথযাত্রা ও উল্টো রথের শোভাযাত্রার সময়সূচি ও রুট শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ উদ্বোধনের সময়: দুপুর ১২টা শুরুর স্থান: ইসকন কলকাতা মন্দির, ৩জি, আলবার্ট রোেড, কলকাতা রুট: ইসকন কলকাতা মন্দির > হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট এ.জে.সি. বোস রোড শরৎ বসু রোড → হাজরা রোড → শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (এস.পি. মুখার্জি) রোেড এক্সাইড ক্রসিং জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → আউটরাম রোেড ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।

উল্টো রথ (বাহুড়া যাত্রা) তারিখ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ সময়: দুপুর ১২:০০টা থেকে শুরুর স্থান: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড (আউটরাম রোেড, পার্ক স্ট্রিট মেট্রো সংলগ্ন) রুট: ব্রিগেড
প্যারেড গ্রাউন্ড আউটরাম রোেড জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → এসপ্ল্যানেড ক্রসিং এ.জে.সি. বোস রোড রোড → পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং স্ট্রিট ইসকন কলকাতা মন্দির। মৌলালি ক্রসিং ফিলিপ্স মোেড় আনন্দ পালিত সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ হাঙ্গারফোর্ড

রথযাত্রার বিশেষত্ব যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশেছে আধুনিক প্রযুক্তি ইসকন কলকাতার রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সার্থক সমন্বয়। তিনটি রথই ঐতিহ্যবাহী নকশা বজায় রেখে আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত, যাতে কলকাতার ব্যস্ত নগরপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করা যায়। শ্রীশ্রী

জগন্নাথদেবের রথ উচ্চতা: ৩৮ ফুট।কলকাতার সংকীর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সুবিধার্থে ভাঁজ করা যায় এমন ছাউনি (Foldable Canopy) সংযোজিত।গত বছর রথে সংযোজিত হয়েছে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী চাকা, যা ১৯৭৭ সাল থেকে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে স্থাপন করা হয়েছে। শ্রীশ্রী সুভদ্রা দেবীর রথ তিনটি রথের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট। ভাঁজ করা যায় এমন নকশা এবং মজবুত লোহার চাকার সমন্বয়ে নির্মিত।

শ্রীশ্রী বলরামজীর রথ

উচ্চতা: ৩৬ ফুট।চারটি প্রায় সাড়ে চার ফুট ব্যাসের শক্তিশালী লোহার চাকা রথটিকে অধিক স্থিতিশীল ও দৃঢ়তা প্রদান করে।রথের সামনে দক্ষ দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পীরা তৈরি করবেন মনোমুগ্ধকর রঙ্গোলী বা রাস্তার আলপনা, প্রাকৃতিক রঙের আবীর ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংকীর্তন শিল্পীরা, ডজন খানেক মৃদঙ্গ ও করতালের সঙ্গে, গর্জন তুলবেন কীর্তনের। শিশুদের ঝাঁকি, প্রসাদ বিতরণ বাস, আর লক্ষ লক্ষ ভক্তের আনন্দঘন উপস্থিতিতে কলকাতা রূপ নেবে এক বিশাল আধ্যাত্মিক মেলার।

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জগন্নাথ মহামেলা ১৭ জুলাই (শুক্রবার) থেকে ২৩ জুলাই

Related Posts

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস
  • July 2, 2026

কলকাতা ২ জুলাই ২০২৬ : আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে ভারত–চীন সংলাপের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে চীনের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম ২০২৬-এর সপ্তম অধিবেশন সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যেখানে বিশিষ্ট সমাজউদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রবক্তা ডা. চৈতালি দাস চীন–দক্ষিণ এশিয়া চিন্তক ফোরাম-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কলকাতাস্থ কনসাল জেনারেল মহামান্য সু ওয়েই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সেই সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, যারা আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইউনান প্রদেশের বৈদেশিক বিষয়ক দপ্তরের আমন্ত্রণে ডা. চৈতালি দাস বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের উদ্দেশে সুস্থতা, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পণ্য, আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, পরিবেশভিত্তিক পর্যটন, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ প্রশাসন, নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চীন–দক্ষিণ এশিয়া ক্যানসার চিকিৎসা বিনিময় কর্মসূচি গঠনের প্রস্তাব। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হাসপাতাল, গবেষক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ক্যানসার গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান বিনিময় এবং ক্যানসারজয়ীদের চিকিৎসা-পরবর্তী মানসিক পুনর্বাসনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা।

WhatsApp Image 2026 07 02 at 17.56.25

ডা. দাস তাঁর বক্তব্যে যোগব্যায়াম ও তাই চি-র মতো ঐতিহ্যবাহী সুস্থতা চর্চার মাধ্যমে ভারত ও চীনের অভিন্ন সভ্যতাগত ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন, টেকসই জীবিকা, গ্রামীণ উদ্ভাবন এবং নারী নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. চৈতালি দাস বলেন, “চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম প্রমাণ করেছে যে টেকসই উন্নয়নের সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং মানুষকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব। আমার বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলে এই অঞ্চলের জন্য আরও সুস্থ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।”

ফোরামের সমাপ্তিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এর মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Continue reading
চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।
  • July 2, 2026

1000620883

২ জুলাই ২০২৬ কলকাতা: আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে ভারত–চীন সংলাপের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করে চীনের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম ২০২৬-এর সপ্তম অধিবেশন সফলভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়, যেখানে বিশিষ্ট সমাজউদ্যোক্তা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রবক্তা ডা. চৈতালি দাস চীন–দক্ষিণ এশিয়া চিন্তক ফোরাম-এ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কলকাতাস্থ কনসাল জেনারেল মহামান্য সু ওয়েই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সেই সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের সদস্যরা, যারা আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন।

ইউনান প্রদেশের বৈদেশিক বিষয়ক দপ্তরের আমন্ত্রণে ডা. চৈতালি দাস বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের উদ্দেশে সুস্থতা, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব পণ্য, আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা, পরিবেশভিত্তিক পর্যটন, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, গ্রামীণ প্রশাসন, নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চীন–দক্ষিণ এশিয়া ক্যানসার চিকিৎসা বিনিময় কর্মসূচি গঠনের প্রস্তাব। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হাসপাতাল, গবেষক ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি ক্যানসার গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান বিনিময় এবং ক্যানসারজয়ীদের চিকিৎসা-পরবর্তী মানসিক পুনর্বাসনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা।

ডা. দাস তাঁর বক্তব্যে যোগব্যায়াম ও তাই চি-র মতো ঐতিহ্যবাহী সুস্থতা চর্চার মাধ্যমে ভারত ও চীনের অভিন্ন সভ্যতাগত ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন, টেকসই জীবিকা, গ্রামীণ উদ্ভাবন এবং নারী নেতৃত্বাধীন সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডা. চৈতালি দাস বলেন, “চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরাম প্রমাণ করেছে যে টেকসই উন্নয়নের সর্বোত্তম পথ হলো সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় এবং মানুষকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব। আমার বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সেতুবন্ধন গড়ে তুলে এই অঞ্চলের জন্য আরও সুস্থ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে।”

ফোরামের সমাপ্তিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততার ওপর নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এর মাধ্যমে ভারত ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতার সম্ভাবনা আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত NCRI Hospital-এ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রেডিওথেরাপি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত NCRI Hospital-এ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রেডিওথেরাপি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।