কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ – রুবি জেনারেল হাসপাতাল তার অস্ত্রোপচার পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটি তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৬টি নতুন মডুলার অপারেশন থিয়েটার (OT) সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি বিশেষভাবে নির্ধারিত ট্রান্সপ্লান্ট OT এবং ২টি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি OT। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালের পূর্ববর্তী ৫টি সুপার স্পেশালিটি OT-ও চালু থাকবে। ফলে জটিল ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করার হাসপাতালের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালটি দুটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছে— অর্থোপেডিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (TKR) রোবোটিক সার্জারি সিস্টেম এবং সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্বখ্যাত দা ভিঞ্চি রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম ।এই যুগান্তকারী পরিকাঠামো ও রোবোটিক সিস্টেমগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাঃ কমল কুমার দত্ত (চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর), ডাঃ সৌরভ দত্ত (ডিরেক্টর) এবং মিসেস রুবি দত্ত (ডিরেক্টর)।
• ৬টি নতুন মডুলার OT : সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যামিনার এয়ারফ্লো সিস্টেম-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত। • ২টি বিশেষায়িত ট্রান্সপ্লান্ট OT : জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত। • ২টি রোবোটিক সার্জারি OT : উন্নত রোবোটিক আর্ম ও কনসোল ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি। • ৫টি বিদ্যমান OT : নতুন ইউনিটগুলির পাশাপাশি এগুলিও চালু থাকবে। ফলে হাসপাতালের মোট অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত সার্জিক্যাল স্যুটের সংখ্যা দাঁড়াল ১১টি।
• দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেম : ন্যূনতম ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচার করতে সাহায্য করে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।• অর্থোপেডিক টি কে আর রোবোটিক সিস্টেম : টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সাব-মিলিমিটার পর্যায়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এর ফলে ইমপ্ল্যান্টের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং কৃত্রিম জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়িত্ব আরও উন্নত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসপাতালের CMD ডাঃ কমল কুমার দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্তরে তার সহজলভ্যতার মধ্যে থাকা ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত জানান, অপারেশন থিয়েটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয় রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে থাকার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ডিরেক্টর মিসেস রুবি দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ রুবি জেনারেল হাসপাতালের তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত স্বাস্থ্য পরিষেবায় উদ্ভাবন এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রতি প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।
প্রেস মিটে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুপরিচিত নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ প্রতীক দাস এবং খ্যাতনামা ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাঃ টি. কে. সাহা । উভয় চিকিৎসকই এই অঞ্চলে আধুনিক ও উন্নত ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং জানান যে রুবি জেনারেল হাসপাতালের নতুন পরিকাঠামো এই প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করছে।.বিশিষ্ট রোবোটিক সার্জনদের মধ্যে ডাঃ দেবার্চন ঘোষ (জেনারেল ও রোবোটিক সার্জন) এবং ডাঃ দীপাঞ্জন ভদ্র (অর্থোপেডিক্স ও রোবোটিক সার্জন)-ও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের সমন্বিত রোবোটিক সার্জারি দক্ষতা তুলে ধরা হয়।
হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অনকোলজি পরিষেবার কথা তুলে ধরে ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় , এমেরিটাস সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ডিরেক্টর, রুবি ক্যান্সার সেন্টার বলেন: “দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে রুবি ক্যান্সার সেন্টার আঞ্চলিক স্তরে প্রথম স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্র্যান্ড হিসেবে এই বিশ্বমানের রোবোটিক সিস্টেম নিয়ে এসেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মেডিক্যাল, সার্জিক্যাল, রেডিয়েশন, হেমাটো-অনকোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে Digital PET CT, অনকো-প্যাথলজি, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদ এবং প্রতিটি বিভাগে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সমস্ত ধরনের পরিষেবা রয়েছে।”নবনির্মিত মডুলার OT-গুলি শীঘ্রই চালু হবে এবং রোবোটিক সিস্টেমগুলি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর ও রোগী পরিষেবার জন্য উন্মুক্ত।পূর্ব ভারতে রোবোটিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা এবং অত্যাধুনিক ৬টি OT সংযোজন-সহ আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টার কথা আপনাদের সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আশাবাদী।
কলকাতা, সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষকাল ২০২৬ (National Eye Donation Fortnight)-এর অঙ্গ হিসেবে, দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক ‘ড্র ফর সাইট’ নামে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। স্কুল পড়ুয়াদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং চক্ষুদান ও দৃষ্টিশক্তি প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সংবেদনশীল করে তোলাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত দিশা আই হসপিটালস-এর প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই উদ্যোগটি খুদে অংশগ্রহণকারীদের চক্ষুদান, দৃষ্টিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মাধ্যমে জীবনে যে পরিবর্তন আসে—তা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি সৃজনশীল মঞ্চ করে দেয়। শিল্পকলা ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি চক্ষুদান নিয়ে অর্থবহ আলোচনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালিয়েছে। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ ছিল: প্রথম বিভাগে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং দ্বিতীয় বিভাগে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরে এবং চক্ষুদান বিষয়ক বিষয়বস্তুকে (থিম) ফুটিয়ে তোলে।
দিশা আই হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “কাউকে দৃষ্টিশক্তি উপহার দেওয়া এবং পৃথিবীকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার অন্যতম অর্থবহ উপায় হলো চক্ষুদান। ‘ড্র ফর সাইট’-এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি এবং অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনে চক্ষুদান কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতে তাদের উৎসাহিত করতে চেয়েছি। এমন একটি অর্থবহ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পকলা এক শক্তিশালী ও ভাবপ্রকাশক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে চক্ষুদান বিষয়ক সচেতনতা প্রসারে এগিয়ে এসেছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় কলকাতার মোট ১৭টি স্কুলের ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে। দ্য নিউ টাউন স্কুল, লাইটিং লাইভস স্কুল, আইইএম (IEM) পাবলিক স্কুল, জি.ডি. গোয়েঙ্কা পাবলিক স্কুল, নারায়ণা স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (মেগাসিটি), হারমনি হাই স্কুল এবং লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস-সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও রঙিন চিত্রকর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে অংশ নেয়। ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি সৃজনশীলতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মতো জীবন-পরিবর্তনকারী উপহারের গুরুত্ব অনুধাবনে তরুণ প্রতিযোগীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
কলকাতা,৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ভারত। সুদেষ্ণা বিকন অফ হোপ (এসবিওএইচ) আগামী শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত কলকাতার মহানায়ক উত্তম মঞ্চে ‘এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬ মেলোডিস অফ হোপ’ উপস্থাপন করবে। এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত মোট আয় ঠাকুরপুকুরের সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (এসজিসিসিঅ্যান্ডআরআই) অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করবে।
২০১৬ সালে SBOH-এর যাত্রা শুরুর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ১১তম বার্ষিক কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলকাতা এবং ওয়াশিংটন, ডি.সি. এলাকায় কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে SBOH একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে শিল্পী, দর্শক এবং সমর্থকদের একত্রিত করেছে। গত এক দশকে, এটি SGCC&RI-কে ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সার গবেষণাকেও সহায়তা করেছে, যার মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (IARC)-এর সহযোগিতায় SGCC&RI দ্বারা পরিচালিত একটি শিশু ক্যান্সার গবেষণাও অন্তর্ভুক্ত।
২০১৩ সালে ক্যান্সারে মারা যাওয়া সুদেশনার স্মরণে এসবিওএইচ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসাবে শুরু হয়েছিল, তা এখন শিশুদের চিকিৎসা পেতে সাহায্য করা এবং রোগী ও তাদের পরিবারকে এই আশ্বাস দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে যে তারা একা নন। সুদেশনার স্বামী এবং এসবিওএইচ-এর প্রতিষ্ঠাতা সুভাসিষ ঘোষ বলেন, “সুদেশনা বিকন অফ হোপ-এর জন্ম হয়েছিল একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি আশার এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সঙ্গীতের মাধ্যমে আমরা চাই, ক্যান্সারের মুখোমুখি প্রতিটি শিশু ও পরিবার যেন তাদের পাশে থাকা একটি সম্প্রদায়ের শক্তি অনুভব করতে পারে। প্রতিটি অবদান এবং পরিবেশিত প্রতিটি সুর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হয়ে ওঠে।”
এই কনসার্টে দুই কিংবদন্তী সুরকার এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের সঙ্গীতকে উদযাপন করা হবে, যাঁদের কাজ আজও ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতকে প্রভাবিত করে চলেছে। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন যোজো মুখার্জি, মনময় ভট্টাচার্য, হৃচা দেবরাজ, স্বর্ণালী বসু এবং দেবমাল্য চট্টোপাধ্যায়। জ্যাজ কণ্ঠশিল্পী সুচেতা সান্যাল তরুণ শিল্পী রোহিণী ভোস দেসাই, শ্লোকা সুব্রহ্মণিয়াম এবং সুদেষ্ণা ও সুবশিষ ঘোষের পুত্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গায়ক-গীতিকার ও গিটারিস্ট শোহান ঘোষের সাথে আইকনিক পাশ্চাত্য ক্লাসিক পরিবেশন করবেন। পুরস্কার বিজয়ী সঙ্গীতশিল্পীদের একটি দল গায়কদের সঙ্গ দেবে।
এই সন্ধ্যায় আরও উপস্থিত থাকবেন অঞ্জলি রায়, যিনি ক্যান্সার থেকে সেরে উঠেছেন এবং ১৪ বছর বয়সে এই রোগে একটি পা হারানোর পরেও নাচের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে অনুসরণ করে গেছেন। জনপ্রিয় সকালের অনুষ্ঠান ‘গুড মর্নিং আকাশ’-এর সঞ্চালিকা ও টেলিভিশন অ্যাঙ্কর মৌনিতা মুখার্জি চট্টোপাধ্যায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন। এসজিসিসিঅ্যান্ডআরআই একটি জনহিতকর ক্যান্সার হাসপাতাল, যা রোগীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর শিশু-কেন্দ্রিক সুবিধাগুলো, যার মধ্যে খেলার জায়গা এবং একটি খেলনা ট্রেন রয়েছে, চিকিৎসার সময় ছোট রোগীদের আনন্দ ও মানসিক সমর্থনের মুহূর্ত প্রদান
কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:প্রখ্যাত স্ট্রাকচারাল হাট বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালে, দেশে এই প্রথম সফল হল হার্ট ভালভের চিকিৎসার এক নতুন ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিওর ট্রান্সক্যাথেটার ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TTVR)|স্ট্রাকচারাল হার্ট ইন্টারভেনশনের ক্ষেত্রে এই অপারেশনের মাধ্যমে কলকাতা নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের অধিকারী হল। ভারতে এই প্রথম প্রখ্যাত স্ট্রাকচারাল হাট বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরপর দুটি জটিল ট্রান্সক্যাথেটার ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TTVR) সফল হয়েছে।যে সব রোগী গুরুতর ট্রাইকাসপিড ভালভ রিগারজিটেশনে (হৃদযন্ত্রের ডানদিকের ভালভের লিকেজ) ভুগছেন এবং যাদের জন্য প্রচলিত ওপেন হার্ট সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের জন্য TTVR এক জীবনদায়ী, নন-সার্জিক্যাল বিকল্প পদ্ধতি।
ট্রাইকাসপিড ভালভ ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যে রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই ভালভ ঠিকমতো বন্ধ হয় না, তখন রক্ত পিছনের দিকে লিক করে যায় (ট্রাইকাসপিড রিগারজিটেশন বা TR), যার ফলে শরীরে জল জমা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেলিওরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। আগে, ট্রাইকাসপিড ভালভকে “বিস্মৃত ভালভ” (forgotten valve) বলা হত, কারণ বয়স্ক বা দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভালভের সার্জারিতে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি।TTVR হল একটি অত্যাধুনিক, ন্যূনতম ইনভেসিভ কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন। একটি বায়োপ্রস্থেটিক ভালভকে সংকুচিত করে একটি সরু ক্যাথেটারের মাধ্যমে ফিমোরাল/জুগুলার ভেইনে একটি ছোট ছিদ্র করে হৃদযন্ত্রে প্রবেশ করানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত নেটিভ ভালভের মধ্যে সঠিকভাবে স্থাপন করার পর নতুন ভালভটিকে প্রসারিত করা হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহকে চালু করে।
ওপেন হার্ট সার্জারি নয়: বুক কাটা (স্টারনোটমি) বা হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের প্রয়োজন হয় না।
দ্রুত আরোগ্য: রোগীরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাঁটতে পারেন এবং সাধারণত ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান, যেখানে ওপেন হার্ট সার্জারিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগে যায়।
তাৎক্ষণিক আরাম: ফোলা, শ্বাসকষ্ট এবং হার্ট ফেলিওরের উপসর্গগুলি দ্রুত কমে যায়
ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং অ্যাপোলো কলকাতার নিবেদিতপ্রাণ স্ট্রাকচারাল হাট টিমের তত্ত্বাবধানে দুইজন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর এই পদ্ধতির কার্যকারিতার সাফল্য প্রমাণিত হয়।উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর প্রোফাইল: দুটি ক্ষেত্রেই বয়স্ক ও দুর্বল এই দুইজন রোগীই গুরুতর ট্রাইকাসপিড রিগারজিটেশনে ভুগছিলেন এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে প্রচলিত ওপেন হার্ট সার্জারি তাদের জন্য নিরাপদ ছিল না।ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এঁদের দুইজনের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে LuX-Valve Plus সিস্টেম (Jenscare Scientific Co., Ltd, China) সফলভাবে স্থাপন করা হয়।তাৎক্ষণিক ক্লিনিকাল উন্নতি: প্রক্রিয়ার পর মূল্যায়নে দেখা যায় ভালভের কার্যকারিতা সর্বোত্তম হয়েছে, ব্যাকফ্লো (রিগারজিটেশন) সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়েছে ও কোনো জটিলতা ছাড়াই রোগীরা উল্লেখযোগ্য উপসর্গ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতায় কর্মরত ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় (MBBS, MD, DM, MRCP London) ভারতের একজন অগ্রণী স্ট্রাকচারাল হাট ইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ। তিনি লন্ডনের বিখ্যাত সেন্ট বার্থোলোমিউ হাসপাতাল এবং রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং স্ট্রাকচারাল হাটে অ্যাডভান্সড ফেলোশিপ সম্পূর্ন করেছেন। তিনি ২,০০০-এরও বেশি TAVI/TAVR প্রসিডিওর করেছেন এবং TMVR, TEER (MitraClip/TriClip/Pascal) এবং TTVR-এ তার বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডা. মুখোপাধ্যায় একজন স্বীকৃত প্রক্টর এবং ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসাবে নিয়মিত ভারতজুড়ে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেন।
“ট্রাইকাসপিড ভালভ রিগারজিটেশন দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থা ছিল। TTVR-এর মাধ্যমে, আমরা স্ট্রাকচারাল হার্ট ইন্টারভেনশনে যা সম্ভব তার সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছি। ফিমোরাল/জুগুলার ভেইন দিয়ে একটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে একেবারে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করে আমরা রোগীদের ন্যূনতম কষ্ট এবং কম হাসপাতালে থাকার মধ্যে তাদের জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে দিতে পারছি।” জানালেন ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়।
জন সাধারণকে এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্মন্ধে অবহিত করতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে ব্যখ্যা করেন।
কলকাতা, ১০ আগস্ট ২০২৬: স্নায়ু ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে আয়োজিত ‘নিউরোসায়েন্সেস কনক্লেভ’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস’। এই অনুষ্ঠানে নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, নিউরোইন্টারভেনশন, স্পাইন সার্জারি এবং নিউরোসায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আধুনিক স্নায়ু চিকিৎসার বিভিন্ন দিক এবং রোগীর চিকিৎসায় একাধিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।বিশ্বজুড়ে স্নায়ুর বিভিন্ন রোগের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৫ সালের গ্লোবাল স্টেটাস রিপোর্ট অন নিউরোলজি অনুযায়ী, স্নায়ুর রোগ বর্তমানে বিশ্বে অসুস্থতা ও শারীরিক অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ এবং বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনেরও বেশি মানুষ কোনও না কোনওভাবে এর দ্বারা আক্রান্ত। ভারতে স্ট্রোক এখনও একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১সালে ভারতে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে ৫৩.৫ জনের মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়েছে। স্ট্রোক, এপিলেপসি, মস্তিষ্কের রক্তনালির সমস্যা এবং জটিল নিউরোসার্জারির মতো ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। তাই নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, নিউরোইন্টারভেনশন এবং রিহ্যাবিলিটেশন—এই সমস্ত পরিষেবা এক জায়গায় পাওয়া যায় এমন সমন্বিত চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে।এই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস-এ একাধিক বিশেষজ্ঞ বিভাগকে একসঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউরোলজি, ফাংশনাল নিউরোসার্জারি, নিউরোসার্জারি, নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি, স্পাইন সার্জারি, নিউরো রিহ্যাবিলিটেশন, নিউরো ফিজিওথেরাপি, নিউরো সাইকোলজি এবং নিউরো অ্যানাস্থেশিয়া। এর ফলে জটিল স্নায়ুর রোগের ক্ষেত্রে রোগীরা রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং পুনর্বাসন—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পরিষেবা পাবেন।
জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট কলকাতায় একটি ফ্রি ইমার্জেন্সি পিকআপ সার্ভিস -এরও ঘোষণা করেছে। অংশগ্রহণকারী মণিপাল হাসপাতালগুলির প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা যোগ্য জরুরি রোগীরা এই পরিষেবা পাবেন। MARS কমান্ড সেন্টার এবং টিম MARS-এর মূল্যায়নে কোনও রোগীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, অ্যাম্বুল্যান্সের প্রাপ্যতা এবং পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে নিকটবর্তী মণিপাল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট -এ বিনামূল্যে নিয়ে যাওয়া হবে। স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, পথ দুর্ঘটনা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অচেতন হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য আকস্মিক জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিষেবার মাধ্যমে জরুরি সময়ে পরিবহণের অভাবে যাতে কোনও রোগীর চিকিৎসা পেতে দেরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিষেবার সঙ্গে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার প্রযুক্তিনির্ভর কমান্ড সেন্টার, GPS-যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স, অ্যাম্বুল্যান্সের নিয়মিত ট্র্যাকিং, হোয়াটসঅ্যাপ -এর মাধ্যমে QR কোড ব্যবহার করে লোকেশন শেয়ার করার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত জরুরি পরিষেবা কর্মী এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম-সমৃদ্ধ অ্যাম্বুল্যান্স। এর ফলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সঙ্গে আগে থেকেই সমন্বয় করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের ডিরেক্টর ও হেড – নিউরোলজি, ডা. জয়ন্ত রায় বলেন, “স্নায়ুর রোগের পরিধি অনেক বড়। স্ট্রোক ও এপিলেপসি থেকে শুরু করে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ এবং অন্যান্য জটিল স্নায়ুর সমস্যার ক্ষেত্রে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা এবং সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্ট্রোক এমন একটি জরুরি অবস্থা যেখানে সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত সঠিক চিকিৎসা রোগীর ভবিষ্যৎ ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস-এর মাধ্যমে আমরা আধুনিক রোগ নির্ণয়, প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে নিয়ে এসে সম্পূর্ণ স্নায়ু চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্নায়ুর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা আমাদের লক্ষ্য।”মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – স্পাইন সার্জারি, ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, “আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতির ফলে স্পাইন সার্জারিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কম ক্ষত তৈরি করে, কম রক্তক্ষরণ এবং কম ব্যথার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এর ফলে সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ও কমতে পারে। মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা দক্ষতার মাধ্যমে রোগীকেন্দ্রিক স্পাইন চিকিৎসা দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিই। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস-এর মাধ্যমে জটিল স্পাইন সমস্যার রোগীরা রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচার এবং রিহ্যাবিলিটেশন—প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত চিকিৎসা পাবেন।”
উন্নত নিউরোইন্টারভেনশন-এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের ডিরেক্টর – নিউরোইন্টারভেনশন অ্যান্ড এন্ডোভাসকুলার সার্জারি, ইমেজিং সায়েন্সেস অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি, ডা. সুকল্যাণ পুরকায়স্থ বলেন, “নিউরোইন্টারভেনশনের উন্নতির ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালির বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। খুব ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে রক্তনালির ভিতর দিয়ে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদেরহাসপাতালে থাকা বাইপ্লেন ক্যাথ ল্যাব এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে উচ্চমানের লাইভ ছবি পাওয়া যায়, ফলে জটিল নিউরোইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা আরও নির্ভুলভাবে করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে স্ট্রোক, মস্তিষ্কের রক্তনালির অ্যানিউরিজম, রক্তনালির অস্বাভাবিক গঠন এবং অন্যান্য নিউরোভাসকুলার সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসার জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোসার্জারি, ডা. মিলিন্দ দেওগাঁওকর বলেন, “মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন (DBS)-এর মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আমাদের হাসপাতালে ডিপ ব্রেন স্টিমুলেশন ক্লিনিক -এর মাধ্যমে এমন রোগীদের মূল্যায়ন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়, যাঁরা এই উন্নত চিকিৎসা থেকে উপকৃত হতে পারেন। বিশেষ করে পারকিনসন্স ডিজিজ এবং অন্যান্য মুভমেন্ট ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। DBS-এর জন্য রোগী নির্বাচন, বিস্তারিত নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি পরীক্ষা, সঠিক অস্ত্রোপচার পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপ প্রয়োজন। একটি বিশেষায়িত ক্লিনিকের মাধ্যমে আমরা রোগীদের পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
এর সঙ্গে যোগ করে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের ক্লিনিক্যাল লিড ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোসার্জারি, ডা. দীপেন্দ্র কুমার প্রধান বলেন, “আধুনিক নিউরোসার্জারি শুধু অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নত ইমেজিং, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত সিদ্ধান্ত এখন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মস্তিষ্ক ও স্পাইনের জটিল রোগ থেকে শুরু করে দুর্ঘটনাজনিত আঘাত এবং অন্যান্য নিউরোসার্জিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমাদের নিউরোসার্জারি টিম নিউরোলজিস্ট, নিউরোইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ, রেডিওলজিস্ট, অ্যানাস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস এই সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জটিল রোগীদের জন্য বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় নিয়ে আসবে।”
অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর, ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস-এর উদ্বোধন পূর্ব ভারতে উন্নত, সম্পূর্ণ এবং সমন্বিত স্নায়ু চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করে। মণিপাল হাসপাতালে আমরা মনে করি, স্নায়ুর জরুরি সমস্যা, বিশেষ করে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি মিনিট রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি স্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে। তাই দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, জরুরি পরিষেবা দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার কাছে রোগীকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। আমাদের সব হাসপাতালই স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত এবং সেখানে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে। মণিপাল অ্যাডভান্সড রোডসাইড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস (MARS) এবং নতুন ফ্রি ইমার্জেন্সি পিকআপ সার্ভিস -এর মাধ্যমে আমরা জরুরি চিকিৎসার পুরো ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছি। আমাদের লক্ষ্য হল রোগী যেন সঠিক সময়ে সঠিক বিশেষজ্ঞের কাছে পৌঁছতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, যাতে তাঁর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।”
সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর নিউরোসায়েন্সেস-এর উদ্বোধন এবং ফ্রি ইমার্জেন্সি পিকআপ সার্ভিস চালু করা মণিপাল হসপিটালস ইস্ট-এর সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা তৈরির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। দ্রুত জরুরি পরিষেবা এবং উন্নত রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে বিশেষায়িত চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, রিহ্যাবিলিটেশন এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন—চিকিৎসার প্রতিটি ধাপকে আরও ভালোভাবে একসঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।এই দুই উদ্যোগের মাধ্যমে কলকাতায় জরুরি চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি জরুরি সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পরিবহণের সমস্যা যাতে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে মণিপাল হাসপাতালস ইস্ট। একই সঙ্গে রোগীকেন্দ্রিক, সহানুভূতিশীল এবং আরও দ্রুত ও কার্যকর জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আরও শক্তিশালী হল।
কলকাতা, ২৫ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হাজার হাজার মানুষকে আজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, রোগীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা এক ছাদের নিচে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি-র উদ্যোগে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া আয়োজন করেছিল ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’। রোগী-কেন্দ্রিক এই অনন্য আয়োজনে ৫০ জনেরও বেশি ডায়ালাইসিস রোগী, ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা একত্রিত হয়েছিলেন; যা শেখা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সামিটটি সঞ্চালনা করেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিভাগের উপদেষ্টা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অর্ঘ্য মজুমদার এবং একই বিভাগের ডিরেক্টর ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা. উপল সেনগুপ্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. বাস্তব ঘোষ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘কিডনি স্বাস্থ্য’ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিকিৎসকরা কিডনি রোগ সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলোকে এই সেশনে মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
রোগীরা যাতে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও নির্দেশনা পান, তা নিশ্চিত করতে ডায়েটেটিক্স, ফিজিওথেরাপি, সাইকোলজি, ডায়ালাইসিস পরিষেবা এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ ‘ইন্টারঅ্যাকশন কিওস্ক’ বা পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সামগ্রিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, যেখানে রোগীরা তাঁদের চিকিৎসার যাত্রাপথে অদম্য মনোবল, আশা ও সংকল্পের অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি তুলে ধরেন। সাহস ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, পরস শর্মা, প্রজেশ কুমার ঘোষ, মালয়া তালপাত্র, সার্থক দাস এবং ডা. কাবেরী চৌধুরীকে উপস্থিত চিকিৎসকদের দ্বারা সংবর্ধিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. অর্ঘ্য মজুমদার বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। রোগীরা যখন কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ) পৌঁছান, তখন তাঁদের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ ও তাঁরা কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন। ডায়ালাইসিস বা রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জীবন-পরিবর্তনকারী একটি প্রক্রিয়া যা রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত করে এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে রোগীরা সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, দ্বিধাহীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং চিকিৎসক ও একে অপরের কাছ থেকে নানা বিষয় জানতে পারেন। এর পাশাপাশি তাঁরা যেন বুঝতে পারেন যে, সময়মতো ও নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে তাঁরা একটি পরিপূর্ণ ও অর্থবহ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন।” ডা. উপল সেনগুপ্ত বলেন, “ভারতে প্রতি বছর ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ কিডনি ডিজিজ) আক্রান্ত হচ্ছেন; তাই সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, আজীবন ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার সুযোগ দেয়। তবে, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়শই সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা রোগীদের শিক্ষিত করা, ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং প্রতিস্থাপন বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি; পাশাপাশি আমরা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত কিডনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দিচ্ছি।” সম্মেলন চলাকালীন নিজের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার কথা তুলে ধরার সময় ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৫২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী এবং কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা শ্রী অরূপ কুমার দাস বলেন, “২০০৭ সালে যখন আমার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে, তখন আমার জীবন রাতারাতি বদলে যায়। আমি ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেছে এবং আমি আর কাজ করতে পারব না। এরপর আমার ডায়ালিসিস শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে ডায়ালিসিস চলার পর, ২০০৮ সালের জুন মাসে আমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ১৮ বছর ধরে আমি একটি সুস্থ ও কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করছি; আমি এখনও পুরোদমে কাজ করছি, চাকরির প্রয়োজনে প্রচুর ভ্রমণ করছি এবং পরিবারের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। কয়েক বছর আগে আমি এক সন্তানের গর্বিত পিতা হয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জেনেছি যে, চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চললে এবং প্রিয়জনদের সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেলে, কিডনি প্রতিস্থাপন সত্যিই পরিপূর্ণ জীবনযাপনের দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিতে পারে। আমার এই যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য এবং আমাকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগটি দেওয়ার জন্য আমি ডা. অর্ঘ্য মজুমদার-এর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
কলকাতার NCRI Hospital (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতাল) ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আগত রোগীদের অন্যতম প্রধান সমস্যার সমাধানে একটি রোগীকেন্দ্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা একজন পরিচর্যাকারীর জন্য সম্পূর্ণ রেডিয়েশন চিকিৎসাকালীন বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করছে।
আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয় তা নিরাময়মূলক (Curative), অ্যাডজুভ্যান্ট (Adjuvant), নিওঅ্যাডজুভ্যান্ট (Neoadjuvant) অথবা উপশমমূলক (Palliative) চিকিৎসার অংশ হিসেবেই হোক না কেন। রোগের ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নির্ভর করে রেডিওথেরাপির মেয়াদ এক সপ্তাহ থেকে সাত সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে আধুনিক রেডিয়েশন থেরাপির যন্ত্র (LINAC) বর্তমানে শুধুমাত্র কলকাতা, মালদহ ও বর্ধমানের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতে রয়েছে। অন্যান্য জেলায় এই সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ ক্যান্সার রোগীকেই রেডিওথেরাপির জন্য কলকাতায় আসতে হয়।
দূরবর্তী জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত রোগীদের জন্য কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করা একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাকালীন থাকার জন্য বহু পরিবারকে ₹২০,০০০-২২৫,০০০ বা তারও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক রোগী চিকিৎসা গ্রহণ থেকেই বিরত থাকেন অথবা চিকিৎসা চলাকালীন রেডিওথেরাপি মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
এই বাস্তব সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করে NCRI Hospital রেডিওথেরাপি রোগী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা একজন পরিচর্যাকারীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করেছে, যাতে আর্থিক অসুবিধা বা অস্থায়ী বাসস্থানের অভাব কোনোভাবেই সময়মতো ও নিরবচ্ছিন্ন ক্যান্সার চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
NCRI Hospital একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র, যেখানে একই ছাদের নিচে বহুমাত্রিক অনকোলজি পরিষেবা প্রদান করা হয়। হাসপাতালে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং অত্যাধুনিক রেডিয়েশন অনকোলজি-সহ আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সম্পূর্ণ পরিষেবা উপলব্ধ। রেডিওথেরাপি পরিষেবার মধ্যে রয়েছে থ্রি-ডাইমেনশনাল কনফর্মাল রেডিওথেরাপি (3D-CRT), ইনটেনসিটি-মডুলেটেড রেডিওথেরাপি (IMRT), ইমেজ-গাইডেড রেডিওথেরাপি (IGRT) এবং সারফেস-গাইডেড রেডিওথেরাপি (SGRT)। এছাড়াও বিশেষত স্ত্রীরোগজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্র্যাকিথেরাপির সুবিধাও উপলব্ধ রয়েছে।
এই বিনামূল্যে হসপিটালের কাছে থাকার ব্যবস্থার উদ্যোগের মাধ্যমে NCRI Hospital পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রোগীদের জন্য আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানবিক ক্যান্সার চিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে-রেডিওথেরাপি চলাকালীন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা প্রদান করা হবে।চিকিৎসার সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।রোগীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে একটানা তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করতে পারবেন। মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়েদিতে বাধ্য হবেন না
কলকাতা, ১৯ জুন: স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন আর শুধু ভয়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সময়মতো রোগ নির্ণয়ই এর মূল চালিকাশক্তি। জিনগত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা রোগীর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারে, আজ এখানে একটি সচেতনতামূলক অধিবেশনে চিকিৎসকরা একথা বলেন।কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। “আজকাল স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যক্তিগত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় আমাদের আরোগ্যের সেরা সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, আধুনিক চিকিৎসা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের গঠন, কার্যকারিতা এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে,” তিনি ‘মিসেস ইন্ডিয়া কুইন অফ সাবস্ট্যান্স’ এবং ‘ওম্যান অফ দ্য ইউনিভার্স ২০২৫’-এর রানার-আপ দেবজানি গুহের সঙ্গে এক খোলামেলা আলাপচারিতার সময় একথা বলেন।
আইএআরসি-গ্লোবোক্যান ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ১,৯২,০২০টি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা নারীদের মধ্যে মোট ক্যান্সারের ২৬.৬ শতাংশ। যদিও এই রোগটি সাধারণত মধ্যবয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এটি কম বয়সী নারীদের পাশাপাশি বেশি বয়সী নারীদেরও আক্রান্ত করতে পারে। তাঁরা বলেছেন, শুধুমাত্র বয়সের কারণে স্তনের কোনো পরিবর্তনকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।আধুনিক স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। টিউমারের পর্যায় এবং জৈবিক প্রকৃতির উপর নির্ভর করে, রোগীরা এখন স্তন-সংরক্ষণকারী সার্জারি, অনকোপ্লাস্টিক পুনর্গঠন, রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, HER2-টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা ‘নতুন টার্গেটেড মেডিসিন’ গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসার সিদ্ধান্তগুলো এখন শুধু টিউমারের অবস্থানের উপরই নয়, বরং এটি কী ধরনের টিউমার, তার উপরও ক্রমশ বেশি নির্ভর করছে।যাদের বংশগত রোগের জোরালো ইতিহাস, অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সার, উভয় স্তনে ক্যান্সার, পরিবারে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ইতিহাস অথবা নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টিউমারের ধরণ রয়েছে, সেইসব নারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেনেটিক ঝুঁকি মূল্যায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। BRCA1 এবং BRCA2-এর মতো মিউটেশনের পরীক্ষা সেইসব নারী ও পরিবারকে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, প্রতিরোধমূলক কৌশল অথবা বংশগত ঝুঁকির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।
ডঃ গুপ্তা, যিনি সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে রেড কার্পেটে হেঁটেছেন, বলেছেন যে এই বার্তাটি ক্লিনিকের বাইরেও পৌঁছানো দরকার: সচেতনতা জীবন বাঁচায়, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় জরুরি, এবং কোনো নারীরই নীরবে কষ্ট ভোগ করা উচিত নয়।আন্তর্জাতিক তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে স্থানীয় স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশেরও বেশি রোগী বেঁচে যান। তাই সচেতনতা, স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসাকে একটি সম্মিলিত জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন এইচসিজি ক্যান্সার হসপিটালস-এর পূর্ব ও অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলের রিজিওনাল বিজনেস হেড ডা. রুপালি বসু।
কলকাতা, ১৬ জুন ২০২৬: সিকে বিড়লা হসপিটালস – বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল, কলকাতা, রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালু করার মাধ্যমে উন্নত ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাসপাতালের নেতৃত্ব, কার্ডিয়াক সার্জারি দল এবং সম্প্রতি এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগীদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত দশকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির বিপরীতে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে সার্জন-নিয়ন্ত্রিত রোবটিক যন্ত্র এবং হাই-ডেফিনিশন ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করা হয়। রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বুকে বড় ছিদ্র এড়িয়ে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি অস্ত্রোপচারের আঘাত কমাতে, রক্তক্ষরণ কমাতে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কমাতে, ক্ষত-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় রোগীরা প্রায়শই হাসপাতালে কম সময় থাকেন এবং দ্রুত তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সার্জনদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রযুক্তি উন্নত নির্ভুলতা এবং দক্ষতা প্রদান করে, যা তাদের সীমিত স্থানেও ব্যতিক্রমী নির্ভুলতার সাথে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম করে।
বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সৌম্য গুহ, যিনি রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জিক্যাল পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন, তিনি বলেন, “রোবোটিক সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগতভাবে যা অর্জনযোগ্য, তার পরিবর্তন এনে দেয়, বিশেষ করে সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরস্থান জটিল এবং উপলব্ধ স্থান সীমিত। এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কেসগুলোতে, ফলাফলগুলো এই প্রযুক্তি যা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোগীর আরোগ্য লাভের অভিজ্ঞতা প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।”বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডঃ মনোজ দাগা বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেশি, এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রোগীদের উন্নত সার্জিক্যাল পরিকাঠামো প্রয়োজন এমন চিকিৎসার জন্য অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। আমাদের কার্যক্রমে রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সেই মানের চিকিৎসা এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রম গড়ে তোলা, যা সবচেয়ে জটিল কেসগুলোও সামলাতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে নির্ভুলতা, আরোগ্যলাভ ও রোগীর সার্বিক ফলাফল উন্নত করবে, এবং এটি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
সিকে বিড়লা হসপিটালস- বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (কলকাতা) এবং জয়পুরের আঞ্চলিক প্রধান শ্রী সুপ্রতিক দে সরকার বলেন, “বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন এমন সব কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার সুনাম তৈরি করেছে, এবং রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির সংযোজন সেই অবস্থানকে আরও অর্থবহভাবে শক্তিশালী করেছে। পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল যা উন্নত হৃদরোগের সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারে, যাতে রোগীদের এই অঞ্চলের বাইরে যেতে না হয়। এই প্রোগ্রামে আমরা যে বিনিয়োগ করেছি তা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আমরা এই অঞ্চলের রেফারকারী ডাক্তার, রোগী এবং পরিবারবর্গকে জানাতে চাই।” যখন কোনো হৃদরোগের কেস জটিল হয়, তখন তাকে এখানেই আনা যেতে পারে। আমরা এই মান অর্জনের জন্যই কাজ করছি, এবং রোবোটিক সার্জারি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি অংশ।
রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল জটিল কার্ডিয়াক পদ্ধতির জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যা পূর্ব ভারতের রোগীদের বাড়ির কাছাকাছিই বিশ্বমানের সার্জিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।
কলকাতা, ভারত; 12 জুন,2026 : অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতা আজ ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’ (হাঁটুর আংশিক পুনর্গঠন শল্যচিকিৎসা)-র আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেছে। শীর্ষস্থানীয় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিস্তারিত মেডিকেল ব্রিফিংয়ে এই উন্নত ও রোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতির কথা জানানো হয়। এই পদ্ধতিটি মূলত হাঁটুর সুস্থ অংশকে অক্ষত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং প্রথাগত ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (হাঁটু সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন)-এর একটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতার সিনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রঞ্জন কামিল্যা এবং কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সৌমেন কর এই ব্রিফিংয়ের নেতৃত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা প্রদর্শন করেন যে, কীভাবে অত্যাধুনিক ‘প্রিসিশন টেকনোলজি’ বা নির্ভুল প্রযুক্তির সাহায্যে শল্যচিকিৎসকরা হাঁটুর শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশটিকেই চিহ্নিত করে প্রতিস্থাপন করতে পারেন, যার ফলে সুস্থ হাড়, আশেপাশের কলা (টিস্যু) এবং প্রাকৃতিক লিগামেন্টগুলি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে।
পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন—বিশেষ করে ‘ইউনিকম্পার্টমেন্টাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (UKR)—এর ক্লিনিক্যাল বা চিকিৎসাগত সুবিধাগুলি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বব্যাপী তথ্যের দ্বারা সমর্থিত। সম্মেলনের সময় মেডিকেল টিম ‘অক্সফোর্ড ফেজ ৩ UKR স্টাডিজ’-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পদ্ধতির স্থায়িত্ব অসাধারণ—১০ বছর পর ইমপ্ল্যান্টের কার্যকারিতা বা টিকে থাকার হার ৯৩% এবং ১৫ বছর পর এই হার ৮৯%। এছাড়া, এই পদ্ধতিতে রোগীর নিরাপত্তা বেশি থাকে; প্রথাগত ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (TKR)-এর তুলনায় UKR-এর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি ৫০% কম। দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণে জয়েন্ট বা গাঁটের উন্নত কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে ‘অক্সফোর্ড নি স্কোর’ (OKS) অস্ত্রোপচারের আগের গড় ২৩ থেকে বেড়ে ৪৮-এর মধ্যে ৪০-এর বেশি হয়েছে। দ্রুত পুনর্বাসনের ফলে রোগীরা সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই হালকা কাজকর্ম এবং কম-চাপযুক্ত খেলাধুলায় ফিরে আসতে পারেন, যা TKR-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ৩ থেকে ৬ মাসের তুলনায় অনেক দ্রুত।
ডা. কামিল্যা ব্যাখ্যা করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর গুরুতর ক্ষতির চিকিৎসায় প্রথাগত ‘নি রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’-কেই আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই আসলে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’-র মাধ্যমে শল্যচিকিৎসক দল শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা করতে পারেন। এর ফলে শরীরে আঘাত বা ধকল অনেক কম লাগে, দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব হয় এবং হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়া বা গতিশীলতা অনেক ভালোভাবে বজায় থাকে। এই ব্রিফিংয়ের একটি মূল বিষয় ছিল যে, হাঁটুতে তীব্র ও কষ্টদায়ক ব্যথা এখন আর কেবল বয়স্কদের সমস্যা নয়। আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং একই ধরনের নড়াচড়া বা কাজের পুনরাবৃত্তির কারণে কম বয়সী পেশাজীবীরাও এখন জয়েন্টের অকাল ক্ষয়ের (early joint degeneration) চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মহামারী-সংক্রান্ত তথ্য (epidemiological data) এই সমস্যার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে; এতে দেখা যায় যে, সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের (knee osteoarthritis) প্রাদুর্ভাব ২২% থেকে ৩৯%-এর মধ্যে, যা ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত বেড়ে ৪৪% থেকে ৫০%-এ পৌঁছায়।
ডা. কামিলিয়া (Dr. Kamilya) আরও উল্লেখ করেন যে, হাঁটু ব্যথা এবং জয়েন্টের অকাল ক্ষয়ের চিকিৎসার জন্য কম বয়সী রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’ (Precision Partial Knee Reconstruction Surgery) অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। এটি রোগীদের দ্রুত দৈনন্দিন কাজে ফিরে আসতে সহায়তা করে এবং জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে স্বাভাবিক অনুভূতির বিষয়টি বজায় রাখে।
‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি ব্যবহার করায়, ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন’ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, হাসপাতালে থাকার সময়সীমা হ্রাস করে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিখুঁত বা নির্ভুলতা-নির্ভর এই কৌশলটি অর্থোপেডিক চিকিৎসার প্রচলিত সময়সীমা বা ধারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে; কারণ এটি কার্যকরভাবে পরবর্তী জীবনে ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ বা হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তাকে বিলম্বিত করতে বা পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। অ্যাপোলো হসপিটালস, কলকাতা এই চিকিৎসা-বিপ্লবের অগ্রভাগে রয়েছে। তারা অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীদের জন্য এমন ব্যক্তিগত ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে, যা রোগীদের চলাফেরার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।