প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |


কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: হৃদ্রোগের উপসর্গ অনেক সময় উপেক্ষিত হওয়ায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে হৃদ্রোগ। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া বিশ্ব হৃদ্দিবস, ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রাক্কালে আয়োজন করল ‘হার্ট অব ইনোভেশন কার্ডিয়াক সামিট’। অনুষ্ঠানে হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ধরনের হৃদ্রোগের চিকিৎসা ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সুস্থ হয়ে বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এমন একাধিক হৃদ্রোগী অংশগ্রহণ করেন। রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি, এই সম্মেলনে হৃদ্রোগের পরিবর্তিত চিত্র নিয়ে হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ এবং রোগীদের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি হয়।
২০২৬ সালের বিশ্ব হৃদ্দিবসের মূল বার্তা “ডোন্ট মিস আ বিট”-এর মাধ্যমে হৃদ্রোগের সতর্কতামূলক লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার বিশিষ্ট হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রকাশ কুমার হাজরা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান – কার্ডিওলজি, ডাঃ সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, ডাঃ সুপ্রতীপ কুণ্ডু, ডাঃ সৌম্য কান্তি দত্ত, ডাঃ প্রদীপ ভৌমিক, কনসালট্যান্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি এবং ডাঃ কৌশিক মুখার্জি, কনসালট্যান্ট – কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাসকুলার সার্জারি-কে নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল হৃদ্রোগের ক্রমশ অবনতি হয়ে কীভাবে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া দুর্বলতা বা হার্ট ফেলিওরের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। হৃদ্স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা রাজেশ শর্মা এবং কলকাতার বিশিষ্ট মডেল ও অভিনেতা দীপাঞ্জন বসাক।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সিপিআর প্রশিক্ষণ দিয়ে। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন ডাঃ অশোক মিশ্র, কনসালট্যান্ট – জরুরি চিকিৎসা বিভাগ। এরপর ঢাকুরিয়া হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে “হার্ট অ্যাটাক ধীরে ধীরে হার্ট ফেলিওরে পরিণত হওয়া কি এক মহামারির রূপ নিচ্ছে?” বিষয়ের উপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, হৃদ্রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার লক্ষ্যে একটি প্রশ্নোত্তর পর্বও আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য হৃদ্স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন উপস্থিত সকলে এবং সঠিক উত্তরদাতাদের পুরস্কৃত করা হয়।

WhatsApp Image 2026 09 23 at 19.52.17

মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া হৃদ্রোগের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখানে ২৪ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা, অত্যাধুনিক ক্যাথ ল্যাবরেটরি, লেজার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, ট্যাভি, টাভর, টেভার, লিডলেস পেসমেকার, ইন্ট্রাভাসকুলার শকওয়েভ ওরবিটাল রোটেশনাল অ্যাব্লেশন, পালসড ফিল্ড অ্যাব্লেশন, মিনিমালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি, করোনারি আর্টারি বাইপাস সার্জারি এবং জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি সংশোধনের মতো উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার পরিষেবা উপলব্ধ রয়েছে।
আলোচনায় ডাঃ প্রকাশ কুমার হাজরা বলেন, “ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি জটিল হৃদ্রোগের চিকিৎসার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে আরও নির্ভুলভাবে বহু রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির প্রয়োজন এড়ানো যায়। উন্নত অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট বসানোর পদ্ধতি থেকে শুরু করে নতুন ধরনের ক্যাথেটার-নির্ভর চিকিৎসা—এই ক্ষেত্রটি ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। তবে যেকোনও চিকিৎসা পদ্ধতির সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ রোগের উপসর্গ দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন সময়ে চিকিৎসা শুরু করা, যাতে হৃদ্যন্ত্রে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।”
ডাঃ কৌশিক মুখার্জি বলেন, “হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচারও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জটিল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জারির ক্ষেত্রে ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং অস্ত্রোপচারের শারীরিক প্রভাবও কমিয়ে আনতে সাহায্য করছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু রোগের কার্যকর চিকিৎসা করা নয়, রোগী যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা। হৃদ্রোগের চিকিৎসা ক্রমশ উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সময়মতো চিকিৎসা, উন্নত অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং অস্ত্রোপচারের পর সামগ্রিক পরিচর্যার সমন্বয়ে একটি বহুমুখী চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।”
মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার হাসপাতাল ডিরেক্টর শ্রী দিলীপ কুমার রায় বলেন, “হার্ট অব ইনোভেশন কার্ডিয়াক সামিট’-এর মাধ্যমে আমরা হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রোগীকে রাখতে চেয়েছি। হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এমন রোগীদের উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে উন্নত হৃদ্রোগ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হল মানুষকে তাদের প্রিয় ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি করতে চাই, যাতে তাঁরা সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং নিজেদের হৃদ্স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।”

Related Posts

শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |
  • September 22, 2026

কলকাতা: রোটারি ক্লাব অফ সল্ট লেক মেট্রোপলিটন কলকাতা, রোটারি ক্লাব অফ সেন্ট্রাল ক্যালকাটা এবং রোটারি ক্লাব অফ গ্রিন অ্যান্ড পুটনাম কাউন্টিজ, আন্তর্জাতিক রোটারি ক্লাব এবং অ্যালায়েন্স ফর স্মাইলস-এর সহযোগিতায় ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করেছে। এটি একটি মানবিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হলো ঠোঁট কাটা রোগের শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অভাবী শিশুদের মুখে হাসি, আত্মবিশ্বাস এবং আশা ফিরিয়ে আনা।এই উদ্যোগে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন পরিচালক রোটেরিয়ান অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ২০২৬-২৭ সালের ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর রোটেরিয়ান তাপস ভট্টাচার্য; ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর মনোনীত রোটেরিয়ান ব্রতিন্দো মল্লিক এবং ডিজিএসসি রোটেরিয়ান বিনোদ খৈতান।

WhatsApp Image 2026 09 22 at 11.01.37

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রোটারি ক্লাব অফ সল্ট লেক মেট্রোপলিটন কলকাতার প্রাক্তন সভাপতি ডঃ অরুণা তাতিয়া বলেন, “প্রজেক্ট মুসকান শুধু অস্ত্রোপচার নিয়ে নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা এবং আশা ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। প্রতিটি শিশুরই দ্বিধা ছাড়াই হাসার সুযোগ পাওয়া উচিত, এবং রোটারি ও আমাদের চিকিৎসা সহযোগীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা তা সম্ভব করে তুলতে পারব বলে আশা করি।”অ্যালায়েন্স ফর স্মাইল-এর মিশন ডিরেক্টর, রোটারিয়ান পিডিজি টিনা ফিঞ্চলিন বলেন, “অনিরুদ্ধের সাথে কাজ করাটা সবসময়ই আনন্দের। আমাদের বহু বছরের সহযোগিতার সময়ে, আমরা জিএসই টিম গঠন এবং মেডিকেল মিশন পরিচালনাসহ অসংখ্য প্রভাবশালী উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছি এবং রোটারি ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়ার চেয়ারপার্সন হিসেবে তাঁর অব্যাহত নেতৃত্ব দেখে আমরা গর্বিত।”

এই প্রকল্পটি ভারত ও বিদেশের রোটারি ক্লাবগুলোকে, চিকিৎসা ও সামাজিক সহযোগীদের সাথে একত্রিত করে, ঠোঁট কাটা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে। রোটারিয়ান উৎপল মজুমদার, রোটারিয়ান স্কারিয়া জোস, রোটারিয়ান… এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে পিডিজি টিনা ফিঞ্চলিন এবং এস.ভি.এস. মারোয়ারি হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট জনাব এস.ভি.এস. সেক্সারিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

“একটি হাসি উপহার দিন, একটি জীবন বাঁচান” এই মূলমন্ত্র নিয়ে প্রজেক্ট মুসকান স্বাস্থ্যসেবা, সহানুভূতি এবং মানবিক সেবার প্রতি রোটারির অঙ্গীকারকে একত্রিত করে মানুষের জীবন পরিবর্তন করতে চায়।

Continue reading
কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।
  • September 20, 2026

কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:প্রতি বছর ২১শে থেকে ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ হিসাবে পালিত হয় ও এই সপ্তাহের শেষ রবিবারকে বিশ্ব বধিরতা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে, অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI), কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রবণশক্তি যোগাযোগ, শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AOI, পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডা উৎপল জানা বলেন, “শ্রবণশক্তি হ্রাস গ্রায় ক্ষেত্রে বোঝা যায় না, কিন্তু এর পরিণতি হয় সুদূরপ্রসারী। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন মানুষের পুরো জীবনই বদলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, শিশুদের মধ্যে অনেক সময়েই শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রায়ই অসনাক্ত বা চিকিৎসাহীন থেকে যায়।”

“প্রাথমিক পর্যায়ে কম শুনতে পাওয়ার বিষয়টা ধরতে পারলে জীবন বদলে যেতে পারে,” বললেন অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI)-এর সর্বভারতীয় সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি। ডাঃ মুখার্জির মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় এবং শৈশবকালে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কারণ সনাক্ত না হওয়া শ্রবণশক্তি হ্রাস বাকশক্তি, ভাষা এবং শিক্ষাগত বিকাশকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে, সময়মতো মূল্যায়ন যোগাযোগের অসুবিধা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং জীবনের মান হ্রাস রোধ করতে পারে।

WhatsApp Image 2026 09 20 at 13.01.34

AOI পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সভাপতি ডাঃ শুভেন্দু কর বলেন যে, AOI, পশ্চিমবঙ্গ, সাধারণ মানুষকে উচ্চস্বরে গান শোনা, হেডফোন ব্যবহার, যানবাহনের শব্দ, শিল্প-কারখানার শব্দ এবং বাজির শব্দের অতিরিক্ত সংস্পর্শ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। শব্দদূষনজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য। মানুষের অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ ভলিউমে শোনা এড়ানো উচিত এবং কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।

AOI পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক ডাঃ অজয় খাওয়াস বলেন, “আমরা শ্রবণযন্ত্র এবং শ্রবণ পুনর্বাসনের সাথে যুক্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে চাই। শ্রবণযন্ত্র দুর্বলতা বা বার্ধক্যের লক্ষণ নয়; এটি যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নত জীবনের একটি সেতু।” এটি এমন একটি সরঞ্জাম যা মানুষকে পরিবার, সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে পুনরায় সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক শ্রবণ সমাধান এবং অন্যান্য পুনর্বাসন বিকল্পগুলি উল্লেখযোগ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাযুক্ত অনেক মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

AOI পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে ডাঃ সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, শিশুর শব্দে সাড়া না দেওয়া, কথা বলতে দেরি হওয়া, বারবার একই কথা শুনতে চাওয়া বা টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাসগুলি তাঁরা যেন উপেক্ষা না করেন। একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্করা কথোপকথন শুনতে অসুবিধা অনুভব করলে, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে, তাদের শ্রবণশক্তি হ্রাসকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ হিসাবে মেনে না নিয়ে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

AOI-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহের মূল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি আগামীকাল, ২১শে সেপ্টেম্বর, রবিবার, হুগলির চন্দননগরের আইএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি ‘ওয়াক ফর দ্য ডেফ’ দিয়ে শুরু হবে এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বধির ব্যক্তিদের সংবর্ধনা, শ্রবণযন্ত্র বিতরণ এবং বধির ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা দিয়ে চলবে।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |

কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |