মণিপাল হসপিটালস কলকাতার উদ্যোগে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে শিল্প, সংগীত ও কবিতার মেলবন্ধনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন |

কলকাতা, ৯ মে ২০২৬: স্টেথোস্কোপের জায়গা নিল গান, প্রেসক্রিপশনের পরিবর্তে শোনা গেল কবিতা, আর হাসপাতালের করিডোর যেন এক সন্ধ্যার জন্য শিল্প ও সংস্কৃতির বিস্তারে রূপ নিল ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস কলকাতার চিকিৎসকেরা যখন সাংস্কৃতিক মঞ্চে উঠে এলেন, তখন এক অনন্য আবহে ধরা পড়ল কিভাবে কবিগুরুর চিরন্তন শব্দ, সংগীত ও দর্শন প্রজন্ম, পেশা ও সীমারেখা ছাড়িয়ে আজও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন মণিপাল হসপিটালস কলকাতার ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর, ঢাকুরিয়া, সল্টলেক ও ব্রডওয়ে ইউনিটের চিকিৎসকেরা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সন্ধ্যা হয়ে ওঠে এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক উদযাপন।

ভারতের প্রাচীনতম ও অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা, মানবিকতা ও সংস্কৃতির এক বিরল মেলবন্ধনের সাক্ষী হয়ে ওঠে। অসাধারণ ঐক্য ও শিল্পীসুলভ প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের ১৯ জন চিকিৎসক একসঙ্গে পরিবেশন করেন রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তি। চিকিৎসার ব্যস্ত দায়িত্বের বাইরে এসে তাঁরা একত্রিত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরন্তন সৃষ্টিকে সম্মান জানাতে। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় “জাগরণে যায় বিভাবরী”, “প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে”, “আমি চিনি গো চিনি”, “মনে মোর মেঘের সঙ্গী” এবং “পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে”-র মতো জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত। পাশাপাশি আবৃত্তি করা হয় “বাঁশি”, “নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ” এবং “শেষের কবিতা”-র অংশবিশেষ। এই পরিবেশনাগুলি রোগী, পরিজন, হাসপাতালের কর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এক আবেগঘন ও নস্টালজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা আবারও মনে করিয়ে দেয়—সুস্থতা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

WhatsApp Image 2026 05 09 at 13.32.18

এই প্রসঙ্গে ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা (সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার), বলেন, “রবীন্দ্রজয়ন্তী শুধুমাত্র একটি সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক উদযাপন নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি আবেগ। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম জাদুঘর হিসেবে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামও দেশের বৌদ্ধিক, শিল্প ও সামাজিক জাগরণের সঙ্গে পথ চলেছে, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন কবিগুরু স্বয়ং। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক, যা জ্ঞান, মানবতা ও অন্তর্ভুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। আজ যখন বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানুষের কাছাকাছি হয়ে উঠছে, তখন রবীন্দ্রনাথের দর্শন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, কারণ তিনি কল্পনা করেছিলেন এমন এক সমাজের, যা শ্রেণি, ভাষা ও ভৌগোলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে। স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এই উদযাপনে অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁরা এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণে এসে তাঁদের সৃজনশীল সত্তাকে তুলে ধরেছেন। এটি ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’-র ভাবনাকে বাস্তব রূপ দেয়, যেখানে উন্নয়ন ও ঐতিহ্য একসঙ্গে এগিয়ে চলে।”

কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনকারী মণিপাল হসপিটালস ইস্ট রিজিয়নের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের ডঃ সুকল্যাণ পুরকায়স্থ বলেন, “এই ঐতিহাসিক পরিবেশে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করা সত্যিই এক হৃদয়ছোঁয়া ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিদিন মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু সংগীত ও সংস্কৃতি আমাদের মানুষের আবেগ ও আত্মার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের গান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে তার গভীরতা, সংবেদনশীলতা ও মানবিকতার মাধ্যমে। সহকর্মী চিকিৎসকদের সঙ্গে এই বিশেষ উদযাপনের অংশ হতে পেরে সন্ধ্যাটি আমার কাছে আরও স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।”

মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক-এর কনসালট্যান্ট – এমার্জেন্সি মেডিসিন বিভাগের ডঃ পরমিতা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী বলেন, “ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মতো ঐতিহাসিক স্থানে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করা সত্যিই এক আবেগঘন ও পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজ করি, কিন্তু শিল্প ও সাহিত্য আমাদের অনুভূতির সঙ্গে এক ভিন্ন স্তরে যুক্ত হতে সাহায্য করে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় যে চিরন্তন মানবিক মূল্যবোধ রয়েছে, তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সহকর্মী, রোগী ও বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আমরা গর্বিত।”

মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর-এর ক্লিনিক্যাল লিড – পেডিয়াট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি বিভাগের ডঃ শুভাশিস সাহা বলেন, “রবীন্দ্রসংগীতের এক চিরন্তন প্রশান্তিদায়ক শক্তি রয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লেগেছে, কারণ এটি চিকিৎসক হিসেবে আমাদের আরেকটি দিককে তুলে ধরেছে—যেখানে শিল্প, সহমর্মিতা ও আবেগের গভীর সংযোগ রয়েছে। এমন সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন সন্ধ্যাটিকে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলেছে।”

এই ব্যতিক্রমী রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও প্রমাণ করল যে, স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র চিকিৎসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সংস্কৃতি, সহমর্মিতা ও সামাজিক সংযোগের মধ্য দিয়েও সুস্থতার এক সামগ্রিক পরিসর গড়ে তোলা সম্ভব। এই সন্ধ্যা তাই শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উত্তরাধিকারকেই উদযাপন করেনি, উদযাপন করেছে মানবিকতার সেই দিকটিকেও, যা প্রকৃত আরোগ্যের ভিত্তি।

Related Posts

দুর্গাপুজোর নেপথ্যের শিল্পীদের সম্মান জানাল মণিপাল হসপিটাল কলকাতা‘পুজোর রূপকার ২.০’-এর মাধ্যমে |
  • September 12, 2026

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তোলার নেপথ্যে থাকা শিল্পী ও কারিগরদের সম্মান জানাতে মণিপাল হসপিটাল কলকাতা আয়োজন করল ‘পুজোর রূপকার ২.০’। এই উদ্যোগে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী, চন্দননগরের আলোকশিল্পী, ঢাকি এবং পুজো কমিটির সম্পাদকদের সম্মান জানানো হয়।বাংলার সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত এই মানুষগুলির গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সম্মান জানানোই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলার কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। হাজার হাজার পুজোমণ্ডপ, সুন্দর প্রতিমা, চোখ ধাঁধানো আলো এবং ঢাকের শব্দের পিছনে রয়েছেন বহু প্রজন্ম ধরে কাজ করে আসা শিল্পীরা। তাঁদের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতাই দুর্গাপুজোকে আরও সুন্দর করে তোলে।অনুষ্ঠানের শুরু হয় প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল কলকাতার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা, কুমোরটুলি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং কলকাতার মণিপাল হসপিটাল গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর নার্সিং টিমের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দেবী বরণ অনুষ্ঠান করা হয়।এরপর মণিপাল হসপিটাল ইস্ট-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তুলতে শিল্পী ও অন্যান্য কারিগরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন।

এরপর কুমোরটুলির শিল্পী, ঢাকি এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমোরটুলি সর্বজনীনের সেক্রেটারি শ্রী সমর মিত্র এবং ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শ্রী দেবাশিস ভট্টাচার্য; কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির মৃৎশিল্পী ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শ্রী বাবু পাল; জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী শ্রীমতী মালা পাল ও শ্রীমতী ঝুলন পাল; প্রবীণ মৃৎশিল্পী শ্রী নিমাই পাল; এশিয়ান পেইন্টস পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী শ্রী নব পাল, শ্রী সৌমেন পাল এবং শ্রী সনাতন পাল। এছাড়াও সম্মানিত করা হয় শ্রীমতী কাকলি পাল, শ্রী অরূপ পাল, শ্রী পশুপতি রুদ্র পাল, শ্রী সঞ্জয় পাল, শ্রী রামিত পাল, শ্রী ইন্দ্রজিৎ পাল, শ্রী রঞ্জিত সরকার, শ্রী বঙ্কিম পাল, শ্রী দীপঙ্কর পাল, শ্রী ভানু রুদ্র পাল, শ্রী সুজিত পাল, শ্রী প্রদীপ দে, শ্রী রুদ্রজিৎ পাল, শ্রী সুভাষ পাল এবং শ্রী সমীর পালকে।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সেক্রেটারি শ্রী চন্দ্রনাথ দে এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী সানু বিশ্বাস এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পী শ্রী তপন ঘোষ, শ্রী তাপস ঘোষ, শ্রী আশিস দে, শ্রী দিব্যেন্দু বিশ্বাস এবং শ্রী অমিয় দাসকেও তাঁদের কাজ ও পরিশ্রমের জন্য সম্মান জানানো হয়।

WhatsApp Image 2026 09 10 at 18.39.44

অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের কনসালট্যান্ট, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. পারিজাত দেব চৌধুরী বলেন,“উৎসবের আগে শিল্পীদের অনেকক্ষণ ধরে কাজ করতে হয় এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপও থাকে। তাই এই সময় হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। বেশি পরিশ্রম, মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শরীরে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উৎসবের সময় কাজের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা দরকার।”মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিকস ডা. সুতনু হাজরা বলেন,“প্রতিমা তৈরির সময় একই ধরনের কাজ বারবার করা, অনেকক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে পেশি, হাড়, জয়েন্ট এবং মেরুদণ্ডে চাপ পড়তে পারে। কাজের সময় সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান বদলানো, ঠিকমতো কাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী। দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যথা থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের কনসালট্যান্ট – গাইনোকলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকস ডা. শিলপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহিলা শিল্পীদের অনেক সময় কঠিন শারীরিক কাজের পাশাপাশি বাড়ির দায়িত্বও সামলাতে হয়। ফলে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় কমে যায়। মাসিকের অনিয়ম, রক্তশূন্যতা, শরীরে পুষ্টির অভাব এবং অন্যান্য মহিলাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এতে তাঁরা আরও ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।”মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং এইচওডি – অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার ডা. ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। অনেক সময় বেশি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি গরম, ধুলো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসের সংস্পর্শেও আসতে হয়। তাই এই সময় কাজের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং কোনও চোট বা হঠাৎ কোনও শারীরিক সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গুরুতর চোট বা হঠাৎ শরীরের কোনও অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কুমোরটুলির শিল্পীদের তাঁদের কাজ এবং বাংলার সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। চন্দননগরের আলোকশিল্পী এবং ঢাকিদের উপস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্গাপুজোর এই বিশাল আয়োজনের পিছনে রয়েছেন বহু মানুষ, যাঁরা নেপথ্যে থেকে উৎসবকে সুন্দর করে তোলেন।

Continue reading
  • September 12, 2026

কলকাতা জেলাজুড়ে VBYLD 2027-এর প্রচার ও সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে সাংবাদিক সম্মেলন |

কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডারস ডায়ালগ (VBYLD) ২০২৭’-এর প্রচার এবং এই উদ্যোগে তরুণদের সর্বাধিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আজ শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এই সাংবাদিক সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল VBYLD ২০২৭ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও মতামত তুলে ধরতে পারে। এই উদ্যোগটি তরুণ নাগরিকদের তাদের মতামত প্রকাশ, অভিনব ধারণা ভাগ করে নেওয়া এবং জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য একটি উপযুক্ত মঞ্চ প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. অমিত মজুমদার; দক্ষিণ কলকাতার ‘মাই ভারত’ (MY Bharat)-এর উপ-অধিকর্তা শ্রীমতি কাঞ্চন কুমারী; উত্তর কলকাতার জেলা যুব আধিকারিক (DYO) শ্রীমতি খুশবু গুপ্তা এবং এনসিসি (NCC)-র ক্যাপ্টেন ড. প্রেম বাহাদুর মাঝি।উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তারা ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং VBYLD ২০২৭-এ সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য তরুণদের আহ্বান জানান। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তরুণদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।কলকাতা জেলাজুড়ে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছাতে এবং VBYLD ২০২৭-এ তাদের অংশগ্রহণ সহজতর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাও ছিল এই সাংবাদিক সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।

WhatsApp Image 2026 09 12 at 23.05.01

বক্তারা ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নাগরিকদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুযোগগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার এবং একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে ভারতের অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। এই আলোচনার প্রথম ধাপ হলো “বিকশিত ভারত কুইজ” (Viksit Bharat Quiz) প্রতিযোগিতা, যা ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) পোর্টালে (www.mybharat.gov.in) আয়োজিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো ১৫-২৯ বছর বয়সী দেশের তরুণদের ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করা, তাদের মধ্যে কৌতূহল ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং একটি জাতীয় মঞ্চে তাদের নিজস্ব ধারণা বা চিন্তাভাবনা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। কুইজটি ভারতের অগ্রগতি, সংস্কৃতি, বিভিন্ন নীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি ২২টি ভাষায় আয়োজন করা হচ্ছে।

‘বিকশিত ভারত কুইজ’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তী বিভিন্ন ধাপে—যেমন প্রবন্ধ রচনা, জেলা-স্তরের উপস্থাপনা, রাজ্য-স্তরের VBYLD এবং জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা—অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত তরুণরা ‘VBYLD ২০২৭’ জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা ২০২৭ সালের ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন দপ্তরের সচিব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সামনে নিজেদের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র (thematic area) থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনেও তাদের ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।সবশেষে, যোগ্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা উৎসাহের সাথে VBYLD ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করেন এবং একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও উন্নত ভারত গঠনে নিজেদের ধারণা ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে অবদান রাখেন।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |

কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |