পূর্ব ভারতের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ তাদের অনন্য মানবকেন্দ্রিক উদ্যোগ ‘আনওইন্ড – বই কথা কও’-এর ষষ্ঠ পর্বে স্বাগত জানাল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী রাজর্ষি ব্যানার্জিকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংরক্ষণ ও ফটোগ্রাফির নৈতিকতা নিয়ে তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ক আলোচনা মুগ্ধ করল উপস্থিত ছাত্রছাত্রী ও অতিথিদের। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের প্রবর্তক প্রফেসর মানোশী রায়চৌধুরী, কো-চেয়ারপার্সন, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ। তাঁর কথায়,
“বই কথা কও-এর উদ্দেশ্য তরুণদের বইয়ের পৃষ্ঠা পেরিয়ে জীবনের গল্প পড়তে শেখানো। রাজর্ষি ব্যানার্জির যাত্রা আমাদের অধ্যবসায়, ভালোবাসা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা শেখায়। তাঁর লেন্স আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ এবং টেকসই উন্নয়নের মূল্যবোধ।”
অনুষ্ঠানে রাজর্ষি ব্যানার্জি তাঁর বহু বছরের জঙ্গলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন চিত্র ও কাহিনির মাধ্যমে। কাজিরাঙার বাঘ, গণ্ডার কিংবা ‘ব্ল্যাক প্যান্থার আন্ডার দ্য স্টারস’-এর মতো বিশ্বজয়ী ছবির পেছনের গল্প শোনান তিনি। এই ছবিটি তাঁকে এনে দিয়েছে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ৩৫তম মেমোরিয়াল মারিয়া লুইসা প্রতিযোগিতা-র গ্র্যান্ড প্রাইজ, যেখানে তিনি ৯৫টি দেশের ১,৫৯০ আলোকচিত্রীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর সাফল্যের তালিকায় রয়েছে আরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি — যেমন গোল্ডেন টার্টল অ্যাওয়ার্ড (রাশিয়া, ২০২৫) এবং সনি ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫, যেখানে তিনি কেনিয়ার কিংবদন্তি হাতি ‘ক্রেগ’-এর এক অবিস্মরণীয় প্রতিকৃতি তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্রছাত্রীরা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, ধৈর্য ও বন্যজীবন ফটোগ্রাফির নৈতিকতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন। প্রফেসর মানোশী রায়চৌধুরী-র সঞ্চালনায় এই সংলাপ রূপ নেয় শিল্প, বিজ্ঞান ও মানবিকতার এক অসাধারণ মেলবন্ধনে। ‘আনওইন্ড – বই কথা কও’ মূলত ‘হিউম্যান লাইব্রেরি’ আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় তৈরি, যা ২০০০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে শুরু হয়েছিল। এর লক্ষ্য — “মানুষকে বইয়ের বদলে মানুষ পড়া”, অর্থাৎ জীবন্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। এর আগে এই সিরিজে অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা — চলচ্চিত্র পরিচালক সন্দীপ রায়, প্রাক্তন আইএফএস অফিসার ড. প্রদীপ ব্যাস, আফগানিস্তানের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী রঙ্গিনা হামিদি, সেলসফোর্স ইন্ডিয়ার চেয়ারপার্সন ও সিইও অরুন্ধতী ভট্টাচার্য, এবং মনোবিজ্ঞানী ড. সুমন্ত্র চট্টার্জি।