কলকাতা: নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপূজার আয়োজকরা বুধবার প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে গত চার বছরে স্থান পেতে অসুবিধা এবং আইনি লড়াই সহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন।
২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পূজার উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের মতে, পরবর্তী বছরগুলিতে পূজা আয়োজন করতে গিয়ে, বিশেষ করে একটি উপযুক্ত স্থান জোগাড় করতে, তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।আয়োজকরা দাবি করেছেন যে, নানা অসুবিধার কারণে এক পর্যায়ে তাঁরা একটি বাসস্ট্যান্ডে দুর্গাপূজা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।আয়োজকরা দাবি করেছেন যে, স্থান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এক পর্যায়ে তাঁরা একটি বাসস্ট্যান্ডে দুর্গাপূজা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পূজা আয়োজনের বিষয়ে তাঁরা যে আইনি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন এবং বারবার আদালতে গেছেন, সে কথাও তাঁরা জানিয়েছেন।বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা এ বছরের দুর্গাপূজা নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন এবং জানিয়েছেন যে এটি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত গুপ্তের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়, যাঁকে আয়োজকরা পূজা কমিটির চেয়ারম্যান এবং একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আয়োজকেরা তাঁদের সম্পূর্ণ দলসহ পূজাটির চার বছরের যাত্রাপথ, তাঁদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা এবং এ বছরের উদযাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।এ বছরের দুর্গাপূজা আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে বলে তাঁরা তাঁদের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।সংবাদ সম্মেলনে সুব্রত গুপ্তের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়, যাঁকে আয়োজকরা পূজা কমিটির চেয়ারম্যান এবং মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।আয়োজকেরা তাঁদের সম্পূর্ণ দলসহ পূজাটির চার বছরের যাত্রাপথ, তাঁদের সম্মুখীন হওয়া প্রতিবন্ধকতা এবং এ বছরের উদযাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: JIS গ্রুপের একটি শিক্ষা উদ্যোগ—’ডঃ সুধীর চন্দ্র সুর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ (SurTech)—নতুন দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি সেকশন’-এর সহায়তায় ‘ইয়াং ইনোভেটরস স্টেম ল্যাব’ (YISL)-এর অধীনে অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়ে তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী শক্তি, সৃজনশীলতা এবং অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক STEM শিক্ষার প্রসার ঘটানো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্দো-ইউএস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম (IUSSTF)-এর অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান বিজ্ঞান কর্মকর্তা ডঃ চৈতালি ভট্টাচার্য; IUSSTF-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শ্রীমতী প্রিয়া থমাস; STEAM Varsity-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রী ধরম রাজ পানওয়ার; JIS গ্রুপের SurTech-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডঃ) সরদিন্দু পান্ডা এবং STEAM Varsity-র প্রশিক্ষকবৃন্দ।
এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা AR/VR ডেভেলপমেন্ট, WebXR, থ্রি-ডি (3D) পরিবেশ, ইমার্সিভ টেকনোলজি এবং মেটা কোয়েস্ট (Meta Quest) হেডসেট ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। এছাড়া তারা ‘ডিজাইন থিংকিং’, প্রোটোটাইপিং এবং দলগতভাবে সমস্যা সমাধানের কার্যক্রমে অংশ নেয়, যা তাদের ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিগুলো অন্বেষণের সুযোগ করে দেয়।
JIS ড্রোন একাডেমি (RPTO)-র সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিটি উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শিল্প-কেন্দ্রিক ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এই কর্মশালাটি STEM শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে JIS গ্রুপ ও SurTech-এর অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতায় গড়ে তোলা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে JIS গ্রুপের ডিরেক্টর সর্দার সিমারপ্রীত সিং বলেন, “JIS গ্রুপে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের উদীয়মান প্রযুক্তি এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অর্থবহ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তাদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ও উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে এবং বাস্তব বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে উৎসাহিত করি; এর মাধ্যমে আমরা তাদের ভবিষ্যতের উপযোগী পেশাদার ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলছি।”
কলকাতা,১০সেপ্টেম্বর২০২৬: বাংলায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তোলার নেপথ্যে থাকা শিল্পী ও কারিগরদের সম্মান জানাতে মণিপাল হসপিটাল কলকাতা আয়োজন করল ‘পুজোররূপকার২.০’। এই উদ্যোগে কুমোরটুলিরমৃৎশিল্পী,চন্দননগরেরআলোকশিল্পী,ঢাকিএবংপুজোকমিটিরসম্পাদকদেরসম্মানজানানোহয়।বাংলার সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত এই মানুষগুলির গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সম্মান জানানোই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলার কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। হাজার হাজার পুজোমণ্ডপ, সুন্দর প্রতিমা, চোখ ধাঁধানো আলো এবং ঢাকের শব্দের পিছনে রয়েছেন বহু প্রজন্ম ধরে কাজ করে আসা শিল্পীরা। তাঁদের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতাই দুর্গাপুজোকে আরও সুন্দর করে তোলে।অনুষ্ঠানের শুরু হয় প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল কলকাতার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা, কুমোরটুলি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং কলকাতার মণিপাল হসপিটাল গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর নার্সিং টিমের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দেবী বরণ অনুষ্ঠান করা হয়।এরপর মণিপাল হসপিটাল ইস্ট-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তুলতে শিল্পী ও অন্যান্য কারিগরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন।
এরপর কুমোরটুলির শিল্পী, ঢাকি এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমোরটুলি সর্বজনীনের সেক্রেটারি শ্রীসমরমিত্রএবংওয়ার্কিংপ্রেসিডেন্টশ্রীদেবাশিসভট্টাচার্য;কুমোরটুলিমৃৎশিল্পীসংস্কৃতিসমিতিরমৃৎশিল্পীওঅ্যাসিস্ট্যান্টসেক্রেটারিশ্রীবাবুপাল;জাতীয়পুরস্কারপ্রাপ্তমৃৎশিল্পীশ্রীমতীমালাপালওশ্রীমতীঝুলনপাল;প্রবীণমৃৎশিল্পীশ্রীনিমাইপাল;এশিয়ানপেইন্টসপুরস্কারপ্রাপ্তশিল্পীশ্রীনবপাল,শ্রীসৌমেনপালএবংশ্রীসনাতনপাল। এছাড়াও সম্মানিত করা হয় শ্রীমতীকাকলিপাল,শ্রীঅরূপপাল,শ্রীপশুপতিরুদ্রপাল,শ্রীসঞ্জয়পাল,শ্রীরামিতপাল,শ্রীইন্দ্রজিৎপাল,শ্রীরঞ্জিতসরকার,শ্রীবঙ্কিমপাল,শ্রীদীপঙ্করপাল,শ্রীভানুরুদ্রপাল,শ্রীসুজিতপাল,শ্রীপ্রদীপদে,শ্রীরুদ্রজিৎপাল,শ্রীসুভাষপালএবংশ্রীসমীরপালকে।পুজোকমিটিরপক্ষথেকেসেক্রেটারিশ্রীচন্দ্রনাথদেএবংকোষাধ্যক্ষশ্রীসানুবিশ্বাসএবংচন্দননগরেরআলোকশিল্পীশ্রীতপনঘোষ,শ্রীতাপসঘোষ,শ্রীআশিসদে,শ্রীদিব্যেন্দুবিশ্বাসএবংশ্রীঅমিয়দাসকেওতাঁদেরকাজওপরিশ্রমেরজন্যসম্মানজানানোহয়।
অনুষ্ঠানে মণিপালহাসপাতালমুকুন্দপুরেরকনসালট্যান্ট,ইন্টারভেনশনালকার্ডিওলজিস্টডা.পারিজাতদেবচৌধুরী বলেন,“উৎসবের আগে শিল্পীদের অনেকক্ষণ ধরে কাজ করতে হয় এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপও থাকে। তাই এই সময় হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। বেশি পরিশ্রম, মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শরীরে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উৎসবের সময় কাজের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা দরকার।”মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়রকনসালট্যান্ট,অর্থোপেডিকসডা.সুতনুহাজরা বলেন,“প্রতিমা তৈরির সময় একই ধরনের কাজ বারবার করা, অনেকক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে পেশি, হাড়, জয়েন্ট এবং মেরুদণ্ডে চাপ পড়তে পারে। কাজের সময় সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান বদলানো, ঠিকমতো কাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী। দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যথা থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”
মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের কনসালট্যান্ট–গাইনোকলজিঅ্যান্ডঅবস্টেট্রিকসডা.শিলপিতাবন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহিলা শিল্পীদের অনেক সময় কঠিন শারীরিক কাজের পাশাপাশি বাড়ির দায়িত্বও সামলাতে হয়। ফলে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় কমে যায়। মাসিকের অনিয়ম, রক্তশূন্যতা, শরীরে পুষ্টির অভাব এবং অন্যান্য মহিলাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এতে তাঁরা আরও ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।”মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সিনিয়রকনসালট্যান্টএবংএইচওডি–অ্যাক্সিডেন্টঅ্যান্ডইমার্জেন্সিকেয়ারডা.ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। অনেক সময় বেশি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি গরম, ধুলো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসের সংস্পর্শেও আসতে হয়। তাই এই সময় কাজের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং কোনও চোট বা হঠাৎ কোনও শারীরিক সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গুরুতর চোট বা হঠাৎ শরীরের কোনও অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কুমোরটুলির শিল্পীদের তাঁদের কাজ এবং বাংলার সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। চন্দননগরের আলোকশিল্পী এবং ঢাকিদের উপস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্গাপুজোর এই বিশাল আয়োজনের পিছনে রয়েছেন বহু মানুষ, যাঁরা নেপথ্যে থেকে উৎসবকে সুন্দর করে তোলেন।
কলকাতা জেলাজুড়ে VBYLD 2027-এর প্রচার ও সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে সাংবাদিক সম্মেলন |
কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডারস ডায়ালগ (VBYLD) ২০২৭’-এর প্রচার এবং এই উদ্যোগে তরুণদের সর্বাধিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আজ শ্যামবাজারের মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এই সাংবাদিক সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল VBYLD ২০২৭ সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তারা ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও মতামত তুলে ধরতে পারে। এই উদ্যোগটি তরুণ নাগরিকদের তাদের মতামত প্রকাশ, অভিনব ধারণা ভাগ করে নেওয়া এবং জাতি গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য একটি উপযুক্ত মঞ্চ প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—মহারাজা শ্রীশচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ ড. অমিত মজুমদার; দক্ষিণ কলকাতার ‘মাই ভারত’ (MY Bharat)-এর উপ-অধিকর্তা শ্রীমতি কাঞ্চন কুমারী; উত্তর কলকাতার জেলা যুব আধিকারিক (DYO) শ্রীমতি খুশবু গুপ্তা এবং এনসিসি (NCC)-র ক্যাপ্টেন ড. প্রেম বাহাদুর মাঝি।উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বক্তারা ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং VBYLD ২০২৭-এ সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য তরুণদের আহ্বান জানান। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তরুণদের সম্মিলিত চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি।কলকাতা জেলাজুড়ে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কাছে পৌঁছাতে এবং VBYLD ২০২৭-এ তাদের অংশগ্রহণ সহজতর করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাও ছিল এই সাংবাদিক সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য।
বক্তারা ছাত্রছাত্রী ও তরুণ নাগরিকদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুযোগগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার এবং একটি উন্নত ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে ভারতের অগ্রযাত্রায় সক্রিয় অংশীদার হয়ে ওঠার আহ্বান জানান। এই আলোচনার প্রথম ধাপ হলো “বিকশিত ভারত কুইজ” (Viksit Bharat Quiz) প্রতিযোগিতা, যা ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) পোর্টালে (www.mybharat.gov.in) আয়োজিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো ১৫-২৯ বছর বয়সী দেশের তরুণদের ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সাথে যুক্ত করা, তাদের মধ্যে কৌতূহল ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং একটি জাতীয় মঞ্চে তাদের নিজস্ব ধারণা বা চিন্তাভাবনা তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। কুইজটি ভারতের অগ্রগতি, সংস্কৃতি, বিভিন্ন নীতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে সর্বাধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি ২২টি ভাষায় আয়োজন করা হচ্ছে।
‘বিকশিত ভারত কুইজ’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা পরবর্তী বিভিন্ন ধাপে—যেমন প্রবন্ধ রচনা, জেলা-স্তরের উপস্থাপনা, রাজ্য-স্তরের VBYLD এবং জাতীয় পর্যায়ের আলোচনা—অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত তরুণরা ‘VBYLD ২০২৭’ জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা ২০২৭ সালের ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন দপ্তরের সচিব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সামনে নিজেদের ধারণা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এছাড়া, প্রতিটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র (thematic area) থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনেও তাদের ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।সবশেষে, যোগ্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা উৎসাহের সাথে VBYLD ২০২৭-এ অংশগ্রহণ করেন এবং একটি শক্তিশালী, প্রগতিশীল ও উন্নত ভারত গঠনে নিজেদের ধারণা ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে অবদান রাখেন।
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দর্শকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছেন, আর সেই প্রেক্ষাপটে Zee5 বিনোদন খোঁজা ও উপভোগ করার পদ্ধতিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে। নিজেদের কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তুর পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মটি তার অন্যতম বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে—মোবাইল ও কানেক্টেড টিভিতে এক বলিষ্ঠ ও যুগান্তকারী রূপান্তর। স্মার্ট পার্সোনালাইজেশন (ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সাজানো), এআই-চালিত ডিসকভারি, উন্নত ভিজ্যুয়াল নেভিগেশন এবং বিভিন্ন স্ক্রিনের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এটি তৈরি। দর্শকদের দেখার অভ্যাসের কথা মাথায় রেখে নতুন Zee5 পাঁচটি ভিন্ন জগতের (ইউনিভার্স) দরজা খুলে দিচ্ছে—প্রিমিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট, Free 5, KidZ, টিভি এবং স্পোর্টস—যার ফলে কন্টেন্ট খুঁজে পাওয়া হয়ে উঠছে অত্যন্ত সহজ, আকর্ষণীয় ও সাবলীল। কারণ, ভারতের দর্শকদের বিনোদন দেখার ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনই পাল্টাচ্ছে বিনোদন খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও। এই নতুন অভিজ্ঞতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পার্সোনালাইজেশন বা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কন্টেন্ট সাজানোর ব্যবস্থা, যা দর্শকদের তাদের আগ্রহের সাথে সবচেয়ে মানানসই বিষয়বস্তু খুঁজে পেতে সাহায্য করে; অন্যদিকে, এআই (AI) প্রযুক্তির সংযোজন প্ল্যাটফর্মজুড়ে আরও স্মার্ট ডিসকভারি ও মসৃণ ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। মোবাইল ছাড়াও বিভিন্ন কানেক্টেড ডিভাইসের মাধ্যমে বিনোদন উপভোগের প্রবণতা বাড়ায়, নতুন এই অভিজ্ঞতাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ছোট ও বড় পর্দার মধ্যে সহজেই অদলবদল করা যায়। গ্রাহক সুবিধার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের এআই-চালিত কাস্টমার সাপোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট; এটি সাবস্ক্রিপশন, প্লেব্যাক, অ্যাক্সেস, কন্টেন্ট এবং ডিভাইস সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রায় তাৎক্ষণিক সমাধান প্রদান করে। এসবের পাশাপাশি, ডেটা গোপনীয়তা বা সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে Zee5 গ্রহণ করেছে অত্যাধুনিক ও সেরা মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, এই উদ্ভাবনগুলো দ্রুততর, স্মার্ট এবং আরও সহজ বিনোদন অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে। নতুন এই অভিজ্ঞতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে, Zee5 ভারতের দর্শকদের বিনোদন দেখা, খোঁজা এবং তার সাথে যুক্ত হওয়ার ধরনটি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করেছে। অ্যাপ সম্পর্কে পাওয়া মতামত, ভোক্তা সমীক্ষা এবং বিভিন্ন বাজারে ফোকাস গ্রুপ আলোচনার সমন্বয়ে প্ল্যাটফর্মটি মোবাইল ও কানেক্টেড টিভিতে দর্শকদের ব্যবহারের যাত্রাপথ (ইউজার জার্নি) বিশ্লেষণ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বড় পর্দার অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধি ও গভীরতা বজায় রেখেই আরও সহজ ও স্বজ্ঞাত (intuitive) অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। এই অন্তর্দৃষ্টিগুলো প্ল্যাটফর্মটির নতুন নকশা তৈরিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি, ব্যাপক ‘বাগ-অ্যাথন’ (bugathon)-এর মাধ্যমে পণ্য (product), প্রকৌশল, গুণমান নিশ্চিতকরণ (QA) এবং ডিজাইন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে প্ল্যাটফর্মটি চালুর আগে এর প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা ও পরিমার্জন করেছেন। গত প্রান্তিকে, জি৫ (Zee5) তার বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তুর পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। প্রথমে তারা বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া ইভেন্ট ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬™ ও ২০৩০’-এর সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করে এবং এরপর সাতটি ভাষায় নতুন কন্টেন্ট তালিকা বা ‘স্লেট’ (slate) চালু করে। এই অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে জি৫ এখন প্রিমিয়াম ইংরেজি বিনোদনের এক অভূতপূর্ব তালিকা উন্মোচন করছে, যার মাধ্যমে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র এবং হলিউডের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের কাজ দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। পিভিআর আইনক্স পিকচার্স (PVR INOX PICTURES) এবং লায়ন্সগেট প্লে (LIONSGATE PLAY)-এর সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু ‘ডিজিটাল প্রিমিয়ার’। এর মধ্যে রয়েছে বব ওডেনকার্ক, হেনরি উইঙ্কলার ও লিনা হেডি অভিনীত ‘নরমাল’ (Normal); সেথ রোজেন, পেনেলোপ ক্রুজ, এডওয়ার্ড নর্টন ও অলিভিয়া ওয়াইল্ড অভিনীত ‘দ্য ইনভাইট’ (The Invite); অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও জেসন সেগেল অভিনীত ‘অ্যাংজাইয়াস পিপল’ (Anxious People); সেথ রোজেন ও আনা কেন্ড্রিক অভিনীত ‘বেবিজ’ (Babies); জুড ল অভিনীত ‘দ্য উইজার্ড অফ দ্য ক্রেমলিন’ (The Wizard of the Kremlin); গ্লেন পাওয়েল ও মার্গারেট কোয়ালি অভিনীত ‘হাউ টু মেক আ কিলিং’ (How to Make a Killing); ডমিনিক সেসা অভিনীত ‘টনি’ (Tony); এবং অ্যাডাম ড্রাইভার, স্কারলেট জোহানসন ও মাইলস টেলার অভিনীত ‘পেপার টাইগার’ (Paper Tiger)। তারকা শিল্পী, বিশ্বমানের গল্প এবং প্রিমিয়াম চলচ্চিত্রের বিশাল সমাহার নিয়ে সাজানো এই তালিকাটি জি৫-এর ইংরেজি বিনোদন পরিষেবায় এক নতুন ও সাহসী অধ্যায়ের সূচনা করছে। একই সাথে, জি৫-এর বিনোদন পরিষেবার অন্যতম বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্রি ৫’ (Free 5)-কে এক নতুন ও বলিষ্ঠ পরিচয়ে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ নতুন ‘ফ্রি ৫’ বিনোদনের এক বিশাল ও অতুলনীয় সম্ভার নিয়ে এসেছে—যার মধ্যে রয়েছে সিরিজ, চলচ্চিত্র, কোরিয়ান ও চাইনিজ ড্রামা, অ্যানিমে, সংবাদ, মাইক্রো-ড্রামা এবং কন্টেন্ট নির্মাতাদের এক প্রাণবন্ত জগৎ। আগের চেয়ে অনেক বেশি ভাষা, ধরণ (genre), ফরম্যাট এবং বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন রূপে আসা ‘ফ্রি ৫’ দর্শকদের বিনোদনের এক বিশাল জগৎ উপহার দিচ্ছে—যা কোনো সাবস্ক্রিপশন ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপভোগ করা যাবে। বিনোদনের এই সম্প্রসারিত পরিসর বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্যও জি৫-এর বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর এবং তাদের সেবা প্রদানের নতুন সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ – রুবি জেনারেল হাসপাতাল তার অস্ত্রোপচার পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটি তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৬টি নতুন মডুলার অপারেশন থিয়েটার (OT) সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি বিশেষভাবে নির্ধারিত ট্রান্সপ্লান্ট OT এবং ২টি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি OT। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালের পূর্ববর্তী ৫টি সুপার স্পেশালিটি OT-ও চালু থাকবে। ফলে জটিল ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করার হাসপাতালের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালটি দুটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছে— অর্থোপেডিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (TKR) রোবোটিক সার্জারি সিস্টেম এবং সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্বখ্যাত দা ভিঞ্চি রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম ।এই যুগান্তকারী পরিকাঠামো ও রোবোটিক সিস্টেমগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাঃ কমল কুমার দত্ত (চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর), ডাঃ সৌরভ দত্ত (ডিরেক্টর) এবং মিসেস রুবি দত্ত (ডিরেক্টর)।
• ৬টি নতুন মডুলার OT : সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যামিনার এয়ারফ্লো সিস্টেম-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত। • ২টি বিশেষায়িত ট্রান্সপ্লান্ট OT : জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত। • ২টি রোবোটিক সার্জারি OT : উন্নত রোবোটিক আর্ম ও কনসোল ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি। • ৫টি বিদ্যমান OT : নতুন ইউনিটগুলির পাশাপাশি এগুলিও চালু থাকবে। ফলে হাসপাতালের মোট অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত সার্জিক্যাল স্যুটের সংখ্যা দাঁড়াল ১১টি।
• দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেম : ন্যূনতম ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচার করতে সাহায্য করে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।• অর্থোপেডিক টি কে আর রোবোটিক সিস্টেম : টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সাব-মিলিমিটার পর্যায়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এর ফলে ইমপ্ল্যান্টের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং কৃত্রিম জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়িত্ব আরও উন্নত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসপাতালের CMD ডাঃ কমল কুমার দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্তরে তার সহজলভ্যতার মধ্যে থাকা ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত জানান, অপারেশন থিয়েটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয় রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে থাকার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ডিরেক্টর মিসেস রুবি দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ রুবি জেনারেল হাসপাতালের তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত স্বাস্থ্য পরিষেবায় উদ্ভাবন এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রতি প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।
প্রেস মিটে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুপরিচিত নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ প্রতীক দাস এবং খ্যাতনামা ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাঃ টি. কে. সাহা । উভয় চিকিৎসকই এই অঞ্চলে আধুনিক ও উন্নত ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং জানান যে রুবি জেনারেল হাসপাতালের নতুন পরিকাঠামো এই প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করছে।.বিশিষ্ট রোবোটিক সার্জনদের মধ্যে ডাঃ দেবার্চন ঘোষ (জেনারেল ও রোবোটিক সার্জন) এবং ডাঃ দীপাঞ্জন ভদ্র (অর্থোপেডিক্স ও রোবোটিক সার্জন)-ও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের সমন্বিত রোবোটিক সার্জারি দক্ষতা তুলে ধরা হয়।
হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অনকোলজি পরিষেবার কথা তুলে ধরে ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় , এমেরিটাস সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ডিরেক্টর, রুবি ক্যান্সার সেন্টার বলেন: “দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে রুবি ক্যান্সার সেন্টার আঞ্চলিক স্তরে প্রথম স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্র্যান্ড হিসেবে এই বিশ্বমানের রোবোটিক সিস্টেম নিয়ে এসেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মেডিক্যাল, সার্জিক্যাল, রেডিয়েশন, হেমাটো-অনকোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে Digital PET CT, অনকো-প্যাথলজি, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদ এবং প্রতিটি বিভাগে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সমস্ত ধরনের পরিষেবা রয়েছে।”নবনির্মিত মডুলার OT-গুলি শীঘ্রই চালু হবে এবং রোবোটিক সিস্টেমগুলি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর ও রোগী পরিষেবার জন্য উন্মুক্ত।পূর্ব ভারতে রোবোটিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা এবং অত্যাধুনিক ৬টি OT সংযোজন-সহ আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টার কথা আপনাদের সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আশাবাদী।
কলকাতা, সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষকাল ২০২৬ (National Eye Donation Fortnight)-এর অঙ্গ হিসেবে, দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক ‘ড্র ফর সাইট’ নামে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। স্কুল পড়ুয়াদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং চক্ষুদান ও দৃষ্টিশক্তি প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সংবেদনশীল করে তোলাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত দিশা আই হসপিটালস-এর প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই উদ্যোগটি খুদে অংশগ্রহণকারীদের চক্ষুদান, দৃষ্টিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মাধ্যমে জীবনে যে পরিবর্তন আসে—তা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি সৃজনশীল মঞ্চ করে দেয়। শিল্পকলা ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি চক্ষুদান নিয়ে অর্থবহ আলোচনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালিয়েছে। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ ছিল: প্রথম বিভাগে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং দ্বিতীয় বিভাগে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরে এবং চক্ষুদান বিষয়ক বিষয়বস্তুকে (থিম) ফুটিয়ে তোলে।
দিশা আই হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “কাউকে দৃষ্টিশক্তি উপহার দেওয়া এবং পৃথিবীকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার অন্যতম অর্থবহ উপায় হলো চক্ষুদান। ‘ড্র ফর সাইট’-এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি এবং অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনে চক্ষুদান কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতে তাদের উৎসাহিত করতে চেয়েছি। এমন একটি অর্থবহ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পকলা এক শক্তিশালী ও ভাবপ্রকাশক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে চক্ষুদান বিষয়ক সচেতনতা প্রসারে এগিয়ে এসেছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় কলকাতার মোট ১৭টি স্কুলের ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে। দ্য নিউ টাউন স্কুল, লাইটিং লাইভস স্কুল, আইইএম (IEM) পাবলিক স্কুল, জি.ডি. গোয়েঙ্কা পাবলিক স্কুল, নারায়ণা স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (মেগাসিটি), হারমনি হাই স্কুল এবং লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস-সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও রঙিন চিত্রকর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে অংশ নেয়। ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি সৃজনশীলতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মতো জীবন-পরিবর্তনকারী উপহারের গুরুত্ব অনুধাবনে তরুণ প্রতিযোগীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
কলকাতা,৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক পরিকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মহাসড়ক, সেতু, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী-ইন-চার্জ ড. অজয় কুমার পোদ্দার।কলকাতার হিন্দুস্তান ক্লাবে Launcherz-এর উদ্যোগে এবং Maheshwari International Business Foundation (MIBF)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত “Road Infrastructure & Development in West Bengal” শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. অজয় কুমার পোদ্দার পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Infrusion Engineering Limited-এর চেয়ারম্যান শ্রী শঙ্করলাল আগরওয়াল এবং Orbit Group-এর চেয়ারম্যান শ্রী বসন্ত কুমার পারখ। সম্মেলনে Launcherz-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রাজীব লোধাও অংশগ্রহণ করেন।
ড. অজয় কুমার পোদ্দার কলকাতার ইনার রিং রোড ও আউটার রিং রোড নির্মাণের প্রস্তাব, মহাসড়ক ও সেতুর সম্প্রসারণ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলি যানজট কমানো, যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী-ইন-চার্জ ড. অজয় কুমার পোদ্দার বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পরিকাঠামো উন্নয়নের এক নতুন যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে। কলকাতার জন্য একটি ইনার রিং রোড এবং একটি আউটার রিং রোড গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। বিশ্বমানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই কাজে যুক্ত করা হবে। আগামী দিনে নতুন সড়ক প্রকল্পগুলির সঙ্গে ইউটিলিটি করিডর সংযুক্ত করার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে বারবার রাস্তা খুঁড়তে না হয় এবং সড়কের ক্ষতি রোধ করা যায়। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, টেকসই ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতি এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য একটি আরও শক্তিশালী ও সুসংযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। একসঙ্গে আমরা বাংলাকে ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অগ্রভাগে তার যথাযথ স্থানে ফিরিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
Launcherz-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রী রাজীব লোধা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হল পরিকাঠামো। এই সম্মেলন সরকার ও শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশীদারদের মধ্যে মতবিনিময়, চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজে দেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের অর্থবহ আলোচনা বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করতে, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এবং আরও শক্তিশালী, সুসংযুক্ত ও প্রগতিশীল বাংলা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
এই সম্মেলনে সরকার, পরিকাঠামো, ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা ও শিল্পক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশীজন একত্রিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণ, টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির মতো বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল নীতিনির্ধারক, শিল্পনেতা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রের অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং পশ্চিমবঙ্গে সড়ক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য বাস্তবসম্মত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকায়, এই আলোচনায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলিও চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়।
কলকাতা,৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ভারত। সুদেষ্ণা বিকন অফ হোপ (এসবিওএইচ) আগামী শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০টা থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত কলকাতার মহানায়ক উত্তম মঞ্চে ‘এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬ মেলোডিস অফ হোপ’ উপস্থাপন করবে। এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত মোট আয় ঠাকুরপুকুরের সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে (এসজিসিসিঅ্যান্ডআরআই) অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য সহায়তা করবে।
২০১৬ সালে SBOH-এর যাত্রা শুরুর ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ১১তম বার্ষিক কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কলকাতা এবং ওয়াশিংটন, ডি.সি. এলাকায় কনসার্ট আয়োজনের মাধ্যমে SBOH একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে শিল্পী, দর্শক এবং সমর্থকদের একত্রিত করেছে। গত এক দশকে, এটি SGCC&RI-কে ৬০ লক্ষ টাকারও বেশি অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ক্যান্সার গবেষণাকেও সহায়তা করেছে, যার মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (IARC)-এর সহযোগিতায় SGCC&RI দ্বারা পরিচালিত একটি শিশু ক্যান্সার গবেষণাও অন্তর্ভুক্ত।
২০১৩ সালে ক্যান্সারে মারা যাওয়া সুদেশনার স্মরণে এসবিওএইচ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যা একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসাবে শুরু হয়েছিল, তা এখন শিশুদের চিকিৎসা পেতে সাহায্য করা এবং রোগী ও তাদের পরিবারকে এই আশ্বাস দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়েছে যে তারা একা নন। সুদেশনার স্বামী এবং এসবিওএইচ-এর প্রতিষ্ঠাতা সুভাসিষ ঘোষ বলেন, “সুদেশনা বিকন অফ হোপ-এর জন্ম হয়েছিল একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এটি আশার এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সঙ্গীতের মাধ্যমে আমরা চাই, ক্যান্সারের মুখোমুখি প্রতিটি শিশু ও পরিবার যেন তাদের পাশে থাকা একটি সম্প্রদায়ের শক্তি অনুভব করতে পারে। প্রতিটি অবদান এবং পরিবেশিত প্রতিটি সুর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হয়ে ওঠে।”
এই কনসার্টে দুই কিংবদন্তী সুরকার এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের সঙ্গীতকে উদযাপন করা হবে, যাঁদের কাজ আজও ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতকে প্রভাবিত করে চলেছে। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন যোজো মুখার্জি, মনময় ভট্টাচার্য, হৃচা দেবরাজ, স্বর্ণালী বসু এবং দেবমাল্য চট্টোপাধ্যায়। জ্যাজ কণ্ঠশিল্পী সুচেতা সান্যাল তরুণ শিল্পী রোহিণী ভোস দেসাই, শ্লোকা সুব্রহ্মণিয়াম এবং সুদেষ্ণা ও সুবশিষ ঘোষের পুত্র, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক গায়ক-গীতিকার ও গিটারিস্ট শোহান ঘোষের সাথে আইকনিক পাশ্চাত্য ক্লাসিক পরিবেশন করবেন। পুরস্কার বিজয়ী সঙ্গীতশিল্পীদের একটি দল গায়কদের সঙ্গ দেবে।
এই সন্ধ্যায় আরও উপস্থিত থাকবেন অঞ্জলি রায়, যিনি ক্যান্সার থেকে সেরে উঠেছেন এবং ১৪ বছর বয়সে এই রোগে একটি পা হারানোর পরেও নাচের প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে অনুসরণ করে গেছেন। জনপ্রিয় সকালের অনুষ্ঠান ‘গুড মর্নিং আকাশ’-এর সঞ্চালিকা ও টেলিভিশন অ্যাঙ্কর মৌনিতা মুখার্জি চট্টোপাধ্যায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন। এসজিসিসিঅ্যান্ডআরআই একটি জনহিতকর ক্যান্সার হাসপাতাল, যা রোগীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর শিশু-কেন্দ্রিক সুবিধাগুলো, যার মধ্যে খেলার জায়গা এবং একটি খেলনা ট্রেন রয়েছে, চিকিৎসার সময় ছোট রোগীদের আনন্দ ও মানসিক সমর্থনের মুহূর্ত প্রদান
কলকাতা, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি সংস্থা, বোর্ড অফ প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং, পূর্বাঞ্চল (বিওপিটি(ইআর), কলকাতা), আজ কলকাতায় আঞ্চলিক শিক্ষানবিশ দিবস ২০২৬ উদযাপন করেছে। “এনএটিএস-এর মাধ্যমে এমএসএমই-দের ক্ষমতায়ন: কাঠামোগত শিক্ষানবিশির মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা” এই মূলভাবকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয় এবং এতে শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত কর্মশক্তির জন্য যুবকদের ক্ষমতায়নে জাতীয় শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের (এনএটিএস) ভূমিকার উপর আলোকপাত করা হয়। জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০-এর উদ্দেশ্যগুলির সাথে সঙ্গতি রেখে, এই কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলিকে (এমএসএমই) সহায়তা করা এবং আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে কাঠামোগত শিক্ষানবিশির ভূমিকার উপরও আলোকপাত করা হয়।
ডঃ বুদ্ধ চন্দ্রশেখর, সিওও, এনইএটি-এআইসিটিই, নয়াদিল্লি; শ্রী দিবাকর চন্দ্র ডেকা, উপাচার্য, মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক অমরেন্দ্র কুমার দাস, উপাচার্য, তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক ডঃ এন কে আগরওয়াল, পরিচালক, উচ্চশিক্ষা বিভাগ, বিহার সরকার; এঁদের সঙ্গে ডঃ এস. এম. এজাজ আহমেদ, পরিচালক, বোর্ড অফ প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (পূর্ব অঞ্চল), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ভারত সরকার, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সংবাদমাধ্যমকে সম্বোধন করেন।
বিওপিটি(ইআর) এনএটিএস-এর মাধ্যমে স্নাতক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য শিক্ষানবিশির সুযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে, যা তাদেরকে শিল্পক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের যোগ্যতা উন্নত করতে সক্ষম করে। অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ, বিওপিটি(ইআর) এনএটিএস কর্মসূচির অধীনে ১,৪৫,৪৪৯ জন শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১,১৫,১৯৩ জন শিক্ষানবিশ তাদের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করার পর কর্মসংস্থান লাভ করেছেন, যা মোট প্রশিক্ষিত শিক্ষানবিশের প্রায় ৭৯%।
আঞ্চলিক শিক্ষানবিশ দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য হলো স্নাতক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের এগিয়ে আসতে এবং বর্তমান শিল্পের চাহিদা মেটাতে ও তাদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা উন্নত করার জন্য দক্ষতা বাড়াতে উৎসাহিত করা। দেখা গেছে যে, প্রশিক্ষণ শেষে ১,১৫,১৯৩ জন শিক্ষানবিশ হয় একই শিল্প প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অথবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন,” যোগ করেন ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অফ প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (পূর্ব অঞ্চল)-এর পরিচালক ডঃ এস.এম. এজাজ আহমেদ।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য, বিওপিটি(ইআর) এনএটিএস কর্মসূচির অধীনে প্রায় ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই অর্থবর্ষে সমস্ত বিওএটিএস/বিওপিটি জুড়ে প্রায় ৬ লক্ষ শিক্ষানবিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সামগ্রিক লক্ষ্যের এটি একটি অংশ। এই উদ্যোগটি “এনএটিএস-এর মাধ্যমে এমএসএমই-কে ক্ষমতায়ন: কাঠামোগত শিক্ষানবিশির মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা” এই মূলভাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষানবিশির সুযোগ শক্তিশালী করা এবং একটি দক্ষ ও শিল্প-প্রস্তুত কর্মশক্তির মাধ্যমে এমএসএমই-কে সহায়তা করা।
NILERD-এর প্রতিবেদন অনুসারে, NATS-এর অধীনে শিক্ষানবিশি সম্পন্নকারী প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ এক বছর পর স্থায়ী চাকরি লাভ করেন। এই ফলাফলগুলো স্নাতক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা প্রদান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ উন্নত করার ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশি প্রশিক্ষণের ভূমিকা তুলে ধরে। [23:11, 7/9/2026] Gautam Mukherjee: জাতীয় শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ প্রকল্প (NATS) বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে স্নাতক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রদান করে। এই কর্মসূচি শিক্ষানবিশদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বিকাশে সক্ষম করে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যেকার ব্যবধান পূরণে সহায়তা করে।
বিওপিটি(ইআর) ছাত্রছাত্রী এবং স্নাতকদের শিক্ষানবিশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানকারী শিল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত করার জন্য সারা বছর ধরে শিক্ষানবিশ-সহ-চাকরি মেলারও আয়োজন করে আসছে। এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো দক্ষ তরুণ এবং শিল্পের চাহিদার মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা।
আঞ্চলিক শিক্ষানবিশ দিবস ২০২৬-এ এনইপি ২০২০-এর রূপকল্পের সাথে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণের সামঞ্জস্যের উপরও জোর দেওয়া হয়, বিশেষ করে দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির উপর এর গুরুত্বারোপের বিষয়টিকে। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী, স্নাতক এবং ডিপ্লোমাধারী প্রকৌশলীকে শিক্ষানবিশির সুযোগ গ্রহণ করতে এবং পরিবর্তনশীল কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপটের সাথে প্রাসঙ্গিক দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করা।