তিনটে নতুন শোরুম খুলে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের উপস্থিতি সম্প্রসারিত করল মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস |

কলকাতা ,মার্চ ২৮, ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আজ তিনটে নতুন শোরুম উদ্বোধন করল মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস। এর ফলে রাজ্যে তার উপস্থিতি আরও জোরদার হল এবং ভিআইপি রোড, শ্রীরামপুর, কাঁচরাপাড়া আর কলকাতায় মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের গয়নার সম্ভার আরও বেশি মানুষের নাগালে এসে গেল। এই লঞ্চগুলোর মাধ্যমে এই ব্র্যান্ডের নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের ১০ খানা শোরুম, যা এই অঞ্চলের বিশ্বস্ত খুচরো গয়না বিক্রেতা হিসাবে তার অবস্থান আরও জোরদার করল।এই রাজ্যের অষ্টম স্টোর হল শ্রীরামপুরের শোরুম। এর উদ্বোধন হল ২৭ মার্চ। ২৮ মার্চ লঞ্চ হল পশ্চিমবঙ্গের নবম ও দশম আউটলেট, কাঁচরাপাড়া ও ভিআইপি রোড শোরুম। তিনটে শোরুমেরই উদ্বোধন করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্রাভিনেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর রুক্মিণী মৈত্র। উপস্থিত ছিলেন মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অমিত রাউত, বিজনেস হেড – ইস্ট রিজিয়ন এবং তহসিল আহমেদ, রিজিওনাল হেড – ইস্ট রিজিয়ন। সঙ্গে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যরা।

প্রত্যেকটা শোরুম ডিজাইন করা হয়েছে ক্রেতাকে একটা সুগঠিত ও বন্ধুত্বপূর্ণ খুচরো কেনাকাটার পরিবেশ জোগানোর জন্য। এগুলোর লেআউট এমন যে সহজে হাঁটাচলা করা যায়, পণ্যের ডিসপ্লে স্পষ্ট এবং প্রত্যেকের জন্য আলাদা রকমের ক্রেতা সহায়তা রয়েছে। মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের আন্তর্জাতিক খুচরো ব্যবসার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি এই শোরুমগুলোতে সোনা, হীরে, প্ল্যাটিনাম এবং মূল্যবান রত্নের বিস্তৃত সম্ভার এক জায়গায় আনা হয়েছে। ফলে সাবেকি ও আধুনিক— দুরকম পছন্দের মানুষই এখানে সমাদৃত হবেন।এই শোরুমগুলোতে আছে গয়নার বহু বিচিত্র সম্ভার। তার মধ্যে আছে বিয়ের কনের গয়না, অনুষ্ঠানভিত্তিক সম্ভার, উৎসবে পরার মত গয়না, দৈনন্দিন গয়নার ডিজাইন এবং সমসাময়িক স্টাইল। হীরে, না-কাটা হীরে, রত্ন, হাতে তৈরি সোনার জিনিস এবং পলকাটা গয়নার সিগনেচার গয়না কারিগরি, ডিজাইন ডিটেইলিং আর ক্রেতাদের বদলাতে পছন্দের মধ্যে ভারসাম্যের সূচক।এই লঞ্চ সম্পর্কে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের পক্ষ থেকে এম পি আহমেদ, চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ, বললেন “মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের জন্য পশ্চিমবঙ্গ হল অন্যতম প্রধান বাজার, যেখানে ক্রেতারা ডিজাইন আর গুণমান— দুটোকেই গুরুত্ব দেন। এই তিনটে শোরুম আমাদের একাধিক এলাকা জুড়ে বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করার সুযোগ দেবে এমন এক পরিবেশে, যা সুগঠিত, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আমাদের আন্তর্জাতিক খুচরো ব্যবসার মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।”

WhatsApp Image 2026 03 29 at 20.10.28

শোরুমে আসা ক্রেতারা স্বচ্ছ দাম নির্ধারণ, পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন, HUID অনুযায়ী তৈরি সোনার গয়না, সার্টিফায়েড হীরে, ওয়ান ইন্ডিয়া ওয়ান গোল্ড রেট নীতি আশা করতে পারেন। ফলে সারা ভারতে সোনার একই দাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। ক্রেতারা তিনটে শোরুমেই এক্সক্লুসিভ অক্ষয় তৃতীয়া অ্যাডভান্স বুকিং অফারের সুবিধা পাবেন, ফলে উৎসবের হুড়োহুড়ি পড়ে যাওয়ার আগেই সোনা কেনা নিশ্চিত করতে পারবেন। এই ব্র্যান্ড গয়না বানানোর মজুরি শুরু করছে ৪.৯% থেকে, পাশাপাশি আছে পুরনো সোনার বিনিময়ে ০% টাকা কেটে নেওয়া। ফলে যেসব ক্রেতা এই শুভ দিনগুলোতে গয়নার আপগ্রেড করতে চাইছেন বা গয়নার লগ্নি করতে চাইছেন, তাঁদের আরও বেশি মূল্য এবং স্বচ্ছতা দেওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।এই লঞ্চগুলোর মাধ্যমে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করা চালু রাখল। এর ফলে তার খুচরো ব্যবসা ফরম্যাট স্থানীয় ক্রয় অভ্যাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকল, পাশাপাশি গুণমান, স্বচ্ছতা ও পরিষেবার মানের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকল।

Related Posts

ভারত এবং থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ভারতে মিলবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার।
  • July 30, 2026

কলকাতা, ২৯ জুলাই: ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইলেকট্রিক মোবিলিটি) খাতে ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎপাদন-সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার, কলকাতা-ভিত্তিক সংস্থা ‘মার্কস্টোন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড’ (মার্কস্টোন ইভি) এবং থাইল্যান্ডের ‘আসারা ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড’ ভারতে বৈদ্যুতিক স্কুটার উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকার পর্যায়ক্রমিক বিনিয়োগ করা হবে। সারা ভারত জুড়ে ব্যবসার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবে প্রথম উৎপাদন কেন্দ্রটি পশ্চিমবঙ্গে স্থাপন করা হবে।এই উপলক্ষে, সংস্থার প্রধান বৈদ্যুতিক স্কুটারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থমন্ত্রী ড. স্বপন দাশগুপ্ত এবং শ্রম ও পরিবহন বিভাগের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শ্রী অর্জুন সিং। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, শিল্পক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল।এই যৌথ উদ্যোগটি ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের সূচনা করছে, যার লক্ষ্য হলো ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহন উৎপাদনের একটি সমন্বিত বাস্তুতন্ত্র (ইকোসিস্টেম) গড়ে তোলা। এই অংশীদারিত্বের আওতায়, ‘আসারা ইলেকট্রিক কোম্পানি লিমিটেড’ উন্নত প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ‘মার্কস্টোন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড’ উৎপাদনের পরিকাঠামো ও সম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ করবে। এছাড়াও, সারা ভারত জুড়ে উৎপাদন, পরিচালন, বিপণন, বিক্রয় এবং বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবার বিষয়টিও তারা দেখাশোনা করবে।

WhatsApp Image 2026 07 29 at 17.57.28

এই প্রস্তাবিত উদ্যোগটি মূলত অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক স্কুটার উৎপাদন, সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) এবং বিতরণের ওপর গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি, এটি সারা দেশে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী, প্রযুক্তিগত সহযোগী, ডিলারশিপ, পরিষেবা কেন্দ্র এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ক নিয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই প্রকল্পের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এমন এক সময়ে এই বিনিয়োগটি আসছে যখন ভারত তার টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, পণ্য উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে শিল্প-সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসাথে, এটি পরিবেশ-বান্ধব বা ‘ক্লিন মোবিলিটি’ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতকে একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।২০২০ সালে গঠিত ‘মার্কস্টোন ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড’ ইতিমধ্যেই ব্যারাকপুরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কাছে একটি উৎপাদন ও গুদামজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের জন্য ‘নবারন্দ’-এ আরও একটি স্থান চিহ্নিত করেছে। সারা ভারত জুড়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি ধাপে ধাপে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে। তাদের পণ্যের তালিকায় থাকবে স্মার্ট ও কানেক্টেড ইলেকট্রিক স্কুটার, যাতে ব্লুটুথ-ভিত্তিক ভেহিকেল ট্র্যাকিং, আইওটি (IoT)-ভিত্তিক চুরি-প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্মার্টফোন ইন্টিগ্রেশন, চাবি-বিহীন স্টার্ট (keyless start), ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্টেশন, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক অ্যাসিস্টেড ব্রেকিং সিস্টেম (EABS), ওয়াটারপ্রুফ মোটর এবং উন্নত তাপ ব্যবস্থাপনা (thermal management) ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জাতীয় পর্যায়ে ব্যবসার প্রসারের কৌশলের অংশ হিসেবে, মার্কস্টোন ইভি (Mercstone EV) সারা ভারত জুড়ে একটি শক্তিশালী ডিলারশিপ, বিতরণ এবং বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে, যাতে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা এবং পণ্যের দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, উদ্যোক্তারা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক চার-চাকার গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বার্ষিক ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার টার্নওভার অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের পরিসর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করতে চান।শিল্প সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কস্টোন ও আসারা (Assara)-র এই অংশীদারিত্ব ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সাথে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতার এক অনন্য সমন্বয় ঘটাচ্ছে। আগামী দশকে ভারতের ইভি (EV) বাজারের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে, এই যৌথ উদ্যোগটি দেশের পরিবেশ-বান্ধব পরিবহন বা ‘ক্লিন মোবিলিটি’-র লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার পাশাপাশি একটি প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Continue reading
অম্বুজা নিওটিয়া আয়োজিত নবম চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা |
  • June 28, 2026



কলকাতা, ২৬ জুন: অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ এবং চার্লস কোরিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সিটি সেন্টার সল্টলেকের ‘রয়্যাল বেঙ্গল রুম’-এ অনুষ্ঠিত হলো নবম ‘চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা’। স্থাপত্য, নতুন ভাবনা এবং সৃজনশীল ঐতিহ্যের প্রতি নিবেদিত এই সন্ধ্যায় স্থপতি, শিক্ষার্থী, নকশা-বিশেষজ্ঞ এবং চিন্তাবিদগণ একত্রিত হয়েছিলেন।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি চার্লস কোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত এই বার্ষিক বক্তৃতা-মালাটি নকশা, নগর-পরিকল্পনা এবং জনজীবন গঠনে স্থাপত্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এ বছরের মূল বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি মারলন ব্ল্যাকওয়েল; ভূ-প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রেখে কাজ করার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নিওটিয়া, মধু নিওটিয়া, মারলন ব্ল্যাকওয়েল এবং স্থাপত্য জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। হর্ষবর্ধন নিওটিয়া উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং মারলন ব্ল্যাকওয়েলের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ব্ল্যাকওয়েল তাঁর নকশা-দর্শন ও পেশাগত যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর অত্যন্ত প্রশংসিত কিছু কাজের নিদর্শন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে হর্ষবর্ধন নিওটিয়া বলেন, “চার্লস কোরিয়া কেবল একজন স্থপতিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব, যিনি স্থান, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারাকে বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর কাজ প্রমাণ করেছে যে, স্থাপত্য নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও মানুষের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রেখেও কীভাবে অত্যন্ত আধুনিক হয়ে উঠতে পারে। এই বক্তৃতা-মালার মাধ্যমে আমরা সেই চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই; এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাই যেখানে নতুন প্রজন্মের স্থপতি, নকশাকার এবং নগর-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান ঘটতে পারে।”

20260626

‘আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্টস’-এর ফেলো (FAIA), মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২০ এআইএ (AIA) গোল্ড মেডেল’-এর প্রাপক এবং আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক মারলন ব্ল্যাকওয়েল সমসাময়িক স্থাপত্যের জগতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তাঁর প্রতিষ্ঠান ২১৫টিরও বেশি নকশা-পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে; তাঁর প্রকল্পগুলোতে মানুষ, স্থান এবং উদ্দেশ্যকে নকশার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। চার্লস কোরিয়ার কথা স্মরণ করে ব্ল্যাকওয়েল বলেন, “চার্লস কোরিয়া এমন একটি বিষয় অনুধাবন করেছিলেন যা আয়ত্ত করতে অনেক স্থপতিই তাঁদের সারা জীবন ব্যয় করেন—আর তা হলো, সবচেয়ে অর্থবহ ভবনগুলো আসলে সেগুলোর বাসিন্দাদেরই। তাঁর স্মৃতিতে এবং তাঁর কর্মময় ঐতিহ্যকে উদযাপনকারী এই শহরে বক্তব্য রাখা আমার জন্য একাধারে সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়।”
এই বক্তৃতা আয়োজনের শুরু থেকেই যাঁরা এতে বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন, ব্ল্যাকওয়েল তাঁদের সেই বিশিষ্ট তালিকায় যুক্ত হলেন। এর আগের আয়োজনগুলোতে বিশ্বখ্যাত স্থপতিরা অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিটার স্টাচবেরি, আন্দ্রা মাতিন, বৃন্দা সোমায়া, বিভূতি মান সিং, সি. আঞ্জালেনদ্রান, কে.টি. রবীন্দ্রন, সঞ্জয় মোহে, ইয়ুং হো চ্যাং, কাশেফ চৌধুরী, উদয় জোশি, রিচার্ড হ্যাসেল, কামাল হাদকার, সোলানো বেনিতেজ এবং রাহুল মেহরোত্রা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত স্থপতি, লেখক ও প্রধান আয়োজক আশিস আচার্যি, যিনি জয়পুরের জওহর কলা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব প্রকল্পে চার্লস কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ব্ল্যাকওয়েলের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আচার্যি বলেন, “ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা, প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন তিনি যে নিপুণ দক্ষতায় ঘটান এবং সবকিছুকে যেভাবে একীভূত করেন—তাই তাঁর স্থাপত্যশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।”

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

১০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় |

১০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় |

ভারত এবং থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ভারতে মিলবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার।

ভারত এবং থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ভারতে মিলবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার।

আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন পরিচয়ের সূচনা

আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন পরিচয়ের সূচনা

সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |

সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি.লিট. সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের সমাবর্তন উদযাপন করল।

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি.লিট. সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের সমাবর্তন উদযাপন করল।

নেতাজির অন্তর্ধানের রহস্য নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলো ‘দ্য বোস ফাইলস – সচ ইয়া সাজিশ’|

নেতাজির অন্তর্ধানের রহস্য নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলো ‘দ্য বোস ফাইলস – সচ ইয়া সাজিশ’|