মোক্ষদা একাদশীতে গীতা জয়ন্তী পালন


১ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ছ’টায় শতাব্দি প্রাচীন হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চে গীতা জয়ন্তী পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল দেবলোক সোসিও-কালচারাল ফাউন্ডেশন ও হাওড়া সংস্কৃত সাহিত্য সমাজ। আচার্য অনুভব হাজরার তত্ত্বাবধানে শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার সম্পূর্ণ তৃতীয় অধ্যায়ের পাঠ ও অনুপাঠ হয়, একইসঙ্গে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন পেশার মানুষ এই দিন একত্রে গীতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি রূপে উপস্থিত ছিলেন দুই যোগ ব্যক্তিত্ব ইন্দ্ররূপ রায়চৌধুরী ও কিরণ মন্ডল। গীতা পাঠ ছাড়াও বৈদিক মন্ত্র, সঙ্গীত ও গীতার মাহাত্ম্য কথন অনুষ্ঠিত হয়। মোক্ষদা একাদশীর পুণ্য তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তথা সমগ্র মানব সম্প্রদায়কে গীতার উপদেশ প্রদান করেছিলেন। ঘরে ঘরে গীতা পাঠের প্রচার প্রসার ও গীতাকে অনুসরণ করে জীবনাচরণের বার্তা পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের কোনায় কোনায় পৌঁছে দিতে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। কারণ গীতাই পারে মানুষের জীবনের প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে এবং মানুষকে শান্তির পথে পরিচালিত করতে।

Whatsapp image 2025 12 04 at 10.21.43
  • Related Posts

    এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি আয়োজন করল ‘দিওয়ালি মেলা ২.০’|
    • November 8, 2026


    কলকাতা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬:
    উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টিকে এক নতুন ও উৎসবমুখর রূপ দিয়ে, এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি তাদের শিক্ষার্থীদের ‘ইয়াং এন্টারপ্রেনার্স দিওয়ালি মেলা ২.০’-এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক জগতের মুখোমুখি দাঁড় করাল। এই আয়োজনটি দিওয়ালির আনন্দকে এক আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছে, নিজেদের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে এবং নিজস্ব উদ্যোগ পরিচালনার রোমাঞ্চ অনুভব করেছে।
    অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী ও পরিবেশনাকারী দীপান্বিতা আচার্য, যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ‘শ্রী শ্বেতাম্বর স্থানকবাসী জৈন সভা’-র প্রবীণ সদস্য ও ট্রাস্টি শ্রী অশোক মিন্নি। তাঁর উপস্থিতি শিক্ষা, মূল্যবোধ এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উক্ত সভার অবিচল অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে। এই মেলা শিক্ষার্থীদের কেবল দিওয়ালি উদযাপনের সুযোগই দেয়নি, বরং তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি সরাসরি হাতে-কলমে বোঝার, নিজেদের ধারণার দায়িত্ব নেওয়ার এবং একটি উদ্যোগ পরিচালনার খুঁটিনাটি জানার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজেদের স্টল ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসার প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখেছে, ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সৃজনশীলতা, দলগত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠকে বাস্তব জগতের প্রেক্ষাপটে নিয়ে আসার ফলে, এই উদ্যোগটি শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে।
    এই দিওয়ালি মেলার সবচেয়ে বিশেষ দিকটি ছিল সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বা সমাজসেবার ভাবনা। ‘শ্রী শ্বেতাম্বর স্থানকবাসী জৈন সভা’-র জনহিতকর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে, এই মেলা থেকে প্রাপ্ত অর্থ ‘হোপ ফাউন্ডেশন’ (Hope Foundation)-কে দান করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দিওয়ালি উদযাপনকে আরও আনন্দময় করে তোলার লক্ষ্যেই এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিবেশনায় এই মেলা পুরো স্কুল কমিউনিটিকে এক সুতোয় গেঁথেছে, যেখানে অভিভাবকরাও উৎসবে শামিল হয়েছেন। ‘হোপ ফাউন্ডেশন’-এর শিশুরাও একটি বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা কেবল ব্যবসার বিষয়েই শিখছে না, বরং অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার গুরুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে উঠছে। এই অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, উদ্যোগ নিতে এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আরও ভালো ধারণা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে; পাশাপাশি এটি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও অন্যদের দেওয়ার (পরোপকারের) মনোভাবকে একত্রিত করে।
    এই উদ্যোগ সম্পর্কে এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি (SPK Jain Futuristic Academy)-এর অধ্যক্ষ ড. জয়িতা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমিতে আমরা বিশ্বাস করি যে, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কিছু শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের বাইরের অভিজ্ঞতা থেকেই পাওয়া যায়। ‘ইয়াং এন্টারপ্রেনার্স দিওয়ালি মেলা’ (Young Entrepreneurs’ Diwali Mela) আমাদের শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব ধারণাগুলো যাচাই করার, ব্যবসার মৌলিক বিষয়গুলো বোঝার এবং দলগত কাজ, দায়িত্ববোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এই উদ্যোগটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে যে বিষয়টি তা হলো—এটি শিশুদের অন্যদের দেওয়ার আনন্দ অনুভব করার সুযোগ দেয় এবং তারা বুঝতে পারে যে, তাদের ছোট ছোট প্রচেষ্টাও অন্যদের জীবনে কতটা সুখ বয়ে আনতে পারে।” এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমির সচিব শ্রী জয়দীপ পাটওয়া আরও বলেন, “এই মেলাটি ‘শ্রী শ্বেতাম্বর স্থানকবাসী জৈন সভা’-র মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা বুঝুক যে, সাফল্য মানে কেবল নিজের জন্য কিছু অর্জন করা নয়, বরং অন্যদের জন্য কী করা যায়, তাও সাফল্যের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ‘হোপ ফাউন্ডেশন’ (Hope Foundation)-কে সহায়তা করার মধ্য দিয়ে আমরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করতে চাই।”
    উৎসবমুখর পরিবেশে মেলার সমাপ্তি ঘটলেও, এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি আনন্দময় স্মৃতির চেয়েও বেশি কিছু রেখে গেছে। অংশগ্রহণকারী খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ছিল উদ্যোক্তা জগতের এক ঝলক—যেখানে তাদের ধারণাগুলো বাস্তবে রূপ নিয়েছে এবং ছোট ছোট উদ্যোগগুলো দিয়েছে বড় বড় শিক্ষা। ‘ইয়াং এন্টারপ্রেনার্স দিওয়ালি মেলা ২.০’ (Young Entrepreneurs’ Diwali Mela 2.0) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের সবচেয়ে অর্থবহ শিক্ষাগুলো তখনই শুরু হয়, যখন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু অন্বেষণ করার, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর এবং নেতৃত্ব দেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া হয়।
    এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি সম্পর্কে
    কলকাতার নিউটাউনে অবস্থিত এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি একটি শীর্ষস্থানীয় কে-১২ (K–12) সহ-শিক্ষামূলক ডে-স্কুল। এটি ক্যামব্রিজ আইজিসিএসই (Cambridge IGCSE) এবং সিবিএসই (CBSE)—এই দুই ধরনের পাঠ্যক্রমের সমন্বয়ে একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে। এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যতের উপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতি। ‘শ্রী শ্বেতাম্বর স্থানকবাসী জৈন সভা’ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমিটি অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষা (experiential learning), বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে, এই বিদ্যালয়টি তরুণ শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলে যাতে তারা ভবিষ্যতের কৌতূহলী, সহানুভূতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী নেতা হয়ে উঠতে পারে।

    Continue reading
    দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র
    • October 20, 2026

    কলকাতা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: ভারতের স্বাধীনতার প্রায় আট দশক অতিক্রান্ত। তবুও স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অধ্যায় আজও সমগ্র জাতির চেতনা, আবেগ ও কৌতূহলের গভীরে জীবন্ত— নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান রহস্য ।ইতিহাস কি আমাদের সব কথা জানিয়েছে? নাকি এমন কিছু প্রশ্ন আজও অনুত্তরিত রয়ে গেছে, যাদের উত্তর খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা দেশচলচ্চিত্রটির যাত্রাপথে আরও একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হিসেবে, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কলকাতার নন্দনে ‘দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। নেতাজির জীবন, তাঁর অন্তর্ধানকে ঘিরে থাকা প্রশ্ন এবং তাঁর অমলিন উত্তরাধিকারকে দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরার পথে এই প্রদর্শনী এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যময় এই অধ্যায়কে কেন্দ্র করেই পরিচালক রাজেশ গুপ্ত (আইআইটি-র প্রাক্তনী) নিয়ে আসছেন ঐতিহাসিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র’ । শক্তিশালী কাহিনিবিন্যাস এবং সমকালীন অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে এই চলচ্চিত্র ফিরে দেখতে চায় নেতাজির অন্তর্ধানকে ঘিরে থাকা সেই প্রশ্নগুলিকে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতবাসীর মনে আলোড়ন তুলে চলেছে।

    বিভিন্ন নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং পরস্পরবিরোধী ঐতিহাসিক বক্তব্যের ভিত্তিতে চলচ্চিত্রটি ১৯৪৫ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যুর বহুল প্রচলিত বিবরণকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলির অনুসন্ধান করে। পাশাপাশি, তথ্য গোপন করার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও উঠে আসে নানা প্রশ্ন।

    এই যাত্রার উদ্দেশ্য কেবল একটি ঐতিহাসিক রহস্যের পুনরাবৃত্তি নয়। বরং নেতাজির অসামান্য ব্যক্তিত্ব, তাঁর অদম্য সাহস, তাঁর স্বপ্ন এবং তাঁর উত্তরাধিকারের প্রতি মানুষের আগ্রহকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা। একই সঙ্গে, নেতাজির অন্তর্ধানকে ঘিরে আজও যে প্রশ্নগুলির উত্তর অধরা, সেগুলিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানায় এই চলচ্চিত্র।

    চলচ্চিত্রে প্রখ্যাত অভিনেতা যতীন কার্যেকর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকায় এবং অমিত বহল গোয়েন্দা দপ্তরের এক আধিকারিকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এছাড়াও বীরেন্দ্র সাক্সেনা, অখিলেন্দ্র মিশ্র, অপূর্বা অরোরা, আকাশদীপ অরোরা, রাজীব কুমার এবং কাশ্বী গ্রোভার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

    বহু লেখকের নিবিড় গবেষণা ও অধ্যয়ন থেকে অনুপ্রাণিত এই চলচ্চিত্রটি দীর্ঘ ও বিশদ শংসাপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া অতিক্রম করে কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। বড় পর্দায় পৌঁছনোর দীর্ঘ যাত্রায় এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    এই চলচ্চিত্রের সৃজনশীল উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক প্রশান্ত সিংহানিয়া। ঐতিহাসিক অনুসন্ধান, জনপরিসরের প্রতিষ্ঠান এবং নেতাজির উত্তরাধিকারের চিরন্তন গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা এই উদ্যোগকে দিয়েছে এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি।

    চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশান্ত সিংহানিয়া বলেন:

    “এই চলচ্চিত্র এমন এক আদর্শকে মানুষের সামনে তুলে ধরার আন্তরিক প্রয়াস, যাঁর স্বপ্ন ছিল আগামী এক হাজার বছর ধরে একটি স্বাধীন ভারতকে গৌরবের সঙ্গে এগিয়ে যেতে দেখা। নেতাজিকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা মানে তাঁর চেতনা ও আদর্শকে পুনর্জাগরিত করা, যাতে দেশের তরুণ প্রজন্ম তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জাতীয়তাবাদের পথে এগিয়ে যেতে পারে। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বিস্মৃতির আড়ালে সরিয়ে দেওয়ার ফলে যে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের চিন্তা ও মধ্যমেধার আধিপত্য দিয়ে পূরণ করা হয়েছে।”

    এই কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে দুই প্রজন্মের দুই সত্যসন্ধানী—একটি রহস্য, আর সত্যের কাছে পৌঁছনোর অদম্য অঙ্গীকার।

    একজন গবেষক, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের অনুসন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। প্রায় একাকী, বছরের পর বছর ধরে তিনি খুঁজে চলেছেন সেই প্রশ্নগুলির উত্তর, যেগুলি আজও অস্পষ্টতার আড়ালে রয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, এক তরুণী। সত্যকে জানার অদম্য আকাঙ্ক্ষা তাকে চালিত করে। সে এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি—যে প্রজন্ম ইতিহাসকে কেবল মেনে নিতে চায় না, ইতিহাসের অনুচ্চারিত অধ্যায়গুলিকেও বুঝতে চায়, প্রচলিত বয়ানের ফাঁকগুলি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চায়।

    দুজনের যাত্রাপথ এক সময় এসে মিলিত হয়। কৌতূহল রূপ নেয় সংগ্রামে, প্রশ্ন পরিণত হয় সংকল্পে। আর সত্যের সন্ধান হয়ে ওঠে সাহস, ধৈর্য, অধ্যবসায় ও ন্যায়বিচারের এক আবেগঘন কাহিনি।

    পরিচালক রাজেশ গুপ্তের চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রায় এই ছবিটি আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাড্ডি বাডিজ’ এবং ‘ দ্য ফ্ল্যাট’ সম্মিলিতভাবে ১২টি পুরস্কার অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তাঁর পরিচালিত হিন্দি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনলক জিন্দগি’ (২০২২) নির্বাচিত হয়েছিল ১৩টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবং মিলান, মেক্সিকো ও বস্টনে শ্রেষ্ঠ কাহিনিনির্ভর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিল।

    চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে পরিচালক রাজেশ গুপ্ত বলেন:

    “এই চলচ্চিত্র কখনওই কেবল ইতিহাসকে নতুন করে দেখার প্রচেষ্টা ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল সেই প্রশ্নগুলিকে সামনে আনা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ করে এসেছে। আমরা এমন একটি কাহিনি তুলে ধরতে চেয়েছি, যা দর্শকদের ভাবতে, আত্মসমীক্ষা করতে এবং নিজেরাই সত্যের অনুসন্ধানে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছনো আমাদের প্রত্যেকের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও অর্থবহ একটি মুহূর্ত।”

    ‘দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র’ -এর মাধ্যমে রিয়েল রিলস প্রোডাকশন নেতাজির অসামান্য উত্তরাধিকার, ঐতিহাসিক স্মৃতির জটিলতা এবং কঠিন প্রশ্ন তোলার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে জাতীয় আলোচনার সূত্রপাত করতে চায়।

    এই চলচ্চিত্র বিশেষত তরুণ প্রজন্ম-সহ প্রত্যেক দর্শককে আহ্বান জানায়, যাঁরা ইতিহাসকে কেবল প্রচলিত বয়ান বা শোনা কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং ইতিহাসের বিভিন্ন দিককে বুঝতে চান এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই অধ্যায়ের মুখোমুখি হতে চান, যা আজও রহস্য, কৌতূহল ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

    কারণ, নেতাজি কেবল ইতিহাসের একটি নাম নন। তিনি একটি আদর্শ, একটি সংকল্প, একটি স্বাধীন ভারতের স্বপ্নের প্রতীক—যে স্বপ্নের জন্য অসংখ্য ভারতবাসী নিজেদের সর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন।

    তাঁর কাহিনি আজও আমাদের আহ্বান জানায়। তাঁর জীবনকে ঘিরে থাকা প্রশ্নগুলি আজও আমাদের তাড়া করে ফেরে। আর তাঁর উত্তরাধিকার আজও আমাদের সত্যের সন্ধান চালিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

    Continue reading

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    মিস করে যাওয়া

    এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি আয়োজন করল ‘দিওয়ালি মেলা ২.০’|

    এসপিকে জৈন ফিউচারিস্টিক একাডেমি আয়োজন করল ‘দিওয়ালি মেলা ২.০’|

    ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা QAI কর্তৃক একটি উন্নত স্ট্রোক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।অধ্যাপক আর পি সেনগুপ্ত ওবিই-কে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করে ‘এভরি মিনিট ম্যাটারস’-এর উদ্বোধন এবং স্বীকৃতি ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হলো।

    ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা QAI কর্তৃক একটি উন্নত স্ট্রোক কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।অধ্যাপক আর পি সেনগুপ্ত ওবিই-কে প্রধান পৃষ্ঠপোষক করে ‘এভরি মিনিট ম্যাটারস’-এর উদ্বোধন এবং স্বীকৃতি ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হলো।

    ৮ম ন্যাপকন ২০২৬ কলকাতা, ভারত ও বিদেশের শীর্ষস্থানীয় শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ একত্রিত হন তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনে পালমোনারি মেডিসিনের অগ্রগতি, উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণা এবং বহুমাত্রিক শ্বাসতন্ত্রীয় স্বাস্থ্যসেবার উপর আলোকপাত করতে।

    ৮ম ন্যাপকন ২০২৬ কলকাতা, ভারত ও বিদেশের শীর্ষস্থানীয় শ্বাসতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ একত্রিত হন তিন দিনব্যাপী  জাতীয় সম্মেলনে পালমোনারি মেডিসিনের অগ্রগতি, উদীয়মান প্রযুক্তি, গবেষণা এবং বহুমাত্রিক শ্বাসতন্ত্রীয় স্বাস্থ্যসেবার উপর আলোকপাত করতে।

    মণিপাল হসপিটালের উদ্যোগে “বি ফাস্ট” পদ্ধতি এবং স্ট্রোকের প্রাথমিক শনাক্তকরণের পক্ষে প্রচার অভিজান বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে|

    মণিপাল হসপিটালের  উদ্যোগে “বি ফাস্ট” পদ্ধতি এবং স্ট্রোকের প্রাথমিক শনাক্তকরণের পক্ষে প্রচার  অভিজান বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে|

    ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

    ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

    দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র

    দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র