আকাশ ইনস্টিটিউটের দুর্দান্ত সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের।

নিট ইউজি ২০২৫-এ আকাশের শিক্ষার্থীরা শীর্ষ ১০-এর মধ্যে ৫টি স্থান (এ আই আর ২, ৩, ৫, ৯ এবং ১০) অর্জন করেছে। এছাড়াও শীর্ষ ৫০-এ ১৮ জন এবং শীর্ষ ১০০-তে ৩৫ জন স্থান অর্জন করে জাতীয় স্তরে সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে।

Whatsapp image 2025 06 30 at 08.53.31

পশ্চিমবঙ্গেও ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য। রাজ্যে র‍্যাঙ্ক ১ এবং র‍্যাঙ্ক ২—দুজনই আকাশ-এর ছাত্র, এবং শীর্ষ ৫-এর মধ্যে ৪ জনই আকাশ-এর পশ্চিমবঙ্গের সেন্টার থেকে। রাজ্যের ১৮ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী শীর্ষ ১০০০-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিষ্ঠা এবং ছাত্রছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রমের ফলে প্রায় ১৫০ জন (সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে ১৪৭ জন) ছাত্রছাত্রী শীর্ষ ১০,০০০-এ জায়গা করে নিয়েছে এবং প্রায় ৪০০ জন শীর্ষ ৩৫,০০০-এর মধ্যে স্থান পেয়ে দেশের সেরা সরকারি মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রেও আকাশ-এর ধারাবাহিক সাফল্য বজায় ছিল। জেইই অ্যাডভান্সড-এ ২৯ জন ছাত্রছাত্রী শীর্ষ ১০০-তে এবং ৫১ জন শীর্ষ ৫০০-র মধ্যে র‍্যাঙ্কে পেয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ৫ জন ছাত্রছাত্রী শীর্ষ ১০০০-এ এবং ৫০ জন শীর্ষ ১০,০০০-এ নিজেদের র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছে।
এই অসাধারণ সাফল্যকে সম্মানিত করতে, এইএসএল আয়োজন করে তার বার্ষিক সম্মাননা অনুষ্ঠান ‘ব্যোম ২০২৫’, যা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ জুন ২০২৫, বিস্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার, নিউ টাউন, কলকাতা-য়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডার ডিরেক্টর শ্রী সঞ্জয় খেমকা, সম্মানীয় ডিরেক্টরস শ্রীমতি অম্বিকা খেমকা, শ্রী কুমার মঙ্গলম এবং শ্রী তিলক রাজ খেমকা।

Whatsapp image 2025 06 30 at 08.53.31 (1)

এই উপলক্ষে শ্রী সঞ্জয় খেমকা বলেন: “এই সাফল্য এইএসএল পরিবারও আমাদের সবার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। আকাশ-এ আমরা এমন শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে চাই যারা কঠিন সময়েও শান্ত, মনোযোগী এবং সমাধানমুখী থেকে এগিয়ে যেতে পারে। এই বছরের পরীক্ষার অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আমাদের ফলাফল আমাদের অ্যাকাডেমিক পদ্ধতির দৃঢ়তা, শিক্ষকদের নিষ্ঠা এবং ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে প্রমাণ করে। আমরা প্রতিটি কৃতী শিক্ষার্থীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই যারা আমাদের গর্বিত করেছে।”

আকাশ এডুকেশনাল সার্ভিসেস লিমিটেড (এইএসএল) হলো ভারতের প্রধান টেস্ট প্রিপারেশন প্রতিষ্ঠান, যা মেডিকেল (নিট), ইঞ্জিনিয়ারিং (জেইই) এবং এনটিএসই, অলিম্পিয়াডের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিস্তৃত কোচিং প্রদান করে।

দেশজুড়ে ৪০০-র ও বেশি সেন্টার এবং ৪ লাখের ও বেশি ছাত্র ছাত্রী নিয়ে এইএসএল গত ৩৬ বছরে একটি প্রভাবশালী বাজার অবস্থান গড়ে তুলেছে। প্রতিটি ছাত্রের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে এবং তাদের ক্যারিয়ারের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করতে এইএসএল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এইএসএল একটি ছাত্র কেন্দ্রিক দর্শন অনুসরণ করে—বিশ্বাস করি প্রতিটি ছাত্র ই আলাদা। উচ্চমানের শিক্ষকদের একটি টিম, আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি এবং টেকনোলজি-ভিত্তিক লার্নিং এনভায়রনমেন্ট এর সাহায্যে এইএসএল নিশ্চিত করে যে তার ছাত্র ছাত্রীরা ভবিষ্যতের জন্য সুসজ্জিত ও প্রস্তুত।

Whatsapp image 2025 06 30 at 08.53.32

Related Posts

১০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় |
  • July 30, 2026

কলকাতা, ২৮ জুলাই: দেশের ক্রমবর্ধমান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করল আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়। সেইসঙ্গে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স (জেসিবিএস সিওই) প্রতিষ্ঠা এবং ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পাঠক্রম চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এই শিল্পমুখী স্নাতক পাঠক্রমের লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের চিপ ডিজাইনার ও সেমিকন্ডাক্টর প্রকৌশলী তৈরি করা।শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এর আচার্য অধ্যাপক (ড.) সমিত রায়, উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস, ভিএলএসআই সোসাইটি অব ইন্ডিয়া-র সভাপতি ড. সত্য গুপ্ত, এইচসিএলটেক-এর এভিপি (ইঞ্জিনিয়ারিং আরঅ্যান্ডডি সার্ভিসেস) বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় এবং এম৩১ টেকনোলজি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট (টেকনিক্যাল মার্কেটিং) জয়ন্ত লাহিড়ী।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স উন্নত সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-সহযোগিতার এক সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এখানে শিক্ষার্থীরা বিশেষায়িত গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক মানের ইডিএ সফটওয়্যার, এফপিজিএ প্রোটোটাইপিং পরিকাঠামো, ইন্টার্নশিপ, বাস্তব শিল্প-প্রকল্প এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

WhatsApp Image 2026 07 28 at 16.04.08

চার বছরের ১৬২ ক্রেডিটের ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক পাঠক্রমটি শিল্পমহলের পরামর্শে তৈরি হয়েছে। এতে ভিএলএসআই ডিজাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক হার্ডওয়্যার অ্যাক্সিলারেটর, এফপিজিএ সিস্টেম, সিস্টেমভেরিলগ/ইউভিএম ভেরিফিকেশন, ফিজিক্যাল ডিজাইন, আইসি ফ্যাব্রিকেশন, স্ট্যাটিক টাইমিং অ্যানালিসিস, সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং এবং এমবেডেড সিস্টেমসহ গোটা সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ল্যাবভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শিল্প-প্রকল্প এবং ক্যাপস্টোন প্রকল্প।ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (আইএসএম) ২.০-এর আওতায় দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও চিপ ডিজাইনে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, ফ্যাব্রিকেশন, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং ক্ষেত্রে দক্ষ পেশাদারের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এর আচার্য অধ্যাপক (ড.) সমিত রায় বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু কর্মসংস্থানের উপযোগী স্নাতক তৈরি করা নয়। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পক্ষেত্রকে একত্রিত করে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ তৈরি হবে। আগামী দিনের গবেষক, উদ্যোগপতি এবং প্রযুক্তি-নেতৃত্ব গড়ে তুলেই ভারতকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে চাই।”উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস বলেন, “আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স শিল্প-চাহিদাভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠবে। শিল্পক্ষেত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণে পাঠক্রমটি তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তাঁরা দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের চাহিদা পূরণে সক্ষম হন।”

WhatsApp Image 2026 07 28 at 16.04.09 (1)

ভিএলএসআই সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. সত্য গুপ্ত বলেন, “সেমিকন্ডাক্টর বিজ্ঞানের ইতিহাসে বাংলার অবদান অনন্য। ১৮৯৮ সালে কলকাতাতেই আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু বিশ্বের প্রথম সলিড-স্টেট সেমিকন্ডাক্টর ডায়োড উদ্ভাবন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক এবং আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স চালু করা হচ্ছে। ড. সমিত রায়ের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যা ভারতের আত্মনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”তিনি জানান, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের ‘চিপস টু স্টার্টআপ (সি২এস)’ কর্মসূচি এবং ‘চিপইন সেন্টার’-এর সহায়তায় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের ইডিএ সফটওয়্যার, এফপিজিএ প্রোটোটাইপিং ল্যাব এবং আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর পরীক্ষণ পরিকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। আগামী পাঁচ বছরে এক হাজার শিল্প-প্রস্তুত শিক্ষার্থী গড়ে তোলা, একশো পেশাদারকে দক্ষ করে তোলা এবং ১০টি পূর্ণাঙ্গ ‘সিস্টেম-অন-চিপ (এসওসি)’ ছাত্র-টেপ-আউট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সেমিকন্ডাক্টর ক্লাব হাতে-কলমে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি এই সেন্টার ফ্যাবলেস স্টার্ট-আপ, দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর পণ্য এবং মেধাস্বত্ব তৈরির ইনকিউবেশন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। বাংলার বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক ভিএলএসআই শিক্ষার সেতুবন্ধন ঘটিয়ে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে দেশের সেমিকন্ডাক্টর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”

এইচসিএলটেক-এর এভিপি (ইঞ্জিনিয়ারিং আরঅ্যান্ডডি সার্ভিসেস) বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই পাঠক্রমে শিক্ষার্থীরা শিল্প বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে গোটা সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রক্রিয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে। সম্পূর্ণ ভিএলএসআই-কেন্দ্রিক এমন স্নাতক পাঠক্রম দেশে খুবই বিরল। শিল্পে ব্যবহৃত আধুনিক ডিজাইন টুল ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অনেক বাড়িয়ে দেবে।”এম৩১ টেকনোলজির ভাইস প্রেসিডেন্ট (টেকনিক্যাল মার্কেটিং) জয়ন্ত লাহিড়ী বলেন, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স পূর্ব ভারতে সেমিকন্ডাক্টর শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স এবং ভিএলএসআই ডিজাইন-সহ ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক চালুর মাধ্যমে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, প্রয়োগভিত্তিক গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Continue reading
দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি.লিট. সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের সমাবর্তন উদযাপন করল।
  • July 28, 2026

কলকাতা, ২৬শে জুলাই, ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের টেকনো ইন্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আজ বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে তাদের বার্ষিক সমাবর্তন ২০২৬ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে ২০২৫-২০২৬ ব্যাচের ডক্টরেট, স্নাতকোত্তর, স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং স্নাতক সহ বিভিন্ন ডিগ্রিধারী ছাত্রছাত্রীদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়।সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারপার্সন ডঃ অশোক কুমার লাহিড়ী, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অটল ইনকিউবেশন সেন্টার টেকনো ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন কাউন্সিল (এআইসি-টেকনো) চালু করেন, যা রাজ্যের উদ্ভাবনী পরিমণ্ডলে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত।সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে সম্মানসূচক ডক্টর অফ লেটার্স (ডি.লিট.) উপাধি প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। এই বছরের প্রাপকদের মধ্যে ছিলেন পদ্মভূষণ অভিনব বিন্দ্রা, অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক বিজয়ী পদ্মশ্রী অনুপ জালোটা, আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত গায়ক পদ্মশ্রী রাজকুমার হিরানির, প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাতা পদ্মশ্রী শিবশঙ্করী চন্দ্রশেখরন, প্রখ্যাত লেখিকা ডঃ পি. ভীরামুথুভেল, প্রশংসিত মহাকাশ বিজ্ঞানী এবং চন্দ্রযান ৩-এর প্রকল্প পরিচালক ডঃ শৈলেশ ভি. শ্রীখান্ডে, প্রশংসিত জিআই ও এইচপিবি ক্যান্সার সার্জন ডঃ নরেশ চন্দ্র মুর্মু, সিএসআইআর-সিএমইআরআই দুর্গাপুরের পরিচালক শ্রীমতি সাবিত্রী চ্যাটার্জী, কিংবদন্তী অভিনেত্রী এবং ইনফিনিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও অক্ষয় পাত্রের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী রবীন্দ্র চামারিয়া।

সমাবর্তন কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সাধনার পরিসমাপ্তি নয়; এটি নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং সমাজসেবার এক জীবনব্যাপী যাত্রার সূচনা। আমাদের স্নাতকেরা যখন এক ক্রমবর্ধমান গতিশীল বিশ্বে পা রাখছেন, তখন তাঁদের অবশ্যই সাহস, সততা এবং সহানুভূতির সাথে পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে হবে। আমরা এমন অসাধারণ ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে পেরেও সমানভাবে সৌভাগ্যবান, যাঁদের চলচ্চিত্র, বিজ্ঞান, খেলাধুলা, চিকিৎসা, সাহিত্য, আধ্যাত্মিকতা, ব্যবসা এবং শিল্পকলায় উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব উৎকর্ষের রূপান্তরকারী শক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাঁদের এই পথচলা আমাদের শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে এবং সমাজে অর্থবহ অবদান রাখতে অনুপ্রাণিত করবে, বলেন টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ গৌতম রায়চৌধুরী।

WhatsApp Image 2026 07 28 at 08.53.19

২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীরা এমন এক সন্ধিক্ষণে পৃথিবীতে প্রবেশ করছে, যখন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং আন্তঃশাস্ত্রীয় চিন্তাভাবনা বিশ্বজুড়ে প্রতিটি ক্ষেত্রকে রূপান্তরিত করছে। তাদের যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখার সাথে সাথে, তারা জ্ঞান, সততা এবং সহানুভূতির সাথে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব বহন করে। আমরা এমন দূরদর্শী নেতাদের সম্মানসূচক ডক্টর অফ লিটারেচার (ডি.লিট.) ডিগ্রি প্রদান করতে পেরেও সম্মানিত বোধ করছি, যাঁদের অসাধারণ অবদান বিভিন্নভাবে সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁদের উল্লেখযোগ্য জীবনযাত্রা শ্রেষ্ঠত্ব, উদ্দেশ্য এবং অর্থবহ নেতৃত্বের জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের স্নাতকদের সাফল্যের ঊর্ধ্বে আকাঙ্ক্ষা করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে। প্রতিটি সমাবর্তন হলো অধ্যবসায়, সহনশীলতা এবং তরুণ মনের অসীম সম্ভাবনার এক উদযাপন। এটি কেবল আমাদের শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছরের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের চূড়ান্ত পরিণতিই নয়, বরং তাদের পিতামাতা, পরিবার এবং সমগ্র শিক্ষাঙ্গনের জন্য একটি গর্বের ও গভীর আবেগঘন মাইলফলকও বটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের যোগ্য নেতৃত্বে আমাদের শিক্ষক ও কর্মীদের অবিচল নিষ্ঠা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই ধরনের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো সম্ভব হয়,” বলেন অধ্যাপক মনশী রায়চৌধুরী। টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির সহ-চ্যান্সেলর এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-চেয়ারপার্সন।

বাংলা এর জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিল। এআইসি-টেকনো হলো রাজ্যের প্রথম স্টার্টআপদের জন্য অটল ইনকিউবেশন সেন্টার, যা নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশন দ্বারা সমর্থিত। যে অঞ্চলটি ভারতের কিছু সেরা বৈজ্ঞানিক এবং উদ্যোক্তা প্রতিভা তৈরি করেছে, সেখানে জাতীয় মানের পরিকাঠামোর অভাব একটি নীরব প্রতিবন্ধকতা ছিল। আজ, সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের এখানে আনুষ্ঠানিকভাবে এআইসি-টেকনো চালু করতে পেরে আমি গর্বিত।বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন। আমরা আগামী পাঁচ বছরে ৫০০টি স্টার্টআপকে ইনকিউবেট করার অঙ্গীকার করছি। সেগুলোকে শুধু নামমাত্র পরামর্শ দেওয়া হবে না, কোনো ডেমো ডে-তে উদযাপন করে ভুলে যাওয়া হবে না, বরং গড়ে তোলা হবে, অর্থায়ন করা হবে এবং বাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এই অঙ্গীকারের পেছনে রয়েছে একটি এআই-ফার্স্ট পাঠ্যক্রম, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ১০০টিরও বেশি ক্যাম্পাস, বিশ্বব্যাপী অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্ব এবং এক লক্ষ শিক্ষার্থী, যাদের এখন আর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তৈরি করার জন্য বাড়ি ছাড়তে হবে না। এআইসি-টেকনো হলো সেই যন্ত্র, যা ব্যবহার করে আমরা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের স্টার্টআপ গল্পের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে চাই। শ্রী মেঘদূত রায়চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং চিফ ইনোভেশন অফিসার, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ।

এই বছরের সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি ভারতের উদ্ভাবনী ইনকিউবেশন সেন্টার—টেকনো ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন কাউন্সিলের—ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে, যা শিক্ষা, উদ্যোক্তা এবং জাতি গঠনে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।এআইসি-টেকনো (অটল ইনকিউবেশন সেন্টার – টেকনো ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন কাউন্সিল) হলো পশ্চিমবঙ্গের প্রথম প্রধান জাতীয়-স্তরের, সরকার-সমর্থিত ইনকিউবেটর। ভারত সরকারের নীতি আয়োগের অটল ইনোভেশন মিশন (এআইএম)-এর সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগটি উদ্যোক্তা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি-চালিত উদ্যোগের জন্য একটি বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে এই অঞ্চলের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে প্রস্তুত। এআইসি-টেকনো পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যা একটি বিশ্বব্যাপী মানদণ্ডযুক্ত উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরি করবে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, গবেষণা সহায়তা, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং জাতীয় সুযোগগুলিতে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ক্ষমতায়ন করবে।

টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিজ সম্প্রদায়, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব গ্রহণে উৎসাহিত করা হয়। এই দর্শনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কধারী ও স্বর্ণপদক বিজয়ীদের তাদের অধ্যাপক ও পরিবারের উপস্থিতিতে মঞ্চে সম্মানিত করা হয়।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

১০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় |

১০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পূর্ব ভারতের প্রথম আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু সেমিকন্ডাক্টর সেন্টার অব এক্সেলেন্স গড়ছে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় |

ভারত এবং থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ভারতে মিলবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার।

ভারত এবং থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে ভারতে মিলবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটার।

আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন পরিচয়ের সূচনা

আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন পরিচয়ের সূচনা

সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |

সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি.লিট. সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের সমাবর্তন উদযাপন করল।

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ডি.লিট. সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি ২০২৬ সালের সমাবর্তন উদযাপন করল।

নেতাজির অন্তর্ধানের রহস্য নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলো ‘দ্য বোস ফাইলস – সচ ইয়া সাজিশ’|

নেতাজির অন্তর্ধানের রহস্য নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা: আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হলো ‘দ্য বোস ফাইলস – সচ ইয়া সাজিশ’|