মুখ ও গলার ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস-এ ক্যান্সার সার্ভাইভার মিট

কলকাতা, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫: মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা চেইন মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি অংশ, মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ ক্যানসার সারভাইভার মিটের আয়োজন করে। ভারতে মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার প্রধান কারণ তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার। পাশাপাশি, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরে নারীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে এই রোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র অনকোলজিস্টরা। ক্যানসার সারভাইভাররা এদিন তাঁদের লড়াইয়ের গল্প, ভয়কে জয় করার মুহূর্ত এবং নবউদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।মুখের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা সার্জারি। প্রাথমিক স্তরে (Early Oral Cancer) অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্টেজ ৩ ও ৪ এর রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রেডিয়েশন থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।

Whatsapp image 2025 11 29 at 20.40.39 (1)

ড. সৌরভ দত্ত, , ডিরেক্টর – মণিপাল অঙ্কোলজি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অনকোলজি , মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং ব্রডওয়ে বলেন, “ভারতে এখনও মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের বোঝা অত্যন্ত বেশি, প্রতি বছরই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। এদের প্রায় ৬৫–৭০%-ই তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারী। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে মুখের ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য—এই পর্যায়ে সাফল্যের হার ৭৫–৮০%-এরও বেশি। তাই উপসর্গের প্রতি সময়মতো নজর দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।“পুনর্গঠন সার্জারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রোগীই দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এখন মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য পুনর্গঠন পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং রক্তনালীর সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে শুধু মুখমণ্ডলের গঠনই পুনরুদ্ধার হয় না, রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, চিবোনো ও গিলতে পারার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতাও ফিরে পান। সফল পুনর্গঠন ক্যান্সারজয়ীর চিকিৎসা-পরবর্তী জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।”সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইভেন্টে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞ ড. কিংশুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন,“যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সার্জারির মাধ্যমেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়। রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এর ফলে রোগীর পরবর্তী জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভালো থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।”

প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির গুরুত্ব নিয়ে ড. সিঞ্জিনি দাস, কনসালট্যান্ট – প্লাস্টিক, রিকনস্ট্রাকটিভ & কসমেটিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস,, বলেন, “মুখের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে অনেক সময় গাল, জিহ্বা বা চোয়ালের কিছু অংশ অপসারণ করতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের মনে আবার আগের মতো কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে কি না—এই নিয়ে ভয় তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক পুনর্গঠন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই অংশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্গঠন করতে পারি, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, খাবার গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। আজকের দিনে পুনর্গঠনমূলক সার্জারি মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। গত চার বছরে আমাদের বিভাগে ৮০০-রও বেশি ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫০টি ছিল মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য।”এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যার নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কণ্ঠ–তে একজন ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সার্ভাইভারের সংগ্রাম, তাঁর কণ্ঠনালী অপসারণের পর নতুনভাবে কথা বলতে শেখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই চরিত্রায়ণ কেবল দর্শকদের অনুপ্রাণিতই করেনি, বরং মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বহমান ভয়, অস্বস্তি ও ভুল ধারণা দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই এই ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি ছিল গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইভেন্টে উপস্থিত সকল ক্যান্সার সার্ভাইভাররা তাঁদের ভয়কে জয় করার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও পরিবারের সহায়তা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁরা আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন—এই সবকিছু বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন।একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, এস. কে. আমিন আলি (বয়স ৪৭), যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন, “আমি সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী জীবন যাপন করেছি। দীর্ঘ কর্মসময় সামলে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ট্রেকিংয়ের আগ্রহ, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তখন এক মুহূর্ত দেরি করিনি। অনলাইনে খুঁজে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করি এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য এখানে আসি। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসকেরা আমাকে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য,আবার শক্তি ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়ানো।”আরেকজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, শাশ্বতী বিশ্বাস (বয়স ৪৫), নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যখন আমার রোগ নির্ণয় হলো, আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম, কি করব? কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মণিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সবকিছু বদলে গেল। ডাক্তার, নার্স এবং পুরো টিম আমাকে আন্তরিক যত্নে আগলে রাখলেন। তাঁরা আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন যা আমি খুঁজছিলাম। আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছি এবং অসংখ্য ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা না পাওয়ায় ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। কিন্তু এখানে আমি সময়মতো রোগ নির্ণয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ—সবই পেয়েছি। আজ আমার অস্ত্রোপচারের পর আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের প্রতি প্রেরণা ও আশা নিয়ে।

Related Posts

আইএমএ (IMA) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: “বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” অভিযান এবং অটিজম সচেতনতা কর্মসূচি |
  • April 8, 2026

কলকাতা, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ : ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চ আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের বৈশ্বিক থিম “স্বাস্থ্যের জন্য ঐক্য: বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” (Together for Health: Stand with Science) শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের কর্মসূচিতে অটিজম সচেতনতা মাসকেও যুক্ত করা হয়েছে, যা নিউরো-ইনক্‌লুসিভ (স্নায়বিক বৈচিত্র্যময়) স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। এই অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আইএমএ-র অনারারি স্টেট সেক্রেটারি তথা প্রাক্তন ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডাঃ শান্তনু সেন এবং স্টেট প্রেসিডেন্ট ডাঃ চন্দন কুমার ঘোষাল।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ “বিজ্ঞান ও মানবতার মেলবন্ধন”: শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আধুনিক চিকিৎসায় প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের সামাজিক নেতা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা নিউরোডাইভারজেন্ট (স্নায়বিক বৈচিত্র্যসম্পন্ন) ব্যক্তিদের পরিবারকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন।অটিজম সচেতনতা পোস্টার উন্মোচন: আইএমএ বেঙ্গল ২০২৬ সালের অটিজম সচেতনতা মাসের জন্য বিশেষ পোস্টার উন্মোচন করে। “অটিজম ও মানবিকতা – প্রতিটি জীবনের মূল্য আছে”-এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পোস্টারটিতে রামধনু প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিছক সচেতনতা থেকে প্রকৃত সামাজিক স্বীকৃতির বার্তা দেয়।স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সংবর্ধনা: ভুল স্বাস্থ্য তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে, বিজ্ঞান-ভিত্তিক তথ্য প্রচারের জন্য বিশিষ্ট স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সংবর্ধনা জানানো হয়।বিজ্ঞান-ভিত্তিক স্বাস্থ্যের শপথ: অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলে #StandWithScience বা বিজ্ঞানের পক্ষে থাকার শপথ নেন। সদস্যরা অঙ্গীকার করেন যে, প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা হবে এবং অটিজম আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলা হবে।উদ্বোধনী অধিবেশনে ডাঃ শান্তনু সেন বলেন, “ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্যের ভিড়ে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের বিজ্ঞানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে। আমাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের সামাজিক নেতা হিসেবে অটিজম আক্রান্তদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”আইএমএ বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চ “ওয়ান হেলথ” (One Health) দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী, যেখানে মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

Continue reading
অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ উন্মোচন করল ‘ধড়কন’ (DHADKAN): সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগের অস্ত্রোপচার |
  • April 6, 2026



কলকাতা, ৬ই এপ্রিল ২০২৬: অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ তাদের অন্যতম প্রধান কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) উদ্যোগ ‘ধড়কন’ (DHADKAN)-এর সূচনা করল। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জন্মগত হৃদরোগে (CHD) আক্রান্ত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নে হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা।
অম্বুজা নিওটিয়া হেলথকেয়ার ভেঞ্চার লিমিটেডের প্রধান শিশুচিকিৎসা বিষয়ক সম্মেলন ‘NEOPEDICON’-এর মঞ্চে এই উদ্যোগটি উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অম্বুজা নিওটিয়া হেলথকেয়ার ভেঞ্চার লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব প্রদীপ লাল মেহতা; জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট ও সিওও (COO) শ্রীমতি রুমা ব্যানার্জি; এবং নিউ টাউনে অবস্থিত ‘নিওটিয়া ভাগীরথী ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার সেন্টার’ (NBWCCC)-এর ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. ইন্দ্রাণী সুব্রহ্মণ্যম। এই উদ্যোগের আওতায় শিশুদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের যাবতীয় কার্যক্রম নিউ টাউনের NBWCCC-তেই সম্পন্ন হবে।
জন্মগত ত্রুটিগুলোর মধ্যে ‘জন্মগত হৃদরোগ’ (CHD) অন্যতম বহুল প্রচলিত একটি সমস্যা; অথচ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের অনেক শিশুই সময়মতো এবং বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার মধ্যে বিদ্যমান এই গুরুতর ব্যবধানটি অনুধাবন করেই অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ ‘ধড়কন’ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে। এটি গ্রুপের অন্যতম প্রধান একটি ‘সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী কর্মসূচি’ (Social Impact Programme), যা জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিবেদিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রুপটি রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়োপযোগী চিকিৎসার মধ্যকার ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে আরও বেশি সংখ্যক শিশু সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সেবাটি পেতে পারে। অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপের যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক পার্থিব নিওটিয়া বলেন, “’ধড়কন’ (Dhadkan) এমন একটি অঙ্গীকারের প্রতিফলন, যা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ধারণ করি—আর তা হলো, কোনো শিশুর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার সুযোগ যেন কখনোই তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে সীমাবদ্ধ না হয়ে পড়ে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, প্রতিটি শিশুরই একটি সুস্থ ও পরিপূর্ণ জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে। অথচ, অগণিত পরিবারের কাছেই জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগ চিকিৎসার সুযোগ আজও অধরাই রয়ে গেছে। ‘ধড়কন’-এর মাধ্যমে আমরা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে হৃদরোগের অস্ত্রোপচার বা সার্জারির ব্যবস্থা করতে চাই; এর লক্ষ্য হলো—আর্থিক সীমাবদ্ধতা যেন কখনোই কোনো শিশুর হৃদস্পন্দনের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা। এটি কেবল একটি কর্মসূচিই নয়, বরং এটি আমাদের একটি অঙ্গীকার—যেখানে আশা ম্লান হয়ে আসছে, সেখানে নতুন করে আশার সঞ্চার করা; পরিবারগুলোর সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো; এবং একটি সহজ অথচ গভীর বিশ্বাসকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা—আর তা হলো: যখন জীবনটাই বিপন্ন, তখন কোনো শিশুরই যেন চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না করা হয়।”
অম্বুজা নিওটিয়া হেলথকেয়ার ভেঞ্চার লিমিটেড আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় সিম্পোজিয়াম ‘নিওপেডিকন ২০২৬’ (Neopedicon 2026)-এ উন্মোচিত ‘ধড়কন’ প্রকল্পটি এই গ্রুপের রোগী-কেন্দ্রিক, নৈতিক এবং অত্যাধুনিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রুপটি সমাজের আর্থ-সামাজিক স্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিশুদের কাছেও অত্যন্ত জরুরি ও জটিল চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দক্ষতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অপূর্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো—স্বাস্থ্যসেবার ফলাফল উন্নত করা, চিকিৎসা প্রাপ্তি ও সামর্থ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করা, জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার অভাবজনিত বোঝা লাঘব করা এবং সমগ্র পূর্ব ভারতে শিশু-হৃদরোগ চিকিৎসার পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

ইনফ্রাফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের উদ্বোধন: ভারতের ওয়েল্ডিং শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ইনফ্রাফিউশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের উদ্বোধন: ভারতের ওয়েল্ডিং শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা

ইউজিসি আইনের বিরোধিতা করে দেশব্যাপী জনজাগরণ অভিযান শুরু বিজয় কৌশিক জির |

ইউজিসি আইনের বিরোধিতা করে দেশব্যাপী জনজাগরণ অভিযান শুরু বিজয় কৌশিক জির |

আইএমএ (IMA) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: “বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” অভিযান এবং অটিজম সচেতনতা কর্মসূচি |

আইএমএ (IMA) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: “বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” অভিযান এবং অটিজম সচেতনতা কর্মসূচি |

অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ উন্মোচন করল ‘ধড়কন’ (DHADKAN): সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগের অস্ত্রোপচার |

অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ উন্মোচন করল ‘ধড়কন’ (DHADKAN): সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে জীবনরক্ষাকারী হৃদরোগের অস্ত্রোপচার |

“কলকাতা, হাওড়া পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে কঠিন বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২৬ মেনে চলার করণীয় কর্মপন্থা। পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা।“

“কলকাতা, হাওড়া পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে কঠিন বর্জ্যব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২৬ মেনে চলার করণীয় কর্মপন্থা। পরিবেশগত স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা।“

ফরচুন হাইটস নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল, বারাসাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৯৩৫টি বাড়ি হস্তান্তর |

ফরচুন হাইটস নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল, বারাসাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৯৩৫টি বাড়ি হস্তান্তর |