দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির ও ‘সংস্কৃত সংস্কৃতিক সন্ধ্যা’।


কলকাতা : ২৪ মে শনিবার – আয়োজক সংস্কৃত ভারতী, (দক্ষিণবঙ্গ) ও বিবেকানন্দ দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের ও কার্যক্রম উপলক্ষে ‘সংস্কৃত সংস্কৃতিক সন্ধ্যা’যোগ অনুসন্ধান সংস্থান (কলকাতা)। সহায়ক-হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্।

সংস্কৃত হল ভারতীয় সংস্কৃতির মূল। বিশ্বের প্রায় সব ভাষার জননী হল সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃত ভাষার প্রচার এবং প্রসারের উদ্দেশ্যে সংস্কৃত ভারতী নিরন্তর কাজ করে চলেছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভারতের বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। সংস্কৃত ভারতের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হল নিঃশুল্ক দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির। মাত্র ১০ দিন ২ ঘন্টা করে সময় দিয়ে সাধারণ মানুষ এই শিবিরে অংশগ্রহণ করে সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে পারেন। সংস্কৃত ভারতী (দক্ষিণবঙ্গ) ও বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থানের (কলকাতা) যৌথ উদ্যোগে গত ১০ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত একটি দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী এই শিবিরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। শিবিরের সবার হোক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে একটি সংস্কৃত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই বিষয়ে স্থান প্রদান করে এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করে অনুষ্ঠানটিকে বাস্তবায়িত হতে সাহায্য করে হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্ । ২৪ শে মে ২০২৫ বিকেল সাড়ে চারটে থেকে হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্-এর স্বামী বিবেকানন্দ সভাগৃহে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছিল বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, সরস্বতী বন্দনা, সংস্কৃত নাটক, সংস্কৃত সম্ভাষণ প্রদর্শন, লঘু নাটিকা, সুভাষিত ও গীতাশ্লোক ইত্যাদি। সর্বোপরি সংস্কৃত গীতের সঙ্গে সংস্কৃত নৃত্য ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণীয় বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বার সংস্কৃত সংগীত ও সংস্কৃত নৃত্য বাদ্যযন্ত্র সহযোগে একসঙ্গে মঞ্চে সাক্ষাৎ প্রদর্শিত হয়। বৈদিক যুগের সঙ্গীত কেমন ছিল তার একটি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। সঙ্গীতের গবেষণামূলক এই বিষয়টি যাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তিনি হলেন প্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ আচার্য সঞ্জয় চক্রবর্তী। মহাশয়ও দশ দিন নিয়মিত সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের অংশগ্রহণ করে সংস্কৃত সঙ্গীতকে নতুন রূপদান করার প্রচেষ্টা করেন। বিভিন্ন সংস্কৃত সংগীতকে নতুন করে সুর প্রদান করে এবং রবীন্দ্র সংগীতকেও নতুন করে সংস্কৃত ভাষায় উপস্থাপন করে অনুষ্ঠানটিকে অন্য মাত্রা প্রদান করেন। ভারতীয় আদি শাস্ত্রীয় সংস্কৃত সংগীতকে নতুন করে তুলে ধরার এটি ছিল একটি অনন্য প্রয়াস। এছাড়াও আচার্য সঞ্জয় মহাশয় নিজে বন্দেমাতরম সংগীতের সঙ্গে চিত্রাবীণা বাজিয়ে দর্শকদের সম্মোহিত করেন। সংস্কৃত নৃত্য কেমন হওয়া উচিত তার নিদর্শন দর্শকদের কাছে উপস্থাপিত করেন শ্রী প্রদ্যুৎ কুমার দত্ত (অধ্যাপক, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নৃত্য বিভাগ) মহাশয়। প্রদ্যুৎ মহাশয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা সংস্কৃত সংগীতের সঙ্গে মঞ্চে সংস্কৃত নৃত্য উপস্থাপিত করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে একটি অন্যত্র প্রদান করে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিকে সংস্কৃত ভাষায় পরিচালনা করেন বিশিষ্ট গায়িকা শ্রীমতি রেশমি চক্রবর্তী। সংস্কৃত ভাষায়ও যে এত সুন্দর অনুষ্ঠান পরিচালনা হতে পারে তার একটি নিদর্শন মহাশয়া তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেক প্রসিদ্ধ গায়ক-গায়িকা উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা মাত্র ১০ দিন শিবিরে অংশগ্রহণ করে অনন্য সংস্কৃত সংগীত উপস্থাপিত করেন। ৮ বছর বয়সের শিশু থেকে ৭৮ বছর বয়সের প্রবীণ ব্যক্তিও সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয় উপস্থাপিত করেন। এ ছাড়াও সর্বতোভাবে অনুষ্ঠানটি সফল হতে সাহায্য করেন শ্রী প্রদীপ আগরওয়াল (সি.ই.ও, হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্) এবং ড. অভিজিৎ ঘোষ (অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থান,কলকাতা)। এই অনুষ্ঠানের সংস্কৃত ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে নিঃশুল্ক দশ দিবসীয় সংস্কৃত শিবিরের আয়োজন করার পরিকল্পনা চলছে। আশা করি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টিকে সাদরে গ্রহণ করবেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও রূপদান করছেন এবং ১০ দিনের শিবিরে শিক্ষক রূপে পাঠদান করেছেন আচার্য অনুভব হাজরা ( বিভাগীয় প্রধান, সংস্কৃত বিভাগ, বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থান কলকাতা এবং কার্যকর্তা, সংস্কৃত ভারতী দক্ষিণবঙ্গ)।

  • Related Posts

    এনসিএসআই ২০২৬ কলকাতা, নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সপ্তম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো কলকাতায়।
    • September 12, 2026

    কলকাতা, সেপ্টেম্বর, ২০২৬:নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া-র (NCSI) সপ্তম বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন ২০২৬, আগামী ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কলকাতার তাজ তাল কুটিরে শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, গবেষক এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের একত্রিত করবে।‘মৌলিক বিষয় থেকে যুগান্তকারী সাফল্য: নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ারের অগ্রগতি’ এই মূলভাব নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ারের দ্রুত পরিবর্তনশীল ক্ষেত্রটি অন্বেষণ করা হবে এবং রোগীর শয্যাপার্শ্বের অপরিহার্য নীতিগুলোর সাথে প্রযুক্তি, নিউরোমনিটরিং, নিউরোইমেজিং, প্রিসিশন মেডিসিন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বশেষ অগ্রগতির সংযোগ স্থাপন করা হবে।এই বৈজ্ঞানিক কর্মসূচিতে তীব্র স্ট্রোক, ইন্ট্রাসেরিব্রাল ও সাবঅ্যারাকনয়েড হেমোরেজ, আঘাতজনিত মস্তিষ্কের আঘাত, স্ট্যাটাস এপিলেপ্টিকাস, সিএনএস সংক্রমণ এবং নিউরোমাসকুলার জরুরি অবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুতর স্নায়বিক অবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।সেশনগুলিতে স্নায়বিক মূল্যায়ন, শ্বাসনালী ও বায়ুচলাচল ব্যবস্থাপনা, হিমোডাইনামিক অপটিমাইজেশন, খিঁচুনি ও ইন্ট্রাক্রানিয়াল প্রেশার ব্যবস্থাপনা, সেকেন্ডারি ব্রেইন ইনজুরি প্রতিরোধ এবং উন্নত নিউরোমনিটরিং নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    WhatsApp Image 2026 09 12 at 11.54.37

    তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে মূল বক্তৃতা, অত্যাধুনিক হালনাগাদ তথ্য, আলাপচারিতামূলক প্যানেল, বিতর্ক, কেস-ভিত্তিক আলোচনা এবং ব্যবহারিক ক্লিনিকাল সেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে প্রমাণ-ভিত্তিক ও রোগী-কেন্দ্রিক সেবার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।প্রফেসর (ডঃ) রায়ান হাকিমি, ডক্টর বিজয় কুমার শর্মা, ডাঃ প্রিয়াঙ্কা জৈন, ডাঃ শোজি ইয়োকোবরি, ডাঃ জেমালিন বি সারাপুদ্দিন, ডাঃ ঋত্বিক ভাটিয়া, ডাঃ চিত্রা ভেঙ্কটাসুব্রমানিয়ান, ডাঃ জো আন সুরদান সলিভেন, ডাঃ চিৎ সলিভেন, ডাঃ চিৎ সলিভেন, ডাঃ চিৎ সলিভেন সহ 12 জন আন্তর্জাতিক ফ্যাকাল্টি সদস্যদের একটি প্রধান আকর্ষণ। নারপ্পা, ডাঃ সুখেন সামন্ত এবং ডাঃ সুজয় সামন্ত।

    তাদের অংশগ্রহণ প্রতিনিধিদের বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ারের সমসাময়িক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনার সুযোগ করে দেবে। ভারতে নিউরোক্রিটিক্যাল কেয়ার শক্তিশালীকরণ।এনসিএসআই ২০২৬-এর লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও চিকিৎসাক্ষেত্রের অনুশীলনের মধ্যে সংযোগ জোরদার করা এবং এর পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা, পরামর্শদান ও বহুশাস্ত্রীয় সহযোগিতার প্রসার ঘটানো।এই সম্মেলনটি নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, ইনটেনসিভিস্ট, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, ইমার্জেন্সি ফিজিশিয়ান, নার্স, প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের শেখার ও জ্ঞানার্জনের জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চও প্রদান করবে।

    Continue reading
    রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল তার কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
    • June 17, 2026

    কলকাতা, ১৬ জুন ২০২৬: সিকে বিড়লা হসপিটালস – বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল, কলকাতা, রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালু করার মাধ্যমে উন্নত ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাসপাতালের নেতৃত্ব, কার্ডিয়াক সার্জারি দল এবং সম্প্রতি এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগীদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত দশকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির বিপরীতে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে সার্জন-নিয়ন্ত্রিত রোবটিক যন্ত্র এবং হাই-ডেফিনিশন ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করা হয়। রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বুকে বড় ছিদ্র এড়িয়ে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি অস্ত্রোপচারের আঘাত কমাতে, রক্তক্ষরণ কমাতে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কমাতে, ক্ষত-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় রোগীরা প্রায়শই হাসপাতালে কম সময় থাকেন এবং দ্রুত তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সার্জনদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রযুক্তি উন্নত নির্ভুলতা এবং দক্ষতা প্রদান করে, যা তাদের সীমিত স্থানেও ব্যতিক্রমী নির্ভুলতার সাথে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম করে।

    20260616

    বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সৌম্য গুহ, যিনি রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জিক্যাল পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন, তিনি বলেন, “রোবোটিক সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগতভাবে যা অর্জনযোগ্য, তার পরিবর্তন এনে দেয়, বিশেষ করে সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরস্থান জটিল এবং উপলব্ধ স্থান সীমিত। এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কেসগুলোতে, ফলাফলগুলো এই প্রযুক্তি যা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোগীর আরোগ্য লাভের অভিজ্ঞতা প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।”বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডঃ মনোজ দাগা বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেশি, এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রোগীদের উন্নত সার্জিক্যাল পরিকাঠামো প্রয়োজন এমন চিকিৎসার জন্য অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। আমাদের কার্যক্রমে রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সেই মানের চিকিৎসা এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রম গড়ে তোলা, যা সবচেয়ে জটিল কেসগুলোও সামলাতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে নির্ভুলতা, আরোগ্যলাভ ও রোগীর সার্বিক ফলাফল উন্নত করবে, এবং এটি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

    সিকে বিড়লা হসপিটালস- বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (কলকাতা) এবং জয়পুরের আঞ্চলিক প্রধান শ্রী সুপ্রতিক দে সরকার বলেন, “বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন এমন সব কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার সুনাম তৈরি করেছে, এবং রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির সংযোজন সেই অবস্থানকে আরও অর্থবহভাবে শক্তিশালী করেছে। পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল যা উন্নত হৃদরোগের সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারে, যাতে রোগীদের এই অঞ্চলের বাইরে যেতে না হয়। এই প্রোগ্রামে আমরা যে বিনিয়োগ করেছি তা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আমরা এই অঞ্চলের রেফারকারী ডাক্তার, রোগী এবং পরিবারবর্গকে জানাতে চাই।”
    যখন কোনো হৃদরোগের কেস জটিল হয়, তখন তাকে এখানেই আনা যেতে পারে। আমরা এই মান অর্জনের জন্যই কাজ করছি, এবং রোবোটিক সার্জারি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি অংশ।

    রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল জটিল কার্ডিয়াক পদ্ধতির জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যা পূর্ব ভারতের রোগীদের বাড়ির কাছাকাছিই বিশ্বমানের সার্জিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।

    Continue reading

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    মিস করে যাওয়া

    প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

    প্রতিটি হৃদ্‌স্পন্দন হোক সুস্থ ও শক্তিশালী মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ায় হৃদ্‌স্বাস্থ্য সম্মেলন |

    PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

    PHDCCI-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতের অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরল |

    শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

    শিশুদের জন্য ‘প্রজেক্ট মুসকান’ চালু করতে রোটারি ক্লাবগুলোর সম্মিলিত প্রয়াস |

    কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

    কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।

    উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

    উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসা ও রোবোটিক CABG-এর ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য উদযাপনে শীর্ষস্থানীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের সাথে সুস্থ হওয়া রোগীদের এক বিশেষ মিলনমেলার আয়োজন করল দিশান হাসপাতাল |

    কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |

    কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রীমতী রক্ষা খাড়সে পশ্চিমবঙ্গে ক্রীড়া উন্নয়নের পর্যালোচনা এবং তৃণমূল স্তরে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়াবিদদের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ‘সাই’-এর সহায়তার আশ্বাস |