মনিপাল হসপিটাল গুলিতে বহু অঙ্গ প্রতিস্থাপন সেবা চালু করার জন্য কম্প্রেহেনসিভ ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টারের উদ্বোধন।
  • March 13, 2026


কলকাতা, ১২ মার্চ ২০২৬: পূর্ব ভারতে উন্নত অঙ্গ প্রতিস্থাপন সেবার সুযোগ জোরদার করে, মণিপাল হাসপাতাল কলকাতা বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার এবং অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য সমন্বিত ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা প্রদানকারী একটি নিবেদিতপ্রাণ কেন্দ্র মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার চালু করেছে। এই কেন্দ্রটি নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, উন্নত অবকাঠামো এবং রোগীর মূল্যায়ন এবং অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে প্রতিস্থাপন পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলোআপ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের জন্য একটি বহুমুখী ক্লিনিকাল পদ্ধতিকে একত্রিত করেছে।এই উদ্বোধনটি পূর্ব ভারতে ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্ষমতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে উন্নত অঙ্গ প্রতিস্থাপন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, হেপাটোলজি, ইউরোলজি, অনকোলজি এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারিতে দক্ষতা একীভূত করে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য একটি শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা।

কর্মসূচী চলাকালীন, হাসপাতাল গোষ্ঠীর শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বর্তমান ট্রান্সপ্ল্যান্ট ল্যান্ডস্কেপ এবং এই অঞ্চলে বিশেষায়িত ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করে নেন। ক্রমবর্ধমান প্রতিস্থাপনের প্রবণতা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের কার্ডিওভাসকুলার এবং থোরাসিক সার্জারির পরিচালক এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ কুণাল সরকার পূর্ব ভারতে হৃদরোগ প্রতিস্থাপনের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের নেফ্রোলজির পরিচালক ডঃ দিলীপ কুমার পাহাড়ি এবং মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া, টিম নেফ্রোলজি এবং ক্লিনিক্যাল লিড, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে, সল্ট লেক এবং মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডঃ উপল সেনগুপ্ত কিডনি প্রতিস্থাপনের বর্তমান দৃশ্যপট নিয়ে আলোচনা করেন এবং মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের পরামর্শদাতা এবং ক্লিনিক্যাল লিড – ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট (বিএমটি) অধ্যাপক (ডঃ) রাজীব দে, এই অঞ্চলে অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপনের অবস্থা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি ভাগ করে নেন।
ট্রান্সপ্ল্যান্ট সাফল্যে সহযোগিতামূলক যত্নের গুরুত্ব তুলে ধরে, ডাঃ উপল সেনগুপ্ত, পরিচালক – টিম নেফ্রোলজি এবং ক্লিনিক্যাল লিড, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া, এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট – মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে, সল্ট লেক এবং মুকুন্দপুর, বলেন, “শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। তবে, ট্রান্সপ্ল্যান্টের চাহিদা এবং প্রাপ্যতার মধ্যে ব্যবধান ভারতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর, দেশে প্রায় ২ লক্ষ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়, কিন্তু মাত্র ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ পদ্ধতি সম্পন্ন হয়। মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার চালু করার মাধ্যমে, আমরা পূর্ব ভারতে নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে বহুমুখী ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেয়ারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছি, রোগীদের জন্য নির্বিঘ্ন মূল্যায়ন, সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপ নিশ্চিত করা।”ডঃ উপল সেনগুপ্তের পরিচালনায় একটি প্যানেল আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলে ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরিষেবা শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ, অগ্রগতি এবং সহযোগিতামূলক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।প্যানেলে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন: ডাঃ অর্ঘ্য মজুমদার, সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং অ্যাডভাইজার – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া; ডাঃ অবিনন্দন ব্যানার্জি, ক্লিনিক্যাল লিড – মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট – টিম নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে, সল্টলেক এবং ঢাকুরিয়া; ডাঃ স্মার্টিয়া পুলাই, ক্লিনিক্যাল লিড – মণিপাল হাসপাতাল সল্টলেক ক্লাস্টার এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট – টিম নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া ও মুকুন্দপুর; ডাঃ দিলীপ কুমার পাহাড়ি, ডিরেক্টর – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস; ডাঃ রঞ্জন সরকার, সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং অ্যাডভাইজার – নেফ্রোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ডাঃ অভয় কুমার, ডিরেক্টর – ইউরোলজি অ্যান্ড ইউরো-অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট – ইউরোলজি, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর, ব্রডওয়ে ও সল্টলেক; ডাঃ টি. কে. সাহা, সিনিয়র কনসালটেন্ট – ইউরোলজি অ্যান্ড রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ক্লাস্টার; ডাঃ পি. কে. মিশ্র, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি এবং রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর ও ঢাকুরিয়া; ডাঃ বাস্তব ঘোষ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইউরোলজি, মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া; এবং ডাঃ রাজীব সিনহা, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি (পেডিয়াট্রিক কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট), মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর।

WhatsApp Image 2026 03 12 at 18.22.56

এই উদ্যোগটির গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে মণিপাল হসপিটালস-এর পূর্বাঞ্চলীয় পরিচালক (Regional Director – East) ডা. অয়নভ দেবগুপ্ত বলেন, “মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার-এর শুভ সূচনা পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হলো। এই অঞ্চলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার সমস্যাটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে; মূলত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের মতো শারীরিক অসুস্থতাগুলোই এর প্রধান কারণ। সমগ্র ভারতজুড়েই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চাহিদার তুলনায় এর প্রাপ্যতা অত্যন্ত নগণ্য; প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী কিডনি, যকৃৎ এবং হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা তালিকায় (waitlist) নাম লেখান, অথচ এর মধ্যে মাত্র অতি সামান্য সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রেই এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এই সুসংহত কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো এবং একটি বহুমুখী চিকিৎসা সেবা পদ্ধতিকে একত্রিত করার লক্ষ্য নিয়েছি—যাতে এই অঞ্চলে অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত পরিষেবাগুলোকে আরও শক্তিশালী করা যায়, রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল বা ‘আউটকাম’ উন্নত করা যায় এবং অঙ্গদানের বিষয়ে বৃহত্তর সচেতনতা গড়ে তোলা যায়।”
মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে, মণিপাল হসপিটালস কলকাতা অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধন এবং সমগ্র পূর্ব ভারত জুড়ে জীবনরক্ষাকারী অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবাগুলোকে আরও সহজলভ্য করে তোলার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকারকে পুনরায় সুদৃঢ় করল।

Continue reading
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা |
  • March 7, 2026

কলকাতা, ৭ মার্চ ২০২৬: নেতৃত্ব, সাহস এবং সংগ্রামজয়ের অনুপ্রেরণাদায়ী নানা গল্পকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করল মণিপাল হসপিটালস কলকাতা। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারী নেতৃত্ব, চিকিৎসক এবং গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠা রোগীরা। তাঁদের সাফল্য, জীবনসংগ্রাম এবং অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তাও তুলে ধরা হয়।এই উপলক্ষে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য একাধিক বিশিষ্ট নারীকে সম্মাননা জানানো হয়। সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন জেসিকা গোমেস সুরানা, প্রিন্সিপাল, বিড়লা হাই স্কুল মুকুন্দপুর; নেহা সিংহ এবং রুহি সিংহ, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল (ডা.); স্মিতা রায় চৌধুরী, একটি খ্যাতনামা সংবাদপত্রের জনপ্রিয় বিনোদন সংযোজনের সম্পাদক; এবং ডা. অঞ্জনা মালহোত্রা, প্রিন্সিপাল চিফ মেডিক্যাল ডিরেক্টর, সেন্ট্রাল হসপিটাল, সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে, কলকাতা।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা, যেখানে উপস্থিত নারী নেতৃবৃন্দ তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং কর্মজীবনে নারীদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতামত ভাগ করে নেন। আলোচনায় উঠে আসে কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশের প্রয়োজনীয়তা, মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব এবং পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চাপের মতো বিষয়গুলি।
শহরের বিভিন্ন ইউনিট থেকে মণিপাল হসপিটালস-এর চিকিৎসকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সমাজে নারীদের অবদানের জন্য তাঁদের সম্মান জানান। ব্রডওয়ে, ঢাকুরিয়া, ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং সল্টলেক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অর্থোপেডিক্স, অনকোলজি, নেফ্রোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, নিউরোসার্জারি, কার্ডিওলজি এবং প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।
ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. অরিন্দম মন্ডল, কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল অনকোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস (যিনি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন), বলেন, “বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসা অনেকটাই উন্নত হয়েছে, কিন্তু সফল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় নারীরা প্রথম উপসর্গ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করেন, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা রোগীদের আত্মবিশ্বাস ও আশার সঙ্গে রোগের মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।”
পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর বলেন, “অনেক সময় পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন নীরবে এগিয়ে যায় এবং পরে গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীরা নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হজমজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।”

IMG 20260307 WA0006.jpg

নারীদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. পলি চট্টোপাধ্যায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক বলেন, “নারীদের স্বাস্থ্য শুধুমাত্র গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত গাইনোকলজিক্যাল পরীক্ষা, হরমোনজনিত স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা এবং সময়মতো স্ক্রিনিং অনেক গুরুতর সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে। যখন নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন এবং সময়মতো চিকিৎসা পরামর্শ নেন, তখন তা শুধু তাঁদের জন্যই নয়, পুরো পরিবারের সুস্থতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।”
অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও অনুপ্রেরণাদায়ী মুহূর্ত তৈরি হয় যখন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাকে সাহসের সঙ্গে জয় করা কয়েকজন নারী রোগীকেও সম্মান জানানো হয়। তাঁরা তাঁদের সংগ্রাম, সাহস এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে প্রফেসর দেবশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসে ডা. অরিন্দম মন্ডলের তত্ত্বাবধানে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “ক্যান্সার ধরা পড়ার মুহূর্তটি আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাকে সাহস এবং মানসিক দৃঢ়তার মূল্য বুঝিয়েছে। চিকিৎসক এবং পরিবারের সমর্থনে আমি দৃঢ় মনোবল নিয়ে চিকিৎসার পথ পার করতে পেরেছি। আজ আমি আগের থেকে অনেক বেশি শক্ত এবং আশা করি আমার এই অভিজ্ঞতা অন্যদেরও কঠিন সময়ে আশাবাদী থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।”নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অরুণিমা চক্রবর্তী, যিনি মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুরে ডা. সঞ্জয় বসুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন, বলেন, “হঠাৎ করে একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হওয়া প্রথমে খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু চিকিৎসকের যত্ন, সঠিক পরামর্শ এবং আশ্বাস পুরো সময়টায় আমাকে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করেছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সঠিক চিকিৎসা সহায়তা এবং ইতিবাচক মনোভাব থাকলে সবচেয়ে কঠিন স্বাস্থ্য সমস্যাও জয় করা সম্ভব।”এই আয়োজনের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা আবারও সমাজকে অনুপ্রাণিত করা নারীদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি নারীদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করল।

Continue reading
ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের উদ্যোগে কলকাতায় ৭ম ইনক্রেহ্যাবকন ২০২৬ |
  • March 1, 2026

কলকাতা,২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ঃ নিউরোসায়েন্সেস ফাউন্ডেশন, বেঙ্গল, কলকাতা পৌর কর্পোরেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি অনন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ উদ্যোগ, ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা (আই-এনকে) গর্বের সাথে ৭ম ইনক্রেহ্যাবকন ২০২৬ ঘোষণা করছে, যা একটি জাতীয় সম্মেলন যা AI-চালিত পদ্ধতির সাথে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (টিবিআই) পুনর্বাসনের জন্য নিবেদিত, যা টিবিআই যত্ন এবং পুনরুদ্ধারে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির একীকরণকে তুলে ধরে।দুই দিনের বৈজ্ঞানিক সম্মেলনটি ২৮শে ফেব্রুয়ারী এবং ১লা মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতার সিসি১-এর মর্যাদাপূর্ণ রয়েল বেঙ্গল রুমে অনুষ্ঠিত হবে।
১৫ই এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে প্রতিষ্ঠার পর থেকে, আই-এনকে স্নায়ুপুনর্বাসনের যত্নে উৎকর্ষতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাঁচটি মূল স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত নিউরোপুনর্বাসন বিভাগ – ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স, একাডেমিক্স, গবেষণা, এক্সট্রা-কারিকুলার এনগেজমেন্ট এবং হিউম্যানিটি – ব্যাপক এবং সহানুভূতিশীল পুনর্বাসনে মানদণ্ড স্থাপন করে চলেছে। INKREHABCON 2026 হল নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, I-NK এবং দ্য নিওটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যৌথ একাডেমিক উদ্যোগ, যা নিউরোরিহ্যাবিলিটেশনে শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের অগ্রগতির জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত কর

INKREHABCON 2026 এর লক্ষ্য হল বিশিষ্ট চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, থেরাপিস্ট এবং অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের একত্রিত করে ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরির ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে অত্যাধুনিক উন্নয়ন অন্বেষণ করা, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে একটি। TBI প্রায়শই রোগী এবং পরিবারগুলিকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক, জ্ঞানীয়, মানসিক এবং সামাজিক পরিণতির সাথে লড়াই করতে বাধ্য করে। সম্মেলনটি আধুনিক পুনর্বাসন কৌশলগুলি তুলে ধরবে যা একটি অত্যাধুনিক এবং সামগ্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জীবনযাত্রার মান পুনরুদ্ধার করে। I-NK-এর নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রভাগে রয়েছে। ইনস্টিটিউটে এখন উন্নত উপরের অঙ্গ এবং নীচের অঙ্গের রোবোটিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা রয়েছে, যা নির্ভুলতা-ভিত্তিক থেরাপি প্রদানের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে

আইআইটি মাদ্রাজের সহযোগিতায়, বিভাগের প্রধান ডঃ সুপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায়কে সম্প্রতি “লোয়ার লিম্ব রিহ্যাবিলিটেশন এক্সোস্কেলটন ডিভাইস এবং গেইট ট্রেনার সিস্টেম” এর পেটেন্ট দেওয়া হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য অর্জন অনুবাদমূলক গবেষণার প্রতি আই-এনকে-এর অব্যাহত প্রতিশ্রুতি এবং নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন প্রযুক্তিতে দেশীয় উদ্ভাবনের অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটায়।বিভাগটি আইআইটি-এর সাথে সহযোগিতামূলক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে, রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি-ভিত্তিক পুনর্বাসন প্রোটোকলকে ক্লিনিকাল অনুশীলনে একীভূত করছে।

  • উন্নত টিবিআই মূল্যায়ন এবং পিএমআর-ভিত্তিক নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন
  • হোলিস্টিক নিউরো-পেইন ম্যানেজমেন্ট
  • ভিআর এবং ইএমজি বায়োফিডব্যাক-সহায়তাপ্রাপ্ত নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন
  • এফইএস, ভাইটালস্টিম এবং বডিওয়েট-সমর্থিত গেইট পুনর্বাসন
  • নিউরোসাইকোলজিক্যাল কাউন্সেলিং এবং কমিউনিটি পুনঃএকত্রীকরণ
  • হোম-ভিত্তিক নিউরোরিহ্যাবিলিটেশন, টেলিরিহ্যাবিলিটেশন এবং কন্টিনিউয়াম অফ কেয়ার
    ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্ট, রিহ্যাবিলিটেশন সাইকোলজিস্ট, প্রোস্থেটিস্ট এবং অর্থোটিস্ট, হুইলচেয়ার প্রশিক্ষক এবং বৃত্তিমূলক পরামর্শদাতা, রিহ্যাব হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট, রিহ্যাব নার্স এবং মেডিকেল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের একটি অত্যন্ত দক্ষ দল নিয়ে, বিভাগটি তীব্র ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কমিউনিটি পুনঃএকত্রীকরণ পর্যন্ত যত্নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
  • জনাব অরূপ চক্রবর্তী (এমপি)
    সম্মানিত অতিথিবৃন্দঃ
  • অধ্যাপক (ড.) আর পি সেনগুপ্ত, ওবিই
  • অধ্যাপক (ড.) সঞ্জয় কুমার পান্ডে
  • ডাঃ সুপর্ণা গঙ্গোপাধ্যায়
  • ডাঃ শর্মিলা সরকার (এমপি)
  • মিসেস অপরাজিতা আধ্যা
  • মিঃ ধীমান দাস
  • স্বামী বেদাতিতানন্দজি মহারাজ
  • অধ্যাপক (ড.) হৃষিকেশ কুমার

Continue reading
নিউটাউনের নিউটিয়া ভাগীরথী নারী ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ইউনিট চালু করার মাধ্যমে, নবজাতক কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশনে বিলম্ব কমাতে সর্বোত্তম ১-৬ মাসের মধ্যে হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্যে কাজ করছে |
  • February 28, 2026

কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬: নিউটাউনের নিউটিয়া ভাগীরথী নারী ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, নিউটাউনের পেডিয়াট্রিক মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক শ্রবণশক্তি হ্রাস ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট (সিআই) ক্লিনিক চালু করেছে, যা পূর্ব ভারত জুড়ে নবজাতক এবং শিশুদের জন্য প্রাথমিক শ্রবণশক্তি সনাক্তকরণ এবং হস্তক্ষেপ পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করবে।জন্মগত শ্রবণশক্তি হ্রাস নবজাতকদের মধ্যে চিহ্নিত সবচেয়ে সাধারণ সংবেদনশীল অবস্থার মধ্যে একটি এবং শুধুমাত্র জন্মের পরে কাঠামোগত স্ক্রিনিং প্রোটোকলের মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা যেতে পারে। প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব স্বীকার করে, হাসপাতালটি বিশ্বব্যাপী প্রস্তাবিত “১-৩-৬” প্রাথমিক শ্রবণশক্তি সনাক্তকরণ এবং হস্তক্ষেপ (EHDI) প্রোটোকলের সাথে তার পরিষেবাগুলিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে – এক মাসের মধ্যে স্ক্রিনিং, যারা স্ক্রিনিং পাস করে না তাদের জন্য তিন মাসের মধ্যে ডায়াগনস্টিক নিশ্চিতকরণ এবং ছয় মাসের মধ্যে হস্তক্ষেপ।
এই উদ্যোগটি নেওটিয়া ভাগীরথী নারী ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রতিরোধমূলক যত্ন কাঠামোর উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার অধীনে হাসপাতালে প্রসব করা সকল নবজাতকের জন্য বাধ্যতামূলক নবজাতক শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয়। নতুন চালু হিয়ারিং লস অ্যান্ড কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ক্লিনিক সর্বোত্তম থেরাপিউটিক উইন্ডোর মধ্যে ব্যাপক মূল্যায়ন এবং সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ সক্ষম করবে, যা চিকিৎসায় বিলম্ব হ্রাস করবে।
প্রাথমিক শৈশবে চিকিৎসা না করা শ্রবণশক্তি হ্রাস বক্তৃতা বিকাশ, ভাষা অর্জন, জ্ঞানীয় বৃদ্ধি এবং স্কুল প্রস্তুতির উপর উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক শ্রবণশক্তি উদ্দীপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিলম্বিত ব্যবস্থাপনা অপরিবর্তনীয় কর্টিকাল শ্রবণশক্তি বঞ্চনার দিকে পরিচালিত করতে পারে। গুরুতর থেকে গভীর সংবেদনশীল শ্রবণশক্তি হ্রাসে আক্রান্ত শিশুদের জন্য যারা শ্রবণযন্ত্র থেকে পর্যাপ্তভাবে উপকৃত হন না, তাদের জন্য কক্লিয়ার ইমপ্লান্টেশন সবচেয়ে কার্যকর পুনর্বাসন সমাধান।

ক্লিনিকটি একটি বহুমুখী, এন্ড-টু-এন্ড কেয়ার পাথওয়ে অফার করে যার মধ্যে রয়েছে নবজাতকবিদ্যা সহায়তা, পেডিয়াট্রিক অডিওলজি, উন্নত ইমেজিং, সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ, শ্রবণ-মৌখিক থেরাপি এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন।
নিউটাউনের নিওটিয়া ভাগীরথী মহিলা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের ফ্যাসিলিটি ডিরেক্টর ডঃ ইন্দ্রাণী সুব্রহ্মণ্যম বলেন, “আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শ্রবণশক্তি হ্রাস ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ক্লিনিকের সূচনা ইএনটি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। একটি সহযোগিতামূলক, বহুমুখী পদ্ধতির মাধ্যমে, প্রতিটি শিশুর সর্বাধিক উপযুক্ত চিকিৎসা নির্ধারণের জন্য ব্যাপকভাবে মূল্যায়ন করা হয় – স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং রোগী-কেন্দ্রিক যত্ন নিশ্চিত করা।”

ইএনটি বিভাগের পরামর্শদাতা ইএনটি সার্জন ডঃ সঞ্চারি নন্দী আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে সনাক্তকরণ এবং হস্তক্ষেপ সর্বোত্তম বক্তৃতা এবং বিকাশের ফলাফল অর্জনের মূল চাবিকাঠি। স্ক্রিনিং এবং শ্রবণযন্ত্রের পরীক্ষা থেকে শুরু করে ইমেজিং, সার্জারি এবং দীর্ঘমেয়াদী অডিটরি ভার্বাল থেরাপি (AVT)-এর মতো একটি কাঠামোগত পথ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের পুনর্বাসনের সাফল্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।”এই সূচনার মাধ্যমে, নিওটিয়া ভাগীরথী মহিলা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র ব্যাপক, শিশু-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তার অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করে – জন্মের পর থেকে উন্নত বক্তৃতা, ভাষা এবং সামগ্রিক বিকাশের ফলাফলকে সমর্থন করে।


Continue reading
“উন্নততর চিকিৎসা পরিষেবার প্রবেশাধিকার বিস্তারে কলকাতায় প্রেস মিট আয়োজন করল অ্যাপোলো হসপিটালস, চেন্নাই”
  • December 4, 2025

কলকাতা, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫: পূর্ব ভারতের রোগীদের জন্য দেশের সর্বাধুনিক টারশিয়ারি ও কোয়াটার্নারি কেয়ার সেবার প্রবেশাধিকার আরও শক্তিশালী করতে আজ কলকাতায় একটি প্রেস মিট আয়োজন করে অ্যাপোলো হসপিটালস, চেন্নাই। এই অনুষ্ঠানে অ্যাপোলোর চার দশকব্যাপী ক্লিনিক্যাল এক্সেলেন্স, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার ঐতিহ্য বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। চেন্নাইয়ের সেন্টারস অফ এক্সেলেন্স প্রতি বছর পূর্ব ভারতের হাজারো জটিল রোগীকে সাফল্যের সঙ্গে সুস্থ করে তুলছে।প্রেস মিটে অ্যাপোলো হসপিটালস, চেন্নাই–এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—ড. নারায়ণ মিত্র (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ইস্টার্ন রিজিয়ন), অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই), মি. শ্রীধর রামান (ভাইস প্রেসিডেন্ট), ড. ইলঙ্কুমারন কালিয়ামূর্তি (গ্রুপ সিইও, অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই রিজিয়ন), মি. নাগার্জুন রেড্ডি (সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার, অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই), মি. শান্তনু চ্যাটার্জী (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার)পূর্ব ভারত অ্যাপোলো হসপিটালস-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রোগী রোবোটিকস, অনকোলজি, অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন, অ্যাডভান্সড কার্ডিয়াক সায়েন্সেস এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার-এর মতো উচ্চমাত্রার জটিল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই ভ্রমণ করছেন। ডায়াগনসিস থেকে প্রক্রিয়া এবং ফলো-আপ পর্যন্ত অ্যাপোলোর সমন্বিত চিকিৎসা কাঠামো প্রতিটি জটিল রোগীর জন্য নিশ্চিত করে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও সুনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা-পরিক্রমা।৪২ বছরের সুস্থতার যাত্রা:১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে অ্যাপোলো হসপিটালস ২০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের জীবন ছুঁয়েছে এবং দেশের উন্নত চিকিৎসার সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৪২ বছরে অ্যাপোলো ধারাবাহিকভাবে ক্লিনিক্যাল স্কেল, বিশেষজ্ঞের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মানদণ্ড স্থাপন করে চলেছে, যাতে দেশের বাইরের চিকিৎসার প্রয়োজন না পড়েই রোগীরা বিশ্বমানের চিকিৎসা পেতে পারেন।

Whatsapp image 2025 12 05 at 00.46.35

চেন্নাই: জটিল ও রোবোটিক চিকিৎসার ভারতের কেন্দ্রঅ্যাপোলো হসপিটালস, চেন্নাই দেশে বহুবিভাগীয় জটিল চিকিৎসার অন্যতম উন্নত কেন্দ্র। কলকাতা ও পূর্ব ভারতের রোগীরা এখানে এমন চিকিৎসার জন্য আসেন, যা উচ্চ বিশেষজ্ঞ দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। প্রধান শক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে—রোবোটিক সার্জারিতে নেতৃত্ব:২২,০০০-এর বেশি রোবোটিক সার্জারি সম্পন্ন করেছে অ্যাপোলো; চেন্নাইয়ে রয়েছে ১০টি রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ইউরোলজি, গাইনি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইএনটি ও অর্থোপেডিক্সে হাই-ভলিউম রোবোটিক প্রোগ্রাম—যা অধিক নির্ভুলতা, কম ব্যথা, ক্ষুদ্রতর চেরা, দ্রুত আরোগ্য ও টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করে।অ্যাডভান্সড কার্ডিয়াক সায়েন্সেস:উচ্চ-ঝুঁকির রোগীদের জটিল কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন ও সার্জারি, বিশেষায়িত আইসিইউ ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমের সহায়তায়।কোয়াটার্নারি অনকোলজি:
সার্জিক্যাল, মেডিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজি—সব মিলিয়ে সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসা, প্রিসিশন ডায়াগনস্টিক্স ও টিউমার বোর্ডের সহায়তায়।অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন এক্সেলেন্স:
বৃহৎ স্কেলের ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম, শক্তিশালী ফলাফল এবং পোস্ট-ট্রান্সপ্লান্টের সম্পূর্ণ কেয়ার কনটিনিউটি।ক্যান্সার কেয়ার: প্রিসিশন-ভিত্তিক, বহুবিভাগীয়, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসাঅ্যাপোলো চেন্নাই দেশের অন্যতম উন্নত ও সমন্বিত ক্যান্সার কেয়ার প্রোগ্রাম প্রদান করে, যা প্রিসিশন ডায়াগনস্টিক্স এবং পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত। সার্জিক্যাল, মেডিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজি—একটি সমন্বিত টিমের নেতৃত্বে প্রতিটি রোগীর জন্য নির্ধারিত হয় সঠিক সময়ে সঠিক থেরাপি। প্রতিটি কেস মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ডে পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে অনকোলজি, রেডিওলজি, প্যাথোলজি ও অর্গান-স্পেসিফিক বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে রোগীর জন্য সর্বোত্তম প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

ট্রান্সপ্লান্ট মাইলস্টোন: নতুন মানদণ্ডের সূচনাএশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রোগ্রাম হিসেবে অ্যাপোলোর একটি বড় সাফল্য হলো—অ্যাপোলো লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রামের অধীনে ৫,০০০টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন করা। এর ফলে অ্যাপোলো ভারত এবং এশিয়া অঞ্চলের প্রথম হাসপাতাল গোষ্ঠী হিসেবে এই মাইলস্টোন ছুঁয়েছে। এটি বহু বছরের ক্লিনিক্যাল স্কেল, মানসম্মত প্রোটোকল এবং অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দলের দক্ষতার প্রতিফলন।প্রেস মিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. ইলঙ্কুমারন কালিয়ামূর্তি, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাই রিজিয়ন বলেন—
“পশ্চিমবঙ্গ অ্যাপোলোর বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবার মিশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর আমরা এই অঞ্চল থেকে ১৫,০০০-এর বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিই, যাদের অনেকের চিকিৎসাই অত্যন্ত জটিল। রোবোটিকস, অনকোলজি, ট্রান্সপ্লান্ট—সব ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ও ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে চেন্নাই এখন দেশের উন্নত চিকিৎসার কেন্দ্র। আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের এই চিকিৎসা যাতে প্রতিটি রোগীর কাছে আরও সহজলভ্য হয়—বিশ্বাসযোগ্য আঞ্চলিক পার্টনারশিপ এবং নিরবচ্ছিন্ন কেয়ার কনটিনিউটির মাধ্যমে।”প্রিভেন্টিভ হেলথ: প্রো-হেলথের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণজটিল চিকিৎসার পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরেছে অ্যাপোলো। অ্যাপোলো প্রো-হেলথ চেক-আপ-এর মাধ্যমে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ক্যান্সার, মেটাবলিক ডিসঅর্ডার এবং লাইফস্টাইল-জনিত ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করতে পারেন। নিয়মিত প্রিভেন্টিভ চেক-আপ জীবনঘাতী হওয়ার আগেই রোগ ধরা পড়তে সাহায্য করে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার চাপ কমায় এবং বাঁচার সম্ভাবনা ও জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

Continue reading
মুখ ও গলার ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস-এ ক্যান্সার সার্ভাইভার মিট
  • November 30, 2025

কলকাতা, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫: মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা চেইন মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি অংশ, মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ ক্যানসার সারভাইভার মিটের আয়োজন করে। ভারতে মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার প্রধান কারণ তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার। পাশাপাশি, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরে নারীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে এই রোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র অনকোলজিস্টরা। ক্যানসার সারভাইভাররা এদিন তাঁদের লড়াইয়ের গল্প, ভয়কে জয় করার মুহূর্ত এবং নবউদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।মুখের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা সার্জারি। প্রাথমিক স্তরে (Early Oral Cancer) অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্টেজ ৩ ও ৪ এর রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রেডিয়েশন থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।

Whatsapp image 2025 11 29 at 20.40.39 (1)

ড. সৌরভ দত্ত, , ডিরেক্টর – মণিপাল অঙ্কোলজি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অনকোলজি , মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং ব্রডওয়ে বলেন, “ভারতে এখনও মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের বোঝা অত্যন্ত বেশি, প্রতি বছরই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। এদের প্রায় ৬৫–৭০%-ই তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারী। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে মুখের ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য—এই পর্যায়ে সাফল্যের হার ৭৫–৮০%-এরও বেশি। তাই উপসর্গের প্রতি সময়মতো নজর দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।“পুনর্গঠন সার্জারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রোগীই দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এখন মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য পুনর্গঠন পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং রক্তনালীর সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে শুধু মুখমণ্ডলের গঠনই পুনরুদ্ধার হয় না, রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, চিবোনো ও গিলতে পারার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতাও ফিরে পান। সফল পুনর্গঠন ক্যান্সারজয়ীর চিকিৎসা-পরবর্তী জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।”সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইভেন্টে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞ ড. কিংশুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন,“যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সার্জারির মাধ্যমেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়। রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এর ফলে রোগীর পরবর্তী জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভালো থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।”

প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির গুরুত্ব নিয়ে ড. সিঞ্জিনি দাস, কনসালট্যান্ট – প্লাস্টিক, রিকনস্ট্রাকটিভ & কসমেটিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস,, বলেন, “মুখের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে অনেক সময় গাল, জিহ্বা বা চোয়ালের কিছু অংশ অপসারণ করতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের মনে আবার আগের মতো কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে কি না—এই নিয়ে ভয় তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক পুনর্গঠন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই অংশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্গঠন করতে পারি, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, খাবার গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। আজকের দিনে পুনর্গঠনমূলক সার্জারি মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। গত চার বছরে আমাদের বিভাগে ৮০০-রও বেশি ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫০টি ছিল মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য।”এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যার নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কণ্ঠ–তে একজন ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সার্ভাইভারের সংগ্রাম, তাঁর কণ্ঠনালী অপসারণের পর নতুনভাবে কথা বলতে শেখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই চরিত্রায়ণ কেবল দর্শকদের অনুপ্রাণিতই করেনি, বরং মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বহমান ভয়, অস্বস্তি ও ভুল ধারণা দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই এই ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি ছিল গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইভেন্টে উপস্থিত সকল ক্যান্সার সার্ভাইভাররা তাঁদের ভয়কে জয় করার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও পরিবারের সহায়তা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁরা আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন—এই সবকিছু বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন।একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, এস. কে. আমিন আলি (বয়স ৪৭), যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন, “আমি সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী জীবন যাপন করেছি। দীর্ঘ কর্মসময় সামলে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ট্রেকিংয়ের আগ্রহ, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তখন এক মুহূর্ত দেরি করিনি। অনলাইনে খুঁজে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করি এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য এখানে আসি। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসকেরা আমাকে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য,আবার শক্তি ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়ানো।”আরেকজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, শাশ্বতী বিশ্বাস (বয়স ৪৫), নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যখন আমার রোগ নির্ণয় হলো, আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম, কি করব? কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মণিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সবকিছু বদলে গেল। ডাক্তার, নার্স এবং পুরো টিম আমাকে আন্তরিক যত্নে আগলে রাখলেন। তাঁরা আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন যা আমি খুঁজছিলাম। আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছি এবং অসংখ্য ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা না পাওয়ায় ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। কিন্তু এখানে আমি সময়মতো রোগ নির্ণয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ—সবই পেয়েছি। আজ আমার অস্ত্রোপচারের পর আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের প্রতি প্রেরণা ও আশা নিয়ে।

Continue reading
কলকাতা ইসলামিয়া হাসপাতালে ব্রেইল অ্যাক্সেসিবিলিটি প্রকল্পের উদ্বোধন।
  • November 30, 2025

29শে নভেম্বর 2025 কলকাতা : ইয়ং ইন্ডিয়ান্স কলকাতা চ্যাপ্টার ২৯শে নভেম্বর ইসলামিয়া হাসপাতালে ব্রেইল অ্যাক্সেসিবিলিটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে, যা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা অ্যাক্সেসের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত। এই উদ্যোগটি রোগীদের ব্রেইল ইন্টিগ্রেটেড ইনফরমেশন সাপোর্টের মাধ্যমে স্পষ্টতা, স্বাধীনতা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে হাসপাতালের স্থানগুলিতে চলাচল করতে সক্ষম করে।এই উদ্বোধনটি ইয়ির মূল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে যা হল এমন একটি ভারত গড়ে তোলা যেখানে অন্তর্ভুক্তি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয় বরং মানসম্মত। ইয়ি কলকাতা এমন পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে যা মানুষকে ক্ষমতায়ন করে, কাঠামোগত বাধা ভেঙে দেয় এবং সরকারি ও বেসরকারি স্থানগুলিতে সমান অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। অ্যাক্সেসিবিলিটি এখনও তার অন্যতম শক্তিশালী আদেশ এবং এই হস্তক্ষেপ এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে একটি পদক্ষেপ যেখানে কোনও ব্যক্তি কেবল অক্ষমতার কারণে সিস্টেম থেকে বাদ পড়ে না।

Whatsapp image 2025 11 30 at 15.25.21

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, সম্মানিত অতিথি আমিরুদ্দিন ববি, কাউন্সিলর ৫৪ নং ওয়ার্ড কেএমসি এবং এমএমআইসি মার্কেট বলেন,“অ্যাক্সেসিবিলিটি দানশীলতা নয়। এটি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। ইয়ং ইন্ডিয়ান্স আজ যা সহজলভ্য করেছে তা কেবল একটি স্থাপনা নয় বরং একটি বার্তা যে স্বাস্থ্যসেবা অবশ্যই চলাচলযোগ্য এবং সহানুভূতিশীল হতে হবে। আমি আশা করি এটি কলকাতা জুড়ে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মডেল হয়ে উঠবে।””আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি ভারত যেখানে প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে চলাফেরা করতে পারবে, যেখানে তার সামর্থ্য নির্বিশেষে। এই ব্রেইল প্রকল্পটি সেই দিকে একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী পদক্ষেপ। আমরা বিশ্বাস করি যে অন্তর্ভুক্তি শুরু হয় অবকাঠামো দিয়ে এবং আমরা আশা করি আরও হাসপাতাল এবং পাবলিক স্পেস আমাদের সাথে হাত মিলিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি সহজলভ্য শহর গড়ে তুলবে,” কলকাতার টিম আরও যোগ করেছে।এই উদ্যোগটি একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে সংগৃহীত তহবিল এবং সদস্যদের সমর্থনের মাধ্যমে সমর্থিত হয়েছিল, যারা এই অর্থপূর্ণ মাইলফলকের পিছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।এই স্থাপনার মাধ্যমে, কলকাতা এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে যে অগ্রগতি প্রবেশাধিকার দিয়ে শুরু হয়। কর্ম যখন উদ্দেশ্য পূরণ করে তখন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত খুব বেশি দূরে নয় এবং আজকের উদ্বোধন তার প্রমাণ।

Continue reading
ডিসান হাসপাতালে ব্রেস্ট ক্যানসার স্পেশালিটি ক্লিনিক
  • October 23, 2025

Continue reading
সবার জন্য আনন্দ গড়ে তুলছে Greenply – CareForAll উদ্যোগে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তি
  • October 15, 2025

Greenply maaonwheels img1 (1)

কলকাতা,15.10.2025 : জন্য আনন্দ গড়ে তুলছে Greenply – CareForAll উদ্যোগে সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিএই ভাবনাকেই সামনে রেখে Greenply নিয়েছে তাদের উদ্যোগ #CareForAll। এটি শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, বরং একটি বিশ্বাস—যেখানে সবার জন্য জায়গা তৈরি করা হয়, যেখান থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না।

এই বিষয়ে Greenply Industries Ltd.-এর যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী সানিধ্য মিত্তল বলেন,
“#CareForAll উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছি ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’। আমাদের লক্ষ্য, এমন এক সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সবাই মিলে আনন্দ করতে পারে, কোনো বাধা ছাড়াই। Maa on Wheels, আইপিএল স্টেডিয়ামে প্লাইউড র‍্যাম্প তৈরি—এই সব উদ্যোগই আমাদের সেই বিশ্বাসের অংশ, যাতে সবাই অংশ নিতে পারে এবং নিজেকে অন্তর্ভুক্ত মনে করে।”

অনেক ব্র্যান্ড যেখানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগকে শুধু প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখে, সেখানে Greenply দেখেছে এক ভিন্ন সুযোগ। ২০২৩ সাল থেকে পরপর তিন বছর তারা লখনৌর একানা স্টেডিয়ামে হুইলচেয়ার-বান্ধব প্লাইউড র‍্যাম্প তৈরি করেছে, যাতে শারীরিকভাবে ভিন্ন সক্ষম ভক্তরাও মাঠে বসে সরাসরি খেলা দেখতে পারেন। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো এর উদ্দেশ্য—যেখানে প্রচারের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্ভুক্তি ও অ্যাক্সেসিবিলিটিকে।

তবে Greenply-এর এই চিন্তা নতুন নয়। ২০১৮ সালে কলকাতায় তারা শুরু করেছিল #PujoForAll। দুর্গাপূজার সময় তারা তৈরি করেছিল ‘অ্যাক্সেসিবল প্যান্ডেল ম্যাপ’ এবং জনগণকে উৎসাহ দিয়েছিল সেই প্যান্ডেলগুলি চিহ্নিত করতে যেখানে এখনো র‍্যাম্প ছিল না। প্রতিটি অনুরোধে Greenply নিজেরাই সেই পরিকাঠামো তৈরি করেছিল, ফলে উৎসবের সময় এক নতুন অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

এই বছর আবারও কলকাতায় এই ভাবনা পেয়েছে নতুন রূপ—Maa on Wheels উদ্যোগে। এর  মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনন্দ পৌঁছে যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ মানুষদের কাছে। যারা ভিড়ভাট্টা পূজোর রাস্তায় যেতে পারেন না, তাদের জন্য নিজের উঠোনে মা দুর্গার আগমন মানে আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত—একটি মৃদু স্মরণ যে, তারাও এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্যান্ডেল হোক, স্টেডিয়াম বা বৃদ্ধাশ্রম—সব জায়গায় Greenply-এর উদ্দেশ্য একটাই: যাতে আনন্দ ও অংশগ্রহণ কখনো শারীরিক সীমাবদ্ধতায় আটকে না যায় র‍্যাম্প, মানচিত্র বা একবারের সফর—এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই মানুষকে একত্র করে, অন্তর্ভুক্তি তৈরি করে, আর উদযাপনকে সত্যিকারের করে তোলে।

বিশেষ দিন উদযাপনের আসল আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন সবাই একসাথে থাকে। যখন কারো মুখ, কারো হাসি, বা উপস্থিতি বাদ যায় না। অন্তর্ভুক্তির মানে হচ্ছে আনন্দ যেন শুধু কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ভাবনাকেই সামনে রেখে Greenply নিয়েছে তাদের উদ্যোগ #CareForAll। এটি শুধু একটি প্রজেক্ট নয়, বরং একটি বিশ্বাস—যেখানে সবার জন্য জায়গা তৈরি করা হয়, যেখান থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না।

এই বিষয়ে Greenply Industries Ltd.-এর যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী সানিধ্য মিত্তল বলেন,
“#CareForAll উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছি ‘অ্যাক্সেসিবিলিটি’। আমাদের লক্ষ্য, এমন এক সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সবাই মিলে আনন্দ করতে পারে, কোনো বাধা ছাড়াই। Maa on Wheels, আইপিএল স্টেডিয়ামে প্লাইউড র‍্যাম্প তৈরি—এই সব উদ্যোগই আমাদের সেই বিশ্বাসের অংশ, যাতে সবাই অংশ নিতে পারে এবং নিজেকে অন্তর্ভুক্ত মনে করে।”

অনেক ব্র্যান্ড যেখানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগকে শুধু প্রচারের মাধ্যম হিসেবে দেখে, সেখানে Greenply দেখেছে এক ভিন্ন সুযোগ। ২০২৩ সাল থেকে পরপর তিন বছর তারা লখনৌর একানা স্টেডিয়ামে হুইলচেয়ার-বান্ধব প্লাইউড র‍্যাম্প তৈরি করেছে, যাতে শারীরিকভাবে ভিন্ন সক্ষম ভক্তরাও মাঠে বসে সরাসরি খেলা দেখতে পারেন। এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো এর উদ্দেশ্য—যেখানে প্রচারের চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অন্তর্ভুক্তি ও অ্যাক্সেসিবিলিটিকে।

তবে Greenply-এর এই চিন্তা নতুন নয়। ২০১৮ সালে কলকাতায় তারা শুরু করেছিল #PujoForAll। দুর্গাপূজার সময় তারা তৈরি করেছিল ‘অ্যাক্সেসিবল প্যান্ডেল ম্যাপ’ এবং জনগণকে উৎসাহ দিয়েছিল সেই প্যান্ডেলগুলি চিহ্নিত করতে যেখানে এখনো র‍্যাম্প ছিল না। প্রতিটি অনুরোধে Greenply নিজেরাই সেই পরিকাঠামো তৈরি করেছিল, ফলে উৎসবের সময় এক নতুন অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

এই বছর আবারও কলকাতায় এই ভাবনা পেয়েছে নতুন রূপ—Maa on Wheels উদ্যোগে। এর  মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনন্দ পৌঁছে যাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ মানুষদের কাছে। যারা ভিড়ভাট্টা পূজোর রাস্তায় যেতে পারেন না, তাদের জন্য নিজের উঠোনে মা দুর্গার আগমন মানে আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত—একটি মৃদু স্মরণ যে, তারাও এই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্যান্ডেল হোক, স্টেডিয়াম বা বৃদ্ধাশ্রম—সব জায়গায় Greenply-এর উদ্দেশ্য একটাই: যাতে আনন্দ ও অংশগ্রহণ কখনো শারীরিক সীমাবদ্ধতায় আটকে না যায় র‍্যাম্প, মানচিত্র বা একবারের সফর—এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই মানুষকে একত্র করে, অন্তর্ভুক্তি তৈরি করে, আর উদযাপনকে সত্যিকারের করে তোলে।

#CareForAll উদ্যোগের মাধ্যমে Greenply শুধু জায়গা নয়, জীবন বদলানোর পথে এগোচ্ছে—যাতে কেউ বাদ না পড়ে, আর সবাই একসাথে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে।

বিশেষ দিন উদযাপনের আসল আনন্দ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন সবাই একসাথে থাকে। যখন কারো মুখ, কারো হাসি, বা উপস্থিতি বাদ যায় না। অন্তর্ভুক্তির মানে হচ্ছে আনন্দ যেন শুধু কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।



Continue reading
ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতাল অর্টনার সিনড্রোমে আক্রান্ত বিরল মহাধমনী অ্যানিউরিজমের ক্ষেত্রে জটিল TEVAR সার্জারি।
  • June 4, 2025

Whatsapp image 2025 06 05 at 00.54.10


কলকাতা, ৪ জুন ২০২৫ – পূর্ব ভারতের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক মণিপাল হাসপাতাল, ৭২ বছর বয়সী ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগী শ্রী রবীন্দ্র কুমার সরকারের উপর -থোরাসিক এন্ডোভাসকুলার অ্যানিউরিজম রিপেয়ার (TEVAR) সার্জারি করেছে। কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারি (CTVS) প্রধান ডাঃ কৌশিক মুখার্জি এবং কনসালট্যান্ট ভাস্কুলার সার্জন ডাঃ শুভব্রত ব্যানার্জীর তত্ত্বাবধানে। সিটি টোটাল অ্যাওর্টোগ্রাফির মাধ্যমে জানা গেছে যে বুকের ভিতরের প্রধান রক্তনালীতে (অর্টা) একটি বিরল স্ফীতি মস্তিষ্ক এবং বাহুতে রক্ত ​​সরবরাহকারী মূল ধমনীর কাছে বিপজ্জনকভাবে অবস্থিত, যা এই অবস্থাকে সম্ভাব্য জীবন-হুমকি এবং চিকিৎসাকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। অ্যানিউরিজম নামে পরিচিত এই স্ফীতিটি একটি স্নায়ুর উপর চাপ দিচ্ছিল যা ভয়েস বক্স নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে তার ক্রমাগত কর্কশতা দেখা দিচ্ছিল। অর্টনার সিনড্রোম বা কার্ডিও-ভোকাল সিনড্রোম নামে পরিচিত এই অস্বাভাবিক অবস্থাটি ভারতে মাত্র ১% থেকে ৩% ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়, যা এটিকে বিরল ক্ষেত্রে পরিণত করে।
থোরাসিক এন্ডোভাসকুলার অ্যানিউরিজম মেরামত (TEVAR) হল একটি পদ্ধতি যা সাধারণত মহাধমনীর অস্বাভাবিক স্ফীতির চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। মিঃ সরকারের ক্ষেত্রে এটি কঠিন ছিল কারণ অ্যানিউরিজমটি খুব জটিল স্থানে পাওয়া গিয়েছিল, বাম সাবক্ল্যাভিয়ান ধমনীর (উপরের অঙ্গগুলিতে (বাহুতে) রক্ত ​​সরবরাহকারী প্রধান রক্তনালী, সেইসাথে ঘাড় এবং মাথার কিছু অংশ) পরে অবতরণকারী থোরাসিক অ্যাওর্টায়, যা একটি সংবেদনশীল অঞ্চল, মস্তিষ্ক এবং বাহুতে রক্ত ​​সরবরাহকারী প্রধান ধমনীর কাছাকাছি। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান সত্ত্বেও, চিকিত্সকরা ওপেন-হার্ট সার্জারি বা অতিরিক্ত বাইপাস ছাড়াই স্টেন্ট গ্রাফ্ট সফলভাবে স্থাপন করেছিলেন, যা ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালের চিকিত্সকদের দলের অস্ত্রোপচার পরিকল্পনা এবং উন্নত ক্ষমতার প্রমাণ। অ্যানিউরিজমটি সিল করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ ধমনীগুলি অক্ষত ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোগীর ২৬শে মে ২০২৫ তারিখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল এবং ২ দিনের মধ্যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

এই বিরল কেসটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে, ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতাল কার্ডিওথোরাসিক অ্যান্ড ভাস্কুলার সার্জারির (সিটিভিএস) প্রধান ডাঃ কৌশিক মুখার্জি বলেছেন, “মিঃ সরকার আমাদের কাছে কণ্ঠস্বরের কর্কশতা নিয়ে এসেছিলেন, যা অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমের একটি অস্বাভাবিক লক্ষণ, যা বিরলতম ক্ষেত্রে। প্রকৃতপক্ষে, তার বয়স এবং ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অন্তর্নিহিত অবস্থার কারণে, থোরাকোটমির মাধ্যমে অ্যানিউরিজমের ওপেন সার্জারি মেরামতের জন্য তিনি ভালো প্রার্থী ছিলেন না। সেই কারণেই আমরা একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক TEVAR পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলাম। অ্যানিউরিজমের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে এটি প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন ছিল, তবে আমরা গুরুত্বপূর্ণ রক্ত ​​প্রবাহকে প্রভাবিত না করেই এটি সফলভাবে সিল করতে সক্ষম হয়েছি, একই সাথে ওপেন সার্জারির ঝুঁকি এড়িয়ে। তার মসৃণ পুনরুদ্ধার আমাদের দলের পরিকল্পনার প্রমাণ। তার কণ্ঠস্বর ইতিমধ্যেই উন্নত হতে শুরু করেছে এবং তিনি এখন সম্পূর্ণরূপে আরোগ্যের পথে রয়েছেন।”
মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার কনসালট্যান্ট ভাস্কুলার সার্জন ডাঃ শুভব্রত ব্যানার্জি বলেন, “এই ধরণের ঘটনাগুলি ভারতে ভাস্কুলার কেয়ার কতটা এগিয়েছে তা তুলে ধরে। একসময় জটিল ওপেন-চেস্ট সার্জারির প্রয়োজন ছিল যা এখন একটি ছোট ছেদনের মাধ্যমে পরিচালনা করা যেতে পারে, মণিপাল হাসপাতালগুলিতে উপলব্ধ উন্নত এন্ডোভাসকুলার কৌশলগুলির জন্য ধন্যবাদ। এই পদ্ধতিটি কেবল অ্যানিউরিজমের চিকিৎসার জন্য ছিল না, এটি ন্যূনতম ঝুঁকির সাথে জীবনের মান রক্ষা করার এবং তার ভয়েস বক্স সংরক্ষণ করার জন্যও ছিল। আমাদের সম্মিলিত দক্ষতার ফলে আমরা এমন একটি সমাধান প্রদান করতে পেরেছি যা একজন রোগীর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর উভয়ই ছিল যারা অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রোপচারের জন্য দুর্বল প্রার্থী হতেন।”
রোগী, শ্রী রবীন্দ্র কুমার সরকার, বলেন, “ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালে আসার আগে, আমি বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করেছিলাম, যার মধ্যে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞও ছিলেন, কিন্তু কেউই আমার কণ্ঠস্বরের কর্কশতার কারণ বলতে পারেননি। অবশেষে যখন আমি মণিপাল হাসপাতালে আসি, তখন আমি কেবল উত্তরই খুঁজে পাইনি, বরং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাও পেয়েছি। আমাকে বলা হয়েছিল যে আমার হৃদপিণ্ডের কাছে একটি গুরুতর রোগ রয়েছে এবং ৭২ বছর বয়সে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের সাথে, আমি জানতাম অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কিন্তু এখানকার ডাক্তাররা আমাকে এমন একটি পদ্ধতির মাধ্যমে জীবনের নতুন দিশা দিয়েছেন যা অলৌকিক বলে মনে হয়নি। আমি সন্দেহ নিয়ে এসেছিলাম এবং আশা নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম।”
মণিপাল হাসপাতালকে যা আলাদা করে তোলে তা কেবল স্কেল নয়, বরং রিয়েল টাইমে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। স্টেন্টিং পদ্ধতির সময় ধসে পড়া হোক বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী জটিলতা, হাসপাতালগুলি ৫০০+ ক্রিটিক্যাল কেয়ার শয্যা, ৭৫ জন বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট, ১৫ জন অত্যন্ত দক্ষ কার্ডিওথোরাসিক এবং ভাস্কুলার সার্জন (সিটিভিএস) এবং কলকাতার সমস্ত ইউনিটে সাতটি উন্নত ক্যাথ ল্যাব দিয়ে সজ্জিত। ২৪x৭ জরুরি দল এবং অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞরা জীবন রক্ষাকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও বিলম্ব না করে তা নিশ্চিত করে। প্রতি বছর এটি ৩০,০০০ এরও বেশি হৃদরোগের চিকিৎসা এবং ৩,০০০ এরও বেশি হৃদরোগের অস্ত্রোপচার করে।

Continue reading

মিস করে যাওয়া

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |
শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |
পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বড় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, জানালেন পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার |
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইরত শিশুদের সমর্থনে কলকাতায় নিয়ে আসছে এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬, ‘আশার সুর’। এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই একাদশ বার্ষিক কনসার্টটি এক দশকের প্রভাবকে চিহ্নিত করছে।
NATS প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ চাকরি পান, BOPT(ER) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তম কুমার কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মহানায়ক উত্তম কুমারের কালজয়ী স্মৃতির প্রতি এক বিশাল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ||