অম্বুজা নিওটিয়া আয়োজিত নবম চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা |
  • June 28, 2026



কলকাতা, ২৬ জুন: অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপ এবং চার্লস কোরিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সিটি সেন্টার সল্টলেকের ‘রয়্যাল বেঙ্গল রুম’-এ অনুষ্ঠিত হলো নবম ‘চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা’। স্থাপত্য, নতুন ভাবনা এবং সৃজনশীল ঐতিহ্যের প্রতি নিবেদিত এই সন্ধ্যায় স্থপতি, শিক্ষার্থী, নকশা-বিশেষজ্ঞ এবং চিন্তাবিদগণ একত্রিত হয়েছিলেন।
ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী স্থপতি চার্লস কোরিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত এই বার্ষিক বক্তৃতা-মালাটি নকশা, নগর-পরিকল্পনা এবং জনজীবন গঠনে স্থাপত্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এ বছরের মূল বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি মারলন ব্ল্যাকওয়েল; ভূ-প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রেখে কাজ করার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
অম্বুজা নিওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নিওটিয়া, মধু নিওটিয়া, মারলন ব্ল্যাকওয়েল এবং স্থাপত্য জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। হর্ষবর্ধন নিওটিয়া উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং মারলন ব্ল্যাকওয়েলের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ব্ল্যাকওয়েল তাঁর নকশা-দর্শন ও পেশাগত যাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর অত্যন্ত প্রশংসিত কিছু কাজের নিদর্শন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে হর্ষবর্ধন নিওটিয়া বলেন, “চার্লস কোরিয়া কেবল একজন স্থপতিই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব, যিনি স্থান, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে আমাদের চিন্তাধারাকে বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর কাজ প্রমাণ করেছে যে, স্থাপত্য নিজস্ব প্রেক্ষাপট ও মানুষের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রেখেও কীভাবে অত্যন্ত আধুনিক হয়ে উঠতে পারে। এই বক্তৃতা-মালার মাধ্যমে আমরা সেই চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই; এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাই যেখানে নতুন প্রজন্মের স্থপতি, নকশাকার এবং নগর-নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করার মতো চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান ঘটতে পারে।”

20260626

‘আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্টস’-এর ফেলো (FAIA), মর্যাদাপূর্ণ ‘২০২০ এআইএ (AIA) গোল্ড মেডেল’-এর প্রাপক এবং আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক মারলন ব্ল্যাকওয়েল সমসাময়িক স্থাপত্যের জগতে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তাঁর প্রতিষ্ঠান ২১৫টিরও বেশি নকশা-পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে; তাঁর প্রকল্পগুলোতে মানুষ, স্থান এবং উদ্দেশ্যকে নকশার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়। চার্লস কোরিয়ার কথা স্মরণ করে ব্ল্যাকওয়েল বলেন, “চার্লস কোরিয়া এমন একটি বিষয় অনুধাবন করেছিলেন যা আয়ত্ত করতে অনেক স্থপতিই তাঁদের সারা জীবন ব্যয় করেন—আর তা হলো, সবচেয়ে অর্থবহ ভবনগুলো আসলে সেগুলোর বাসিন্দাদেরই। তাঁর স্মৃতিতে এবং তাঁর কর্মময় ঐতিহ্যকে উদযাপনকারী এই শহরে বক্তব্য রাখা আমার জন্য একাধারে সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়।”
এই বক্তৃতা আয়োজনের শুরু থেকেই যাঁরা এতে বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন, ব্ল্যাকওয়েল তাঁদের সেই বিশিষ্ট তালিকায় যুক্ত হলেন। এর আগের আয়োজনগুলোতে বিশ্বখ্যাত স্থপতিরা অংশ নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিটার স্টাচবেরি, আন্দ্রা মাতিন, বৃন্দা সোমায়া, বিভূতি মান সিং, সি. আঞ্জালেনদ্রান, কে.টি. রবীন্দ্রন, সঞ্জয় মোহে, ইয়ুং হো চ্যাং, কাশেফ চৌধুরী, উদয় জোশি, রিচার্ড হ্যাসেল, কামাল হাদকার, সোলানো বেনিতেজ এবং রাহুল মেহরোত্রা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রখ্যাত স্থপতি, লেখক ও প্রধান আয়োজক আশিস আচার্যি, যিনি জয়পুরের জওহর কলা কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব প্রকল্পে চার্লস কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ব্ল্যাকওয়েলের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আচার্যি বলেন, “ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা, প্রেক্ষাপট, সংস্কৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন তিনি যে নিপুণ দক্ষতায় ঘটান এবং সবকিছুকে যেভাবে একীভূত করেন—তাই তাঁর স্থাপত্যশৈলীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।”

Continue reading
কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান |
  • June 22, 2026

কলকাতা, ১৯ জুন: স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন আর শুধু ভয়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সময়মতো রোগ নির্ণয়ই এর মূল চালিকাশক্তি। জিনগত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা রোগীর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারে, আজ এখানে একটি সচেতনতামূলক অধিবেশনে চিকিৎসকরা একথা বলেন।কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। “আজকাল স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যক্তিগত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় আমাদের আরোগ্যের সেরা সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, আধুনিক চিকিৎসা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের গঠন, কার্যকারিতা এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে,” তিনি ‘মিসেস ইন্ডিয়া কুইন অফ সাবস্ট্যান্স’ এবং ‘ওম্যান অফ দ্য ইউনিভার্স ২০২৫’-এর রানার-আপ দেবজানি গুহের সঙ্গে এক খোলামেলা আলাপচারিতার সময় একথা বলেন।

WhatsApp Image 2026 06 19 at 17.46.11

আইএআরসি-গ্লোবোক্যান ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ১,৯২,০২০টি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা নারীদের মধ্যে মোট ক্যান্সারের ২৬.৬ শতাংশ। যদিও এই রোগটি সাধারণত মধ্যবয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এটি কম বয়সী নারীদের পাশাপাশি বেশি বয়সী নারীদেরও আক্রান্ত করতে পারে। তাঁরা বলেছেন, শুধুমাত্র বয়সের কারণে স্তনের কোনো পরিবর্তনকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।আধুনিক স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। টিউমারের পর্যায় এবং জৈবিক প্রকৃতির উপর নির্ভর করে, রোগীরা এখন স্তন-সংরক্ষণকারী সার্জারি, অনকোপ্লাস্টিক পুনর্গঠন, রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, HER2-টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা ‘নতুন টার্গেটেড মেডিসিন’ গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসার সিদ্ধান্তগুলো এখন শুধু টিউমারের অবস্থানের উপরই নয়, বরং এটি কী ধরনের টিউমার, তার উপরও ক্রমশ বেশি নির্ভর করছে।যাদের বংশগত রোগের জোরালো ইতিহাস, অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সার, উভয় স্তনে ক্যান্সার, পরিবারে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ইতিহাস অথবা নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টিউমারের ধরণ রয়েছে, সেইসব নারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেনেটিক ঝুঁকি মূল্যায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। BRCA1 এবং BRCA2-এর মতো মিউটেশনের পরীক্ষা সেইসব নারী ও পরিবারকে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, প্রতিরোধমূলক কৌশল অথবা বংশগত ঝুঁকির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

ডঃ গুপ্তা, যিনি সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে রেড কার্পেটে হেঁটেছেন, বলেছেন যে এই বার্তাটি ক্লিনিকের বাইরেও পৌঁছানো দরকার: সচেতনতা জীবন বাঁচায়, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় জরুরি, এবং কোনো নারীরই নীরবে কষ্ট ভোগ করা উচিত নয়।আন্তর্জাতিক তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে স্থানীয় স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশেরও বেশি রোগী বেঁচে যান। তাই সচেতনতা, স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসাকে একটি সম্মিলিত জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন এইচসিজি ক্যান্সার হসপিটালস-এর পূর্ব ও অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলের রিজিওনাল বিজনেস হেড ডা. রুপালি বসু।

Continue reading
রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল তার কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
  • June 17, 2026

কলকাতা, ১৬ জুন ২০২৬: সিকে বিড়লা হসপিটালস – বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল, কলকাতা, রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালু করার মাধ্যমে উন্নত ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাসপাতালের নেতৃত্ব, কার্ডিয়াক সার্জারি দল এবং সম্প্রতি এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগীদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত দশকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির বিপরীতে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে সার্জন-নিয়ন্ত্রিত রোবটিক যন্ত্র এবং হাই-ডেফিনিশন ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করা হয়। রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বুকে বড় ছিদ্র এড়িয়ে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি অস্ত্রোপচারের আঘাত কমাতে, রক্তক্ষরণ কমাতে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কমাতে, ক্ষত-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় রোগীরা প্রায়শই হাসপাতালে কম সময় থাকেন এবং দ্রুত তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সার্জনদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রযুক্তি উন্নত নির্ভুলতা এবং দক্ষতা প্রদান করে, যা তাদের সীমিত স্থানেও ব্যতিক্রমী নির্ভুলতার সাথে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম করে।

20260616

বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সৌম্য গুহ, যিনি রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জিক্যাল পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন, তিনি বলেন, “রোবোটিক সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগতভাবে যা অর্জনযোগ্য, তার পরিবর্তন এনে দেয়, বিশেষ করে সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরস্থান জটিল এবং উপলব্ধ স্থান সীমিত। এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কেসগুলোতে, ফলাফলগুলো এই প্রযুক্তি যা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোগীর আরোগ্য লাভের অভিজ্ঞতা প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।”বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডঃ মনোজ দাগা বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেশি, এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রোগীদের উন্নত সার্জিক্যাল পরিকাঠামো প্রয়োজন এমন চিকিৎসার জন্য অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। আমাদের কার্যক্রমে রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সেই মানের চিকিৎসা এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রম গড়ে তোলা, যা সবচেয়ে জটিল কেসগুলোও সামলাতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে নির্ভুলতা, আরোগ্যলাভ ও রোগীর সার্বিক ফলাফল উন্নত করবে, এবং এটি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

সিকে বিড়লা হসপিটালস- বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (কলকাতা) এবং জয়পুরের আঞ্চলিক প্রধান শ্রী সুপ্রতিক দে সরকার বলেন, “বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন এমন সব কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার সুনাম তৈরি করেছে, এবং রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির সংযোজন সেই অবস্থানকে আরও অর্থবহভাবে শক্তিশালী করেছে। পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল যা উন্নত হৃদরোগের সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারে, যাতে রোগীদের এই অঞ্চলের বাইরে যেতে না হয়। এই প্রোগ্রামে আমরা যে বিনিয়োগ করেছি তা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আমরা এই অঞ্চলের রেফারকারী ডাক্তার, রোগী এবং পরিবারবর্গকে জানাতে চাই।”
যখন কোনো হৃদরোগের কেস জটিল হয়, তখন তাকে এখানেই আনা যেতে পারে। আমরা এই মান অর্জনের জন্যই কাজ করছি, এবং রোবোটিক সার্জারি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি অংশ।

রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল জটিল কার্ডিয়াক পদ্ধতির জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যা পূর্ব ভারতের রোগীদের বাড়ির কাছাকাছিই বিশ্বমানের সার্জিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।

Continue reading
অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতা: ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন’-এর মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা |
  • June 14, 2026

কলকাতা, ভারত; 12 জুন,2026 : অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতা আজ ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’ (হাঁটুর আংশিক পুনর্গঠন শল্যচিকিৎসা)-র আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেছে। শীর্ষস্থানীয় অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিস্তারিত মেডিকেল ব্রিফিংয়ে এই উন্নত ও রোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতির কথা জানানো হয়। এই পদ্ধতিটি মূলত হাঁটুর সুস্থ অংশকে অক্ষত রাখার ওপর গুরুত্ব দেয় এবং প্রথাগত ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (হাঁটু সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন)-এর একটি অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করে। অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতার সিনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. রঞ্জন কামিল্যা এবং কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সৌমেন কর এই ব্রিফিংয়ের নেতৃত্ব দেন। বিশেষজ্ঞরা প্রদর্শন করেন যে, কীভাবে অত্যাধুনিক ‘প্রিসিশন টেকনোলজি’ বা নির্ভুল প্রযুক্তির সাহায্যে শল্যচিকিৎসকরা হাঁটুর শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশটিকেই চিহ্নিত করে প্রতিস্থাপন করতে পারেন, যার ফলে সুস্থ হাড়, আশেপাশের কলা (টিস্যু) এবং প্রাকৃতিক লিগামেন্টগুলি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে।

পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন—বিশেষ করে ‘ইউনিকম্পার্টমেন্টাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (UKR)—এর ক্লিনিক্যাল বা চিকিৎসাগত সুবিধাগুলি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বব্যাপী তথ্যের দ্বারা সমর্থিত। সম্মেলনের সময় মেডিকেল টিম ‘অক্সফোর্ড ফেজ ৩ UKR ​​স্টাডিজ’-এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পদ্ধতির স্থায়িত্ব অসাধারণ—১০ বছর পর ইমপ্ল্যান্টের কার্যকারিতা বা টিকে থাকার হার ৯৩% এবং ১৫ বছর পর এই হার ৮৯%। এছাড়া, এই পদ্ধতিতে রোগীর নিরাপত্তা বেশি থাকে; প্রথাগত ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ (TKR)-এর তুলনায় UKR-এর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি ৫০% কম। দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণে জয়েন্ট বা গাঁটের উন্নত কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যেখানে ‘অক্সফোর্ড নি স্কোর’ (OKS) অস্ত্রোপচারের আগের গড় ২৩ থেকে বেড়ে ৪৮-এর মধ্যে ৪০-এর বেশি হয়েছে। দ্রুত পুনর্বাসনের ফলে রোগীরা সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই হালকা কাজকর্ম এবং কম-চাপযুক্ত খেলাধুলায় ফিরে আসতে পারেন, যা TKR-এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ৩ থেকে ৬ মাসের তুলনায় অনেক দ্রুত।

ডা. কামিল্যা ব্যাখ্যা করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর গুরুতর ক্ষতির চিকিৎসায় প্রথাগত ‘নি রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি’-কেই আদর্শ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে; তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই আসলে সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’-র মাধ্যমে শল্যচিকিৎসক দল শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা করতে পারেন। এর ফলে শরীরে আঘাত বা ধকল অনেক কম লাগে, দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব হয় এবং হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়া বা গতিশীলতা অনেক ভালোভাবে বজায় থাকে। এই ব্রিফিংয়ের একটি মূল বিষয় ছিল যে, হাঁটুতে তীব্র ও কষ্টদায়ক ব্যথা এখন আর কেবল বয়স্কদের সমস্যা নয়। আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং একই ধরনের নড়াচড়া বা কাজের পুনরাবৃত্তির কারণে কম বয়সী পেশাজীবীরাও এখন জয়েন্টের অকাল ক্ষয়ের (early joint degeneration) চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মহামারী-সংক্রান্ত তথ্য (epidemiological data) এই সমস্যার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে; এতে দেখা যায় যে, সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের (knee osteoarthritis) প্রাদুর্ভাব ২২% থেকে ৩৯%-এর মধ্যে, যা ৬০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দ্রুত বেড়ে ৪৪% থেকে ৫০%-এ পৌঁছায়।

WhatsApp Image 2026 06 14 at 21.08.24

ডা. কামিলিয়া (Dr. Kamilya) আরও উল্লেখ করেন যে, হাঁটু ব্যথা এবং জয়েন্টের অকাল ক্ষয়ের চিকিৎসার জন্য কম বয়সী রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন সার্জারি’ (Precision Partial Knee Reconstruction Surgery) অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। এটি রোগীদের দ্রুত দৈনন্দিন কাজে ফিরে আসতে সহায়তা করে এবং জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে স্বাভাবিক অনুভূতির বিষয়টি বজায় রাখে।

‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার পদ্ধতি ব্যবহার করায়, ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন’ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়, হাসপাতালে থাকার সময়সীমা হ্রাস করে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিখুঁত বা নির্ভুলতা-নির্ভর এই কৌশলটি অর্থোপেডিক চিকিৎসার প্রচলিত সময়সীমা বা ধারা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে; কারণ এটি কার্যকরভাবে পরবর্তী জীবনে ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ বা হাঁটুর সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তাকে বিলম্বিত করতে বা পুরোপুরি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। অ্যাপোলো হসপিটালস, কলকাতা এই চিকিৎসা-বিপ্লবের অগ্রভাগে রয়েছে। তারা অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগীদের জন্য এমন ব্যক্তিগত ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে, যা রোগীদের চলাফেরার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

Continue reading
২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক দল নিয়ে ‘রাগবি প্রিমিয়ার লিগ’-এ ঐতিহাসিক অভিষেকের অপেক্ষায় ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’ |
  • June 11, 2026

রাগবি প্রিমিয়ার লিগে কলকাতার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’ এই মৌসুমে তাদের বহু-প্রত্যাশিত অভিষেক ঘটাতে চলেছে। ১১টি দেশের ২৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে গঠিত এই দলে রয়েছেন অলিম্পিয়ান, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা রাগবি প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা।রাগবি প্রিমিয়ার লিগে কলকাতার এই প্রথমবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে পূর্ব ভারতে রাগবি খেলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিভার সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের একটি শক্তিশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে রাগবির প্রসারে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে।এই মৌসুমের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’-এর নারী দলের সূচনা। এর ফলে, এ বছর রাগবি প্রিমিয়ার লিগে নারী দল গঠনকারী ভারতের মাত্র চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠল তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘রাগবি ইন্ডিয়া’-র ভাইস প্রেসিডেন্ট সানায়া মেহতা ব্যাস। রাগবি প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবারের মতো কলকাতার প্রতিনিধিত্ব দেখে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। নিজে একজন রাগবি খেলোয়াড় এবং কলকাতার বাসিন্দা হওয়ায়, পূর্ব ভারতে এই খেলার প্রসারের ক্ষেত্রে লিগে শহরের এই অন্তর্ভুক্তির তাৎপর্য নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণের একজন বলিষ্ঠ প্রবক্তা হিসেবে তিনি ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’-এর নারী দলের গুরুত্ব এবং দেশজুড়ে নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ, পরিচিতি ও সুযোগ বৃদ্ধিতে এই নারী প্রতিযোগিতার ভূমিকা নিয়েও আলোকপাত করেন।

WhatsApp Image 2026 06 10 at 19.00.17 (3)

“রাগবির সাথে কলকাতার সম্পর্ক বরাবরই বিশেষ। রাগবি প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে শহরটির প্রতিনিধিত্ব দেখতে পাওয়া সত্যিই দারুণ ব্যাপার। ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’-এর সূচনা পূর্ব ভারতে এই খেলার প্রসারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই মৌসুমে কলকাতার নারী দল গঠনের বিষয়টি নিয়েও আমি সমানভাবে উচ্ছ্বসিত; এটি নারী রাগবি খেলোয়াড়দের জন্য আরও বেশি সুযোগ ও পরিচিতি তৈরির পাশাপাশি ক্রীড়াবিদদের পরবর্তী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’-এর মুখপাত্র শ্রুতি আরও বলেন:”‘হানচ ভেঞ্চারস’ (Hunch Ventures) বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতে রাগবি খেলার সাথে যুক্ত। ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’-এর মাধ্যমে ‘রাগবি প্রিমিয়ার লিগ’-এ আমাদের অংশগ্রহণ সেই প্রতিশ্রুতিরই একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। রাগবির ইতিহাসে কলকাতার অনন্য অবস্থানের কথা বিবেচনা করলে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য শহরটি একটি উপযুক্ত কেন্দ্র।”

“আমরা প্রচুর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একদল প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে একত্রিত করেছি। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি দল গঠন করা যারা তীব্রতা, শৃঙ্খলা এবং গর্বের সাথে খেলবে। ফ্র্যাঞ্চাইজির উদ্বোধনী মৌসুমে কলকাতার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।””নারী দলটির যাত্রা শুরু হওয়া ভারতের রাগবি খেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের দলে একদল শক্তিশালী অ্যাথলেট রয়েছেন যারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। আমরা আশা করি, এই দলটি আরও বেশি সংখ্যক তরুণীকে এই খেলাটিতে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করবে।”বিশ্বজুড়ে সেরা আন্তর্জাতিক প্রতিভা, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং উদীয়মান তারকাদের নিয়ে গঠিত ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’ তাদের প্রথম ‘রাগবি প্রিমিয়ার লিগ’ অভিযানের জন্য প্রস্তুত। এর মাধ্যমে তারা এই খেলার অন্যতম বড় মঞ্চে কলকাতার আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে তুলে ধরতে চলেছে।হায়দ্রাবাদের গাছিবোলি স্টেডিয়ামে ১৬ থেকে ৩০ জুন ‘এইচএসবিসি (HSBC) রাগবি প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টটি ‘জিও-হটস্টার’ (JioHotstar) এবং ‘স্টার স্পোর্টস ১ সিলেক্ট’ (Star Sports 1 Select)-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

‘‘হানচ ভেঞ্চারস’-এর মালিকানাধীন ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’ হলো ‘রাগবি প্রিমিয়ার লিগ’-এ কলকাতার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি। অলিম্পিয়ান, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ ১১টি দেশের ২৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে গঠিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পূর্ব ভারতে রাগবি খেলার এক নতুন যুগের সূচনা করছে। পুরুষ ও নারী দলের মাধ্যমে ‘কলকাতা…

Continue reading
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের উপর জোর দিলেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার বিশেষজ্ঞরা |
  • June 11, 2026


কলকাতা, ৯ জুন ২০২৬: নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের প্রচার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, “From Burden to Solutions: Safe Food Everywhere”। এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল খাদ্য নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং এমন কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা, যা খাদ্যবাহিত রোগের বাড়তে থাকা সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ গৌতম দাস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ দেবত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রধান ডায়েটিশিয়ান বিজয়া আগরওয়াল এবং ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান সুনন্দা ঘোষ। তাঁরা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে মূল্যবান তথ্য তুলে ধরেন।
এই অনুষ্ঠানে ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ১৫ জনেরও বেশি প্রবীণ নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর খেলা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্যবাহিত রোগ নিয়ে বিশ্ব ও দেশের উদ্বেগ এবং মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।

WhatsApp Image 2026 06 09 at 20.31.55

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বের প্রতি নয় জন মানুষের মধ্যে প্রায় একজন দূষিত, অনিরাপদ বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১.৫২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী, প্রিয়ন বা রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা দূষিত খাবারের কারণে ডায়রিয়া থেকে শুরু করে ক্যানসার পর্যন্ত ২০০-রও বেশি ধরনের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এসব রোগের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। খাদ্যবাহিত রোগ শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া খাদ্য নিরাপত্তা, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে ডাঃ গৌতম দাস বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা এবং হজমতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি বছর দূষিত খাবার ও পানীয় জলের কারণে খাদ্যবাহিত রোগ, পেটের সংক্রমণ এবং নানা ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও কিছু ক্ষেত্রে মারাত্মক পানিশূন্যতা, লিভারের সমস্যা, প্রাণঘাতী সংক্রমণ এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। তাই খাবারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
অনিরাপদ খাবার থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে ডাঃ দেবত্তম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অনিরাপদ খাবার এখনও বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় সমস্যা। আমাদের কাছে আসা বহু পেটের সমস্যার মূল কারণ দূষিত, বাসি বা ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা খাবার। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুড এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা বাড়ার ফলে স্থূলতা, ডায়রিয়া, ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য হজমের সমস্যাও বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ি থেকেই শুরু হওয়া উচিত এবং এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠা প্রয়োজন। ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়া, ফাস্ট ফুড কম খাওয়া, সদ্য রান্না করা খাবার খাওয়া এবং খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার মতো সহজ অভ্যাস খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।”
পুষ্টিগুণের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রধান ডায়েটিশিয়ান বিজয়া আগরওয়াল বলেন, “বিশেষ করে প্যাকেটজাত বা তৈরি খাবার খাওয়ার সময় খাদ্যের গুণমান এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের মেয়াদ পরীক্ষা করা, সংরক্ষিত খাবার ভালোভাবে গরম করে খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর রাস্তার খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্ক ফুড কম খাওয়ার অভ্যাস সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা শুধু ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্য নয়, সুস্থ পরিবার ও সমাজ গড়ে তোলার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

WhatsApp Image 2026 06 09 at 20.31.56

ভালো খাদ্যাভ্যাস এবং পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান সুনন্দা ঘোষ বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা শুধু খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং নিরাপদ উপায়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশু, গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিনের রোগে ভুগছেন এমন মানুষদের ক্ষেত্রে খাবারের পরিকল্পনা এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সদ্য রান্না করা খাবার, পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য এবং রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দূষণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

Continue reading
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে, ধূমপানমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট ক্যাম্পাস, চিকিৎসক ও তারকাদের একত্রিত করল |
  • June 1, 2026


কলকাতা, ৩০শে মে ২০২৬: দেশজুড়ে তামাক সেবন নিয়ে আলোচনা যখন আরও জরুরি হয়ে উঠছে, তখন মণিপাল হসপিটালস ইস্ট একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং প্রিন্সিপালস কনক্লেভের মাধ্যমে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করেছে। ধূমপানের বিপদ এবং তামাকমুক্ত ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করতে এই আয়োজনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং তারকারা এক মঞ্চে একত্রিত হয়েছিলেন। এই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য ছিল দায়িত্বশীল জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করা, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যকর প্রজন্ম গঠনে প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব তুলে ধরা। অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই কনক্লেভটি তরুণদেরকে সচেতন ও স্বাস্থ্যকর জীবন-সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, কাউন্সেলিং এবং ধারাবাহিক সচেতনতার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দেখা গেছে। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জারি বিভাগের ডা. কুনাল সরকার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের ডা. দিলীপ কুমার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর মণিপাল অনকোলজি সার্ভিসেস ও সিনিয়র কনসালটেন্ট হেড নেক অনকোলজি সার্জারি বিভাগের ডা. সৌরভ দত্ত, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর – পালমোনোলজি বিভাগের ডা. দেবরাজ যশ, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের ডা. হর্ষ ধর, কনসালটেন্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের ডা. কিনশুক চ্যাটার্জী, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের ডা. সুদীপ দাস, কনসালটেন্ট – রেডিওলজি বিভাগের ডা. দেবঞ্জলি দত্ত এবং মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শ্রীমতি অরুণিমা দত্ত-সহ অন্যান্য সিনিয়র চিকিৎসকরা। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হসপিটালস-এর দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলের রিজিওনাল সিওও, শ্রী দীপক ভেনুগোপাল এবং মণিপাল হসপিটালস-এর পূর্ব অঞ্চলের রিজিওনাল ডিরেক্টর, ডঃ অয়নভ দেবগুপ্ত। এছাড়াও প্রখ্যাত গায়ক অনুপম রায় এবং অভিনেতা দেবপ্রিয় মুখার্জী এই অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের পাশাপাশি নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ জয়দীপ সারঙ্গি; বাসন্তী দেবী কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ ইন্দ্রিলা গুহ; হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যক্ষ অধ্যাপক বসাব চৌধুরী; এবং ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস স্কুল অফ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট-এর অধ্যক্ষ ডঃ সুবীর সেন-এর মতো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও উপস্থিত ছিলেন। লরেটো কলেজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে তামাক সচেতনতা ও প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনায় তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর যুক্ত করেছে। এই সম্মেলনে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা করা হয়। অনকোলজি, কার্ডিওলজি এবং পালমোনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপ ও আচরণগত সচেতনতার গুরুত্বের উপর জোর দেন। এই কর্মসূচিতে ধূমপানের আসক্তি মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সেলিব্রিটি ও সামাজিক প্রভাবের ভূমিকার উপর আলোকপাত করে দুটি আকর্ষণীয় প্যানেল আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডঃ সৌরভ দত্ত বলেন, “সারা বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সার এবং বিভিন্ন জীবন-হুমকির অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তামাক এখনও রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর তামাকের কারণে ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায়, যেখানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৩.৫ লক্ষ মৃত্যু তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণদের মধ্যে ধূমপান এবং ভ্যাপিং-এর অভ্যাসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার, যা সচেতনতা এবং প্রতিরোধকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, আমরা ছাত্র, শিক্ষক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যাতে আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করতে পারি এবং তামাকজনিত রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে পারি।”

ডঃ কুনাল সরকার আরও বলেন, “এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো তরুণ প্রজন্মের আচরণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথ দেখাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। শারীরিক স্বাস্থ্যের বাইরেও তামাকের আসক্তি মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে, তাই এই সমস্যাটিকে সামগ্রিকভাবে সমাধান করা অপরিহার্য।”

তাঁর বক্তব্যে ডঃ অয়নভ দেবগুপ্ত বলেন, “মণিপাল হসপিটালসে আমরা বিশ্বাস করি যে স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের চার দেয়ালের বাইরেও বিস্তৃত এবং একটি স্বাস্থ্যকর সমাজ গড়ার আমাদের স্বপ্নে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সর্বদাই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে ১৩-১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮.৫% শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করছে, যা তুলে ধরে কীভাবে অল্প বয়সে এর সংস্পর্শে আসা এবং সমবয়সীদের প্রভাব তরুণ মনকে প্রভাবিত করে চলেছে। এই বিষয়টি…

Continue reading
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে তামাকবিরোধী বার্তায় একত্রিত কলকাতা |
  • May 31, 2026

তামাকাসক্তির বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতার অন্যতম বৃহৎ জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের আয়োজন করল শহরের শীর্ষস্থানীয় ফিটনেস ও সুস্থতা বিষয়ক সংস্থা সৌমেন’স ওয়ার্কআউট। জাগো ইন্ডিয়া জাগো ফিটনেস ক্যাম্পেইন-এর সহযোগিতায় রবিবার সফলভাবে আয়োজিত হলো বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সচেতনতা র‍্যালি-র ১৬তম সংস্করণ।

“আকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন – নিকোটিন ও তামাকাসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ”— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র‍্যালিটি শুরু হয় এসপ্ল্যানেডের রানি রাসমণি রায় মোড় থেকে এবং শেষ হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন শতাধিক ফিটনেসপ্রেমী, ছাত্রছাত্রী, যুব স্বেচ্ছাসেবক, সমাজকর্মী এবং স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিক।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নাটকীয়ভাবে উপস্থাপিত “তামাক ভূত”, যার ভয়াবহ দৃশ্যায়নের মাধ্যমে তামাকাসক্তির মারণগ্রাসকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। এই অভিনব উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও সচেতনতামূলক বার্তা বহন করেন, মানববন্ধন গড়ে তোলেন এবং তামাকমুক্ত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার শপথ গ্রহণ করেন।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 18.33.39

এই প্রচারাভিযানে জনস্বাস্থ্যের একাধিক উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরা হয়। গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে ২০১৯ অনুযায়ী, ভারতে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮.৪ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া শিশু তামাক ব্যবহার করে। অন্যদিকে, তামাকজনিত রোগের কারণে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩,৬০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তামাক সেবনের ফলে ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসজনিত রোগ, স্ট্রোকসহ একাধিক প্রাণঘাতী অসুস্থতার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হন ধূমপান না-করা মানুষও, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা।

এই উপলক্ষে সৌমেন’স ওয়ার্কআউট-এর কর্ণধার শ্রী সৌমেন দাস বলেন, “টানা ষোলো বছর ধরে এই র‍্যালি শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি সামাজিক পরিবর্তনের এক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তামাকের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় সচেতনতা ও ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের মাধ্যমে। যদি আমরা একজন তরুণকেও আসক্তির পথ থেকে সরিয়ে সুস্থ জীবন ও ফিটনেসের পথে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তবে একটি সুস্থ, শক্তিশালী ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।”

আয়োজকরা জানান, বার্ষিক এই র‍্যালির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস, স্থূলতাবিরোধী দিবস এবং দেশব্যাপী জাগো ইন্ডিয়া জাগো অভিযানের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও ফিটনেস সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Image 2026 05 31 at 18.28.16

Continue reading
স্বাস্থ্য প্রস্তুতিতে পথ দেখাচ্ছে কলকাতার তরুণরা, জাতীয় গড়কেও ছাড়িয়ে গেল নিবা বুপার ‘ইয়াং ইন্ডিয়া হেলথ ইন্স্যুরেন্স রিপোর্ট’|
  • May 29, 2026

কলকাতা, ২৫ মে ২০২৬: নিবা বুপা হেলথ ইন্স্যুরেন্স তরুণ ভারতের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত একটি ভোক্তা-সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই রিপোর্টে উঠে এসেছে যে কলকাতার তরুণরা দেশের মধ্যে আর্থিক ও চিকিৎসাগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অন্যতম এগিয়ে।

এই সমীক্ষাটি ২,৪০০-এরও বেশি অংশগ্রহণকারীর উপর পরিচালিত হয়েছে, যেখানে দেশের ৩৫টিরও বেশি শহর ও গ্রামীণ অঞ্চল— টিয়ার ১, টিয়ার ২, টিয়ার ৩ শহর এবং গ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই রিপোর্টে প্রথমবারের মতো Health Protection Score (HPS) চালু করা হয়েছে— যা একটি সমন্বিত সূচক, যার মাধ্যমে বোঝা যায় মানুষ চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কতটা প্রস্তুত।

এই স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে চারটি মূল বিষয়ের ভিত্তিতে— ১. জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা
২. পরিবারের স্বাস্থ্য ইতিহাস
৩. নিজের স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা
৪. আর্থিক সক্ষমতা
০–১০ স্কেলের ভিত্তিতে মানুষকে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে—
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ (০–২.৯৯)
আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ (৩–৫.৯৯)
নিরাপদ ও সুরক্ষিত (৬ বা তার বেশি)
তরুণ ভারত: আগ্রহ বেশি, প্রস্তুতি কম
রিপোর্টে সচেতনতা ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে একটি বড় ফারাক দেখা গেছে—

  • ভারতের ৫১% তরুণ স্বাস্থ্যবিমাকে তাদের শীর্ষ তিন আর্থিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখলেও মাত্র ১৪% নিজেদের নামে স্বাস্থ্যবিমা নিয়েছেন।
  • প্রায় ৪ জনের মধ্যে ৩ জন (৭৬%) তরুণ আর্থিক বা চিকিৎসাগতভাবে অপ্রত্যাশিত স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য প্রস্তুত নন।
  • মাত্র ২৪% চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত।
    কলকাতা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ
    জাতীয় চিত্রের তুলনায় কলকাতার প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—
  • HPS স্কোর ৫.৮৭, যেখানে ভারতের গড় ৪.৫৪
  • ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা মালিকানা ২১%, জাতীয় গড় ১৪%-এর চেয়ে বেশি
  • পলিসি ল্যাপস হার মাত্র ২%, যেখানে জাতীয় গড় ৬%
  • ৫৪% ‘নিরাপদ ও সুরক্ষিত’, যা জাতীয় গড় ২৪%-এর দ্বিগুণেরও বেশি
  • মাত্র ৩% ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’, যা দেশের মধ্যে অন্যতম কম
WhatsApp Image 2026 05 25 at 15.06.42

এই তথ্যগুলি কলকাতার মানুষের আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখার ধারাবাহিক মনোভাবকে তুলে ধরে।

কম খরচের ধারণা, তবুও শক্তিশালী আর্থিক প্রস্তুতি
মজার বিষয় হলো, কলকাতার মানুষ জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সম্ভাব্য খরচ গড়ে প্রায় ₹৯৬,০০০ বলে মনে করেন— যা জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।

তবে বাস্তবে তারা জরুরি সময়ে গড়ে প্রায় ₹৪.৯ লক্ষ পর্যন্ত অর্থের ব্যবস্থা করতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন।
এটি দেখায় যে স্বাস্থ্য খরচের অনুমানের বাইরেও তাদের আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী।

নিবা বুপার অভ্যন্তরীণ অনুমান অনুযায়ী, ২৪–৩৪ বছর বয়সীদের স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে অন্তত ₹৩ লক্ষ জরুরি তহবিল প্রস্তুত রাখা উচিত।
আত্মবিশ্বাসভিত্তিক আচরণ স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণে প্রভাব ফেলছে
কলকাতায় স্বাস্থ্য প্রস্তুতি ও বিমা গ্রহণ বেশি হলেও স্বাস্থ্যবিমা কেনার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম— ৪৩%, যেখানে জাতীয় গড় ৫১%।

এর সম্ভাব্য কারণ হলো— আগে থেকেই বেশি কভারেজ থাকা এবং আর্থিকভাবে আত্মবিশ্বাসী হওয়া।
সমীক্ষায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আচরণগত দিক উঠে এসেছে—

  • নিজেকে সুস্থ মনে করা স্বাস্থ্যবিমা না কেনার সবচেয়ে বড় কারণ
  • এজেন্ট, ব্যাংক ও পরিবারের মতো মানবিক যোগাযোগ এখনও বিমা কেনার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
  • স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণ শুধু আয়ের ওপর নয়, আর্থিক শৃঙ্খলারও প্রতিফলন
    রিপোর্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে নিবা বুপা হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ডিরেক্টর – ডিজিটাল বিজনেস ইউনিট ও চিফ মার্কেটিং অফিসার নিমিশ আগরওয়াল বলেন—
    “কলকাতা এমন একটি বাজার হিসেবে উঠে এসেছে যেখানে সচেতনতা, আর্থিক প্রস্তুতি এবং স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণ— তিনটিই শক্তিশালীভাবে একসঙ্গে দেখা যায়। এখানে বেশি বিমা গ্রহণ এবং কম ল্যাপস হার প্রমাণ করে যে মানুষ শুধু স্বাস্থ্যবিমার গুরুত্ব বোঝেন না, বরং সেই সুরক্ষা বজায় রাখতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
    সবচেয়ে উৎসাহজনক বিষয় হলো তরুণদের শক্তিশালী আর্থিক প্রস্তুতি, যা চিকিৎসাজনিত অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রা-সংক্রান্ত প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।
    নিবা বুপা হিসেবে আমরা এমন সমাধান নিয়ে কাজ করছি যা শুধু সুরক্ষা নয়, সুস্থ জীবনযাপন ও দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করবে এবং আত্মবিশ্বাস ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির মধ্যে থাকা ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে।”
    স্বাস্থ্য আচরণে আরও উন্নতির সুযোগ
    স্বাস্থ্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কলকাতা একটি অনুকরণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। আর্থিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে শহরটি শক্তিশালী অবস্থান দেখিয়েছে।

উচ্চ স্বাস্থ্যবিমা মালিকানা এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা কলকাতাকে একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণে পরিণত করেছে।

যদিও রিপোর্টে জীবনযাত্রা-সংক্রান্ত আচরণে কিছু উন্নতির সুযোগের কথা বলা হয়েছে, তবুও এটিই কলকাতাকে ভবিষ্যতে সমন্বিত স্বাস্থ্য প্রস্তুতির মানদণ্ড স্থাপনের আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি করে দিয়েছে।

Continue reading
মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস, ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে ব্লাডার ক্যান্সার যোদ্ধাদের একত্রিত করল |
  • May 24, 2026


কলকাতা, ২৩শে মে ২০২৬:
ঐতিহাসিক ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের কালজয়ী করিডোরের নিচে, ভয়ের চেয়েও সাহসের গল্প জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যখন ব্লাডার ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা মানুষ, তাদের পরিচর্যাকারী এবং চিকিৎসকেরা আশা, আরোগ্য এবং সহনশীলতার এক আবেগঘন সন্ধ্যায় একত্রিত হয়েছিলেন। ব্লাডার ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস একটি আন্তরিক ‘ব্লাডার ক্যান্সার চ্যাম্পিয়নস মিট’-এর আয়োজন করে, যা কেবল বেঁচে থাকাকেই নয়, বরং সেইসব ব্যক্তিদের অসাধারণ শক্তিকেও উদযাপন করে, যারা সবচেয়ে কম স্বীকৃত ক্যান্সারগুলোর একটির বিরুদ্ধে দৃঢ়সংকল্প এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে লড়াই করেছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. অভয় কুমার, ডিরেক্টর – ইউরোলজি অ্যান্ড ইউরো-অনকোলজি, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস; ডা. সায়ন ভট্টাচার্য, ডিরেক্টর, ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম, কলকাতা (সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার); এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে, এই সমাবেশটি ঐতিহাসিক স্থানটিকে পারস্পরিক আবেগ, অনুপ্রেরণামূলক আরোগ্য লাভের যাত্রা এবং মূত্রাশয়ের ক্যান্সার ও সময়মতো রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরির এক পরিসরে রূপান্তরিত করেছিল।
ভারতে মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই অনুষ্ঠানটি বৃহত্তর সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপরও আলোকপাত করেছে। ২০২৬ সাল নাগাদ, ভারতে বার্ষিক প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ নতুন মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের ঘটনা ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে, এবং কিছু চিকিৎসাগত অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ দেশজুড়ে ক্যান্সার সংক্রান্ত তথ্য জানানোর ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে। ভারতে পুরুষদের সমস্ত ক্যান্সারের মধ্যে প্রায় ৩% থেকে ৪% হলো মূত্রাশয়ের ক্যান্সার এবং এটি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে প্রায় চারগুণ বেশি দেখা যায়। ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সত্ত্বেও, এই রোগ, এর প্রাথমিক লক্ষণ এবং সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা সীমিতই রয়ে গেছে, যা প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, খোলামেলা আলোচনা এবং রোগীদের জন্য শক্তিশালী সহায়তাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সারভাইভারদের মিলনমেলার মতো উদ্যোগগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তাঁর বক্তব্যে ডঃ অভয় কুমার বলেন, “মূত্রাশয়ের ক্যান্সার প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয় এবং চিকিৎসার জন্য জটিল পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। সর্বোত্তম ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাথে রোগী-কেন্দ্রিক সেবার সমন্বয় ঘটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। রোবোটিক-সহায়তায় করা অস্ত্রোপচার আমাদের রোগীদের জন্য নির্ভুলতা এবং আরোগ্য লাভের সময়কে ব্যাপকভাবে উন্নত করেছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করতে চাই। আমাদের একটি ব্লাডার ক্যান্সার সাপোর্ট গ্রুপও রয়েছে, যা আমরা ২০২৩ সালে চালু করেছি। তখন থেকে আমাদের রোগী এবং আরোগ্য লাভকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে এবং আরোগ্য লাভের যাত্রাপথে একে অপরকে সমর্থন জানাতে নিয়মিত মিলিত হচ্ছেন।”

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য বলেন: “আজ জাদুঘরের ভূমিকা ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এগুলি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক পরিসরে রূপান্তরিত হচ্ছে যা সামাজিক সংলাপকে উৎসাহিত ও লালন করে এবং মানুষের জীবন-অভিজ্ঞতাকে প্রতিফলিত করে। ‘বিকাশও, বিরসতও’—এই জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, দুইশত বারো বছরের ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে, ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ আখ্যান যা স্বীকৃতি এবং সহানুভূতির দাবি রাখে; সময়মতো যত্ন এবং আশা ও শক্তি নিয়ে তাঁদের এগিয়ে আসতে দেখাটা গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। এই ধরনের উদ্যোগগুলি একটি আরও সচেতন, সহানুভূতিশীল এবং মানবিক সমাজ গঠনে সহায়তা করে, যেখানে স্বাস্থ্য, আরোগ্য এবং মানসিক সুস্থতা সম্পর্কিত আলোচনা সংবেদনশীলতা ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ করা হয়।”

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে, ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ ও মূত্রথলির ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা তাপস কর্মকার বলেন, “২০২৪ সালের অক্টোবরে যখন আমার মাসল-ইনভেসিভ ব্লাডার ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল। কেমোথেরাপি এবং বড় অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে এই যাত্রা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন ছিল, কিন্তু আমার ডাক্তার, পরিবার এবং পরিচর্যাকারীদের অবিরাম সমর্থন আমাকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ডাক্তার অভয় কুমার এবং তাঁর দলের বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে, ক্যান্সার-আক্রান্ত মূত্রথলি অপসারণ করতে এবং প্রস্রাব জমা ও নিষ্কাশনের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করতে আমি চার দফা কেমোথেরাপি গ্রহণ করি। এই ধরনের সাক্ষাৎগুলো ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা মানুষদের আশা, আত্মবিশ্বাস এবং দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। এই যাত্রায় তারা একা নন।”

৬২ বছর বয়সী নারী ও মূত্রথলির ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা সোমা দাস (নাম পরিবর্তিত) বলেন, “যখন আমার মূত্রথলিতে টিউমার ধরা পড়ে, তখন আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং অনিশ্চিত ছিলাম যে ভবিষ্যতে কী হবে, বিশেষ করে যখন আমি আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েড-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা সামলাচ্ছিলাম। তবে, যে সমর্থন এবং আত্মবিশ্বাস আমি পেয়েছি, তা আমাকে এই পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।”

Continue reading

মিস করে যাওয়া

অম্বুজা নিওটিয়া আয়োজিত নবম চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা |
কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান |
রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল তার কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতা: ‘প্রিসিশন পার্শিয়াল নি রিকনস্ট্রাকশন’-এর মাধ্যমে অর্থোপেডিক চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা |
২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক দল নিয়ে ‘রাগবি প্রিমিয়ার লিগ’-এ ঐতিহাসিক অভিষেকের অপেক্ষায় ‘কলকাতা বঙ্গ টাইগার্স’ |
বাণিজ্য বিভাগের গত ১২ বছরের যুগান্তকারী অগ্রগতির চিত্র ও চা খাতের ঐতিহাসিক রপ্তানি সাফল্য তুলে ধরা হলো কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে |