ডানকুনিতে ওয়্যারহাউস প্রকল্পে ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা অলকার্গো লজিস্টিক্সের |
  • October 9, 2026

কলকাতা,৮ ই অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনিতে প্রাথম ডিলমার্ক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে একটি বৃহৎ গুদাম পরিকাঠামো বা ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে অলকার্গো লজিস্টিক্স। এই বিনিয়োগ রাজ্যের গুদামজাতকরণ ও পণ্য পরিবহণ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং ডানকুনিকে শিল্প, পণ্য বিতরণ ও সরবরাহ-শৃঙ্খল কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্পের সম্প্রসারণ, ই-কমার্স, সংগঠিত খুচরো ব্যবসা এবং পরিবর্তনশীল পণ্য বিতরণ নেটওয়ার্কের ফলে আধুনিক লজিস্টিক্স পরিকাঠামোর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডানকুনিতে অবস্থিত এই পরিকাঠামো কলকাতা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও ভোগ্যপণ্য বাজারের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে পণ্য পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এই ঘোষণা করা হয় মিস নিশিতা কাটরিয়ার, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্রাথম ডিলমার্ক প্রাইভেট লিমিটেড; মিস্টার রাম ওয়ালাসে, সিইও – রিয়েল এস্টেট এবং হেড – গ্লোবাল প্রোকিউরমেন্ট, অলকার্গো; মিস্টার সৌমিত্র ব্যানার্জি, সিইও, প্রাথম ডিলমার্ক প্রাইভেট লিমিটেড; এবং মিস অনন্যা কৌশিক, ডিরেক্টর, প্রাথম ডিলমার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের উপস্থিতিতে।

প্রাথম ডিলমার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস নিশিতা কাটরিয়ার বলেন, “অলকার্গো লজিস্টিক্সের ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগ প্রাথম ডিলমার্ক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং কৌশলগত লজিস্টিক্স গন্তব্য হিসেবে ডানকুনির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। বৃহৎ পরিসরের আধুনিক গুদাম পরিকাঠামোর এই উন্নয়ন আরও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ আকর্ষণ করবে, এই অঞ্চলের শিল্প পরিবেশকে শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসা ও লজিস্টিক্স ক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে সক্ষম পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

এই বিনিয়োগের ফলে এই অঞ্চলে সংগঠিত গুদামজাতকরণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি দক্ষ সংরক্ষণ, মজুত ব্যবস্থাপনা, পরিবহণ এবং পণ্য বিতরণ পরিষেবা পেতে পারবে। প্রকল্পটি গুদামজাতকরণ, লজিস্টিক্স, পরিবহণ, পরিকাঠামো পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করতে পারে।

এই উন্নয়ন পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও বাণিজ্যিক বিকাশে সমন্বিত লজিস্টিক্স পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। প্রাথম ডিলমার্ক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক বৃহৎ পরিসরের গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিক্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিকাঠামো প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে, অলকার্গো লজিস্টিক্সের বিনিয়োগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে আধুনিক সরবরাহ-শৃঙ্খল পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকেও তুলে ধরেছে।

প্রস্তাবিত গুদাম প্রকল্পটি ডানকুনিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স ও গুদামজাতকরণ কেন্দ্র হিসেবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিকাঠামো ও সরবরাহ-শৃঙ্খল সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর উদ্যোগেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Continue reading
নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |
  • October 8, 2026


কলকাতা, ৬ই অক্টোবর ২০২৬: স্তন ক্যান্সার একজন নারীর জন্য অন্যতম কঠিন স্বাস্থ্য সংগ্রাম হতে পারে, কিন্তু সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা এই যাত্রার গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে। এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে (অক্টোবর), মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস “দুর্গাতিনাশিনী – আপনিই আপনার” এই থিমের উপর একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের তাদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগটি স্তন স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো যত্ন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য গণমাধ্যমকে একত্রিত করবে এবং একই সাথে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সক্রিয় হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে।

উৎসবের মরসুমে নারীশক্তির অদম্য চেতনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই প্রচারাভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রে কাজের জন্য পরিচিত প্রশংসিত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার নন্দিতা রায় এবং ভারতীয় মডেল রিচা শর্মা, যিনি ২০১১ সালে মিসেস ইন্ডিয়া খেতাব অর্জন করেন এবং আঞ্চলিক ও হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি এই প্রচারাভিযানে নারীর শক্তি ও সহনশীলতার উদযাপনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এই বার্তাকে শক্তিশালী করেছে যে, শক্তি কেবল রোগ নির্ণয়ের পর তার বিরুদ্ধে লড়াই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে রোগের লক্ষণগুলো আগেভাগে চেনা, নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
স্তন ক্যান্সার নারীদের মধ্যে একটি প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, যার ফলে উন্নত ফলাফলের জন্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, এই যাত্রা কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসার মাধ্যমেই শুরু হয় না। এটি শুরু হয় আরও অনেক আগে, যখন একজন নারী নিজের শরীরকে চেনেন, পরিবর্তনগুলো চিনতে পারেন এবং পেশাদার পরামর্শ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন।

WhatsApp Image 2026 10 06 at 18.12.19 (1)

সভায় বক্তব্য রাখার সময়, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নেহা চৌধুরী বলেন, “‘দুর্গাতিশিনী’-র বার্তা স্তন ক্যান্সারের গতানুগতিক ধারণার ঊর্ধ্বে। এটি নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে এবং এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। ক্যান্সারের এই যাত্রাপথে মানসিক ও সামাজিক সমর্থনের গুরুত্বও অবিচ্ছেদ্য। স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের অভিজ্ঞতা বারবার প্রমাণ করেছে যে, যদিও চিকিৎসাগত দক্ষতা এবং যথাযথ চিকিৎসা অপরিহার্য, পরিবার, বন্ধু এবং পরিচর্যাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ রোগীদের রোগ নির্ণয় ও আরোগ্যের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলা করার জন্য মানসিক শক্তি জোগাতে পারে।”

অনুষ্ঠানে, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ পূজা আগরওয়াল বলেন, “প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ই মূল চাবিকাঠি, এবং আমরা পরামর্শ দিই যে ৪০ বছরের বেশি বয়সী সকল মহিলার প্রতি বছর ম্যামোগ্রাম করানো উচিত এবং তরুণীদের নিয়মিত স্ব-স্তন পরীক্ষা করা উচিত। এটি বেশ উদ্বেগজনক যে ভারতে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬১% উন্নত পর্যায়ে আসেন এবং খুব কম সংখ্যক রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের কাছে আসেন। এই প্রবণতার পিছনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারণ এবং কম সচেতনতা অন্যতম প্রধান কারণ।” তিনি আরও বলেন, “স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা দক্ষতার সাথে স্ব-যত্নের প্রতি অঙ্গীকারের সমন্বয় প্রয়োজন। তাই, আমরা ব্যক্তিগতকৃত যত্ন এবং একটি সঠিক রোগ নির্ণয়, পর্যায় নির্ধারণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য সচেষ্ট থাকি। প্রতিটি পদক্ষেপ, তা সার্জারি হোক বা থেরাপি, সর্বোত্তম ফলাফল আনার জন্য একটি বহু-বিভাগীয় দল দ্বারা সমন্বিত হয়। একটি উন্নত জীবনের পথ প্রশস্ত করার জন্য রোগীর অংশগ্রহণ, স্ব-যত্ন, সঠিক পুষ্টি এবং মানসিক সমর্থন সমান গুরুত্ব বহন করে।” এই যাত্রাপথে পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের সমর্থন রোগীদের এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিক শক্তি জোগায়।”
এই উদ্যোগটির তাৎপর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে কলকাতার ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডঃ সৌরভ দত্ত বলেন, “স্তন ক্যান্সার সচেতনতাকে অবশ্যই এক মাসব্যাপী আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে বুঝতে, পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় চিকিৎসার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের ‘দুর্গাতিশিনী’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা এই বার্তাটি আরও জোরদার করতে চাই যে, প্রত্যেক নারীরই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।”
এই প্রচারণার আরেকটি লক্ষ্য হলো স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে ভয় থেকে ক্ষমতায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই রোগ মোকাবিলায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা এবং রোগীরা প্রায়শই আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা এবং একটি শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা বলেন। এর আগে স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের এক সমাবেশে রোগীরা বলেছিলেন, কীভাবে সঠিক চিকিৎসা, আশ্বাস এবং সমর্থন তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছিল।

তবে, এই ‘রোগের রাজা’র বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদিও স্তন ক্যান্সার প্রধানত নারীদের সঙ্গেই সম্পর্কিত, পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও তা বিরল। কলকাতার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী অশোক চক্রবর্তীর জন্য এই যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি

Continue reading
ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কালিকাপুর আগুয়ান সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে সঙ্ঘের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বৃক্ষ রোপণ উৎসব ও সিপিআর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
  • October 1, 2026

কলকাতা, ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬:আমাদের দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বাড়ছে অল্পবয়সীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনাও। প্রতি বছর প্রায় আঠাশ শতাংশ মানুষ এদেশে হৃদরোগে মারা যান। এই মৃত্যুহার কমাতে জন সচেতনতা অত্যন্ত জরুরী। বিশ্ব ব্যাপী মানুষকে এবিষয়ে সচেতন করতে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে প্রতি বছর ২৯শে সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে পালিত হয়। এই উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের সম্মানীয় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের জেনারেল সেক্রেটারি স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজী মহারাজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ঠ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. প্রকাশ কুমার হাজরা।
সংঘগুরু স্বামী প্রণবানন্দজীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের পর সেক্রেটারী মহারাজের বৃক্ষ রোপনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। দুটি বেল ও পাঁচটি মেহগিনি গাছের চারা লাগান হয়। গাছগুলির নাম রাখা হয় সপ্তর্ষি মন্ডলের সাত ঋষির নামে।
পথে ঘাটে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে, দুর্ঘটনায় বা অন্য কোন কারনে মানুষ অজ্ঞান হয়ে গেলে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে কাছে উপস্থিত জনের সিপিআরের মত প্রাথমিক চিকিৎসা জানা খুবই প্রয়োজন। এই জন্য ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন নিয়মিত সিপিআর ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করে থাকে। আজকের অনুষ্ঠানে সিপিআর শেখান ডা. পি কে হাজরা ও প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. সুনীপ ব্যানার্জি।

বিভিন্ন বক্তাদের কথা থেকে উঠে আসে ধুমপান না করলে, ছোট থেকে খেলাধুলা, ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করলে ও সব ডায়েট মেনে চললে, ডায়বিটিস ও হাইপার টেনশন থাকলে নিয়মিত ওষুধ খেলে অন্য অনেক অসুখের সঙ্গে হার্টের অসুখকেও অনেকটাই দূরে রাখা যায়। সেক্রেটারি মহারাজ, ডা. হাজরা, ডা. ব্যানার্জি ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রখ্যাত কার্ডিওলজিস্ট ডা. অর্ণব মাইতি, বিশিষ্ট পালমোনলজিস্ট ডা. অণির্বাণ দেব, ডা. এস এস দাস, এবং স্বামী প্রণবানন্দ ইনিস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনলজির ডাইরেক্টর শ্রী প্রবীর দে। আধ্যাতিকতা ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি সার্থক হয়ে ওঠে।

Continue reading
কলকাতা প্রেস ক্লাবে বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ 2026 পালন করল এসোসিয়েশন অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া।
  • September 20, 2026

কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:প্রতি বছর ২১শে থেকে ২৭শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহ হিসাবে পালিত হয় ও এই সপ্তাহের শেষ রবিবারকে বিশ্ব বধিরতা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে, অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI), কলকাতা শাখার পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রবণশক্তি যোগাযোগ, শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AOI, পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডা উৎপল জানা বলেন, “শ্রবণশক্তি হ্রাস গ্রায় ক্ষেত্রে বোঝা যায় না, কিন্তু এর পরিণতি হয় সুদূরপ্রসারী। প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্তকরণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন মানুষের পুরো জীবনই বদলে দিতে পারে। কিন্তু বাস্তবে, শিশুদের মধ্যে অনেক সময়েই শ্রবণশক্তি হ্রাস প্রায়ই অসনাক্ত বা চিকিৎসাহীন থেকে যায়।”

“প্রাথমিক পর্যায়ে কম শুনতে পাওয়ার বিষয়টা ধরতে পারলে জীবন বদলে যেতে পারে,” বললেন অ্যাসোসিয়েশন অফ অটোল্যারিঙ্গোলজিস্টস অফ ইন্ডিয়া (AOI)-এর সর্বভারতীয় সদ্য প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ দ্বৈপায়ন মুখার্জি। ডাঃ মুখার্জির মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় এবং শৈশবকালে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কারণ সনাক্ত না হওয়া শ্রবণশক্তি হ্রাস বাকশক্তি, ভাষা এবং শিক্ষাগত বিকাশকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে, সময়মতো মূল্যায়ন যোগাযোগের অসুবিধা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং জীবনের মান হ্রাস রোধ করতে পারে।

WhatsApp Image 2026 09 20 at 13.01.34

AOI পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত সভাপতি ডাঃ শুভেন্দু কর বলেন যে, AOI, পশ্চিমবঙ্গ, সাধারণ মানুষকে উচ্চস্বরে গান শোনা, হেডফোন ব্যবহার, যানবাহনের শব্দ, শিল্প-কারখানার শব্দ এবং বাজির শব্দের অতিরিক্ত সংস্পর্শ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। শব্দদূষনজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য। মানুষের অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ ভলিউমে শোনা এড়ানো উচিত এবং কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে উপযুক্ত শ্রবণ সুরক্ষা ব্যবহার করা উচিত।

AOI পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক ডাঃ অজয় খাওয়াস বলেন, “আমরা শ্রবণযন্ত্র এবং শ্রবণ পুনর্বাসনের সাথে যুক্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে চাই। শ্রবণযন্ত্র দুর্বলতা বা বার্ধক্যের লক্ষণ নয়; এটি যোগাযোগ, আত্মবিশ্বাস এবং উন্নত জীবনের একটি সেতু।” এটি এমন একটি সরঞ্জাম যা মানুষকে পরিবার, সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে পুনরায় সংযুক্ত হতে সাহায্য করে। কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের মতো আধুনিক শ্রবণ সমাধান এবং অন্যান্য পুনর্বাসন বিকল্পগুলি উল্লেখযোগ্য শ্রবণ প্রতিবন্ধকতাযুক্ত অনেক মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে।

AOI পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে ডাঃ সৌমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যে, শিশুর শব্দে সাড়া না দেওয়া, কথা বলতে দেরি হওয়া, বারবার একই কথা শুনতে চাওয়া বা টেলিভিশনের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাসগুলি তাঁরা যেন উপেক্ষা না করেন। একইভাবে, প্রাপ্তবয়স্করা কথোপকথন শুনতে অসুবিধা অনুভব করলে, বিশেষ করে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে, তাদের শ্রবণশক্তি হ্রাসকে বার্ধক্যের স্বাভাবিক অংশ হিসাবে মেনে না নিয়ে একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

AOI-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিশ্ব বধিরতা সপ্তাহের মূল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি আগামীকাল, ২১শে সেপ্টেম্বর, রবিবার, হুগলির চন্দননগরের আইএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি ‘ওয়াক ফর দ্য ডেফ’ দিয়ে শুরু হবে এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বধির ব্যক্তিদের সংবর্ধনা, শ্রবণযন্ত্র বিতরণ এবং বধির ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা দিয়ে চলবে।

Continue reading
দূর্গা পূজা ও কালী পূজা থেকে দীপাবলি এবং ভাইফোঁটা, দ্য বডি শপের প্রি-প্যাকড গিফট সেটগুলি প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত উপহার |
  • September 17, 2026

ভারত, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৬: সারা দেশে উৎসবের মরশুম জমে ওঠার সাথে সাথে, আইকনিক ব্রিটিশ-উদ্ভূত নৈতিক সৌন্দর্যচর্চার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড দ্য বডি শপ এই মিলনমুখর উৎসবের মরশুমের জন্য নিয়ে এসেছে বাছাই করা প্রি-প্যাকড গিফট সেটের একটি বিশেষ সংগ্রহ। কালজয়ী জনপ্রিয় বডি কেয়ার সামগ্রীর সঙ্গে বিলাসবহুল সুগন্ধের সমন্বয়ে তৈরি, এই প্রিয় পণ্যগুলি সারা বছরের প্রতিটি উদযাপনের জন্য সাবলীল এবং চিন্তাশীল উপহার হিসেবেও উপযুক্ত।

বিভিন্ন বাজেট ও পছন্দের কথা মাথায় রেখে তৈরি ব্র্যান্ডটির মূল গিফট বক্সগুলিতে রয়েছে এমন কিছু সিগনেচার কম্বিনেশন, যা দুর্গা পূজা দীপাবলি, কালী পূজা এবং ভাইফোঁটার সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা একে অপরকে উপহার দেওয়াকে আরও সহজ করে তোলে। এই সংগ্রহে রয়েছে জনপ্রিয় জুটি যেমন আরামদায়ক কমফর্টিং নাটি শিয়া ডিলাইট, সতেজতা ও আনন্দে ভরপুর ফ্লোরাল ব্রিটিশ ব্লুম ডুয়ো, প্রাণবন্ত ভেরি বেরি ট্রিটস ডুয়ো, এবং প্রশান্তিদায়ক মিল্ক অ্যান্ড হানি ট্রিটস।

যাঁরা আরও একটু বিলাসবহুল উপহার দিতে চান, তাঁদের জন্য এই সংগ্রহে রয়েছে উৎসবের আবহের উপযোগী সমৃদ্ধ ও ভোজনবিলাসীদের নানা বিকল্প। এর মধ্যে রয়েছে আজওয়া ডেট অ্যান্ড হানি গিফট কালেকশন, যেখানে উষ্ণ ও মিষ্টি সুগন্ধের সঙ্গে একটি শাওয়ার জেল এবং ফ্র্যাগ্রেন্স মিস্ট-এর জুটি রয়েছে, এবং ভেলভেট ফিগ & পিস্টাচিও কালেকশন, যা অত্যন্ত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এক বডি কেয়ার অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

যাঁরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী উপহার সাজাতে চান, তাঁরা দ্য বডি শপের স্টোরে থাকা ক্রিয়েট ইয়োর ওন (CYO) কাস্টম গিফটিং পরিষেবার দিকে যেতে পারেন, যেখানে তাঁরা প্রাপকের পছন্দ অনুযায়ী নিজের হাতে বিভিন্ন পণ্যের বিশেষ কম্বিনেশন বেছে নিতে পারেন।

এই উৎসবের গিফটিং এডিট সারা দেশের সমস্ত দ্য বডি শপ স্টোরে এবং অনলাইনে thebodyshop.in-এ পাওয়া যাচ্ছে।

উৎসবের উপহারের বিশেষ আকর্ষণ

  1. নাটি শিয়া ডিলাইট (₹995): শিয়া শাওয়ার ক্রিম (60ml) এবং শিয়া বডি বাটার (50ml) যা ঘানার হাতে তৈরি কমিউনিটি ফেয়ার ট্রেড শিয়া বাটার সমৃদ্ধ, শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি অত্যন্ত পুষ্টিদায়ক।
  2. ফ্লোরাল ব্রিটিশ ব্লুম ডুয়ো (₹905): ব্রিটিশ রোজ শাওয়ার জেল (60ml) এবং বডি বাটার (50ml) – এর সতেজ জুটি কোমল, ফুলেল আর্দ্রতা প্রদান করে।
  3. ভেরি বেরি ট্রিটস ডুয়ো (₹905): স্ট্রবেরি শাওয়ার জেল (60ml) এবং বডি বাটার (50ml)-এর এই ফলের সংমিশ্রিত জুটি মিষ্টি সুবাসের সঙ্গে ত্বকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে।
  4. মিল্ক অ্যান্ড হানি ট্রিটস (₹905): অ্যালমন্ড মিল্ক শাওয়ার ক্রিম (60ml) এবং এবং বডি বাটার (50ml) -এর এই সেটটি কোমলভাবে ত্বক পরিষ্কার করে এবং গভীর আর্দ্রতা প্রদান করে, সংবেদনশীল ত্বকের জন্য বিশেষ উপযোগী।

Continue reading
দুর্গাপুজোর নেপথ্যের শিল্পীদের সম্মান জানাল মণিপাল হসপিটাল কলকাতা‘পুজোর রূপকার ২.০’-এর মাধ্যমে |
  • September 12, 2026

কলকাতা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এই সময় দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তোলার নেপথ্যে থাকা শিল্পী ও কারিগরদের সম্মান জানাতে মণিপাল হসপিটাল কলকাতা আয়োজন করল ‘পুজোর রূপকার ২.০’। এই উদ্যোগে কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী, চন্দননগরের আলোকশিল্পী, ঢাকি এবং পুজো কমিটির সম্পাদকদের সম্মান জানানো হয়।বাংলার সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িত এই মানুষগুলির গুরুত্বপূর্ণ কাজকে সম্মান জানানোই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। দুর্গাপুজো ২০২১ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বাংলার কাছে দুর্গাপুজো শুধু একটি উৎসব নয়। হাজার হাজার পুজোমণ্ডপ, সুন্দর প্রতিমা, চোখ ধাঁধানো আলো এবং ঢাকের শব্দের পিছনে রয়েছেন বহু প্রজন্ম ধরে কাজ করে আসা শিল্পীরা। তাঁদের দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সৃজনশীলতাই দুর্গাপুজোকে আরও সুন্দর করে তোলে।অনুষ্ঠানের শুরু হয় প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল কলকাতার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা, কুমোরটুলি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং কলকাতার মণিপাল হসপিটাল গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর নার্সিং টিমের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দেবী বরণ অনুষ্ঠান করা হয়।এরপর মণিপাল হসপিটাল ইস্ট-এর রিজিওনাল ডিরেক্টর ডা. অয়নাভ দেবগুপ্ত স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি দুর্গাপুজোকে সুন্দর করে তুলতে শিল্পী ও অন্যান্য কারিগরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন।

এরপর কুমোরটুলির শিল্পী, ঢাকি এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে স্মারক ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কুমোরটুলি সর্বজনীনের সেক্রেটারি শ্রী সমর মিত্র এবং ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট শ্রী দেবাশিস ভট্টাচার্য; কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংস্কৃতি সমিতির মৃৎশিল্পী ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শ্রী বাবু পাল; জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী শ্রীমতী মালা পাল ও শ্রীমতী ঝুলন পাল; প্রবীণ মৃৎশিল্পী শ্রী নিমাই পাল; এশিয়ান পেইন্টস পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী শ্রী নব পাল, শ্রী সৌমেন পাল এবং শ্রী সনাতন পাল। এছাড়াও সম্মানিত করা হয় শ্রীমতী কাকলি পাল, শ্রী অরূপ পাল, শ্রী পশুপতি রুদ্র পাল, শ্রী সঞ্জয় পাল, শ্রী রামিত পাল, শ্রী ইন্দ্রজিৎ পাল, শ্রী রঞ্জিত সরকার, শ্রী বঙ্কিম পাল, শ্রী দীপঙ্কর পাল, শ্রী ভানু রুদ্র পাল, শ্রী সুজিত পাল, শ্রী প্রদীপ দে, শ্রী রুদ্রজিৎ পাল, শ্রী সুভাষ পাল এবং শ্রী সমীর পালকে।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সেক্রেটারি শ্রী চন্দ্রনাথ দে এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী সানু বিশ্বাস এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পী শ্রী তপন ঘোষ, শ্রী তাপস ঘোষ, শ্রী আশিস দে, শ্রী দিব্যেন্দু বিশ্বাস এবং শ্রী অমিয় দাসকেও তাঁদের কাজ ও পরিশ্রমের জন্য সম্মান জানানো হয়।

WhatsApp Image 2026 09 10 at 18.39.44

অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের কনসালট্যান্ট, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. পারিজাত দেব চৌধুরী বলেন,“উৎসবের আগে শিল্পীদের অনেকক্ষণ ধরে কাজ করতে হয় এবং সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপও থাকে। তাই এই সময় হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি। বেশি পরিশ্রম, মানসিক চাপ, কম ঘুম এবং অনিয়মিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শরীরে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উৎসবের সময় কাজের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা দরকার।”মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিকস ডা. সুতনু হাজরা বলেন,“প্রতিমা তৈরির সময় একই ধরনের কাজ বারবার করা, অনেকক্ষণ বসে থাকা, ঝুঁকে কাজ করা এবং ভারী জিনিস তোলার কারণে পেশি, হাড়, জয়েন্ট এবং মেরুদণ্ডে চাপ পড়তে পারে। কাজের সময় সঠিকভাবে বসা ও দাঁড়ানো, কিছুক্ষণ পর পর অবস্থান বদলানো, ঠিকমতো কাজের সরঞ্জাম ব্যবহার করা এবং মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী। দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যথা থাকলে তা এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের কনসালট্যান্ট – গাইনোকলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকস ডা. শিলপিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহিলা শিল্পীদের অনেক সময় কঠিন শারীরিক কাজের পাশাপাশি বাড়ির দায়িত্বও সামলাতে হয়। ফলে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় কমে যায়। মাসিকের অনিয়ম, রক্তশূন্যতা, শরীরে পুষ্টির অভাব এবং অন্যান্য মহিলাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার, আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া তাঁদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এতে তাঁরা আরও ভালোভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।”মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং এইচওডি – অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি কেয়ার ডা. ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়। অনেক সময় বেশি শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি গরম, ধুলো এবং কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ জিনিসের সংস্পর্শেও আসতে হয়। তাই এই সময় কাজের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং কোনও চোট বা হঠাৎ কোনও শারীরিক সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, গুরুতর চোট বা হঠাৎ শরীরের কোনও অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনওই অবহেলা করা উচিত নয় এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কুমোরটুলির শিল্পীদের তাঁদের কাজ এবং বাংলার সংস্কৃতিতে তাঁদের অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। চন্দননগরের আলোকশিল্পী এবং ঢাকিদের উপস্থিতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, দুর্গাপুজোর এই বিশাল আয়োজনের পিছনে রয়েছেন বহু মানুষ, যাঁরা নেপথ্যে থেকে উৎসবকে সুন্দর করে তোলেন।

Continue reading
সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |
  • July 28, 2026


কলকাতা, ২৫ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হাজার হাজার মানুষকে আজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, রোগীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা এক ছাদের নিচে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি-র উদ্যোগে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া আয়োজন করেছিল ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’। রোগী-কেন্দ্রিক এই অনন্য আয়োজনে ৫০ জনেরও বেশি ডায়ালাইসিস রোগী, ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা একত্রিত হয়েছিলেন; যা শেখা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সামিটটি সঞ্চালনা করেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিভাগের উপদেষ্টা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অর্ঘ্য মজুমদার এবং একই বিভাগের ডিরেক্টর ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা. উপল সেনগুপ্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. বাস্তব ঘোষ।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘কিডনি স্বাস্থ্য’ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিকিৎসকরা কিডনি রোগ সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলোকে এই সেশনে মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

WhatsApp Image 2026 07 25 at 17.36.51

রোগীরা যাতে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও নির্দেশনা পান, তা নিশ্চিত করতে ডায়েটেটিক্স, ফিজিওথেরাপি, সাইকোলজি, ডায়ালাইসিস পরিষেবা এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ ‘ইন্টারঅ্যাকশন কিওস্ক’ বা পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সামগ্রিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, যেখানে রোগীরা তাঁদের চিকিৎসার যাত্রাপথে অদম্য মনোবল, আশা ও সংকল্পের অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি তুলে ধরেন। সাহস ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, পরস শর্মা, প্রজেশ কুমার ঘোষ, মালয়া তালপাত্র, সার্থক দাস এবং ডা. কাবেরী চৌধুরীকে উপস্থিত চিকিৎসকদের দ্বারা সংবর্ধিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. অর্ঘ্য মজুমদার বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। রোগীরা যখন কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ) পৌঁছান, তখন তাঁদের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ ও তাঁরা কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন। ডায়ালাইসিস বা রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জীবন-পরিবর্তনকারী একটি প্রক্রিয়া যা রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত করে এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে রোগীরা সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, দ্বিধাহীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং চিকিৎসক ও একে অপরের কাছ থেকে নানা বিষয় জানতে পারেন। এর পাশাপাশি তাঁরা যেন বুঝতে পারেন যে, সময়মতো ও নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে তাঁরা একটি পরিপূর্ণ ও অর্থবহ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন।”
ডা. উপল সেনগুপ্ত বলেন, “ভারতে প্রতি বছর ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ কিডনি ডিজিজ) আক্রান্ত হচ্ছেন; তাই সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, আজীবন ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার সুযোগ দেয়। তবে, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়শই সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা রোগীদের শিক্ষিত করা, ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং প্রতিস্থাপন বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি; পাশাপাশি আমরা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত কিডনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দিচ্ছি।” সম্মেলন চলাকালীন নিজের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার কথা তুলে ধরার সময় ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৫২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী এবং কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা শ্রী অরূপ কুমার দাস বলেন, “২০০৭ সালে যখন আমার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে, তখন আমার জীবন রাতারাতি বদলে যায়। আমি ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেছে এবং আমি আর কাজ করতে পারব না। এরপর আমার ডায়ালিসিস শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে ডায়ালিসিস চলার পর, ২০০৮ সালের জুন মাসে আমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ১৮ বছর ধরে আমি একটি সুস্থ ও কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করছি; আমি এখনও পুরোদমে কাজ করছি, চাকরির প্রয়োজনে প্রচুর ভ্রমণ করছি এবং পরিবারের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। কয়েক বছর আগে আমি এক সন্তানের গর্বিত পিতা হয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জেনেছি যে, চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চললে এবং প্রিয়জনদের সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেলে, কিডনি প্রতিস্থাপন সত্যিই পরিপূর্ণ জীবনযাপনের দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিতে পারে। আমার এই যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য এবং আমাকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগটি দেওয়ার জন্য আমি ডা. অর্ঘ্য মজুমদার-এর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

Continue reading
রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল তার কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
  • June 17, 2026

কলকাতা, ১৬ জুন ২০২৬: সিকে বিড়লা হসপিটালস – বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল, কলকাতা, রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালু করার মাধ্যমে উন্নত ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাসপাতালের নেতৃত্ব, কার্ডিয়াক সার্জারি দল এবং সম্প্রতি এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগীদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত দশকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির বিপরীতে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে সার্জন-নিয়ন্ত্রিত রোবটিক যন্ত্র এবং হাই-ডেফিনিশন ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করা হয়। রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বুকে বড় ছিদ্র এড়িয়ে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি অস্ত্রোপচারের আঘাত কমাতে, রক্তক্ষরণ কমাতে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কমাতে, ক্ষত-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় রোগীরা প্রায়শই হাসপাতালে কম সময় থাকেন এবং দ্রুত তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সার্জনদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রযুক্তি উন্নত নির্ভুলতা এবং দক্ষতা প্রদান করে, যা তাদের সীমিত স্থানেও ব্যতিক্রমী নির্ভুলতার সাথে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম করে।

20260616

বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সৌম্য গুহ, যিনি রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জিক্যাল পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন, তিনি বলেন, “রোবোটিক সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগতভাবে যা অর্জনযোগ্য, তার পরিবর্তন এনে দেয়, বিশেষ করে সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরস্থান জটিল এবং উপলব্ধ স্থান সীমিত। এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কেসগুলোতে, ফলাফলগুলো এই প্রযুক্তি যা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোগীর আরোগ্য লাভের অভিজ্ঞতা প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।”বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডঃ মনোজ দাগা বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেশি, এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রোগীদের উন্নত সার্জিক্যাল পরিকাঠামো প্রয়োজন এমন চিকিৎসার জন্য অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। আমাদের কার্যক্রমে রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সেই মানের চিকিৎসা এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রম গড়ে তোলা, যা সবচেয়ে জটিল কেসগুলোও সামলাতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে নির্ভুলতা, আরোগ্যলাভ ও রোগীর সার্বিক ফলাফল উন্নত করবে, এবং এটি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

সিকে বিড়লা হসপিটালস- বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (কলকাতা) এবং জয়পুরের আঞ্চলিক প্রধান শ্রী সুপ্রতিক দে সরকার বলেন, “বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন এমন সব কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার সুনাম তৈরি করেছে, এবং রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির সংযোজন সেই অবস্থানকে আরও অর্থবহভাবে শক্তিশালী করেছে। পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল যা উন্নত হৃদরোগের সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারে, যাতে রোগীদের এই অঞ্চলের বাইরে যেতে না হয়। এই প্রোগ্রামে আমরা যে বিনিয়োগ করেছি তা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আমরা এই অঞ্চলের রেফারকারী ডাক্তার, রোগী এবং পরিবারবর্গকে জানাতে চাই।”
যখন কোনো হৃদরোগের কেস জটিল হয়, তখন তাকে এখানেই আনা যেতে পারে। আমরা এই মান অর্জনের জন্যই কাজ করছি, এবং রোবোটিক সার্জারি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি অংশ।

রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল জটিল কার্ডিয়াক পদ্ধতির জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যা পূর্ব ভারতের রোগীদের বাড়ির কাছাকাছিই বিশ্বমানের সার্জিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।

Continue reading
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে, ধূমপানমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে মণিপাল হসপিটালস ইস্ট ক্যাম্পাস, চিকিৎসক ও তারকাদের একত্রিত করল |
  • June 1, 2026


কলকাতা, ৩০শে মে ২০২৬: দেশজুড়ে তামাক সেবন নিয়ে আলোচনা যখন আরও জরুরি হয়ে উঠছে, তখন মণিপাল হসপিটালস ইস্ট একটি ব্যাপক সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং প্রিন্সিপালস কনক্লেভের মাধ্যমে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করেছে। ধূমপানের বিপদ এবং তামাকমুক্ত ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করতে এই আয়োজনে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং তারকারা এক মঞ্চে একত্রিত হয়েছিলেন। এই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য ছিল দায়িত্বশীল জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করা, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যকর প্রজন্ম গঠনে প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব তুলে ধরা। অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা এবং পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই কনক্লেভটি তরুণদেরকে সচেতন ও স্বাস্থ্যকর জীবন-সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, কাউন্সেলিং এবং ধারাবাহিক সচেতনতার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দেখা গেছে। এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জারি বিভাগের ডা. কুনাল সরকার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের ডা. দিলীপ কুমার, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর মণিপাল অনকোলজি সার্ভিসেস ও সিনিয়র কনসালটেন্ট হেড নেক অনকোলজি সার্জারি বিভাগের ডা. সৌরভ দত্ত, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ডিরেক্টর – পালমোনোলজি বিভাগের ডা. দেবরাজ যশ, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের ডা. হর্ষ ধর, কনসালটেন্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের ডা. কিনশুক চ্যাটার্জী, বিভাগীয় প্রধান ও সিনিয়র কনসালটেন্ট – মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের ডা. সুদীপ দাস, কনসালটেন্ট – রেডিওলজি বিভাগের ডা. দেবঞ্জলি দত্ত এবং মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শ্রীমতি অরুণিমা দত্ত-সহ অন্যান্য সিনিয়র চিকিৎসকরা। এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হসপিটালস-এর দক্ষিণ ও পূর্ব অঞ্চলের রিজিওনাল সিওও, শ্রী দীপক ভেনুগোপাল এবং মণিপাল হসপিটালস-এর পূর্ব অঞ্চলের রিজিওনাল ডিরেক্টর, ডঃ অয়নভ দেবগুপ্ত। এছাড়াও প্রখ্যাত গায়ক অনুপম রায় এবং অভিনেতা দেবপ্রিয় মুখার্জী এই অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের পাশাপাশি নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ জয়দীপ সারঙ্গি; বাসন্তী দেবী কলেজের অধ্যক্ষ ডঃ ইন্দ্রিলা গুহ; হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যক্ষ অধ্যাপক বসাব চৌধুরী; এবং ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস স্কুল অফ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট-এর অধ্যক্ষ ডঃ সুবীর সেন-এর মতো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও উপস্থিত ছিলেন। লরেটো কলেজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে তামাক সচেতনতা ও প্রতিরোধ বিষয়ক আলোচনায় তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর যুক্ত করেছে। এই সম্মেলনে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপনা করা হয়। অনকোলজি, কার্ডিওলজি এবং পালমোনোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক হস্তক্ষেপ ও আচরণগত সচেতনতার গুরুত্বের উপর জোর দেন। এই কর্মসূচিতে ধূমপানের আসক্তি মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং তরুণদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সেলিব্রিটি ও সামাজিক প্রভাবের ভূমিকার উপর আলোকপাত করে দুটি আকর্ষণীয় প্যানেল আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডঃ সৌরভ দত্ত বলেন, “সারা বিশ্বে প্রতিরোধযোগ্য ক্যান্সার এবং বিভিন্ন জীবন-হুমকির অসুস্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তামাক এখনও রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর তামাকের কারণে ৮০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায়, যেখানে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১৩.৫ লক্ষ মৃত্যু তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণদের মধ্যে ধূমপান এবং ভ্যাপিং-এর অভ্যাসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার, যা সচেতনতা এবং প্রতিরোধকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে, আমরা ছাত্র, শিক্ষক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যাতে আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বেছে নিতে উৎসাহিত করতে পারি এবং তামাকজনিত রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা কমাতে পারি।”

ডঃ কুনাল সরকার আরও বলেন, “এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিগুলো তরুণ প্রজন্মের আচরণগত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথ দেখাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কলেজগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। শারীরিক স্বাস্থ্যের বাইরেও তামাকের আসক্তি মানসিক ও সামাজিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে, তাই এই সমস্যাটিকে সামগ্রিকভাবে সমাধান করা অপরিহার্য।”

তাঁর বক্তব্যে ডঃ অয়নভ দেবগুপ্ত বলেন, “মণিপাল হসপিটালসে আমরা বিশ্বাস করি যে স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের চার দেয়ালের বাইরেও বিস্তৃত এবং একটি স্বাস্থ্যকর সমাজ গড়ার আমাদের স্বপ্নে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সর্বদাই কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতে ১৩-১৫ বছর বয়সী প্রায় ৮.৫% শিক্ষার্থী ইতোমধ্যেই কোনো না কোনো ধরনের তামাক ব্যবহার করছে, যা তুলে ধরে কীভাবে অল্প বয়সে এর সংস্পর্শে আসা এবং সমবয়সীদের প্রভাব তরুণ মনকে প্রভাবিত করে চলেছে। এই বিষয়টি…

Continue reading
আইএমএ (IMA) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের উদ্যোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬: “বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” অভিযান এবং অটিজম সচেতনতা কর্মসূচি |
  • April 8, 2026

কলকাতা, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ : ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চ আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে ২০২৬ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের বৈশ্বিক থিম “স্বাস্থ্যের জন্য ঐক্য: বিজ্ঞানের সাথে সংহতি” (Together for Health: Stand with Science) শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের কর্মসূচিতে অটিজম সচেতনতা মাসকেও যুক্ত করা হয়েছে, যা নিউরো-ইনক্‌লুসিভ (স্নায়বিক বৈচিত্র্যময়) স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। এই অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন আইএমএ-র অনারারি স্টেট সেক্রেটারি তথা প্রাক্তন ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডাঃ শান্তনু সেন এবং স্টেট প্রেসিডেন্ট ডাঃ চন্দন কুমার ঘোষাল।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ “বিজ্ঞান ও মানবতার মেলবন্ধন”: শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা আধুনিক চিকিৎসায় প্রমাণ-ভিত্তিক পদ্ধতির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের সামাজিক নেতা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা নিউরোডাইভারজেন্ট (স্নায়বিক বৈচিত্র্যসম্পন্ন) ব্যক্তিদের পরিবারকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন।অটিজম সচেতনতা পোস্টার উন্মোচন: আইএমএ বেঙ্গল ২০২৬ সালের অটিজম সচেতনতা মাসের জন্য বিশেষ পোস্টার উন্মোচন করে। “অটিজম ও মানবিকতা – প্রতিটি জীবনের মূল্য আছে”-এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে পোস্টারটিতে রামধনু প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিছক সচেতনতা থেকে প্রকৃত সামাজিক স্বীকৃতির বার্তা দেয়।স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সংবর্ধনা: ভুল স্বাস্থ্য তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে, বিজ্ঞান-ভিত্তিক তথ্য প্রচারের জন্য বিশিষ্ট স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের সংবর্ধনা জানানো হয়।বিজ্ঞান-ভিত্তিক স্বাস্থ্যের শপথ: অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলে #StandWithScience বা বিজ্ঞানের পক্ষে থাকার শপথ নেন। সদস্যরা অঙ্গীকার করেন যে, প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা হবে এবং অটিজম আক্রান্তদের জন্য হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলা হবে।উদ্বোধনী অধিবেশনে ডাঃ শান্তনু সেন বলেন, “ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্যের ভিড়ে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের বিজ্ঞানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে। আমাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। চিকিৎসকদের সামাজিক নেতা হিসেবে অটিজম আক্রান্তদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”আইএমএ বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চ “ওয়ান হেলথ” (One Health) দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্বাসী, যেখানে মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

Continue reading

মিস করে যাওয়া

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |
টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।
পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |
ডানকুনিতে ওয়্যারহাউস প্রকল্পে ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা অলকার্গো লজিস্টিক্সের |
নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |
ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কালিকাপুর আগুয়ান সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে সঙ্ঘের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বৃক্ষ রোপণ উৎসব ও সিপিআর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।