মুখ ও গলার ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস-এ ক্যান্সার সার্ভাইভার মিট

কলকাতা, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫: মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা চেইন মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি অংশ, মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ ক্যানসার সারভাইভার মিটের আয়োজন করে। ভারতে মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার প্রধান কারণ তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার। পাশাপাশি, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরে নারীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে এই রোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র অনকোলজিস্টরা। ক্যানসার সারভাইভাররা এদিন তাঁদের লড়াইয়ের গল্প, ভয়কে জয় করার মুহূর্ত এবং নবউদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।মুখের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা সার্জারি। প্রাথমিক স্তরে (Early Oral Cancer) অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্টেজ ৩ ও ৪ এর রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রেডিয়েশন থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।

Whatsapp image 2025 11 29 at 20.40.39 (1)

ড. সৌরভ দত্ত, , ডিরেক্টর – মণিপাল অঙ্কোলজি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অনকোলজি , মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং ব্রডওয়ে বলেন, “ভারতে এখনও মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের বোঝা অত্যন্ত বেশি, প্রতি বছরই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। এদের প্রায় ৬৫–৭০%-ই তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারী। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে মুখের ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য—এই পর্যায়ে সাফল্যের হার ৭৫–৮০%-এরও বেশি। তাই উপসর্গের প্রতি সময়মতো নজর দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।“পুনর্গঠন সার্জারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রোগীই দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এখন মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য পুনর্গঠন পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং রক্তনালীর সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে শুধু মুখমণ্ডলের গঠনই পুনরুদ্ধার হয় না, রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, চিবোনো ও গিলতে পারার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতাও ফিরে পান। সফল পুনর্গঠন ক্যান্সারজয়ীর চিকিৎসা-পরবর্তী জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।”সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইভেন্টে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞ ড. কিংশুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন,“যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সার্জারির মাধ্যমেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়। রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এর ফলে রোগীর পরবর্তী জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভালো থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।”

প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির গুরুত্ব নিয়ে ড. সিঞ্জিনি দাস, কনসালট্যান্ট – প্লাস্টিক, রিকনস্ট্রাকটিভ & কসমেটিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস,, বলেন, “মুখের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে অনেক সময় গাল, জিহ্বা বা চোয়ালের কিছু অংশ অপসারণ করতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের মনে আবার আগের মতো কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে কি না—এই নিয়ে ভয় তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক পুনর্গঠন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই অংশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্গঠন করতে পারি, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, খাবার গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। আজকের দিনে পুনর্গঠনমূলক সার্জারি মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। গত চার বছরে আমাদের বিভাগে ৮০০-রও বেশি ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫০টি ছিল মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য।”এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যার নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কণ্ঠ–তে একজন ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সার্ভাইভারের সংগ্রাম, তাঁর কণ্ঠনালী অপসারণের পর নতুনভাবে কথা বলতে শেখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই চরিত্রায়ণ কেবল দর্শকদের অনুপ্রাণিতই করেনি, বরং মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বহমান ভয়, অস্বস্তি ও ভুল ধারণা দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই এই ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি ছিল গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইভেন্টে উপস্থিত সকল ক্যান্সার সার্ভাইভাররা তাঁদের ভয়কে জয় করার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও পরিবারের সহায়তা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁরা আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন—এই সবকিছু বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন।একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, এস. কে. আমিন আলি (বয়স ৪৭), যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন, “আমি সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী জীবন যাপন করেছি। দীর্ঘ কর্মসময় সামলে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ট্রেকিংয়ের আগ্রহ, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তখন এক মুহূর্ত দেরি করিনি। অনলাইনে খুঁজে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করি এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য এখানে আসি। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসকেরা আমাকে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য,আবার শক্তি ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়ানো।”আরেকজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, শাশ্বতী বিশ্বাস (বয়স ৪৫), নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যখন আমার রোগ নির্ণয় হলো, আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম, কি করব? কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মণিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সবকিছু বদলে গেল। ডাক্তার, নার্স এবং পুরো টিম আমাকে আন্তরিক যত্নে আগলে রাখলেন। তাঁরা আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন যা আমি খুঁজছিলাম। আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছি এবং অসংখ্য ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা না পাওয়ায় ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। কিন্তু এখানে আমি সময়মতো রোগ নির্ণয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ—সবই পেয়েছি। আজ আমার অস্ত্রোপচারের পর আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের প্রতি প্রেরণা ও আশা নিয়ে।

Related Posts

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।
  • October 11, 2026

কলকাতা, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬: টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল, ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন অ্যাকাডেমির সহযোগিতায়, পেশী ও অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং সুস্থ হাঁটু ও মেরুদণ্ড বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতা প্রচারের জন্য ‘স্বাস্থ্যকর হাঁটু ও মেরুদণ্ড বিষয়ে সচেতনতা’ শীর্ষক একটি বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করেছে।এই কর্মসূচিতে বিশিষ্ট অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীরা একত্রিত হয়েছিলেন, যাঁরা হাঁটু ও মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য, সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব এবং সচলতা ও সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁদের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেন।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন আইওআরএআর দিবসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডঃ পি. এস. সরকার, উত্তর কলকাতা অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব ডঃ কিংসুক মণ্ডল, জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান এবং এসএসকেএম হাসপাতালের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আনন্দ কিশোর পাল, আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার, পশ্চিমবঙ্গ অর্থোপেডিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক কিরণ কুমার মুখোপাধ্যায়, টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডঃ সৌরভ ঘোষ এবং টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের সিইও শ্রীমতি মোনা সরকার।

DSC

গতিশীলতা, স্বাধীনতা এবং একটি উন্নত জীবন নিশ্চিত করার জন্য হাঁটু ও মেরুদণ্ড সুস্থ রাখা অপরিহার্য। অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবসের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মাস্কুলোস্কেলিটাল স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ে উৎসাহিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই। টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালে আমরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে এবং মানুষ যাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও উন্নতমানের অর্থোপেডিক সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলেন টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. সৌরভ ঘোষ।

এই উদ্যোগটি অস্থিসন্ধি ও মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নয়নে জনসচেতনতা এবং বিশেষজ্ঞ নির্দেশনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস পালনের মাধ্যমে টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি স্বাস্থ্যসেবা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নততর পেশী ও অস্থিসন্ধির স্বাস্থ্যের জন্য মানুষকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতাল একটি অগ্রণী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যা সহানুভূতি ও সততার সাথে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোগী-কেন্দ্রিক পরিষেবার উপর দৃঢ় মনোযোগ রেখে, হাসপাতালটি মানসম্মত চিকিৎসা, উদ্ভাবন এবং নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের মাধ্যমে সমাজের সেবা করে চলেছে।

Continue reading
নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |
  • October 8, 2026


কলকাতা, ৬ই অক্টোবর ২০২৬: স্তন ক্যান্সার একজন নারীর জন্য অন্যতম কঠিন স্বাস্থ্য সংগ্রাম হতে পারে, কিন্তু সচেতনতা, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা এই যাত্রার গতিপথ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে। এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে (অক্টোবর), মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস “দুর্গাতিনাশিনী – আপনিই আপনার” এই থিমের উপর একটি সচেতনতামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের তাদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে উৎসাহিত করছে। এই উদ্যোগটি স্তন স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং সময়মতো যত্ন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য গণমাধ্যমকে একত্রিত করবে এবং একই সাথে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সক্রিয় হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বৃহত্তর সচেতনতা বাড়াতে উৎসাহিত করবে।

উৎসবের মরসুমে নারীশক্তির অদম্য চেতনা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এই প্রচারাভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারীরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রে কাজের জন্য পরিচিত প্রশংসিত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার নন্দিতা রায় এবং ভারতীয় মডেল রিচা শর্মা, যিনি ২০১১ সালে মিসেস ইন্ডিয়া খেতাব অর্জন করেন এবং আঞ্চলিক ও হিন্দি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি এই প্রচারাভিযানে নারীর শক্তি ও সহনশীলতার উদযাপনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এই বার্তাকে শক্তিশালী করেছে যে, শক্তি কেবল রোগ নির্ণয়ের পর তার বিরুদ্ধে লড়াই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মধ্যে রয়েছে রোগের লক্ষণগুলো আগেভাগে চেনা, নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
স্তন ক্যান্সার নারীদের মধ্যে একটি প্রধান স্বাস্থ্য উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে, যার ফলে উন্নত ফলাফলের জন্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে, এই যাত্রা কেবল হাসপাতাল বা চিকিৎসার মাধ্যমেই শুরু হয় না। এটি শুরু হয় আরও অনেক আগে, যখন একজন নারী নিজের শরীরকে চেনেন, পরিবর্তনগুলো চিনতে পারেন এবং পেশাদার পরামর্শ নেওয়ার আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন।

WhatsApp Image 2026 10 06 at 18.12.19 (1)

সভায় বক্তব্য রাখার সময়, মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নেহা চৌধুরী বলেন, “‘দুর্গাতিশিনী’-র বার্তা স্তন ক্যান্সারের গতানুগতিক ধারণার ঊর্ধ্বে। এটি নারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করে এবং এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে যে, তারা নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। ক্যান্সারের এই যাত্রাপথে মানসিক ও সামাজিক সমর্থনের গুরুত্বও অবিচ্ছেদ্য। স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা নারীদের অভিজ্ঞতা বারবার প্রমাণ করেছে যে, যদিও চিকিৎসাগত দক্ষতা এবং যথাযথ চিকিৎসা অপরিহার্য, পরিবার, বন্ধু এবং পরিচর্যাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহ রোগীদের রোগ নির্ণয় ও আরোগ্যের প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবিলা করার জন্য মানসিক শক্তি জোগাতে পারে।”

অনুষ্ঠানে, মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাসের সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট সার্জারি) বিভাগের কনসালটেন্ট ডাঃ পূজা আগরওয়াল বলেন, “প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ই মূল চাবিকাঠি, এবং আমরা পরামর্শ দিই যে ৪০ বছরের বেশি বয়সী সকল মহিলার প্রতি বছর ম্যামোগ্রাম করানো উচিত এবং তরুণীদের নিয়মিত স্ব-স্তন পরীক্ষা করা উচিত। এটি বেশ উদ্বেগজনক যে ভারতে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬১% উন্নত পর্যায়ে আসেন এবং খুব কম সংখ্যক রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের কাছে আসেন। এই প্রবণতার পিছনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারণ এবং কম সচেতনতা অন্যতম প্রধান কারণ।” তিনি আরও বলেন, “স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা দক্ষতার সাথে স্ব-যত্নের প্রতি অঙ্গীকারের সমন্বয় প্রয়োজন। তাই, আমরা ব্যক্তিগতকৃত যত্ন এবং একটি সঠিক রোগ নির্ণয়, পর্যায় নির্ধারণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য সচেষ্ট থাকি। প্রতিটি পদক্ষেপ, তা সার্জারি হোক বা থেরাপি, সর্বোত্তম ফলাফল আনার জন্য একটি বহু-বিভাগীয় দল দ্বারা সমন্বিত হয়। একটি উন্নত জীবনের পথ প্রশস্ত করার জন্য রোগীর অংশগ্রহণ, স্ব-যত্ন, সঠিক পুষ্টি এবং মানসিক সমর্থন সমান গুরুত্ব বহন করে।” এই যাত্রাপথে পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের সমর্থন রোগীদের এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিক শক্তি জোগায়।”
এই উদ্যোগটির তাৎপর্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে কলকাতার ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টারের মণিপাল কম্প্রিহেনসিভ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ডঃ সৌরভ দত্ত বলেন, “স্তন ক্যান্সার সচেতনতাকে অবশ্যই এক মাসব্যাপী আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের নিজেদের শরীর সম্পর্কে বুঝতে, পরিবর্তনগুলো শনাক্ত করতে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় চিকিৎসার যাত্রাপথে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের ‘দুর্গাতিশিনী’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা এই বার্তাটি আরও জোরদার করতে চাই যে, প্রত্যেক নারীরই নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।”
এই প্রচারণার আরেকটি লক্ষ্য হলো স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে ভয় থেকে ক্ষমতায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই রোগ মোকাবিলায় বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা এবং রোগীরা প্রায়শই আত্মবিশ্বাস, সহনশীলতা এবং একটি শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থার গুরুত্বের কথা বলেন। এর আগে স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের এক সমাবেশে রোগীরা বলেছিলেন, কীভাবে সঠিক চিকিৎসা, আশ্বাস এবং সমর্থন তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ও দৈনন্দিন জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছিল।

তবে, এই ‘রোগের রাজা’র বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যদিও স্তন ক্যান্সার প্রধানত নারীদের সঙ্গেই সম্পর্কিত, পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে, যদিও তা বিরল। কলকাতার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী অশোক চক্রবর্তীর জন্য এই যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

ভেটেরান ক্রিকেট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন ‘অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ’ টুর্নামেন্টের ঘোষণা করল; উন্মোচিত হলো অফিসিয়াল জার্সি |

দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র

দ্য বোস ফাইলস — সত্য না ষড়যন্ত্র

পন্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো এক ইতিহাস বহন করে চলেছে।

পন্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজো এক ইতিহাস বহন করে চলেছে।

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |