মুখ ও গলার ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে মণিপাল হসপিটাল, ইএম বাইপাস-এ ক্যান্সার সার্ভাইভার মিট

কলকাতা, ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫: মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, যা ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা চেইন মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি অংশ, মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষ ক্যানসার সারভাইভার মিটের আয়োজন করে। ভারতে মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত, যার প্রধান কারণ তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার। পাশাপাশি, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরে নারীদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে এই রোগের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাসের সিনিয়র অনকোলজিস্টরা। ক্যানসার সারভাইভাররা এদিন তাঁদের লড়াইয়ের গল্প, ভয়কে জয় করার মুহূর্ত এবং নবউদ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।মুখের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা সার্জারি। প্রাথমিক স্তরে (Early Oral Cancer) অপারেশনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে স্টেজ ৩ ও ৪ এর রোগীদের ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রেডিয়েশন থেরাপি এবং কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি প্রয়োজন হয়।

Whatsapp image 2025 11 29 at 20.40.39 (1)

ড. সৌরভ দত্ত, , ডিরেক্টর – মণিপাল অঙ্কোলজি, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – হেড অ্যান্ড নেক সার্জিক্যাল অনকোলজি , মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মুকুন্দপুর এবং ব্রডওয়ে বলেন, “ভারতে এখনও মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের বোঝা অত্যন্ত বেশি, প্রতি বছরই ২ লক্ষেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। এদের প্রায় ৬৫–৭০%-ই তামাক বা তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারকারী। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে মুখের ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য—এই পর্যায়ে সাফল্যের হার ৭৫–৮০%-এরও বেশি। তাই উপসর্গের প্রতি সময়মতো নজর দেওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।“পুনর্গঠন সার্জারির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ড. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন, “আমাদের অধিকাংশ রোগীই দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন, যেখানে জটিল অস্ত্রোপচার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়। মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এখন মুখগহ্বর ও মাথা-ঘাড়ের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সবচেয়ে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য পুনর্গঠন পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে টিস্যু সংগ্রহ করে আক্রান্ত স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং রক্তনালীর সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। এর ফলে শুধু মুখমণ্ডলের গঠনই পুনরুদ্ধার হয় না, রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, চিবোনো ও গিলতে পারার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতাও ফিরে পান। সফল পুনর্গঠন ক্যান্সারজয়ীর চিকিৎসা-পরবর্তী জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।”সঠিক সময়ে রোগনির্ণয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে ইভেন্টে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞ ড. কিংশুক চ্যাটার্জি, কনসালট্যান্ট – সার্জিকাল অঙ্কোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস এবং ব্রডওয়ে বলেন,“যেসব রোগীর ক্যান্সার প্রাথমিক স্তরে শনাক্ত করা যায়, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সার্জারির মাধ্যমেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়। রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপির প্রয়োজন হয় না। এর ফলে রোগীর পরবর্তী জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত ভালো থাকে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।”

প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির গুরুত্ব নিয়ে ড. সিঞ্জিনি দাস, কনসালট্যান্ট – প্লাস্টিক, রিকনস্ট্রাকটিভ & কসমেটিক সার্জারি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস,, বলেন, “মুখের ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারে অনেক সময় গাল, জিহ্বা বা চোয়ালের কিছু অংশ অপসারণ করতে হয়, যা স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের মনে আবার আগের মতো কথা বলা বা খাওয়া-দাওয়া করতে পারবে কি না—এই নিয়ে ভয় তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক পুনর্গঠন প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা এই অংশগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুনর্গঠন করতে পারি, ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা, খাবার গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরে যেতে পারেন। আজকের দিনে পুনর্গঠনমূলক সার্জারি মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ ব্যবহার করা হয়। গত চার বছরে আমাদের বিভাগে ৮০০-রও বেশি ফ্রি ফ্ল্যাপ সার্জারি হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬৫০টি ছিল মুখের ক্যান্সার রোগীদের জন্য।”এই অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, যার নির্মিত জনপ্রিয় চলচ্চিত্র কণ্ঠ–তে একজন ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার সার্ভাইভারের সংগ্রাম, তাঁর কণ্ঠনালী অপসারণের পর নতুনভাবে কথা বলতে শেখা এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই অত্যন্ত বাস্তব ও সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই চরিত্রায়ণ কেবল দর্শকদের অনুপ্রাণিতই করেনি, বরং মুখ ও গলার ক্যান্সার নিয়ে সমাজে বহমান ভয়, অস্বস্তি ও ভুল ধারণা দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাই এই ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতি ছিল গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

ইভেন্টে উপস্থিত সকল ক্যান্সার সার্ভাইভাররা তাঁদের ভয়কে জয় করার অভিজ্ঞতা, চিকিৎসকদের সঠিক পরামর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও পরিবারের সহায়তা কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত কীভাবে তাঁরা আজ সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন—এই সবকিছু বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেন।একজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, এস. কে. আমিন আলি (বয়স ৪৭), যিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, নিজের জীবনের লড়াইয়ের কথা বলেন, “আমি সবসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিশ্রমী জীবন যাপন করেছি। দীর্ঘ কর্মসময় সামলে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং ট্রেকিংয়ের আগ্রহ, দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু যখন বুঝতে পারলাম শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তখন এক মুহূর্ত দেরি করিনি। অনলাইনে খুঁজে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করি এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য এখানে আসি। প্রতিটি ধাপে চিকিৎসকেরা আমাকে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ় সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য,আবার শক্তি ফিরে পেয়ে নতুন উদ্যমে ২০২৬ সালের জাতীয় বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপের মঞ্চে দাঁড়ানো।”আরেকজন ক্যান্সার সার্ভাইভার, শাশ্বতী বিশ্বাস (বয়স ৪৫), নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “যখন আমার রোগ নির্ণয় হলো, আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম, কি করব? কোথায় যাব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কিন্তু মণিপাল হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সবকিছু বদলে গেল। ডাক্তার, নার্স এবং পুরো টিম আমাকে আন্তরিক যত্নে আগলে রাখলেন। তাঁরা আমাকে মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আর সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছেন যা আমি খুঁজছিলাম। আমি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছি এবং অসংখ্য ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা না পাওয়ায় ভয়াবহ কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। কিন্তু এখানে আমি সময়মতো রোগ নির্ণয়, সম্পূর্ণ চিকিৎসা এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ—সবই পেয়েছি। আজ আমার অস্ত্রোপচারের পর আপনাদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, জীবনের প্রতি প্রেরণা ও আশা নিয়ে।

Related Posts

হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত NCRI Hospital-এ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রেডিওথেরাপি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
  • July 15, 2026

GAUTAM MUKHERJEE

কলকাতার NCRI Hospital (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতাল) ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চল থেকে আগত রোগীদের অন্যতম প্রধান সমস্যার সমাধানে একটি রোগীকেন্দ্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা একজন পরিচর্যাকারীর জন্য সম্পূর্ণ রেডিয়েশন চিকিৎসাকালীন বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করছে।

আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার কোনো না কোনো পর্যায়ে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয় তা নিরাময়মূলক (Curative), অ্যাডজুভ্যান্ট (Adjuvant), নিওঅ্যাডজুভ্যান্ট (Neoadjuvant) অথবা উপশমমূলক (Palliative) চিকিৎসার অংশ হিসেবেই হোক না কেন। রোগের ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নির্ভর করে রেডিওথেরাপির মেয়াদ এক সপ্তাহ থেকে সাত সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে আধুনিক রেডিয়েশন থেরাপির যন্ত্র (LINAC) বর্তমানে শুধুমাত্র কলকাতা, মালদহ ও বর্ধমানের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতে রয়েছে। অন্যান্য জেলায় এই সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ ক্যান্সার রোগীকেই রেডিওথেরাপির জন্য কলকাতায় আসতে হয়।

WhatsApp Image 2026 07 15 at 11.56.29

দূরবর্তী জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত রোগীদের জন্য কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করা একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসাকালীন থাকার জন্য বহু পরিবারকে ₹২০,০০০-২২৫,০০০ বা তারও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক রোগী চিকিৎসা গ্রহণ থেকেই বিরত থাকেন অথবা চিকিৎসা চলাকালীন রেডিওথেরাপি মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

এই বাস্তব সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করে NCRI Hospital রেডিওথেরাপি রোগী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা একজন পরিচর্যাকারীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করেছে, যাতে আর্থিক অসুবিধা বা অস্থায়ী বাসস্থানের অভাব কোনোভাবেই সময়মতো ও নিরবচ্ছিন্ন ক্যান্সার চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

NCRI Hospital একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র, যেখানে একই ছাদের নিচে বহুমাত্রিক অনকোলজি পরিষেবা প্রদান করা হয়। হাসপাতালে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং অত্যাধুনিক রেডিয়েশন অনকোলজি-সহ আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার সম্পূর্ণ পরিষেবা উপলব্ধ। রেডিওথেরাপি পরিষেবার মধ্যে রয়েছে থ্রি-ডাইমেনশনাল কনফর্মাল রেডিওথেরাপি (3D-CRT), ইনটেনসিটি-মডুলেটেড রেডিওথেরাপি (IMRT), ইমেজ-গাইডেড রেডিওথেরাপি (IGRT) এবং সারফেস-গাইডেড রেডিওথেরাপি (SGRT)। এছাড়াও বিশেষত স্ত্রীরোগজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ব্র্যাকিথেরাপির সুবিধাও উপলব্ধ রয়েছে।

এই বিনামূল্যে হসপিটালের কাছে থাকার ব্যবস্থার উদ্যোগের মাধ্যমে NCRI Hospital পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রোগীদের জন্য আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানবিক ক্যান্সার চিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে-রেডিওথেরাপি চলাকালীন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা প্রদান করা হবে।চিকিৎসার সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।রোগীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে একটানা তাঁদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করতে পারবেন। মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়েদিতে বাধ্য হবেন না

Continue reading
কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান |
  • June 22, 2026

কলকাতা, ১৯ জুন: স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন আর শুধু ভয়ের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সময়মতো রোগ নির্ণয়ই এর মূল চালিকাশক্তি। জিনগত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা রোগীর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারে, আজ এখানে একটি সচেতনতামূলক অধিবেশনে চিকিৎসকরা একথা বলেন।কলকাতার এইচসিজি ক্যান্সার হাসপাতালের ব্রেস্ট সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ডঃ জ্যোতি গুপ্তা, স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনাকে উদ্বেগ থেকে কর্মে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন। “আজকাল স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যক্তিগত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় আমাদের আরোগ্যের সেরা সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, আধুনিক চিকিৎসা ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের গঠন, কার্যকারিতা এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সাহায্য করে,” তিনি ‘মিসেস ইন্ডিয়া কুইন অফ সাবস্ট্যান্স’ এবং ‘ওম্যান অফ দ্য ইউনিভার্স ২০২৫’-এর রানার-আপ দেবজানি গুহের সঙ্গে এক খোলামেলা আলাপচারিতার সময় একথা বলেন।

WhatsApp Image 2026 06 19 at 17.46.11

আইএআরসি-গ্লোবোক্যান ২০২২-এর হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ১,৯২,০২০টি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা নারীদের মধ্যে মোট ক্যান্সারের ২৬.৬ শতাংশ। যদিও এই রোগটি সাধারণত মধ্যবয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এটি কম বয়সী নারীদের পাশাপাশি বেশি বয়সী নারীদেরও আক্রান্ত করতে পারে। তাঁরা বলেছেন, শুধুমাত্র বয়সের কারণে স্তনের কোনো পরিবর্তনকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।আধুনিক স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। টিউমারের পর্যায় এবং জৈবিক প্রকৃতির উপর নির্ভর করে, রোগীরা এখন স্তন-সংরক্ষণকারী সার্জারি, অনকোপ্লাস্টিক পুনর্গঠন, রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, HER2-টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি বা ‘নতুন টার্গেটেড মেডিসিন’ গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসার সিদ্ধান্তগুলো এখন শুধু টিউমারের অবস্থানের উপরই নয়, বরং এটি কী ধরনের টিউমার, তার উপরও ক্রমশ বেশি নির্ভর করছে।যাদের বংশগত রোগের জোরালো ইতিহাস, অল্প বয়সে স্তন ক্যান্সার, উভয় স্তনে ক্যান্সার, পরিবারে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ইতিহাস অথবা নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ টিউমারের ধরণ রয়েছে, সেইসব নারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেনেটিক ঝুঁকি মূল্যায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। BRCA1 এবং BRCA2-এর মতো মিউটেশনের পরীক্ষা সেইসব নারী ও পরিবারকে শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, প্রতিরোধমূলক কৌশল অথবা বংশগত ঝুঁকির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

ডঃ গুপ্তা, যিনি সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে রেড কার্পেটে হেঁটেছেন, বলেছেন যে এই বার্তাটি ক্লিনিকের বাইরেও পৌঁছানো দরকার: সচেতনতা জীবন বাঁচায়, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় জরুরি, এবং কোনো নারীরই নীরবে কষ্ট ভোগ করা উচিত নয়।আন্তর্জাতিক তথ্য থেকে দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে স্থানীয় স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশেরও বেশি রোগী বেঁচে যান। তাই সচেতনতা, স্ক্রিনিং এবং সময়মতো চিকিৎসাকে একটি সম্মিলিত জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন এইচসিজি ক্যান্সার হসপিটালস-এর পূর্ব ও অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলের রিজিওনাল বিজনেস হেড ডা. রুপালি বসু।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত NCRI Hospital-এ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রেডিওথেরাপি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

হিমাদ্রি মেমোরিয়াল ক্যান্সার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট পরিচালিত NCRI Hospital-এ দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আগত রেডিওথেরাপি রোগীদের জন্য বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।

চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।