সচেতনতা ও সহায়তার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের ক্ষমতায়নে ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’-এর আয়োজন করল মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া |


কলকাতা, ২৫ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (CKD) বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হাজার হাজার মানুষকে আজীবন ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, রোগীদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সহায়তা এক ছাদের নিচে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মণিপাল ইনস্টিটিউট অফ নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি-র উদ্যোগে মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়া আয়োজন করেছিল ‘ডায়ালাইসিস পেশেন্ট সামিট’। রোগী-কেন্দ্রিক এই অনন্য আয়োজনে ৫০ জনেরও বেশি ডায়ালাইসিস রোগী, ডায়ালাইসিসের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তি, কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীরা একত্রিত হয়েছিলেন; যা শেখা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সামিটটি সঞ্চালনা করেন মণিপাল হাসপাতাল ঢাকুরিয়ার নেফ্রোলজি ও কিডনি প্রতিস্থাপন বিভাগের উপদেষ্টা ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. অর্ঘ্য মজুমদার এবং একই বিভাগের ডিরেক্টর ও ক্লিনিক্যাল লিড ডা. উপল সেনগুপ্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কনসালট্যান্ট ইউরোলজিস্ট ডা. বাস্তব ঘোষ।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ‘কিডনি স্বাস্থ্য’ বিষয়ক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিকিৎসকরা কিডনি রোগ সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো দূর করার পাশাপাশি দ্রুত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তাঁরা ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং রোগীদের সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলোকে এই সেশনে মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

WhatsApp Image 2026 07 25 at 17.36.51

রোগীরা যাতে ব্যক্তিগত পরামর্শ ও নির্দেশনা পান, তা নিশ্চিত করতে ডায়েটেটিক্স, ফিজিওথেরাপি, সাইকোলজি, ডায়ালাইসিস পরিষেবা এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিশেষ ‘ইন্টারঅ্যাকশন কিওস্ক’ বা পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সামগ্রিক পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, যেখানে রোগীরা তাঁদের চিকিৎসার যাত্রাপথে অদম্য মনোবল, আশা ও সংকল্পের অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি তুলে ধরেন। সাহস ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, পরস শর্মা, প্রজেশ কুমার ঘোষ, মালয়া তালপাত্র, সার্থক দাস এবং ডা. কাবেরী চৌধুরীকে উপস্থিত চিকিৎসকদের দ্বারা সংবর্ধিত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. অর্ঘ্য মজুমদার বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপের পরিপ্রেক্ষিতে রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। রোগীরা যখন কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজ) পৌঁছান, তখন তাঁদের জীবন অত্যন্ত দুর্বিষহ ও তাঁরা কর্মক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন। ডায়ালাইসিস বা রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জীবন-পরিবর্তনকারী একটি প্রক্রিয়া যা রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবিত করে এবং তাঁদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে রোগীরা সহজেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পেতে পারেন, দ্বিধাহীনভাবে প্রশ্ন করতে পারেন এবং চিকিৎসক ও একে অপরের কাছ থেকে নানা বিষয় জানতে পারেন। এর পাশাপাশি তাঁরা যেন বুঝতে পারেন যে, সময়মতো ও নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে তাঁরা একটি পরিপূর্ণ ও অর্থবহ জীবন অতিবাহিত করতে পারেন এবং নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন।”
ডা. উপল সেনগুপ্ত বলেন, “ভারতে প্রতি বছর ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে (এন্ড-স্টেজ কিডনি ডিজিজ) আক্রান্ত হচ্ছেন; তাই সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, আজীবন ডায়ালাইসিসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন দীর্ঘমেয়াদী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার সুযোগ দেয়। তবে, ভুল ধারণা ও সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়শই সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা রোগীদের শিক্ষিত করা, ভ্রান্ত ধারণা দূর করা এবং প্রতিস্থাপন বিষয়ে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েছি; পাশাপাশি আমরা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত কিডনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বের ওপরও জোর দিচ্ছি।” সম্মেলন চলাকালীন নিজের অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার কথা তুলে ধরার সময় ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৫২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী এবং কিডনি প্রতিস্থাপন গ্রহীতা শ্রী অরূপ কুমার দাস বলেন, “২০০৭ সালে যখন আমার কিডনি বিকল হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে, তখন আমার জীবন রাতারাতি বদলে যায়। আমি ভেবেছিলাম সব শেষ হয়ে গেছে এবং আমি আর কাজ করতে পারব না। এরপর আমার ডায়ালিসিস শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে ডায়ালিসিস চলার পর, ২০০৮ সালের জুন মাসে আমার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। গত ১৮ বছর ধরে আমি একটি সুস্থ ও কর্মচঞ্চল জীবন অতিবাহিত করছি; আমি এখনও পুরোদমে কাজ করছি, চাকরির প্রয়োজনে প্রচুর ভ্রমণ করছি এবং পরিবারের সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি। কয়েক বছর আগে আমি এক সন্তানের গর্বিত পিতা হয়েছি। নিজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জেনেছি যে, চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চললে এবং প্রিয়জনদের সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পেলে, কিডনি প্রতিস্থাপন সত্যিই পরিপূর্ণ জীবনযাপনের দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিতে পারে। আমার এই যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য এবং আমাকে জীবনের দ্বিতীয় সুযোগটি দেওয়ার জন্য আমি ডা. অর্ঘ্য মজুমদার-এর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”

Related Posts

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |
  • September 10, 2026

কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ – রুবি জেনারেল হাসপাতাল তার অস্ত্রোপচার পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটি তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৬টি নতুন মডুলার অপারেশন থিয়েটার (OT) সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি বিশেষভাবে নির্ধারিত ট্রান্সপ্লান্ট OT এবং ২টি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি OT। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালের পূর্ববর্তী ৫টি সুপার স্পেশালিটি OT-ও চালু থাকবে। ফলে জটিল ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করার হাসপাতালের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালটি দুটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছে— অর্থোপেডিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (TKR) রোবোটিক সার্জারি সিস্টেম এবং সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্বখ্যাত
দা ভিঞ্চি রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম ।এই যুগান্তকারী পরিকাঠামো ও রোবোটিক সিস্টেমগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাঃ কমল কুমার দত্ত (চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর), ডাঃ সৌরভ দত্ত (ডিরেক্টর) এবং মিসেস রুবি দত্ত (ডিরেক্টর)।

WhatsApp Image 2026 09 09 at 17.43.57

• ৬টি নতুন মডুলার OT : সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যামিনার এয়ারফ্লো সিস্টেম-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত।
• ২টি বিশেষায়িত ট্রান্সপ্লান্ট OT : জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত।
• ২টি রোবোটিক সার্জারি OT : উন্নত রোবোটিক আর্ম ও কনসোল ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি।
• ৫টি বিদ্যমান OT : নতুন ইউনিটগুলির পাশাপাশি এগুলিও চালু থাকবে। ফলে হাসপাতালের মোট অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত সার্জিক্যাল স্যুটের সংখ্যা দাঁড়াল ১১টি।

• দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেম : ন্যূনতম ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচার করতে সাহায্য করে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।• অর্থোপেডিক টি কে আর রোবোটিক সিস্টেম : টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সাব-মিলিমিটার পর্যায়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এর ফলে ইমপ্ল্যান্টের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং কৃত্রিম জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়িত্ব আরও উন্নত হয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসপাতালের CMD ডাঃ কমল কুমার দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্তরে তার সহজলভ্যতার মধ্যে থাকা ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত জানান, অপারেশন থিয়েটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয় রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে থাকার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ডিরেক্টর মিসেস রুবি দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ রুবি জেনারেল হাসপাতালের তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত স্বাস্থ্য পরিষেবায় উদ্ভাবন এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রতি প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।

প্রেস মিটে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুপরিচিত নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ প্রতীক দাস এবং খ্যাতনামা ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাঃ টি. কে. সাহা । উভয় চিকিৎসকই এই অঞ্চলে আধুনিক ও উন্নত ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং জানান যে রুবি জেনারেল হাসপাতালের নতুন পরিকাঠামো এই প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করছে।.বিশিষ্ট রোবোটিক সার্জনদের মধ্যে ডাঃ দেবার্চন ঘোষ (জেনারেল ও রোবোটিক সার্জন) এবং ডাঃ দীপাঞ্জন ভদ্র (অর্থোপেডিক্স ও রোবোটিক সার্জন)-ও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের সমন্বিত রোবোটিক সার্জারি দক্ষতা তুলে ধরা হয়।

হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অনকোলজি পরিষেবার কথা তুলে ধরে ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় , এমেরিটাস সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ডিরেক্টর, রুবি ক্যান্সার সেন্টার বলেন: “দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে রুবি ক্যান্সার সেন্টার আঞ্চলিক স্তরে প্রথম স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্র্যান্ড হিসেবে এই বিশ্বমানের রোবোটিক সিস্টেম নিয়ে এসেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মেডিক্যাল, সার্জিক্যাল, রেডিয়েশন, হেমাটো-অনকোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে Digital PET CT, অনকো-প্যাথলজি, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদ এবং প্রতিটি বিভাগে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সমস্ত ধরনের পরিষেবা রয়েছে।”নবনির্মিত মডুলার OT-গুলি শীঘ্রই চালু হবে এবং রোবোটিক সিস্টেমগুলি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর ও রোগী পরিষেবার জন্য উন্মুক্ত।পূর্ব ভারতে রোবোটিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা এবং অত্যাধুনিক ৬টি OT সংযোজন-সহ আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টার কথা আপনাদের সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আশাবাদী।

Continue reading
শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |
  • September 10, 2026

কলকাতা, সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষকাল ২০২৬ (National Eye Donation Fortnight)-এর অঙ্গ হিসেবে, দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক ‘ড্র ফর সাইট’ নামে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। স্কুল পড়ুয়াদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং চক্ষুদান ও দৃষ্টিশক্তি প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সংবেদনশীল করে তোলাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত দিশা আই হসপিটালস-এর প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।

WhatsApp Image 2026 09 10 at 09.20.14

এই উদ্যোগটি খুদে অংশগ্রহণকারীদের চক্ষুদান, দৃষ্টিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মাধ্যমে জীবনে যে পরিবর্তন আসে—তা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি সৃজনশীল মঞ্চ করে দেয়। শিল্পকলা ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি চক্ষুদান নিয়ে অর্থবহ আলোচনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালিয়েছে। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ ছিল: প্রথম বিভাগে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং দ্বিতীয় বিভাগে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরে এবং চক্ষুদান বিষয়ক বিষয়বস্তুকে (থিম) ফুটিয়ে তোলে।

দিশা আই হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “কাউকে দৃষ্টিশক্তি উপহার দেওয়া এবং পৃথিবীকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার অন্যতম অর্থবহ উপায় হলো চক্ষুদান। ‘ড্র ফর সাইট’-এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি এবং অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনে চক্ষুদান কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতে তাদের উৎসাহিত করতে চেয়েছি। এমন একটি অর্থবহ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পকলা এক শক্তিশালী ও ভাবপ্রকাশক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে চক্ষুদান বিষয়ক সচেতনতা প্রসারে এগিয়ে এসেছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় কলকাতার মোট ১৭টি স্কুলের ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে। দ্য নিউ টাউন স্কুল, লাইটিং লাইভস স্কুল, আইইএম (IEM) পাবলিক স্কুল, জি.ডি. গোয়েঙ্কা পাবলিক স্কুল, নারায়ণা স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (মেগাসিটি), হারমনি হাই স্কুল এবং লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস-সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও রঙিন চিত্রকর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে অংশ নেয়। ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি সৃজনশীলতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মতো জীবন-পরিবর্তনকারী উপহারের গুরুত্ব অনুধাবনে তরুণ প্রতিযোগীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |

শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |

শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |

পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বড় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, জানালেন পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার |

পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বড় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, জানালেন পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার |

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইরত শিশুদের সমর্থনে কলকাতায় নিয়ে আসছে এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬, ‘আশার সুর’। এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই একাদশ বার্ষিক কনসার্টটি এক দশকের প্রভাবকে চিহ্নিত করছে।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইরত শিশুদের সমর্থনে কলকাতায় নিয়ে আসছে এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬, ‘আশার সুর’। এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই একাদশ বার্ষিক কনসার্টটি এক দশকের প্রভাবকে চিহ্নিত করছে।

NATS প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ চাকরি পান, BOPT(ER) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

NATS প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ চাকরি পান, BOPT(ER) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তম কুমার কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মহানায়ক উত্তম কুমারের কালজয়ী স্মৃতির প্রতি এক বিশাল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ||

টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তম কুমার কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মহানায়ক উত্তম কুমারের কালজয়ী স্মৃতির প্রতি এক বিশাল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ||