পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

ভারতের ভূমি-মন্দির সংস্কৃতির ঐতিহ্য” আজকের এই অশান্ত ও অস্থির পৃথিবীতে প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক আনন্দ, পরিতৃপ্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির আলোয়-এই আন্তরিক প্রার্থনাই পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার মূল বার্তা। ইসকন কলকাতার উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মহোৎসবের রথের চাকা এগিয়ে চলেছে সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল, মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি, শান্তি ও আনন্দের প্রার্থনা নিয়ে। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর করুণাময় আশীর্বাদে এই রথযাত্রা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার সকল ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানবতার এক মহামিলনের আহ্বান জানায়।

কলকাতা রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত প্রকাশ, যেখানে মন্দির সংস্কৃতির পবিত্র ধারা রাজপথে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই উৎসব ভক্তি, সেবা, ঐক্য, সহমর্মিতা এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মতো ভারতের শাশ্বত মূল্যবোধকে ধারণ করে বিশ্ববাসীর সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

রথযাত্রা ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদকে মন্দিরের সীমানা অতিক্রম করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং প্রত্যেককে ভারতের জীবন্ত আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও ভক্তিময় জীবনধারার অংশীদার হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। সুসজ্জিত রথ, হরিনাম সংকীর্তন, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে কলকাতা রথযাত্রা বিশ্ববাসীর সামনে ভারতকে মন্দিরের ভূমি, চিরন্তন জ্ঞানের উৎস, সর্বজনীন প্রেম, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।

আজ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আবহ বিরাজ করছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা যেন মানবসভ্যতার মাথার ওপর ভাসমান। এমন এক সময়ে ইস্কন কলকাতা নিয়ে আসছে শান্তি, সম্প্রীতি, আশা ও মানবঐক্যের এক চিরন্তন বার্তা।

ইস্কন কলকাতার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক পঞ্চান্নতম বার্ষিক কলকাতা রথযাত্রা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বিশ্বমানবতার উদ্দেশ্যে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক আন্তরিক আহ্বান। গত বছর কলকাতার রাজপথে আমরা এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী ছিলাম। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথের সামনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভক্তরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৃত্য ও কীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দুই দেশের মানুষের সেই মিলন যেন এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেছিল-বিশ্বের অধিপতি জগন্নাথের সামনে জাতি, দেশ ও সীমান্তের সব বিভেদ মুছে যায়; আমরা সবাই এক বিশ্বপরিবারের সদস্য। গত বছর রথযাত্রার আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল রথের চাকার পরিবর্তন। বহু বছর ধরে ব্যবহৃত, বিখ্যাত বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে রথে সংযোজিত হয় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের চাকা। আকাশে যে
চাকা যুদ্ধের কঠিনতম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নির্মিত, সেই চাকা আজ ভগবান জগন্নাথের রথ বহন করছে-যুদ্ধের শক্তিকে শান্তির সেবায় উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রতীক হিসেবেই আমরা এই বার্তা তুলে ধরেছিলাম।এ বছর আমাদের আহ্বান আরও গভীর। মানুষের মন যতই অশান্ত হোক, যতই হতাশা, বিভেদ ও অনিশ্চয়তা ঘিরে থাকুক না কেন, রথযাত্রার প্রার্থনা, হরিনাম সংকীর্তন এবং ভগবান জগন্নাথের করুণায় প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক শান্তি, প্রশান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দে। কলকাতা রথযাত্রা আজ শুধু কলকাতার নয়, এটি এক বিশ্বউৎসব—যার স্পন্দন কলকাতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে।

বিশেষ আকর্ষণ এ বছরের পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের শুভ উপস্থিতি। তিনি ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের শুভ সূচনা করবেন। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে তিনি ভগবানের রথের সম্মুখভাগে প্রতীকী ‘ছেড়া পাহাড়া’ (Chera Pahara) সেবায় অংশগ্রহণ করে স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে পথ পরিশোধন করবেন। এরপর তাঁর হাতেই রথের প্রথম রশি টানার মাধ্যমে পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার শুভ সূচনা হবে।

এই শুভ অনুষ্ঠানে অসংখ্য ভক্ত, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কলকাতা আবারও ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের করুণা, শান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তায় মুখরিত হয়ে উঠবে।

আজ বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশে, ৪,০০০-এর বেশি স্থানে রথযাত্রা পালিত হচ্ছে, যা সম্ভব হয়েছে ইসকন-এর প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য, কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। তাঁর শৈশবে কলকাতার বড়বাজারে রথযাত্রা দেখেই জন্ম নিয়েছিল এই বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন। ১৯৬৭ সালের ৯ই জুলাই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আন্তর্জাতিক রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর ইচ্ছা ছিল, বিশ্বের প্রতিটি শহরে জগন্নাথের রথ পরিভ্রমণ করুক, আর মানুষ একত্রিত হোক ভক্তি ও শান্তির বন্ধনে। কলকাতার রথযাত্রা, যা পুরীর পরেই সবচেয়ে বড়, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষকে আকৃষ্ট করে, এবং গোটা শহর রঙ্গীন হয়ে ওঠে ভক্তি, আনন্দ আর উৎসবের রঙে।

ইসকন কলকাতা ৫৫তম রথযাত্রা ও উল্টো রথের শোভাযাত্রার সময়সূচি ও রুট শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ উদ্বোধনের সময়: দুপুর ১২টা শুরুর স্থান: ইসকন কলকাতা মন্দির, ৩জি, আলবার্ট রোেড, কলকাতা রুট: ইসকন কলকাতা মন্দির > হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট এ.জে.সি. বোস রোড শরৎ বসু রোড → হাজরা রোড → শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (এস.পি. মুখার্জি) রোেড এক্সাইড ক্রসিং জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → আউটরাম রোেড ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।

উল্টো রথ (বাহুড়া যাত্রা) তারিখ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ সময়: দুপুর ১২:০০টা থেকে শুরুর স্থান: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড (আউটরাম রোেড, পার্ক স্ট্রিট মেট্রো সংলগ্ন) রুট: ব্রিগেড
প্যারেড গ্রাউন্ড আউটরাম রোেড জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → এসপ্ল্যানেড ক্রসিং এ.জে.সি. বোস রোড রোড → পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং স্ট্রিট ইসকন কলকাতা মন্দির। মৌলালি ক্রসিং ফিলিপ্স মোেড় আনন্দ পালিত সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ হাঙ্গারফোর্ড

রথযাত্রার বিশেষত্ব যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশেছে আধুনিক প্রযুক্তি ইসকন কলকাতার রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সার্থক সমন্বয়। তিনটি রথই ঐতিহ্যবাহী নকশা বজায় রেখে আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত, যাতে কলকাতার ব্যস্ত নগরপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করা যায়। শ্রীশ্রী

জগন্নাথদেবের রথ উচ্চতা: ৩৮ ফুট।কলকাতার সংকীর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সুবিধার্থে ভাঁজ করা যায় এমন ছাউনি (Foldable Canopy) সংযোজিত।গত বছর রথে সংযোজিত হয়েছে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী চাকা, যা ১৯৭৭ সাল থেকে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে স্থাপন করা হয়েছে। শ্রীশ্রী সুভদ্রা দেবীর রথ তিনটি রথের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট। ভাঁজ করা যায় এমন নকশা এবং মজবুত লোহার চাকার সমন্বয়ে নির্মিত।

শ্রীশ্রী বলরামজীর রথ

উচ্চতা: ৩৬ ফুট।চারটি প্রায় সাড়ে চার ফুট ব্যাসের শক্তিশালী লোহার চাকা রথটিকে অধিক স্থিতিশীল ও দৃঢ়তা প্রদান করে।রথের সামনে দক্ষ দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পীরা তৈরি করবেন মনোমুগ্ধকর রঙ্গোলী বা রাস্তার আলপনা, প্রাকৃতিক রঙের আবীর ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংকীর্তন শিল্পীরা, ডজন খানেক মৃদঙ্গ ও করতালের সঙ্গে, গর্জন তুলবেন কীর্তনের। শিশুদের ঝাঁকি, প্রসাদ বিতরণ বাস, আর লক্ষ লক্ষ ভক্তের আনন্দঘন উপস্থিতিতে কলকাতা রূপ নেবে এক বিশাল আধ্যাত্মিক মেলার।

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জগন্নাথ মহামেলা ১৭ জুলাই (শুক্রবার) থেকে ২৩ জুলাই

Related Posts

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |
  • October 9, 2026

কলকাতা, ৭ অক্টোবর ২০২৬:দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন একাধিক যাত্রীকেন্দ্রিক পরিচালনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দৈনন্দিন শহরতলির যাতায়াতকে আরও দ্রুত, সুবিধাজনক ও আরামদায়ক করে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিষেবা এবং নতুন স্টপেজ। এর ফলে শহরতলির বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবে।

  • শান্তিপুর–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনে পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি:
    দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক যাতায়াতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর (STB) ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা ১ জোড়া থেকে বাড়িয়ে ২ জোড়া করা হয়েছে। সকালের UP ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ০৯:৩৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:০৭ ঘণ্টায় কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে পৌঁছাবে। ফেরার DN ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ১০:১৭ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:৪৩ ঘণ্টায় শান্তিপুরে পৌঁছাবে। এর ফলে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং স্থানীয় যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।
  • শিয়ালদহ–বজবজের মধ্যে গভীর রাতে ইএমইউ পরিষেবা:
    দেরিতে কর্মস্থল থেকে ফেরা কর্মীদের সুবিধার্থে শিয়ালদহ ডিভিশন পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ (SEALDAH) ও কমাগাটা মারু বজবজ (KBGB)-এর মধ্যে গভীর রাতে একটি শহরতলির পরিষেবা চালু করেছে। DN ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে ২২:৫৫ ঘণ্টায় ছেড়ে ২৩:৪৩ ঘণ্টায় বজবজ পৌঁছাবে। ফেরার UP ট্রেনটি বজবজ থেকে ২৩:৫৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ০০:৪৮ ঘণ্টায় শিয়ালদহে পৌঁছাবে। এর ফলে রাতের শেষভাগেও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য শহরতলির রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
  • বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ:
    শহরতলির যাত্রীদের আরও আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ করে দিতে শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনের বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ লোকালের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক পরিষেবা (রবিবার ব্যতীত): ট্রেন নং ৩১৮৪৫ UP (শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১১:৫৩/১১:৫৪ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৬ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশন–শিয়ালদহ) ১৩:৪০/১৩:৪১ ঘণ্টায় থামবে।

রবিবারের বিশেষ সময়সূচি: ট্রেন নং ৩১৮৪৭ UP (শিয়ালদহ–কৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১৩:৫৯/১৪:০০ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৮ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশন–শিয়ালদহ) ১৬:১৫/১৬:১৬ ঘণ্টায় থামবে।

এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহের DRM শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, “পরিষেবার এই সংযোজনগুলি—শহরতলির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, বজবজ সেকশনে নির্দিষ্ট গভীর রাতের যোগাযোগ এবং বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ—দৈনন্দিন যাত্রীদের পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকলের জন্য রেলযাত্রাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক করে তুলতে শিয়ালদহ ডিভিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

Continue reading
‘মাই ভারত’ কলকাতা দক্ষিণ আয়োজন করল ‘নেশা মুক্ত যুবা ফর বিকশিত ভারত সংকল্প সমারোহ’|
  • September 28, 2026


কলকাতা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘মাই ভারত’ (MY Bharat) কলকাতা দক্ষিণ শাখা, ২০শে সেপ্টেম্বর বেহালার বরিষা আসর বিদ্যাপীঠে ‘নেশা মুক্ত যুবা ফর বিকশিত ভারত অভিযান’-এর ১০০-সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির সূচনা উপলক্ষে নেশা মুক্ত যুবা ফর বিকশিত ভারত সংকল্প সমারোহ’-এর আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক শ্রী শঙ্কর শিকদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ‘মাই ভারত’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কাঞ্চন কুমারী, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শ্রী দেবব্রত বিশ্বাস এবং এনসিসি (NCC) প্রোগ্রাম অফিসার সন্দীপ কুমার মাহাতো।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক-মুক্ত ভারত গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানে সেমিনার, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, পথনাটিকা (Nukkad Natak), স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান এবং স্লোগান লেখার মতো বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছিল।সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় বেহালা পূর্বের বিধায়ক শ্রী শঙ্কর শিকদার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে যুবসমাজই হলো দেশের মেরুদণ্ড। তিনি তরুণদের মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার এবং একটি সুস্থ ও মাদক-মুক্ত সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

WhatsApp Image 2026 09 28 at 21.32.34 (1)

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক এবং মাদক-মুক্ত ভারতের দূত হয়ে ওঠার জন্য উৎসাহিত করেন।‘মাই ভারত’-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কাঞ্চন কুমারী জোর দিয়ে বলেন যে, এই ১০০-সপ্তাহব্যাপী অভিযানের লক্ষ্য হলো যুবসমাজের সচেতনতাকে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক কার্যক্রমে রূপান্তর করা। তিনি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান যেখানে তরুণরা তাদের স্বপ্ন পূরণে, প্রতিভার বিকাশে, খেলাধুলা ও সমাজসেবায় অংশগ্রহণে এবং সুস্থ জীবনযাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণে একে অপরকে সহায়তা করতে উৎসাহিত হয়।

‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদক-মুক্ত সমাজ গঠনে অবদানের সম্মিলিত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

হলিডে ইন কলকাতা এয়ারপোর্টে ৭.৫ ফুটের চকলেট দুর্গা প্রতিমার আবরণ উন্মোচন করলেন মিঠুন চক্রবর্তী |

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল এবং ইন্ডিয়ান অর্থোপেডিক রিউম্যাটোলজি অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি অর্থো রিউম্যাটোলজি দিবস উদযাপন করে।

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |

পুজোর প্রাক্কালে অতিরিক্ত পরিষেবা ও এসি ইএমইউ-র নতুন স্টপেজের মাধ্যমে শহরতলির রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করল শিয়ালদহ ডিভিশন |

ডানকুনিতে ওয়্যারহাউস প্রকল্পে ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা অলকার্গো লজিস্টিক্সের |

ডানকুনিতে ওয়্যারহাউস প্রকল্পে ₹১,০০০ কোটি বিনিয়োগের ঘোষণা অলকার্গো লজিস্টিক্সের |

নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |

নিজেই হোন আপনার দুর্গাতিনাশিনী: এই স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস নারীদের স্তন স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানাচ্ছে |

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কালিকাপুর আগুয়ান সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে সঙ্ঘের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বৃক্ষ রোপণ উৎসব ও সিপিআর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারাশনের ডাকে ক্যালকাটা কার্ডিওলজি ফাউন্ডেশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ ও কালিকাপুর আগুয়ান সঙ্ঘের যৌথ উদ্যোগে সঙ্ঘের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বৃক্ষ রোপণ উৎসব ও সিপিআর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।