পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা “পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রা সকলের হৃদয়ে আনন্দ, করুণা ও শান্তির বার্তা বয়ে আনুক।

ভারতের ভূমি-মন্দির সংস্কৃতির ঐতিহ্য” আজকের এই অশান্ত ও অস্থির পৃথিবীতে প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক আনন্দ, পরিতৃপ্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তির আলোয়-এই আন্তরিক প্রার্থনাই পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার মূল বার্তা। ইসকন কলকাতার উদ্যোগে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মহোৎসবের রথের চাকা এগিয়ে চলেছে সমগ্র বিশ্বের মঙ্গল, মানবকল্যাণ, সম্প্রীতি, শান্তি ও আনন্দের প্রার্থনা নিয়ে। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর করুণাময় আশীর্বাদে এই রথযাত্রা জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার সকল ভেদাভেদ অতিক্রম করে মানবতার এক মহামিলনের আহ্বান জানায়।

কলকাতা রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত প্রকাশ, যেখানে মন্দির সংস্কৃতির পবিত্র ধারা রাজপথে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই উৎসব ভক্তি, সেবা, ঐক্য, সহমর্মিতা এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মতো ভারতের শাশ্বত মূল্যবোধকে ধারণ করে বিশ্ববাসীর সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

রথযাত্রা ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদকে মন্দিরের সীমানা অতিক্রম করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং প্রত্যেককে ভারতের জীবন্ত আধ্যাত্মিক সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও ভক্তিময় জীবনধারার অংশীদার হওয়ার আন্তরিক আহ্বান জানায়। সুসজ্জিত রথ, হরিনাম সংকীর্তন, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে কলকাতা রথযাত্রা বিশ্ববাসীর সামনে ভারতকে মন্দিরের ভূমি, চিরন্তন জ্ঞানের উৎস, সর্বজনীন প্রেম, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।

আজ বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আবহ বিরাজ করছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা যেন মানবসভ্যতার মাথার ওপর ভাসমান। এমন এক সময়ে ইস্কন কলকাতা নিয়ে আসছে শান্তি, সম্প্রীতি, আশা ও মানবঐক্যের এক চিরন্তন বার্তা।

ইস্কন কলকাতার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহাসিক পঞ্চান্নতম বার্ষিক কলকাতা রথযাত্রা। এটি শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বিশ্বমানবতার উদ্দেশ্যে শান্তি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের এক আন্তরিক আহ্বান। গত বছর কলকাতার রাজপথে আমরা এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী ছিলাম। ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথের সামনে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ভক্তরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৃত্য ও কীর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দুই দেশের মানুষের সেই মিলন যেন এই সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করেছিল-বিশ্বের অধিপতি জগন্নাথের সামনে জাতি, দেশ ও সীমান্তের সব বিভেদ মুছে যায়; আমরা সবাই এক বিশ্বপরিবারের সদস্য। গত বছর রথযাত্রার আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল রথের চাকার পরিবর্তন। বহু বছর ধরে ব্যবহৃত, বিখ্যাত বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে রথে সংযোজিত হয় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের চাকা। আকাশে যে
চাকা যুদ্ধের কঠিনতম পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নির্মিত, সেই চাকা আজ ভগবান জগন্নাথের রথ বহন করছে-যুদ্ধের শক্তিকে শান্তির সেবায় উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রতীক হিসেবেই আমরা এই বার্তা তুলে ধরেছিলাম।এ বছর আমাদের আহ্বান আরও গভীর। মানুষের মন যতই অশান্ত হোক, যতই হতাশা, বিভেদ ও অনিশ্চয়তা ঘিরে থাকুক না কেন, রথযাত্রার প্রার্থনা, হরিনাম সংকীর্তন এবং ভগবান জগন্নাথের করুণায় প্রতিটি হৃদয় ভরে উঠুক শান্তি, প্রশান্তি, সম্প্রীতি ও আনন্দে। কলকাতা রথযাত্রা আজ শুধু কলকাতার নয়, এটি এক বিশ্বউৎসব—যার স্পন্দন কলকাতা থেকে ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে।

বিশেষ আকর্ষণ এ বছরের পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের শুভ উপস্থিতি। তিনি ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের শুভ সূচনা করবেন। ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে তিনি ভগবানের রথের সম্মুখভাগে প্রতীকী ‘ছেড়া পাহাড়া’ (Chera Pahara) সেবায় অংশগ্রহণ করে স্বর্ণঝাড়ু দিয়ে পথ পরিশোধন করবেন। এরপর তাঁর হাতেই রথের প্রথম রশি টানার মাধ্যমে পঞ্চান্নতম কলকাতা রথযাত্রার শুভ সূচনা হবে।

এই শুভ অনুষ্ঠানে অসংখ্য ভক্ত, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কলকাতা আবারও ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের করুণা, শান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তায় মুখরিত হয়ে উঠবে।

আজ বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশে, ৪,০০০-এর বেশি স্থানে রথযাত্রা পালিত হচ্ছে, যা সম্ভব হয়েছে ইসকন-এর প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য, কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়। তাঁর শৈশবে কলকাতার বড়বাজারে রথযাত্রা দেখেই জন্ম নিয়েছিল এই বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন। ১৯৬৭ সালের ৯ই জুলাই আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আন্তর্জাতিক রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর ইচ্ছা ছিল, বিশ্বের প্রতিটি শহরে জগন্নাথের রথ পরিভ্রমণ করুক, আর মানুষ একত্রিত হোক ভক্তি ও শান্তির বন্ধনে। কলকাতার রথযাত্রা, যা পুরীর পরেই সবচেয়ে বড়, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষকে আকৃষ্ট করে, এবং গোটা শহর রঙ্গীন হয়ে ওঠে ভক্তি, আনন্দ আর উৎসবের রঙে।

ইসকন কলকাতা ৫৫তম রথযাত্রা ও উল্টো রথের শোভাযাত্রার সময়সূচি ও রুট শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ উদ্বোধনের সময়: দুপুর ১২টা শুরুর স্থান: ইসকন কলকাতা মন্দির, ৩জি, আলবার্ট রোেড, কলকাতা রুট: ইসকন কলকাতা মন্দির > হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিট এ.জে.সি. বোস রোড শরৎ বসু রোড → হাজরা রোড → শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি (এস.পি. মুখার্জি) রোেড এক্সাইড ক্রসিং জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → আউটরাম রোেড ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড।

উল্টো রথ (বাহুড়া যাত্রা) তারিখ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ সময়: দুপুর ১২:০০টা থেকে শুরুর স্থান: ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড (আউটরাম রোেড, পার্ক স্ট্রিট মেট্রো সংলগ্ন) রুট: ব্রিগেড
প্যারেড গ্রাউন্ড আউটরাম রোেড জওহরলাল নেহেরু (জে.এল. নেহেরু) রোড → এসপ্ল্যানেড ক্রসিং এ.জে.সি. বোস রোড রোড → পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিং স্ট্রিট ইসকন কলকাতা মন্দির। মৌলালি ক্রসিং ফিলিপ্স মোেড় আনন্দ পালিত সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ হাঙ্গারফোর্ড

রথযাত্রার বিশেষত্ব যেখানে ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশেছে আধুনিক প্রযুক্তি ইসকন কলকাতার রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সার্থক সমন্বয়। তিনটি রথই ঐতিহ্যবাহী নকশা বজায় রেখে আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মিত, যাতে কলকাতার ব্যস্ত নগরপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে শোভাযাত্রা সম্পন্ন করা যায়। শ্রীশ্রী

জগন্নাথদেবের রথ উচ্চতা: ৩৮ ফুট।কলকাতার সংকীর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তায় চলাচলের সুবিধার্থে ভাঁজ করা যায় এমন ছাউনি (Foldable Canopy) সংযোজিত।গত বছর রথে সংযোজিত হয়েছে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের শক্তিশালী চাকা, যা ১৯৭৭ সাল থেকে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক বোয়িং ৭৪৭ বিমানের চাকার পরিবর্তে স্থাপন করা হয়েছে। শ্রীশ্রী সুভদ্রা দেবীর রথ তিনটি রথের মধ্যে আকারে সবচেয়ে ছোট। ভাঁজ করা যায় এমন নকশা এবং মজবুত লোহার চাকার সমন্বয়ে নির্মিত।

শ্রীশ্রী বলরামজীর রথ

উচ্চতা: ৩৬ ফুট।চারটি প্রায় সাড়ে চার ফুট ব্যাসের শক্তিশালী লোহার চাকা রথটিকে অধিক স্থিতিশীল ও দৃঢ়তা প্রদান করে।রথের সামনে দক্ষ দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পীরা তৈরি করবেন মনোমুগ্ধকর রঙ্গোলী বা রাস্তার আলপনা, প্রাকৃতিক রঙের আবীর ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংকীর্তন শিল্পীরা, ডজন খানেক মৃদঙ্গ ও করতালের সঙ্গে, গর্জন তুলবেন কীর্তনের। শিশুদের ঝাঁকি, প্রসাদ বিতরণ বাস, আর লক্ষ লক্ষ ভক্তের আনন্দঘন উপস্থিতিতে কলকাতা রূপ নেবে এক বিশাল আধ্যাত্মিক মেলার।

ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জগন্নাথ মহামেলা ১৭ জুলাই (শুক্রবার) থেকে ২৩ জুলাই

Related Posts

গ্রামীণ শিক্ষার পুনর্কল্পনা: পরিবর্ধনযোগ্য এনইপি ২০২০ বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করতে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপালের ‘হেল্প আস হেল্প দেম’ (HUHT)-এর অধিগম ভূমি পরিদর্শন।
  • August 11, 2026

কলকাতা, ৮ই আগস্ট, ২০২৫: সমগ্র অঞ্চলে গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বড় উদ্যোগের অংশ হিসেবে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী আর. এন. রবি অলাভজনক সংস্থা ‘হেল্প আস হেল্প দেম’ (HUHT) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ফ্ল্যাগশিপ আবাসিক সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ‘অধিগম ভূমি’ পরিদর্শন করেছেন। এই পরিদর্শনে একটি উদ্ভাবনী ও পরীক্ষিত মডেলের উপর আলোকপাত করা হয়, যা জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করে এবং ‘বিক্ষুব্ধ ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে মূলধারার প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের সাথে গ্রামীণ ব্যবহারিক দক্ষতার সংযোগ স্থাপন করে।

মাননীয় রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ১,০০০ আদিবাসী ও গ্রামীণ ছাত্রীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন, যারা শতভাগ বিনামূল্যে আবাসিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। এছাড়াও তিনি তাদের অভিভাবকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। রাজ্যপাল শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত সরাসরি শিক্ষাকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন, যেখানে রুটি (কৃষি), কাপড়া (বস্ত্রশিল্প) এবং মাকান (গ্রামীণ স্থাপত্য) কাঠামোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি এবং উদ্যোক্তা বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ১৮টি সমন্বিত দক্ষতার ক্ষেত্র প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে দেখানো হয়, কীভাবে গণিত, বিজ্ঞান এবং ভাষার মতো মূল বিষয়গুলির সাথে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

DSC

একটি স্বতন্ত্র আবাসিক ক্যাম্পাস হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি, অধিগম ভূমি একটি শিক্ষামূলক পরীক্ষাগার হিসেবে কাজ করে যা পদ্ধতিগত সম্প্রসারণের জন্য পরিকল্পিত। ‘হেল্প আস হেল্প দেম’-এর ‘আপনি মিট্টি সে জুড়ি শিক্ষা’ শীর্ষক প্রাসঙ্গিক শিক্ষণ পদ্ধতিটি তার ‘১০০ স্কুল প্রকল্প’ (অধিগম গ্রাম শিক্ষা অভিযান)-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ব্যাপকতার প্রমাণ দিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গের স্বল্প খরচের বেসরকারি স্কুলগুলিতে ১০,০০০-এরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে প্রভাবিত করেছে।এর ব্যাপক প্রচলনকে সমর্থন করার জন্য, হেল্প আস হেল্প দেম (HUHT) একটি পূর্ণাঙ্গ ও সহজে প্রয়োগযোগ্য বাস্তবায়ন প্যাকেজ তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নির্দেশিকা, শিক্ষার্থী সহায়িকা, মূল্যায়ন সরঞ্জাম এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন না করেই বিদ্যমান রাজ্য বোর্ডের পাঠ্যসূচিতে নির্বিঘ্নে একীভূত হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, মুক্তি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হেল্প আস হেল্প দেম (HUHT)-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমতি মুক্তি গুপ্তা বলেন: “আমাদের ‘আপনি মাটি থেকে জোড়ি শিক্ষা’র মূল দর্শনের লক্ষ্য হলো, শিশুদের আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষা প্রদান করা। প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের সাথে ব্যবহারিক, হাতে-কলমে শিক্ষাকে একীভূত করে আমরা এমন একটি সম্প্রসারণযোগ্য পরিমণ্ডল তৈরি করছি যা গ্রামীণ উদ্ভাবন এবং আত্মনির্ভরশীলতাকে উৎসাহিত করে। এই শিশুরা গ্রামীণ উদ্যোক্তা হিসেবে বেড়ে উঠবে, যারা তাদের গ্রাম ও সম্প্রদায়ে ফিরে গিয়ে উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করবে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিশেষে ‘বিক্ষুব্ধ ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দক্ষতা-কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা শিশুদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে সুযোগ সৃষ্টিকারী হিসেবে ক্ষমতায়ন করার মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতকে রূপান্তরিত করতে পারে।”

DSC

যেহেতু জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ আগামী দশকে দক্ষতা-সমন্বিত শিক্ষার উপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেছে, তাই হেল্প আস হেল্প দেম (HUHT) এখন এর কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ের সাথেই কাজ করতে চায়। গ্রামীণ ভারত জুড়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ স্কুলসহ ১২ লক্ষেরও বেশি সরকারি স্কুল থাকায়, সংস্থাটি এই মডেলটিকে আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রীয় স্তরের প্রচার, রাজ্য স্তরের অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় অলাভজনক সংস্থাগুলির সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। হেল্প আস হেল্প দেম (HUHT) ইতোমধ্যে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করেছে, যা তারা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তায় দেশজুড়ে সরকারি স্কুলগুলিতে প্রাসঙ্গিক ও দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয় সহজতর করার জন্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে চায়।২০৩১ সালের মধ্যে ভারতজুড়ে গ্রামীণ সরকারি বিদ্যালয়গুলোকে শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে, রাজ্য নেতৃত্বের সাথে HUHT-এর এই সম্পৃক্ততা সুশীল সমাজ ও সরকারের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করতে এবং দেশব্যাপী NEP 2020-এর বাস্তবায়নকে সমর্থন করার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। তৃণমূল স্তরের শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষার অগ্রাধিকারের সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে, এই উদ্যোগটি এমন স্বনির্ভর শিক্ষার্থী, গ্রামীণ উদ্যোক্তা এবং ভবিষ্যৎ সমাজনেতা তৈরি করতে চায়, যারা গ্রামীণ ভারতে টেকসই উন্নয়নকে চালনা করতে সক্ষম।

Continue reading
আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের নতুন পরিচয়ের সূচনা
  • July 29, 2026

সার্বিক সুস্থতা, যোগ ও ধ্যানের ক্ষেত্রে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কর্মরত প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশন এখন ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রকের PrCB হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
PrCB হলো একটি স্বীকৃত কর্মী শংসাপত্র প্রদানকারী সংস্থা (Accredited Personnel Certification Body)।
এই স্বীকৃতির ঘোষণাটি ২৭শে জুলাই কলকাতার প্রেস ক্লাবে করা হয়।
প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশনের সিইও শ্রী চন্দন আগরওয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণাটি করেন।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত যোগাচার্য ডঃ সুরেশ কুমার আগরওয়ালের প্রদর্শনে শ্রী সনাতনী ক্রিয়ার উপর একটি সংক্ষিপ্ত অধিবেশন ছিল।

WhatsApp Image 2026 07 29 at 20.46.01 (1)

মানসিক সুস্থতা বিষয়ক উদ্যোগে ধারাবাহিক উৎকর্ষতার জন্য প্রজ্ঞান ফাউন্ডেশন এবং ডঃ সুরেশ আগরওয়াল একটি বিশেষ স্বীকৃতিও লাভ করেন। লায়ন্স ক্লাব অফ কলকাতা ম্যাগনেটস, হ্যালো কলকাতা নিউজ-মিডিয়া এবং রোটারি ক্লাব অফ কসবা-র কর্মকর্তারা পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করেন।
সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার আশীষ বসাক, যিনি হ্যালো কলকাতা-র সম্পাদক-পরিচালক এবং লায়ন্স ম্যাগনেটস ও রোটারি কসবা-র ম্যানেজিং ট্রাস্টি, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের ঘোষণা; মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানে সাজবে কলকাতা |

উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের ঘোষণা; মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ অনুষ্ঠানে সাজবে কলকাতা |

GNIT-এর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ‘প্রবেশ উৎসব ২০২৬’-এ নতুন ব্যাচকে স্বাগত |

GNIT-এর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ‘প্রবেশ উৎসব ২০২৬’-এ নতুন ব্যাচকে স্বাগত |

হাওড়ায় আয়শার ট্রাকস এন্ড বাসেসে Eicher Pro – X এর নতুন ডিলারশিপের উদ্বোধন।

হাওড়ায় আয়শার ট্রাকস এন্ড বাসেসে  Eicher Pro – X এর নতুন ডিলারশিপের উদ্বোধন।

গ্রামীণ শিক্ষার পুনর্কল্পনা: পরিবর্ধনযোগ্য এনইপি ২০২০ বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করতে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপালের ‘হেল্প আস হেল্প দেম’ (HUHT)-এর অধিগম ভূমি পরিদর্শন।

গ্রামীণ শিক্ষার পুনর্কল্পনা: পরিবর্ধনযোগ্য এনইপি ২০২০ বাস্তবায়ন প্রত্যক্ষ করতে পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপালের ‘হেল্প আস হেল্প দেম’ (HUHT)-এর অধিগম ভূমি পরিদর্শন।

মণিপালহাসপাতালমুকুন্দপুরেরনিউরোসায়েন্সেসকনক্লেভেসমন্বিতস্নায়ুচিকিৎসারভবিষ্যৎনিয়েআলোচনা |

মণিপালহাসপাতালমুকুন্দপুরেরনিউরোসায়েন্সেসকনক্লেভেসমন্বিতস্নায়ুচিকিৎসারভবিষ্যৎনিয়েআলোচনা |

ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্বচ্ছতা ও শিল্পখাতের সহযোগিতার ওপর মন্ত্রীর গুরুত্বারোপ |

ভবিষ্যৎ-উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল রূপান্তর, স্বচ্ছতা ও শিল্পখাতের সহযোগিতার ওপর মন্ত্রীর গুরুত্বারোপ |