দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির ও ‘সংস্কৃত সংস্কৃতিক সন্ধ্যা’।


কলকাতা : ২৪ মে শনিবার – আয়োজক সংস্কৃত ভারতী, (দক্ষিণবঙ্গ) ও বিবেকানন্দ দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের ও কার্যক্রম উপলক্ষে ‘সংস্কৃত সংস্কৃতিক সন্ধ্যা’যোগ অনুসন্ধান সংস্থান (কলকাতা)। সহায়ক-হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্।

সংস্কৃত হল ভারতীয় সংস্কৃতির মূল। বিশ্বের প্রায় সব ভাষার জননী হল সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃত ভাষার প্রচার এবং প্রসারের উদ্দেশ্যে সংস্কৃত ভারতী নিরন্তর কাজ করে চলেছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের তথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংস্কৃত ভারতের বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। সংস্কৃত ভারতের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে অন্যতম হল নিঃশুল্ক দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবির। মাত্র ১০ দিন ২ ঘন্টা করে সময় দিয়ে সাধারণ মানুষ এই শিবিরে অংশগ্রহণ করে সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে পারেন। সংস্কৃত ভারতী (দক্ষিণবঙ্গ) ও বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থানের (কলকাতা) যৌথ উদ্যোগে গত ১০ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত একটি দশ দিবসীয় সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী এই শিবিরে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। শিবিরের সবার হোক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে একটি সংস্কৃত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার পরিকল্পনা করা হয়। এই বিষয়ে স্থান প্রদান করে এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য করে অনুষ্ঠানটিকে বাস্তবায়িত হতে সাহায্য করে হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্ । ২৪ শে মে ২০২৫ বিকেল সাড়ে চারটে থেকে হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্-এর স্বামী বিবেকানন্দ সভাগৃহে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে ছিল বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, সরস্বতী বন্দনা, সংস্কৃত নাটক, সংস্কৃত সম্ভাষণ প্রদর্শন, লঘু নাটিকা, সুভাষিত ও গীতাশ্লোক ইত্যাদি। সর্বোপরি সংস্কৃত গীতের সঙ্গে সংস্কৃত নৃত্য ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণীয় বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বার সংস্কৃত সংগীত ও সংস্কৃত নৃত্য বাদ্যযন্ত্র সহযোগে একসঙ্গে মঞ্চে সাক্ষাৎ প্রদর্শিত হয়। বৈদিক যুগের সঙ্গীত কেমন ছিল তার একটি ক্ষুদ্র প্রতিরূপ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। সঙ্গীতের গবেষণামূলক এই বিষয়টি যাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তিনি হলেন প্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ আচার্য সঞ্জয় চক্রবর্তী। মহাশয়ও দশ দিন নিয়মিত সংস্কৃত সম্ভাষণ শিবিরের অংশগ্রহণ করে সংস্কৃত সঙ্গীতকে নতুন রূপদান করার প্রচেষ্টা করেন। বিভিন্ন সংস্কৃত সংগীতকে নতুন করে সুর প্রদান করে এবং রবীন্দ্র সংগীতকেও নতুন করে সংস্কৃত ভাষায় উপস্থাপন করে অনুষ্ঠানটিকে অন্য মাত্রা প্রদান করেন। ভারতীয় আদি শাস্ত্রীয় সংস্কৃত সংগীতকে নতুন করে তুলে ধরার এটি ছিল একটি অনন্য প্রয়াস। এছাড়াও আচার্য সঞ্জয় মহাশয় নিজে বন্দেমাতরম সংগীতের সঙ্গে চিত্রাবীণা বাজিয়ে দর্শকদের সম্মোহিত করেন। সংস্কৃত নৃত্য কেমন হওয়া উচিত তার নিদর্শন দর্শকদের কাছে উপস্থাপিত করেন শ্রী প্রদ্যুৎ কুমার দত্ত (অধ্যাপক, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, নৃত্য বিভাগ) মহাশয়। প্রদ্যুৎ মহাশয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা সংস্কৃত সংগীতের সঙ্গে মঞ্চে সংস্কৃত নৃত্য উপস্থাপিত করেন, যা অনুষ্ঠানটিকে একটি অন্যত্র প্রদান করে। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিকে সংস্কৃত ভাষায় পরিচালনা করেন বিশিষ্ট গায়িকা শ্রীমতি রেশমি চক্রবর্তী। সংস্কৃত ভাষায়ও যে এত সুন্দর অনুষ্ঠান পরিচালনা হতে পারে তার একটি নিদর্শন মহাশয়া তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেক প্রসিদ্ধ গায়ক-গায়িকা উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা মাত্র ১০ দিন শিবিরে অংশগ্রহণ করে অনন্য সংস্কৃত সংগীত উপস্থাপিত করেন। ৮ বছর বয়সের শিশু থেকে ৭৮ বছর বয়সের প্রবীণ ব্যক্তিও সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বিষয় উপস্থাপিত করেন। এ ছাড়াও সর্বতোভাবে অনুষ্ঠানটি সফল হতে সাহায্য করেন শ্রী প্রদীপ আগরওয়াল (সি.ই.ও, হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনস্) এবং ড. অভিজিৎ ঘোষ (অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থান,কলকাতা)। এই অনুষ্ঠানের সংস্কৃত ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে নিঃশুল্ক দশ দিবসীয় সংস্কৃত শিবিরের আয়োজন করার পরিকল্পনা চলছে। আশা করি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টিকে সাদরে গ্রহণ করবেন। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও রূপদান করছেন এবং ১০ দিনের শিবিরে শিক্ষক রূপে পাঠদান করেছেন আচার্য অনুভব হাজরা ( বিভাগীয় প্রধান, সংস্কৃত বিভাগ, বিবেকানন্দ যোগ অনুসন্ধান সংস্থান কলকাতা এবং কার্যকর্তা, সংস্কৃত ভারতী দক্ষিণবঙ্গ)।

  • Related Posts

    রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল তার কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে।
    • June 17, 2026

    কলকাতা, ১৬ জুন ২০২৬: সিকে বিড়লা হসপিটালস – বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল, কলকাতা, রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালু করার মাধ্যমে উন্নত ও জটিল হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। হাসপাতালের নেতৃত্ব, কার্ডিয়াক সার্জারি দল এবং সম্প্রতি এই পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যাওয়া রোগীদের উপস্থিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণাটি করা হয়। গত দশকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হয়েছে, যার মধ্যে রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত পদ্ধতিগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক হৃদরোগ চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারির বিপরীতে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে করা হয়, যেখানে সার্জন-নিয়ন্ত্রিত রোবটিক যন্ত্র এবং হাই-ডেফিনিশন ত্রিমাত্রিক ভিজ্যুয়ালাইজেশন ব্যবহার করা হয়। রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য সুবিধার কারণে বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি ক্রমবর্ধমানভাবে গৃহীত হচ্ছে। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বুকে বড় ছিদ্র এড়িয়ে, রোবটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি অস্ত্রোপচারের আঘাত কমাতে, রক্তক্ষরণ কমাতে, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা কমাতে, ক্ষত-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস করতে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত অস্ত্রোপচার পদ্ধতির তুলনায় রোগীরা প্রায়শই হাসপাতালে কম সময় থাকেন এবং দ্রুত তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কার্যকলাপে ফিরে আসতে পারেন। সার্জনদের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই প্রযুক্তি উন্নত নির্ভুলতা এবং দক্ষতা প্রদান করে, যা তাদের সীমিত স্থানেও ব্যতিক্রমী নির্ভুলতার সাথে অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম করে।

    20260616

    বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ সৌম্য গুহ, যিনি রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জিক্যাল পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন, তিনি বলেন, “রোবোটিক সহায়তার মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগতভাবে যা অর্জনযোগ্য, তার পরিবর্তন এনে দেয়, বিশেষ করে সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরস্থান জটিল এবং উপলব্ধ স্থান সীমিত। এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়া কেসগুলোতে, ফলাফলগুলো এই প্রযুক্তি যা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং রোগীর আরোগ্য লাভের অভিজ্ঞতা প্রচলিত অস্ত্রোপচারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন।”বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের পরিচালক ডঃ মনোজ দাগা বলেন, “পূর্ব ভারতে হৃদরোগের প্রকোপ অনেক বেশি, এবং ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের রোগীদের উন্নত সার্জিক্যাল পরিকাঠামো প্রয়োজন এমন চিকিৎসার জন্য অনেক দূর ভ্রমণ করতে হতো। আমাদের কার্যক্রমে রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারি যুক্ত হওয়ার অর্থ হলো, সেই মানের চিকিৎসা এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি সমন্বিত কার্ডিয়াক সার্জারি কার্যক্রম গড়ে তোলা, যা সবচেয়ে জটিল কেসগুলোও সামলাতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে নির্ভুলতা, আরোগ্যলাভ ও রোগীর সার্বিক ফলাফল উন্নত করবে, এবং এটি সেই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

    সিকে বিড়লা হসপিটালস- বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (কলকাতা) এবং জয়পুরের আঞ্চলিক প্রধান শ্রী সুপ্রতিক দে সরকার বলেন, “বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন এমন সব কেস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তার সুনাম তৈরি করেছে, এবং রোবোটিক কার্ডিয়াক সার্জারির সংযোজন সেই অবস্থানকে আরও অর্থবহভাবে শক্তিশালী করেছে। পূর্ব ভারতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল যা উন্নত হৃদরোগের সমস্ত জটিলতা সামলাতে পারে, যাতে রোগীদের এই অঞ্চলের বাইরে যেতে না হয়। এই প্রোগ্রামে আমরা যে বিনিয়োগ করেছি তা সেই প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। আমরা এই অঞ্চলের রেফারকারী ডাক্তার, রোগী এবং পরিবারবর্গকে জানাতে চাই।”
    যখন কোনো হৃদরোগের কেস জটিল হয়, তখন তাকে এখানেই আনা যেতে পারে। আমরা এই মান অর্জনের জন্যই কাজ করছি, এবং রোবোটিক সার্জারি সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি অংশ।

    রোবোটিক-সহায়তাযুক্ত কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল জটিল কার্ডিয়াক পদ্ধতির জন্য একটি আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র হিসেবে তার ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়, যা পূর্ব ভারতের রোগীদের বাড়ির কাছাকাছিই বিশ্বমানের সার্জিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।

    Continue reading
    বাণিজ্য বিভাগের গত ১২ বছরের যুগান্তকারী অগ্রগতির চিত্র ও চা খাতের ঐতিহাসিক রপ্তানি সাফল্য তুলে ধরা হলো কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে |
    • June 11, 2026

    কলকাতা, ৯ জুন ২০২৬:ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীন বাণিজ্য বিভাগ আজ কলকাতার টি বোর্ড (Tea Board)-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গত বারো বছরে অর্জিত যুগান্তকারী সাফল্যসমূহ তুলে ধরেছে এবং ভারতের রপ্তানি-চালিত প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বা দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছে। এই সম্মেলনে যৌথভাবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব শ্রী অমিত কুমার এবং টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার ডেপুটি চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগান।সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী অমিত কুমার জানান যে, বাণিজ্য বিভাগ ‘ভোকাল ফর লোকাল’ (স্থানীয় পণ্যের পক্ষে সোচ্চার হওয়া) এবং ‘লোকাল টু গ্লোবাল’ (স্থানীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া)—এই মূল নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় রপ্তানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০১৪-১৫ সালে ভারতের মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৮৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি বিশ্ববাজারের সাথে ভারতের গভীর সংযোগ এবং ধারাবাহিক নীতিগত পদক্ষেপের সফলতারই প্রতিফলন।

    শ্রী কুমার রপ্তানি পরিস্থিতির বিশ্লেষণ, ডিজিটাল রূপান্তর, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) মাধ্যমে বাজারের পরিধি বিস্তার, ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’-র প্রচার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি প্রসারের বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর বিভাগের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, পরিষেবা খাত প্রবৃদ্ধির একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে; এই খাতে রপ্তানির পরিমাণ ২০১৪-১৫ সালের ৩১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৪৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ শিল্প, কৃষি, রত্ন ও গয়না এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজতর করা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সুবিধাজনক করে তোলার লক্ষ্যে বাণিজ্য বিভাগ বেশ কিছু ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রেড কানেক্ট ই-প্ল্যাটফর্ম’, ‘ট্রেড ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স পোর্টাল’, ‘মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড প্রমোশন পোর্টাল (MIMP)’ এবং ডিজিএফটি (DGFT)-এর মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের মতামত বা প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যবস্থা। বিশ্ববাণিজ্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির কথা তুলে ধরে শ্রী কুমার উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইএফটিএ (EFTA) ভুক্ত দেশসমূহ, যুক্তরাজ্য, মরিশাস এবং অন্যান্য সহযোগী দেশের সাথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান এবং নিউজিল্যান্ডের মতো প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সাথেও আলোচনা এগিয়ে চলেছে। এই উদ্যোগগুলো ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারের প্রবেশাধিকার সুদৃঢ় করছে।

    WhatsApp Image 2026 06 11 at 13.37.43 (1)

    এছাড়া বিভাগটি ‘ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া’ প্রচারের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ—যেমন ‘নির্যাত প্রোৎসাহন’ (Niryat Protsahan) ও ‘নির্যাত দিশা’ (Niryat Disha)—তুলে ধরে। একই সাথে, ভারতের বিশ্ববাণিজ্যিক পরিকাঠামো বা ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ‘ভারত মণ্ডপম’ এবং ‘ইন্ডিয়া ট্রেড প্রমোশন অর্গানাইজেশন’ (ITPO)-এর ভূমিকার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।’বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জনে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শ্রী কুমার জানান যে, বাণিজ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পণ্য-ভিত্তিক বোর্ড (commodity boards), রাজ্য সরকার, এমএসএমই (MSME) এবং শিল্প খাতের অংশীজনদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা।শ্রী কুমার সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) এবং সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস (GeM)-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেন। এসইজেড (SEZ)-এর মাধ্যমে রপ্তানির পরিমাণ ২০১৪-১৫ সালের ৪.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ১৩.৫৫ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, জিইএম (GeM) চালুর পর থেকে ১৭.৭২ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয়াদেশ সম্পন্ন হয়েছে, যা সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে।

    চা শিল্পের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ‘টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’-র ডেপুটি চেয়ারম্যান শ্রী সি. মুরুগান জানান যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের চা উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে—১,৩৮২.৭৪ মিলিয়ন কেজিতে—পৌঁছেছে। দেশটি চা রপ্তানির ক্ষেত্রেও সর্বকালের সেরা সাফল্য অর্জন করেছে; রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮২.১১ মিলিয়ন কেজিতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয় রেকর্ড ৮,৭১৮.৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।শ্রী মুরুগান উল্লেখ করেন যে, পশ্চিম এশিয়ার প্রথাগত বাজারগুলোতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় চা শিল্প তার দৃঢ়তা বজায় রেখেছে এবং আশাবাদী মনোভাব পোষণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য ভারতের চা রপ্তানির একটি বড় অংশের উৎস হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সম্ভাব্য কোনো বিঘ্ন বা সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে রপ্তানিকারকরা সক্রিয়ভাবে চীন, উত্তর আফ্রিকা, কানাডা ও মিশরের মতো উদীয়মান বাজারগুলোর দিকে মনোযোগ দিয়ে তাদের বাজারের পরিধি বিস্তৃত করেছেন।উপ-চেয়ারম্যান জানান যে, ‘টি বোর্ড ইন্ডিয়া’ (Tea Board India) বিশ্বজুড়ে এমন সব বাজারে প্রচারমূলক কার্যক্রম চালানোর সক্রিয় পরিকল্পনা করছে যেখানে ভারতীয় চা এখনও সেভাবে পৌঁছায়নি বা যা অপ্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচিত। তিনি ভারতীয় চায়ের ব্র্যান্ড-মূল্য বা ‘ব্র্যান্ড ইকুইটি’ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ প্রচারমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন; এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন ও বন্দে ভারত ট্রেনে প্রচারভিযান, বড় শহরগুলোতে মেট্রো ট্রেনে বিশেষ মোড়ক বা ‘র‍্যাপ’ (wrap) ব্যবহার, প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার এবং স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি।

    Continue reading

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    মিস করে যাওয়া

    জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

    জেআইএস এডুকেশন এক্সপো ২০২৬ – কল্যাণী সংস্করণে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও ক্যারিয়ার গঠনের দিশায় এক অনন্য উদ্যোগ |

    এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

    এপিএআই-ডব্লিউবি কলকাতায় নিয়ে এলো প্রি-কাউন্সেলিং ও শিক্ষা মেলা ২০২৬ |

    চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

    চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস

    চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।

    চীন–দক্ষিণ এশিয়া সহযোগিতা ফোরামের সপ্তম অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন ডা. চৈতালি দাস।

    শিয়ালদা ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য সুখবর মিলছে বেশকিছু এসি লোকাল আরো বেশ কিছু নতুন ট্রেন নিত্যযাত্রীদের সুবিধের কথা মাথায় রেখেই রেল কর্তৃপক্ষের এই বিরাট ঘোষণা।

    শিয়ালদা ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য সুখবর মিলছে বেশকিছু এসি লোকাল আরো বেশ কিছু নতুন ট্রেন নিত্যযাত্রীদের সুবিধের কথা মাথায় রেখেই রেল কর্তৃপক্ষের এই বিরাট ঘোষণা।

    অম্বুজা নিওটিয়া আয়োজিত নবম চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা |

    অম্বুজা নিওটিয়া আয়োজিত নবম চার্লস কোরিয়া স্মারক বক্তৃতা |