হার্ট ভালভের চিকিৎসায় একটি যুগান্তকারী সাফল্য হাট বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের |

কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:প্রখ্যাত স্ট্রাকচারাল হাট বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালে, দেশে এই প্রথম সফল হল হার্ট ভালভের চিকিৎসার এক নতুন ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিওর ট্রান্সক্যাথেটার ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TTVR)|স্ট্রাকচারাল হার্ট ইন্টারভেনশনের ক্ষেত্রে এই অপারেশনের মাধ্যমে কলকাতা নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের অধিকারী হল। ভারতে এই প্রথম প্রখ্যাত স্ট্রাকচারাল হাট বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরপর দুটি জটিল ট্রান্সক্যাথেটার ট্রাইকাসপিড ভালভ রিপ্লেসমেন্ট (TTVR) সফল হয়েছে।যে সব রোগী গুরুতর ট্রাইকাসপিড ভালভ রিগারজিটেশনে (হৃদযন্ত্রের ডানদিকের ভালভের লিকেজ) ভুগছেন এবং যাদের জন্য প্রচলিত ওপেন হার্ট সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের জন্য TTVR এক জীবনদায়ী, নন-সার্জিক্যাল বিকল্প পদ্ধতি।

ট্রাইকাসপিড ভালভ ডান অলিন্দ এবং ডান নিলয়ের মধ্যে রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই ভালভ ঠিকমতো বন্ধ হয় না, তখন রক্ত পিছনের দিকে লিক করে যায় (ট্রাইকাসপিড রিগারজিটেশন বা TR), যার ফলে শরীরে জল জমা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং শেষ পর্যন্ত হার্ট ফেলিওরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। আগে, ট্রাইকাসপিড ভালভকে “বিস্মৃত ভালভ” (forgotten valve) বলা হত, কারণ বয়স্ক বা দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভালভের সার্জারিতে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি।TTVR হল একটি অত্যাধুনিক, ন্যূনতম ইনভেসিভ কার্ডিয়াক ইন্টারভেনশন। একটি বায়োপ্রস্থেটিক ভালভকে সংকুচিত করে একটি সরু ক্যাথেটারের মাধ্যমে ফিমোরাল/জুগুলার ভেইনে একটি ছোট ছিদ্র করে হৃদযন্ত্রে প্রবেশ করানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত নেটিভ ভালভের মধ্যে সঠিকভাবে স্থাপন করার পর নতুন ভালভটিকে প্রসারিত করা হয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহকে চালু করে।

WhatsApp Image 2026 09 02 at 22.46.16

ওপেন হার্ট সার্জারি নয়: বুক কাটা (স্টারনোটমি) বা হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের প্রয়োজন হয় না।

  • দ্রুত আরোগ্য: রোগীরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাঁটতে পারেন এবং সাধারণত ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান, যেখানে ওপেন হার্ট সার্জারিতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ লেগে যায়।
  • তাৎক্ষণিক আরাম: ফোলা, শ্বাসকষ্ট এবং হার্ট ফেলিওরের উপসর্গগুলি দ্রুত কমে যায়

ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং অ্যাপোলো কলকাতার নিবেদিতপ্রাণ স্ট্রাকচারাল হাট টিমের তত্ত্বাবধানে দুইজন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর এই পদ্ধতির কার্যকারিতার সাফল্য প্রমাণিত হয়।উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর প্রোফাইল: দুটি ক্ষেত্রেই বয়স্ক ও দুর্বল এই দুইজন রোগীই গুরুতর ট্রাইকাসপিড রিগারজিটেশনে ভুগছিলেন এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে প্রচলিত ওপেন হার্ট সার্জারি তাদের জন্য নিরাপদ ছিল না।ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এঁদের দুইজনের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে LuX-Valve Plus সিস্টেম (Jenscare Scientific Co., Ltd, China) সফলভাবে স্থাপন করা হয়।তাৎক্ষণিক ক্লিনিকাল উন্নতি: প্রক্রিয়ার পর মূল্যায়নে দেখা যায় ভালভের কার্যকারিতা সর্বোত্তম হয়েছে, ব্যাকফ্লো (রিগারজিটেশন) সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়েছে ও কোনো জটিলতা ছাড়াই রোগীরা উল্লেখযোগ্য উপসর্গ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালস, কলকাতায় কর্মরত ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় (MBBS, MD, DM, MRCP London) ভারতের একজন অগ্রণী স্ট্রাকচারাল হাট ইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ। তিনি লন্ডনের বিখ্যাত সেন্ট বার্থোলোমিউ হাসপাতাল এবং রয়‍্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং স্ট্রাকচারাল হাটে অ্যাডভান্সড ফেলোশিপ সম্পূর্ন করেছেন। তিনি ২,০০০-এরও বেশি TAVI/TAVR প্রসিডিওর করেছেন এবং TMVR, TEER (MitraClip/TriClip/Pascal) এবং TTVR-এ তার বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডা. মুখোপাধ্যায় একজন স্বীকৃত প্রক্টর এবং ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসাবে নিয়মিত ভারতজুড়ে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেন।

“ট্রাইকাসপিড ভালভ রিগারজিটেশন দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক বা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অবস্থা ছিল। TTVR-এর মাধ্যমে, আমরা স্ট্রাকচারাল হার্ট ইন্টারভেনশনে যা সম্ভব তার সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছি। ফিমোরাল/জুগুলার ভেইন দিয়ে একটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে একেবারে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করে আমরা রোগীদের ন্যূনতম কষ্ট এবং কম হাসপাতালে থাকার মধ্যে তাদের জীবনযাত্রার মান ফিরিয়ে দিতে পারছি।” জানালেন ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায়।

জন সাধারণকে এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি সম্মন্ধে অবহিত করতে কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ডা. সুমন্ত মুখোপাধ্যায় বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে ব্যখ্যা করেন।

Related Posts

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |
  • September 10, 2026

কলকাতা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ – রুবি জেনারেল হাসপাতাল তার অস্ত্রোপচার পরিকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটি তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। হাসপাতালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ৬টি নতুন মডুলার অপারেশন থিয়েটার (OT) সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২টি বিশেষভাবে নির্ধারিত ট্রান্সপ্লান্ট OT এবং ২টি অত্যাধুনিক রোবোটিক সার্জারি OT। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালের পূর্ববর্তী ৫টি সুপার স্পেশালিটি OT-ও চালু থাকবে। ফলে জটিল ও জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার করার হাসপাতালের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের পাশাপাশি হাসপাতালটি দুটি অত্যাধুনিক রোবোটিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করেছে— অর্থোপেডিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট (TKR) রোবোটিক সার্জারি সিস্টেম এবং সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্বখ্যাত
দা ভিঞ্চি রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম ।এই যুগান্তকারী পরিকাঠামো ও রোবোটিক সিস্টেমগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাঃ কমল কুমার দত্ত (চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর), ডাঃ সৌরভ দত্ত (ডিরেক্টর) এবং মিসেস রুবি দত্ত (ডিরেক্টর)।

WhatsApp Image 2026 09 09 at 17.43.57

• ৬টি নতুন মডুলার OT : সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যামিনার এয়ারফ্লো সিস্টেম-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত।
• ২টি বিশেষায়িত ট্রান্সপ্লান্ট OT : জটিল অঙ্গ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত।
• ২টি রোবোটিক সার্জারি OT : উন্নত রোবোটিক আর্ম ও কনসোল ব্যবহারের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি।
• ৫টি বিদ্যমান OT : নতুন ইউনিটগুলির পাশাপাশি এগুলিও চালু থাকবে। ফলে হাসপাতালের মোট অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত সার্জিক্যাল স্যুটের সংখ্যা দাঁড়াল ১১টি।

• দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেম : ন্যূনতম ইনভেসিভ পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাধারণ ও জটিল অস্ত্রোপচার করতে সাহায্য করে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করে।• অর্থোপেডিক টি কে আর রোবোটিক সিস্টেম : টোটাল নি রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রে সাব-মিলিমিটার পর্যায়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এর ফলে ইমপ্ল্যান্টের সঠিক অবস্থান নির্ধারণ এবং কৃত্রিম জয়েন্টের দীর্ঘস্থায়িত্ব আরও উন্নত হয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসপাতালের CMD ডাঃ কমল কুমার দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক মানের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্তরে তার সহজলভ্যতার মধ্যে থাকা ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত জানান, অপারেশন থিয়েটারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক প্রযুক্তির সমন্বয় রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালে থাকার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ডিরেক্টর মিসেস রুবি দত্ত বলেন, এই সম্প্রসারণ রুবি জেনারেল হাসপাতালের তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত স্বাস্থ্য পরিষেবায় উদ্ভাবন এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার প্রতি প্রতিশ্রুতিরই প্রমাণ।

প্রেস মিটে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুপরিচিত নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ প্রতীক দাস এবং খ্যাতনামা ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ডাঃ টি. কে. সাহা । উভয় চিকিৎসকই এই অঞ্চলে আধুনিক ও উন্নত ট্রান্সপ্লান্ট পরিষেবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং জানান যে রুবি জেনারেল হাসপাতালের নতুন পরিকাঠামো এই প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করছে।.বিশিষ্ট রোবোটিক সার্জনদের মধ্যে ডাঃ দেবার্চন ঘোষ (জেনারেল ও রোবোটিক সার্জন) এবং ডাঃ দীপাঞ্জন ভদ্র (অর্থোপেডিক্স ও রোবোটিক সার্জন)-ও তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসা বিভাগের সমন্বিত রোবোটিক সার্জারি দক্ষতা তুলে ধরা হয়।

হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ অনকোলজি পরিষেবার কথা তুলে ধরে ডাঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় , এমেরিটাস সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ডিরেক্টর, রুবি ক্যান্সার সেন্টার বলেন: “দা ভিঞ্চি রোবোটিক সিস্টেমের মাধ্যমে রুবি ক্যান্সার সেন্টার আঞ্চলিক স্তরে প্রথম স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্র্যান্ড হিসেবে এই বিশ্বমানের রোবোটিক সিস্টেম নিয়ে এসেছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র, যেখানে মেডিক্যাল, সার্জিক্যাল, রেডিয়েশন, হেমাটো-অনকোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট, নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে Digital PET CT, অনকো-প্যাথলজি, মনোবিজ্ঞানী, পুষ্টিবিদ এবং প্রতিটি বিভাগে রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সমস্ত ধরনের পরিষেবা রয়েছে।”নবনির্মিত মডুলার OT-গুলি শীঘ্রই চালু হবে এবং রোবোটিক সিস্টেমগুলি ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণরূপে কার্যকর ও রোগী পরিষেবার জন্য উন্মুক্ত।পূর্ব ভারতে রোবোটিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা এবং অত্যাধুনিক ৬টি OT সংযোজন-সহ আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টার কথা আপনাদের সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা আশাবাদী।

Continue reading
শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |
  • September 10, 2026

কলকাতা, সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষকাল ২০২৬ (National Eye Donation Fortnight)-এর অঙ্গ হিসেবে, দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক ‘ড্র ফর সাইট’ নামে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। স্কুল পড়ুয়াদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা এবং চক্ষুদান ও দৃষ্টিশক্তি প্রদানের গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সংবেদনশীল করে তোলাই ছিল এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থিত দিশা আই হসপিটালস-এর প্রাঙ্গণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।

WhatsApp Image 2026 09 10 at 09.20.14

এই উদ্যোগটি খুদে অংশগ্রহণকারীদের চক্ষুদান, দৃষ্টিশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মাধ্যমে জীবনে যে পরিবর্তন আসে—তা নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি সৃজনশীল মঞ্চ করে দেয়। শিল্পকলা ও কল্পনাশক্তির মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতাটি চক্ষুদান নিয়ে অর্থবহ আলোচনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, পরিবার ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস চালিয়েছে। প্রতিযোগিতায় দুটি বিভাগ ছিল: প্রথম বিভাগে পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং দ্বিতীয় বিভাগে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরে এবং চক্ষুদান বিষয়ক বিষয়বস্তুকে (থিম) ফুটিয়ে তোলে।

দিশা আই হসপিটালস-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, “কাউকে দৃষ্টিশক্তি উপহার দেওয়া এবং পৃথিবীকে নতুন করে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার অন্যতম অর্থবহ উপায় হলো চক্ষুদান। ‘ড্র ফর সাইট’-এর মাধ্যমে আমরা তরুণদের এই গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে যুক্ত করতে চেয়েছি এবং অন্য কোনো ব্যক্তির জীবনে চক্ষুদান কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতে তাদের উৎসাহিত করতে চেয়েছি। এমন একটি অর্থবহ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পকলা এক শক্তিশালী ও ভাবপ্রকাশক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে চক্ষুদান বিষয়ক সচেতনতা প্রসারে এগিয়ে এসেছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”

এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় কলকাতার মোট ১৭টি স্কুলের ৬০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অত্যন্ত উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করে। দ্য নিউ টাউন স্কুল, লাইটিং লাইভস স্কুল, আইইএম (IEM) পাবলিক স্কুল, জি.ডি. গোয়েঙ্কা পাবলিক স্কুল, নারায়ণা স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (নিউ টাউন), দিল্লি পাবলিক স্কুল (মেগাসিটি), হারমনি হাই স্কুল এবং লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস-সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও রঙিন চিত্রকর্মের মাধ্যমে এই আয়োজনে অংশ নেয়। ৪১তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি সৃজনশীলতা, সহানুভূতি ও সামাজিক সচেতনতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি প্রদানের মতো জীবন-পরিবর্তনকারী উপহারের গুরুত্ব অনুধাবনে তরুণ প্রতিযোগীদের অনুপ্রাণিত করেছে।

Continue reading

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মিস করে যাওয়া

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |

নতুন মডুলার ও রোবোটিক অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাত্রা যোগ করল রুবি জেনারেল হাসপাতাল |

শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |

শিশুদের মধ্যে চক্ষুদান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ‘ড্র ফর সাইট’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করল দিশা আই হসপিটালস ও প্রোভা আই ব্যাংক |

পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বড় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, জানালেন পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার |

পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিকাঠামোর বড় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, জানালেন পূর্তমন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার |

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইরত শিশুদের সমর্থনে কলকাতায় নিয়ে আসছে এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬, ‘আশার সুর’। এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই একাদশ বার্ষিক কনসার্টটি এক দশকের প্রভাবকে চিহ্নিত করছে।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইরত শিশুদের সমর্থনে কলকাতায় নিয়ে আসছে এসবিওএইচ কনসার্ট ২০২৬, ‘আশার সুর’। এস. ডি. বর্মণ এবং আর. ডি. বর্মণের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এই একাদশ বার্ষিক কনসার্টটি এক দশকের প্রভাবকে চিহ্নিত করছে।

NATS প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ চাকরি পান, BOPT(ER) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

NATS প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর প্রায় ৭৯% শিক্ষানবিশ চাকরি পান, BOPT(ER) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ১.৫ লক্ষ শিক্ষানবিশ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তম কুমার কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মহানায়ক উত্তম কুমারের কালজয়ী স্মৃতির প্রতি এক বিশাল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ||

টালিগঞ্জ মহানায়ক উত্তম কুমার কালচারাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি মহানায়ক উত্তম কুমারের কালজয়ী স্মৃতির প্রতি এক বিশাল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল ||